ডিএনসিসির হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্স ফি দেওয়া যাবে নগদ-এ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নগদ ও ডিএনসিসির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

নগদ ও ডিএনসিসির মধ্যে সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষর

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের জনপ্রিয় মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস ‘নগদ’ এবং ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মধ্যে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়েছে। ফলে ঢাকা উত্তর সিটির নগরবাসীরা এখন থেকে খুব সহজেই তাদের হোল্ডিং ট্যাক্স ও ট্রেড লাইসেন্সের ফি পরিশোধ করতে পারবেন নগদ-এ।

রোববার (২০ মার্চ) নগর ভবনের কনফারেন্স হলে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশন (ডিএনসিসি) ও ডাক বিভাগের মোবাইল ফিন্যান্সিয়াল সার্ভিস 'নগদ'-এর মাঝে একটি সমঝোতা চুক্তি স্বাক্ষরিত হয়। চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানটি সভাপতিত্ব করেন ডিএনসিসির মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম।

এসময় চুক্তিপত্রে নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে স্বাক্ষর করেন নগদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) রাহেল আহমেদ ও ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা মোহাম্মদ আব্দুল হামিদ মিয়া। অনুষ্ঠানে নগদের পক্ষে উপস্থিত ছিলেন বিজনেস সেলসের প্রধান মো. সাইদুর রহমান দিপু, কি স্টেকহোল্ডার ম্যানেজমেন্ট প্রধান এসকিউএন এলডিআর আসমা আলমগীর (অব.), স্ট্র্যাটেজিক সেলসের প্রধান এ.বি.এম. মান্নাফ পরাগ।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন ডিএনসিসির প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা (সিইও) মো. সেলিম রেজা, ডিএনসিসির সচিব (যুগ্ম-সচিব) মোহাম্মদ মাসুদ আলম সিদ্দিক, প্রধান রাজস্ব কর্মকর্তা (উপ-সচিব) মোহাম্মদ আবদুল হামিদ মিয়া, প্রধান প্রকৌশলী বিগ্রেডিয়ার জেনারেল মো. আমিরুল ইসলাম, ধান বর্জ্য ব্যবস্থাপনা কর্মকর্তা কমডোর এস এম শরিফ উল ইসলাম।

এই চুক্তির ফলে নগরবাসীরা ১ এপ্রিল থেকে ডিএনসিসি হোল্ডিং ট্যাক্স, নতুন লাইসেন্স এবং লাইসেন্স নবায়ন ফি পরিশোধ করতে পারবেন ডাক বিভাগের ‘নগদ’-এ, যা তাদের দীর্ঘদিনের দুর্ভোগ কমাবে।

এ ছাড়া আগামী ১ এপ্রিল থেকে ডিএনসিসির নতুন সিদ্ধান্ত অনুযায়ী সরাসরি অর্থ প্রদানের মাধ্যমে হোল্ডিং ট্যাক্স অথবা গৃহকর পরিশোধ করা যাবে না। সেক্ষেত্রে, নগরবাসীরা হোল্ডিং ট্যাক্সের ফি কেবলমাত্র অনলাইন পেমেন্টের মাধ্যমে পরিশোধ করতে পারবেন।

এছাড়া, চুক্তির আওতায় নগরবাসীরা ঘরে বসেই নতুন ট্রেড লাইসেন্স গ্রহণ ও নবায়ন ফি পরিশোধ করতে পারবেন নগদের মাধ্যমে। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের নিজস্ব ওয়েবসাইটে গ্রাহকরা অনলাইনে বিল পরিশোধের ক্ষেত্রে এই সুবিধাটি উপভোগ করতে পারবেন। সুবিধাটি পেতে ডিএনসিসির ওয়েবসাইটে গিয়ে নির্দিষ্ট ফরম পূরণ করে ‘নগদ’ অ্যাপসের বিল পে- অপশন অথবা ইউএসএসডি (*১৬৭#) এর মাধ্যমে সহজেই এই ফি পরিশোধ করতে পারবেন তারা।

অনুষ্ঠানে ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের (ডিএনসিসি) মেয়র মো. আতিকুল ইসলাম বলেন, আমাদের সিটি করপোরেশন কর্তৃক রাজস্ব আদায়ের এই ডিজিটাল প্রক্রিয়ার অংশ হতে অনেকেই চেয়েছিলেন কিন্তু আমরা নগদকেই প্রাধান্য দিয়েছি, কারণ নগদ ব্যবহারের ক্ষেত্রে প্রধানমন্ত্রীর অধ্যাদেশ রয়েছে।

