অগ্রণী ব্যাংকের ভবিষ্যৎ কি!



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি অগ্রণী ব্যাংক কি বিপদের মুখোমুখি! বড় ঋণ গ্রহীতাদের বেশিরভাগ বেসরকারি খাতের। এই বেসরকারি খাতের কোম্পানীগুলির মধ্যে শীর্ষে রয়েছে ওরিয়ন গ্রুপ। এদের ঋণের পরিমাণ ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। দ্বিতীয় হচ্ছে ইউনিক গ্রুপ। এদের পরিমাণ ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের বেসরকারি খাতের ঋণ পরিস্থিতি রোববার প্রকাশ করেছে দৈনিক বণিক বার্তা। প্রথম পাতায় প্রধান শিরোনাম হিসাবে প্রকাশিত এই রিপোর্টে বলা হয়েছে:

দেশের বড় কিছু করপোরেটের হাতে কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়েছে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ। ব্যাংকটির বিতরণকৃত মোট ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশই গিয়েছে ৩৬ গ্রাহকের কাছে, যার সিংহভাগই বেসরকারি খাতের। কোম্পানিগুলোর মধ্যে সরকারি ও বেসরকারি প্রতিষ্ঠান যথাক্রমে সাত ও ২৯টি। এসব বড় গ্রাহকের মধ্যে মূলত বেসরকারি খাতের কোম্পানিগুলোর ভালোমন্দ বা সদিচ্ছার ওপরই এখন নির্ভর করছে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির ভবিষ্যৎ।

গত বছরের শেষে ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৩৬ কোম্পানিকে দেয়া হয়েছে ২৩ হাজার ৭৩ কোটি টাকারও বেশি। এসব কোম্পানির একেকটি ২৮৪ কোটি থেকে শুরু করে ২ হাজার কোটি টাকা পর্যন্ত ঋণ নিয়েছে।

অগ্রণী ব্যাংকের ঋণের সবচেয়ে বড় গ্রাহক ওরিয়ন গ্রুপ। ২০২১ সাল শেষে ওরিয়নের কাছে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ছিল ২ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। ব্যাংকটি থেকে দ্বিতীয় সর্বোচ্চ ঋণ গিয়েছে ইউনিক গ্রুপের কাছে। গত বছর শেষে এ গ্রুপের কাছে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ ছিল ১ হাজার ৬০৪ কোটি টাকা। তৃতীয় স্থানে রয়েছে এ নিট স্পিন লিমিটেড। কোম্পানিটি অগ্রণী ব্যাংকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছে ১ হাজার ২৬১ কোটি টাকা।

ঋণের অন্য বড় গ্রাহকদের মধ্যে ১ হাজার ৯৭ কোটি টাকা ঋণ রয়েছে জাকিয়া গ্রুপের কাছে। এছাড়া জজ ভূঞা গ্রুপের কাছে ৯২৯ কোটি, বাংলাদেশ সার্ভিসেস লিমিটেডের কাছে ৯০০ কোটি, থার্মেক্স গ্রুপের কাছে ৭৬৯ কোটি, তানাকা গ্রুপের কাছে ৭৩৭ কোটি, ম্যাগপাই গ্রুপের কাছে ৭৩০ কোটি ও নাইস স্পান মিলস লিমিটেডের কাছে ৬৮৩ কোটি টাকার ঋণ রয়েছে অগ্রণী ব্যাংকের। এসব গ্রাহক রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির শীর্ষ ১০ ঋণগ্রহীতা হিসেবে স্বীকৃত।

বড়দের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি স্বীকার করছেন অগ্রণী ব্যাংকের চেয়ারম্যান ড. জায়েদ বখত। বণিক বার্তাকে তিনি বলেন, বড় ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে বাংলাদেশ ব্যাংকের কিছু রীতিনীতি আছে। সেসব রীতিনীতি মেনেই আমরা বড় গ্রহকদের ঋণ দিয়েছি। তবে অগ্রণী ব্যাংকের ঋণ বড়দের কাছে কেন্দ্রীভূত হয়ে যাওয়ার বিষয়টি আমি স্বীকার করছি। যেকোনো ব্যাংকের ক্ষেত্রেই এ ধরনের ঋণ কিছুটা ঝুঁকি তৈরি করে। আশার কথা হলো অগ্রণী ব্যাংকের বড় গ্রহকদের ঋণ নিয়মিত আছে। যেসব ঋণ এরই মধ্যে বিতরণ হয়ে গিয়েছে, সেগুলো আদায়ে জোর দেয়া হচ্ছে।

জায়েদ বখত বলেন, সম্প্রতি বড়দের ঋণ দেয়ার ক্ষেত্রে কেন্দ্রীয় ব্যাংক কিছু বিধিনিষেধ দিয়েছে। আমরা কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিধিনিষেধ মেনে বড়দের ঋণ নিয়ন্ত্রণে উদ্যোগী হয়েছি। ঋণের ঝুঁকি কমাতে আমরা সিন্ডিকেশনের পদ্ধতিতে বড় ঋণ বিতরণ করছি। পাশাপাশি এসএমই খাতে ঋণ বিতরণে জোর দেয়া হচ্ছে।