তিনি আরও বলেন, আমরা আজ হোল্ডিং ট্যাক্স ও লাইসেন্স পেমেন্ট ডিজিটাল পদ্ধতিতে এনেছি, ভবিষ্যতে সকল লেনদেন এই আওতায় চলে আসবে। পাশাপাশি আমরা চাই নগদের মাধ্যমে সিটি করপোরেশনের কাজ আরও এগিয়ে যাক।

এই সমঝোতা চুক্তিকে স্বাগত জানিয়ে মেয়র নগদবাসীদের আহ্বান করেন, আপনারা আসুন এবং এই সেবা ব্যবহার করুন। আশাকরি প্রতারিত হবেন না।

এ বিষয়ে নগদের প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা রাহেল আহমেদ বলেন, নগরবাসীর বিড়ম্বনা দূর করতে ডিএনসিসির সাথে এই চুক্তিটি করতে পেরে আমরা অত্যন্ত আনন্দিত। নগদ সবসময় গ্রাহকদের জীবন সহজতর করতে সর্বাত্মক সহযোগিতায় অঙ্গীকারবদ্ধ। আমরা ডিএনসিসির সকল সেবা ডিজিটাইজেশন প্রকল্পের অংশীদার হয়ে কাজ করে যেতে চাই। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য বাস্তবায়নে বিশ্বস্ত সহযোগী হিসেবে ‘নগদ’ সবসময় এ ধরণের উদ্যোগে পাশে থাকবে।

চুক্তিটি ট্রেড লাইসেন্স, লাইসেন্স নবায়ন ও গৃহকর পরিশোধে নগরবাসী হয়রানি নিরসনে এবং নগরবাসীর মূল্যবান সময় বাঁচাতেও সহায়তা করবে। এই উদ্যোগটি ডিএনসিসির সকল কার্যক্রমকে ডিজিটালাইজড করণ এবং ‘ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের রাজস্ব স্বয়ংক্রিয় পদ্ধতি শক্তিশালীকরণ’ সংক্রান্ত প্রকল্পের একটি অংশ। বাংলাদেশ সরকারের ডিজিটাল বাংলাদেশ লক্ষ্য বাস্তবায়নে ‘নগদ’-এর সাথে ডিএনসিসির এটি আরেকটি যুগান্তকারী পদক্ষেপ।

আবারও কমল স্বর্ণের দাম



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

আবারও কমলো স্বর্ণের দাম

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বাজারে ভালোমানের সোনা (২২ ক্যারেট) প্রতি ভরিতে ১ হাজার ১৬৬ টাকা কমিয়ে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকা দাম নির্ধারণ করেছে বাংলাদেশ জুয়েলার্স সমিতি (বাজুস)। আগামীকাল বৃহস্পতিবার থেকে এ দাম কার্যকর হবে।

বুধবার (৬ জুলাই) বাজুসের মূল্য নির্ধারণ ও মূল্য পর্যবেক্ষণ স্থায়ী কমিটির চেয়ারম্যান এম এ হান্নান আজাদ স্বাক্ষরিত সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়।

আজ পর্যন্ত ভালো মানের প্রতি ভরি সোনা ৭৯ হাজার ৫৪৮ টাকায় বিক্রি হয়েছে।

বিজ্ঞপ্তিতে বলা হয়, আন্তর্জাতিক বাজারে সোনার দাম কমায় দেশের বাজারেও নতুন দাম নির্ধারণ করেছে বাজুস, যা ৭ জুলাই থেকে কার্যকর হবে।

বৃহস্পতিবার থেকে সবচেয়ে ভালো মানের ২২ ক্যারেটর (১১ দশমিক ৬৬৮ গ্রাম) স্বর্ণ প্রতি ভরি বিক্রি হবে ৭৮ হাজার ৩৮২ টাকায়। ভরি প্রতি কমানো হয়েছে ১ হাজার ১৬৬ টাকা। ২১ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ৭৪ হাজার ৮৮৩ টাকায় বিক্রি হবে। ভরি প্রতি কমানো হয়েছে ১ হাজার ৫০ টাকা। ১৮ ক্যারেটের প্রতি ভরি সোনা ৬৪ হাজার ১৫২ টাকায় বিক্রি হবে। ভরি প্রতি কমানো হয়েছে ৯৩৩ টাকা। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি সোনা বিক্রি হবে ৫৩ হাজার ৪৭৯ টাকায়। ভরি প্রতি কমানো হয়েছে ৭৫৭ টাকা।

সোনার দাম কমানো হলেও দেশের বাজারে রুপার দাম অপরিবর্তিত রয়েছে। ২২ ক্যারেটের প্রতি ভরি রুপা এক হাজার ৫১৬ টাকায়, ২১ ক্যারেটের রুপা এক হাজার ৪৩৫ টাকায় এবং ১৮ ক্যারেটের রুপা এক হাজার ২২৫ টাকায় বিক্রি হবে। এ ছাড়া সনাতন পদ্ধতির প্রতি ভরি রুপা বিক্রি হবে ৯৩৩ টাকায়।

;

গ্যাসের মহাসংকট আরও বাড়তে পারে!



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট
গ্যাসের মহাসংকট আরও বাড়তে পারে!

গ্যাসের মহাসংকট আরও বাড়তে পারে!

  • Font increase
  • Font Decrease

গ্যাস সংকট নিয়ে জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা অনেক আগে থেকেই সতর্ক করে আসছিলেন। তাদের কথা কানেই নেয় নি জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিভাগ। আমদানিমুখী নীতি পরিহার না করলে পরিস্থিতি আরও অবনতির শঙ্কা করা হচ্ছে।

গ্যাস সংকটের কারণে কয়েকদিন ধরেই সারাদেশে ব্যাপক লোডশেডিং করা হচ্ছে। বিদ্যুতে যেখানে ২২’শ এমএমসিএফডির মতো চাহিদা, ৪ জুলাই মাত্র ৮৭৯ এমএমসিএফডি সরবরাহ করা হয়েছে। গ্যাস সংকট হলে তেলের যোগান বাড়ানোর রেওয়াজ পুরনো, সেই তেলের বাজারও দিনদিন নাগালের বাইরে চলে যাচ্ছে। যে কারণে আপাতত লোডশেডিংকেই অবলম্বন মনে করছে বাংলাদেশ।

আন্তর্জাতিক জালানি বিশেষজ্ঞ প্রকৌশলী খন্দকার সালেক সূফী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আজকের এই সংকটের মুলে রয়েছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধ্যানে কয়েক দশকের স্থবিরতা। যার পুঞ্জিভূত ফল আজকের এই মহাসংকট। যদি যথাযথভাবে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান ও উন্নয়ন কর্মকান্ড পরিচালনা করা যেতো তাহলে আজকে এই সংকট হতো না। আমি মনে করি পরিস্থিতি আরও জটিল হতে পারে। সবচেয়ে বড় গ্যাস ফিল্ড বিবিয়ানার রিজার্ভ কমে আসছে এখানে যে কোন সময় উৎপাদনে ধ্বস নামতে পারে। আমরা কয়েক বছর ধরেই বলে আসছি, কিন্তু কানেই নেওয়া হয় নি। তেল-গ্যাস অনুসন্ধানের চেয়ে আমদানিতে বেশি মনযোগ দেখা গেছে।

তিনি আরও বলেন, পেট্রোবাংলার মতো স্পেশালাইজড প্রতিষ্ঠানের শীর্ষপদে এবং বাপেক্সের মতো গুরুত্বপুর্ণ প্রতিষ্ঠানে যদি ননটেকনিক্যাল লোকদের বসিয়ে রাখা হয়। তার ফল বুঝতে জ্যোতিষি হতে হয় না। সরকারের উচিত হবে নন টেকনিক্যাল লোকদের সরিয়ে এখনই তেল-গ্যাস অনুসন্ধানে বিশেষ কর্মসূচি শুরু করা। না হলে বড় ধরনের বিপরর‌্যয় নেমে আসতে পারে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ বদরুল ইমাম বলেন, আমরা পথ হারিয়ে ফেলেছি। এখনই সঠিক পথে না গেলে বিপদ আরও বাড়বে। এখন আর স্বাভাবিক কর্মসূচি দিয়ে কাজ হবে না। বিশেষ ঝটিকা কর্মসূচি পরিচালনা করা দরকার। কিছু ওয়ার্কওভার করতে পারলে অল্প সময়ে উৎপাদন বৃদ্ধি করা সম্ভব।