অগ্রণী ব্যাংকের সরকারি-বেসরকারি বড় ঋণগ্রহীতাদের মধ্যে আরো রয়েছে বাংলাদেশ পাওয়ার ডেভেলপমেন্ট বোর্ড (৬৬২ কোটি টাকা), প্যাসিফিক গ্রুপ (৬৫৮ কোটি), যমুনা গ্রুপ (৬৩০ কোটি), প্রাইম গ্রুপ (৬০৮ কোটি), ঢাকা হাইড অ্যান্ড স্কিন্স লিমিটেড (৫৬৬ কোটি), নর্থওয়েস্ট পাওয়ার জেনারেশন (৫৫৩ কোটি), প্যারামাউন্ট বিট্র্যাক এনার্জি লিমিটেড (৫৩১ কোটি), নোমান গ্রুপ (৫২৭ কোটি), মুন গ্রুপ (৫২১ কোটি), বসুন্ধরা গ্রুপ (৫১৪ কোটি), বিএসআরএম স্টিল (৫১১ কোটি), নোমান উইভিং মিলস লিমিটেড (৫১১ কোটি), বেক্সিমকো গ্রুপ (৫০৯ কোটি), সোনালী গ্রুপ (৫০৩ কোটি), বাংলাদেশ সুগার অ্যান্ড ফুড অর্গানাইজেশন (৪৯০ কোটি), আরপিসিএল (৪৬৭ কোটি), বাংলাদেশ পেট্রোলিয়াম করপোরেশন (৪৪০ কোটি), সিকদার গ্রুপ (৪৪০ কোটি), অগ্রণী ইকুইটি ইনভেস্টমেন্ট লিমিটেড (৪০১ কোটি), অ্যারিস্টোক্র্যাট গ্রুপ (৩৯৪ কোটি), নিটল মটরস লিমিটেড (৩৪৩ কোটি), আবদুল মোনেম লিমিটেড (৩০৯ কোটি), লাবিব গ্রুপ (৩০১ কোটি), প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ (২৯২ কোটি), সাদ মুসা ফ্যাব্রিকস লিমিটেড (২৮৫ কোটি) ও সিটি গ্রুপ (২৮৪ কোটি টাকা)। অগ্রণী ব্যাংকের এ শীর্ষ ৩৬ গ্রাহকের মধ্যে সাতটি কোম্পানি সরকারি খাতের। এসব কোম্পানির কাছে ব্যাংকটির ঋণের পরিমাণ ৩ হাজার ৯১৩ কোটি টাকা।

অগ্রণী ব্যাংকের তথ্য বলছে, ২০২১ সাল শেষে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকটির মোট বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫৯ হাজার ৭৮১ কোটি টাকা। এ ঋণের ৩২ দশমিক ২৮ শতাংশই বিতরণ করা হয়েছে একটিমাত্র শাখা থেকে। অগ্রণী ব্যাংকের প্রধান কার্যালয়ের নিচে অবস্থিত প্রিন্সিপাল শাখা থেকে বিতরণ করা হয়েছে ১৯ হাজার ২৯৮ কোটি টাকার ঋণ। অভিযোগ রয়েছে, শাখাটিকে ঘিরে অনিয়ম-দুর্নীতির একটি শক্তিশালী সিন্ডিকেট গড়ে উঠেছে। ব্যাংকটির প্রায় সব বড় গ্রাহকই প্রিন্সিপাল শাখা থেকে ঋণ নিয়েছেন।

২০২১ সাল শেষে অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের প্রায় ৪০ শতাংশ গিয়েছে মাত্র ৩৬ গ্রাহকের কাছে। তবে আগের বছর বড় এসব গ্রাহকের কাছে ঋণ কেন্দ্রীভূত হয়ে পড়ার হার ছিল আরো বেশি। ২০২০ সালের ৩১ ডিসেম্বর অগ্রণী ব্যাংকের বিতরণকৃত ঋণের পরিমাণ ছিল ৫১ হাজার ৭৫২ কোটি টাকা। এ ঋণের অর্ধেকের বেশি তথা ২৬ হাজার ৬১৯ কোটি টাকাই পেয়েছিল মাত্র ৩৬ গ্রাহক। বড় কয়েকটি করপোরেটের ঋণ কিছুটা কমে আসায় গত বছর কেন্দ্রীভূত ঋণের পরিমাণ কমেছে।