বদরুল ইমাম সম্প্রতি অনুষ্ঠিত গ্যাসের দাম বৃদ্ধির গণশুনানিতে অংশ নিয়ে বলেন, দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর উপর একটি সমীক্ষা পরিচালনা করে আন্তর্জাতিক কোম্পানি স্লামবার্জার। ২০১১ সালে দাখিলকৃত রিপোর্টে বলা হয় বিদ্যমান গ্যাস ফিল্ডগুলোর সংস্কার করে ৪০০ থেকে ৮০০ এমএমসিএফডি গ্যাস উৎপাদন বাড়ানোর সুযোগ রয়েছে। এতে খরচ হতে পারে সর্বোচ্চ ১২৫ মিলিয়ন ইউএস ডলার। ১১ বছর পেরিয়ে গেলেও সেই রিপোর্ট রয়ে গেছে অন্ধকারে।

যদিও সম্প্রতি ওয়ার্কওভারের মধ্যেমে গ্যাসের উৎপাদন বাড়ানোর কার‌্যক্রম শুরু করা হয়েছে। এরই মধ্যে কিছু কিছু সাফল্যও এসেছে। কিন্তু এতোদিন কেনো করা গেলো সেই প্রশ্নের উত্তর মিলছেনা কারও কাছেই।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞ ড. ইজাজ হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, হঠাৎ করে যদি সত্যি সত্যি কয়েকটা কূপ বন্ধ হয়ে যায়, সত্যি একটা জটিল সমস্যার মধ্যে পড়বো। তখন আমাদের তেল ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বেশি চালাতে হবে, গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বসিয়ে রাখতে হবে, রেশনিং করতে হবে। তখন একটি জটিল অংক তৈরি হবে। আমরা একটি অত্যন্ত শোচনীয় জায়গায় অবস্থান করছি। কপাল ভাল হলে ২০২৭-২০২৮ পর‌্যন্ত গ্যাস পাওয়া যাবে। আর খারাপ হলে দু্’এক বছরেই মধ্যেই সমস্যা দেখা দিতে পারে।

তিনি আরও বলেন, ২০২২ সালে বিবিয়ানা ড্রাই (গ্যাস শেষ) হবে এটাতো অংক করে বলা হয়েছে, এটা সবাই জানে। বিবিয়ানাতে আর বেশি গ্যাস থাকার কথা না। কতটা রিজার্ভ ছিল আর কতটা উত্তোলন করা হয়েছে সে হিসেব করলেইতো ফল বের হয়। তিতাস গ্যাস ফিল্ড অনেক আগেই শেষ হয়ে যাওয়ার কথা, ওখানে আমরা বুঝে শুনে কাজটি করছি। বিবিয়ানাতো বিদেশিদের হাতে তাদেরতো যতো বেশি উৎপাদন ততো লাভ। অতিরিক্ত উৎপাদন করে বাখরাবাদের কুপগুলোকে নষ্ট করা হয়েছে।

পেট্রোবাংলা সুত্র জানিয়েছে, রাষ্ট্রীয় কোম্পানি বাপেক্স ও সিলেট গ্যাস ফিল্ডের গ্যাসের প্রতি ঘনমিটারের গড় ক্রয়মূল্য পড়ছে ১.২৬ টাকা, বহুজাতিক কোম্পানি শেভরন থেকে ২.৮৯ টাকা, তাল্লো থেকে ৩.১০ টাকা করে দরে কেনা হচ্ছে। অন্যদিকে এলএনজির ক্রয়মূল্য ৩৬.৬৯ টাকা অন্যান্য চার্জ দিয়ে ৫০.৩৮ টাকা পড়ছে।

বর্তমানের চাহিদাই গ্যাস সরবরাহ করা সম্ভব হচ্ছে না, প্রতিদিনেই রেশনিং করতে হচ্ছে, তারপরও ঘাটতি থেকে যাচ্ছে। সংকট সামাল দিতে গিয়ে অনেক গ্যাস ফিল্ড থেকে অত্যন্ত ঝূঁকিপুর্ণভাবে বাড়তি গ্যাস উৎপাদনের পথ বেছে নিয়েছে। দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর উৎপাদন দিনে দিনে কমে যাচ্ছে। সিলেট গ্যাস ফিল্ডের উৎপাদন ক্ষমতা অর্ধেকে নেমে এসেছে। আগে ১৪৯ এমএমসিএফডি উৎপাদন ক্ষমতা থাকলেও কমবেশি ৮৬ এমএমসিএফডি গ্যাস উত্তোলন হচ্ছে। এক সময় বাংলাদেশ সবগুলো গ্যাস ফিল্ড থেকে ২৭০০ এমএমসিএফডি পর‌্যন্ত উৎপাদন করেছে। ৪ এপ্রিল উৎপাদন করেছে মাত্র ২৩’শ এমএমসিএফডি। ২০২৩ সাল নাগাদ গ্যাস উৎপাদনে বড় ধরণের ধ্বংস নামতে পারে বলে শঙ্কা করা হচ্ছে।

বাংলাদেশে ২৮টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কৃত হয়েছে। এসব ফিল্ডে প্রমাণিত মজুদের পরিমাণ ২১ দশমিক ৪ টিসিএফ, আরও ৬ টিসিএফ রয়েছে সম্ভাব্য মজুদ ধারণা করা হয়। এরমধ্যে প্রায় সাড়ে ১৮ টিসিএফ উত্তোলন করা হয়েছে। সে হিসেবে প্রমাণিত মজুদ অবশিষ্ট রয়েছে মাত্র ৩ টিসিএফ, আর সম্ভাব্য মজুদ রয়েছে আরও ৭ টিএসএফ’র মতো। প্রতি বছর প্রায় ১ টিসিএফ’র মতো গ্যাস উত্তোলিত হচ্ছে এতে প্রমাণিত মজুদ ২০২৪ সালে শেষ হয়ে যাওয়ার কথা। অন্যদিকে দ্রুত শিল্পায়ন ও ঘরে ঘরে বিদ্যুতের কারণে গ্যাসের চাহিদাও প্রতি বছর বেড়ে যাচ্ছে।

কয়েক বছর ধরেই গ্যাস সংকটের কথা উঠলেই আমদানির কথা বলে আসছে পেট্রোবাংলা। আমদানিকে যেভাবে সামনে আনা হয়েছে বাস্তবতা মোটেই অনুকূলে নয়। অনেক কাঠখড় পুড়িয়ে এফএসআরইউ (ফ্লোটিং স্টোরেজ রি-গ্যাসিফিকেশন ইউনিট) ১ হাজার এমএমসিএফডি এলএনজি আমদানি করার সক্ষমতা অর্জণ করেছে। এই এলএনজি আমদানির পরিকল্পনা ছিল ২০১৪ সালে। বাস্তবায়ন হতে আর ৫ বছর বেশি সময় লেগে যায়, ২০১৮ সালের আগস্টে প্রথম ইউনিট ৫০০ এমএমসিএফডি আনতে সক্ষম হয়। দ্বিতীয় ইউনিট এসেছে ২০১৯ সালের এপ্রিলে। সাগর উত্তাল হলেই সরবরাহে বিঘ্ন ঘটে। এলএনজি আমদানি বাড়াতে মাতারবাড়িতে ১ হাজার এমএমসিএফডি ক্ষমতা সম্পন্ন ল্যান্ডবেজড এলএনজি টার্মিনাল নির্মাণের উদ্যোগ নেওয়া হয়েছে। ২০২৪ সালের মধ্যে কাজ শেষ হওয়ার কথা। এখনও টেন্ডার প্রক্রিয়া শেষ করা যায় নি। অন্যদিকে মাতারবাড়িতে ও পায়রাতে পৃথক দু’টি এফএসআরইউ স্থাপনের পরিকল্পনা নেওয়া হয়েছে, সেগুলোও এখন কাগজে সীমাবদ্ধ। চুক্তির পর ১৮ মাসের অধিক সময় প্রয়োজন পড়বে।

অর্থাৎ ঘাটতি বেড়ে গেলেও বাড়তি এলএনজি আমদানির ‍পথ প্রায় বন্ধ। এরসঙ্গে রয়েছে অস্থিতিশীল আন্তর্জাতিক বাজার দরের ইস্যু। যার ফল আমরা হাড়ে হাড়ে টেরপেতে শুরু করেছি।

বাংলাদেশ ভূখণ্ডে স্বাধীনতার পর মাত্র ৬৮টি অনুসন্ধান কূপ খনন করা হয়েছে, ত্রিপুরা তার স্বল্প আয়তনে কূপ খনন করেছে ১৬০ টি। ত্রিপুরা ১৬০টি কূপ খনন করে মাত্র ১১টি গ্যাস ফিল্ড আবিষ্কার করেছে। বাংলাদেশ গত ১১০ বছরে মাত্র ৯৫টি কূপ খননের মাধ্যমে ২৮টি গ্যাসক্ষেত্র আবিস্কার হয়েছে। বাংলাদেশের সফলতার হার উচ্চ হলেও এখন তিমিরেই রয়ে গেছে তেল-গ্যাস অনুসন্ধান। ১৯৯৫ সালের জ্বালানি নীতিমালায় বছরে ৪টি অনুসন্ধান কূপ খননের কথা বলা হলেও কোনো সরকারেই তা মেনে চলেনি। বিশাল সমুদ্রসীমা অর্জণ করলেও সেখানে কোনো কাজ করা যায় নি। সাগরে পিএসসি (উৎপাদন বন্টন চুক্তি) আহ্বান করা হলে আগ্রহ দেখাচ্ছেনা বিদেশি কোম্পানিগুলো।

কোম্পানিগুলোর অভিযোগ ইতোপুর্বে সাগরে পরিচালিত সিচমিক সার্ভের তথ্য পেট্রোবাংলা তালাবদ্ধ করে রেখেছে। এগুলো না দেখতে পেলে খালি খালি কেউ জলে টাকা ঢালতে আসবে না। অতীতে এই তথ্য কেনার জন্য উন্মুক্ত থাকলেও এখন রহস্যজনক কারণে তালাবদ্ধ করা হয়েছে। আর পেট্রোবাংলার কর্তাদের অনুযোগ হচ্ছে পর‌্যাপ্ত তথ্য না থাকায় বিদেশি কোম্পানিগুলো আসতে চাইছে না। যদিও পেট্রোবাংলার এই মতের সঙ্গে অনেকেই একমত নন। তারা হিসেব করে দেখিয়ে দিয়েছেন প্রতিবেশি ভারত ও মায়ানমারের চেয়ে অনেক বেশি তথ্য রয়েছে বাংলাদেশের হাতে।

জ্বালানি বিশেষজ্ঞরা মনে করেন বঙ্গবন্ধু সরকার ছাড়া আরও কোনো সরকারেই এই দিকে যথেষ্ট মনযোগ দিতে ব্যর্থ হয়েছে। গ্যাসের ঘাটতি মোকাবেলায় আরেকটি ভালো উপায় হতে পারতো দেশীয় কয়লার বিশাল মজুদ।কিন্তু সেই ট্রেন মিস করেছে বাংলাদেশ।

জ্বালানি বিভাগের যখন বেহাল অবস্থা, তখন বিদ্যুৎ বিভাগ নতুন নতুন গ্যাস ভিত্তিক বিদ্যুৎ কেন্দ্র বাস্তবায়ন করে চলেছে। ২০১৬ সালের রিভাইস মাস্টারপ্লান অনুযায়ী ২০২২ সালে ১১৮৮ মেগাওয়াট নতুন বিদ্যুৎ কেন্দ্র যুক্ত হওয়ার কথা।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বলেন, আমরা এখন যেভাবে আমদানি নির্ভরতার দিকে যাচ্ছি ২০৩০ সালে ২৫-৩০ বিলিয়ন ডলার ব্যয় হবে জ্বালানি আমদানিতে। ফরেন রিজার্ভের সিংহভাগ যদি জ্বালানি ব্যয় করি তাহলে উন্নত দেশে যাওয়া কঠিন হয়ে পড়বে। দেশে গ্যাসের সম্ভাবনা নেই যাদের এই দর্শনে বিশ্বাস রয়েছে, তারা দয়া করে রাস্তাটা ছেড়ে দেন। জরুরি ভিত্তিতে দেশীয় গ্যাস ফিল্ডগুলোর সংস্কার করে উৎপাদন বৃদ্ধি করা উচিত। এখন সমস্যা হচ্ছে বঙ্গবন্ধু ৩দিনে যে সিদ্ধান্ত দিতেন, সেটি এখন ৩ মাসেও হয় না।

;

শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের আহ্বান



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের আহ্বান

শিল্পোৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের আহ্বান

  • Font increase
  • Font Decrease

সম্প্রতি দেশব্যাপী লোডশেডিং এর প্রভাবে শিল্প কারখানার উৎপাদন ব্যাহত হচ্ছে। উৎপাদন অব্যাহত রাখতে বিদ্যুৎ রেশনিংয়ের আহ্বান জানিয়েছেন এফবিসিসিআই সভাপতি মোঃ জসিম উদ্দিন।

বুধবার বিকেলে এফবিসিসিআই কর্তৃক আয়োজিত পাওয়ার, এনার্জি এন্ড ইউটিলিটিজ বিষয়ক স্ট্যান্ডিং কমিটির তৃতীয় সভায় এ আহ্বান জানান সভাপতি। এছাড়াও জ্বালানি নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে সকল স্টেকহোল্ডারদের নিয়ে স্বল্প, মাঝারি ও দীর্ঘমেয়াদী রোডম্যাপ তৈরির আহ্বান জানান সভাপতি।

সহ-সভাপতি এম এ মোমেন বলেন, বাংলাদেশ শক্তিখাতে আগের থেকে অনেক বেশি উন্নত। দেশের অর্থনৈতিক অঞ্চলগুলোর কর্মকান্ড অব্যাহত রাখতে বিদ্যুতের এ সংকট মোকাবিলায় সবাইকে একসাথে কাজ করার আহ্বান জানান তিনি।

কয়লা দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদনে জোর দেওয়ার তাগিদ দেন এফবিসিসিআইর পরিচালক ও কমিটির ডিরেক্টর ইন-চার্জ আবুল কাসেম খান। এছাড়া এনার্জি খাতের চুক্তিগুলো পুনরায় বিবেচনা করার আহ্বান জানান তিনি।

জ্বালানি নিরাপত্তার উন্নয়নে জোর দেওয়ার আহ্বান জানান কমিটির চেয়ারম্যান ও এনার্জিপ্যাক পাওয়ার জেনারেশন লিঃ এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক হুমায়ুন রশিদ। তিনি বলেন, আগামীতে জ্বালানিখাতে বিপুল মানুষের কর্মসংস্থান হবে। দেশের রপ্তানী অঞ্চলগুলোতেও বিদ্যুৎ ও গ্যাস সরবরাহ অব্যাহত রাখতে হবে। এমতাবস্থায় এখাতে শক্তিশালী ও দীর্ঘস্থায়ী পরিকল্পনা গ্রহণ অত্যন্ত জরুরী।

বেসরকারি খাতকে সংযুক্ত করে দীর্ঘমেয়াদী পরিকল্পনা করতে সরকারের প্রতি আহ্বান জানান সভায় উপস্থিত সদস্যরা। 

সভায় আরো কথা বলেন এফবিসিসিআইর পরিচালক বিজয় কুমার কেজরিওয়াল, মোঃ নাসের সহ কমিটির।

এফবিসিসিআইর পরিচালক হাফেজ হারুন, আমজাদ হুসেইন, কমিটির কো-চেয়ারম্যন সালাউদ্দিন ইউসুফ, মাহফুজুল হক শাহ সভায় উপস্থিত ছিলেন। 

;

ফুটবলের এই মৌসুমে বার্জারের সাথে থেকে জিতে নিন কাতারের টিকিট!



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ফুটবলের এই মৌসুমে বার্জারের সাথে থেকে জিতে নিন কাতারের টিকিট!

ফুটবলের এই মৌসুমে বার্জারের সাথে থেকে জিতে নিন কাতারের টিকিট!

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন ফিফা বিশ্বকাপ ২০২২ উদযাপনের পাশাপাশি দেশজুড়ে ফুটবলকে আরও জনপ্রিয় করতে ‘উৎসবের রঙ বিশ্বকাপে’ শীর্ষক একটি বিশেষ ক্যাম্পেইন চালু করেছে বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেড (বিপিবিএল)। সম্প্রতি চালু হওয়া এ ক্যাম্পেইনটি চলবে আগস্টের ১০ তারিখ পর্যন্ত। এই ক্যাম্পেইনের মাধ্যমে ক্রেতাদের ফিফা বিশ্বকাপের ম্যাচ টিকিট এবং কাতারে গিয়ে খেলা সরাসরি উপভোগ করার সুবর্ণ সুযোগ দিচ্ছে বার্জার।

ক্রেতারা বার্জার এক্সপেরিয়েন্স জোন থেকে সর্বনিম্ন ১০ হাজার টাকার পণ্য কিনে বা সংশ্লিষ্ট সেবা নিয়ে অথবা এই দু’য়ের মাধ্যমেই ক্যাম্পেইনে অংশগ্রহণের জন্য বিবেচিত হবেন। ক্যাম্পেইনে যোগ দিতে ক্রেতার বার্জারের কল-সেন্টারে কল দিয়ে নিবন্ধন করতে হবে। রেজিস্ট্রেশনের সময় শেষ হবে ১০ আগস্ট। এছাড়া, গ্রাহকদের অবশ্যই ১৫ আগস্টের মধ্যে বার্জার নির্ধারিত ডিলারের কাছ থেকে পণ্য অথবা সেবা বুঝে নিতে হবে। 

৭ জন ক্রেতা যারা পণ্য কিনবেন এবং ৩ জন ক্রেতা যারা সেবা গ্রহণ করবেন, এমন ১০ জনকে এ ক্যাম্পেইনের বিজয়ী হিসেবে নির্বাচিত করা হবে। ২০২৩ সালের জুন মাস পর্যন্ত পাসপোর্টের মেয়াদ থাকা সাপেক্ষে বিজয়ীদের জন্য ম্যাচ টিকিট, থাকা এবং বিমান ভাড়ার ব্যবস্থা করবে বার্জার। ম্যাচ টিকিট নিবন্ধন করা নামের বিপরীতে করা হবে এবং তা কোনো অবস্থাতেই হস্তান্তরযোগ্য নয়। টিকিটের বিষয়ে ফিফার বাকি নির্দেশনাগুলোও মেনে চলতে হবে। বিজয়ীর নাম বার্জারের অফিসিয়াল সোশ্যাল মিডিয়ায় ঘোষণা করা হবে এবং কল সেন্টার থেকে তার সাথে যোগাযোগ করা হবে। ক্রেতাদের পণ্য বা সেবা ক্রয়ের রশিদ ভবিষ্যত প্রয়োজনে রেখে দিতে হবে।

এ ক্যাম্পেইন নিয়ে বার্জারের সেলস ও মার্কেটিংয়ের সিনিয়র জেনারেল ম্যানেজার মো. মহসিন হাবিব চৌধুরী বলেন, “সবচেয়ে রঙিন ক্রীড়ার উৎসবে আবারও মাতবে বিশ্ব। ফিফা বিশ্বকাপ এখন আমাদের দরজায় কড়া নাড়ছে! উৎসবের এই রঙে বার্জারও থাকছে সবার আনন্দে নতুন মাত্রা যোগ করতে। ক্রেতাদের জন্য উৎসবমুখর এই ক্যাম্পেইনটি নিয়ে আসতে পেরে আমরা নিজেদের গর্বিত মনে করছি। এই মৌসুমে বার্জারের সাথে আপনাদের কাতার-যাত্রার স্বপ্ন পূরণ হবে। সুতরাং, যারা নিজেদের বাড়িকে নতুন রূপে দেখতে চাইছিলেন তারা এখনই তা বাস্তবায়নের পরিকল্পনা করে ফেলুন।”

ফুটবল বাংলাদেশের অন্যতম জনপ্রিয় খেলা। আর এই ফুটবলের সবচেয়ে বড় আসর ফিফা বিশ্বকাপ। এ বিশ্বকাপ পছন্দের দলের সাথে আনন্দ-বেদনার গল্প নিয়ে আসে। বিশ্বকাপের বিশেষ ক্যাম্পেইনে শহর ও গ্রামাঞ্চলের বিভিন্ন বাড়ি সজ্জিত করবে বার্জার। শুরুর দিক থেকে খেলার চেতনার সাথে বার্জারের ব্র্যান্ড আইডেন্টিটিকে এগিয়ে নিতে বার্জারের সাথে যুক্ত হন তারকা ফুটবলার জামাল ভূঁইয়া। ক্যাম্পেইনের বিষয়ে আরও বিস্তারিত জানতে ভিজিট করুন বার্জার পেইন্টস বাংলাদেশ লিমিটেডের অফিশিয়াল ফেসবুক পেজ।

;