২০১৬ সাল থেকে অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব পালন করছেন শামস-উল ইসলাম। প্রথম মেয়াদে তিন বছরের দায়িত্ব পালন শেষ হলে ২০১৯ সালে তাকে দ্বিতীয় মেয়াদে এমডি নিয়োগ দেয়া হয়। আগামী আগস্টে এমডি পদে তার দ্বিতীয় মেয়াদ শেষ হওয়ার কথা রয়েছে। একই সঙ্গে ব্যাংক কোম্পানিতে নির্ধারিত এমডি পদের বয়সসীমা ৬৫ পূর্ণ হবে শামস-উল ইসলামের। তবে মেয়াদ শেষ হওয়ার আগেই শামস-উল ইসলামের বিরুদ্ধে দুর্নীতি ও অর্থ পাচারের অভিযোগ অনুসন্ধানে নেমেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।

শামস-উল ইসলাম অগ্রণী ব্যাংকের এমডি পদে দায়িত্ব নেয়ার সময় ২০১৬ সালে অগ্রণী ব্যাংকে ২০০ কোটি টাকার বেশি এমন ঋণগ্রহীতার সংখ্যা ছিল ১৩। এসব গ্রাহকের কাছে ব্যাংকটির মোট ঋণের পরিমাণ সীমাবদ্ধ ছিল ৬ হাজার ১১২ কোটি টাকায়। এর মধ্যে সর্বোচ্চ ৯২৯ কোটি টাকা ঋণ ছিল ওরিয়ন গ্রুপের। কিন্তু গত পাঁচ বছরে অগ্রণী ব্যাংকের মূলধনের ১০ শতাংশের বেশি ঋণ নেয়া বড় গ্রাহকের সংখ্যা তিন গুণ বেড়েছে। একই সঙ্গে বড় গ্রাহকদের কাছে ব্যাংকের কেন্দ্রীভূত ঋণের পরিমাণ বেড়েছে চার গুণ।

গত পাঁচ বছরে অগ্রণী ব্যাংকের আমানত, বিতরণকৃত ঋণসহ ব্যবসায়িক পরিধিও প্রায় দ্বিগুণ হয়েছে। কিন্তু এ সময়ে ব্যাংকটির আর্থিক স্বাস্থ্য সুদৃঢ় না হয়ে আরো ভঙ্গুর হয়েছে। ২০২১ সালে সুদ খাতে ব্যাংকটি লোকসান দিয়েছে ৭৪৪ কোটি টাকা। গত বছর অগ্রণী ব্যাংকের খেলাপি ঋণ ৪ হাজার ২৩৫ কোটি টাকা বেড়েছে। ২০২১ সাল শেষে ব্যাংকটির খেলাপি ঋণের পরিমাণ দাঁড়িয়েছে ৯ হাজার ৯৯২ কোটি টাকায়, যা মোট ঋণের ১৬ দশমিক ৭১ শতাংশ। খেলাপি ঋণের বিপরীতে পর্যাপ্ত সঞ্চিতিও রাখতে পারেনি অগ্রণী ব্যাংক। ২০২১ সাল শেষে ৪ হাজার ৯৯৭ কোটি টাকা সঞ্চিতি ঘাটতি ছিল ব্যাংকটির।

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস

৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট পাস

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশ্বিক মহামারি করোনা (কোভিড-১৯) পরবর্তী অর্থনৈতিক পরিস্থিতি সফলভাবে মোকাবলা করে চলমান উন্নয়ন বজায় রাখা ও উচ্চতর প্রবৃদ্ধি অর্জনের লক্ষ্য সামনে রেখে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য ৬ লাখ ৭৮ হাজার ৬৪ কোটি টাকার বাজেট আজ সংসদে পাস করা হয়েছে। অর্থমন্ত্রী আ. হ. ম মুস্তফা কামাল গত ৯ জুন জাতীয় সংসদে ‘কোভিডের অভিঘাত পেরিয়ে উন্নয়নের ধারাবাহিকতায় পরিবর্তন’ শ্লোগান সম্বলিত এ বাজেট পেশ করেন।

আজ বাজেট পাসের প্রক্রিয়ায় মন্ত্রীগণ সংশ্লিষ্ট মন্ত্রণালয়ের ব্যয় নির্বাহের যৌক্তিকতা তুলে ধরে মোট ৫৯ টি মঞ্জুরি দাবি সংসদে উত্থাপন করেন। এই মঞ্জুরি দাবিগুলো সংসদে কণ্ঠভোটে অনুমোদিত হয়।

এসব মঞ্জুরি দাবির যৌক্তিকতা নিয়ে বিরোধীদলের ১৩ জন সংসদ সদস্য মোট ৬৬৪টি ছাঁটাই প্রস্তাব উত্থাপন করেন। এর মধ্যে নির্বাচন কমিশন সচিবালয়, মাধ্যমিক ও উচ্চশিক্ষা বিভাগ, স্বাস্থ্যসেবা বিভাগ এবং জননিরাপত্তা বিভাগ ৪টি মঞ্জুরী দাবিতে আনীত ছাঁটাই প্রস্তাবের ওপর বিরোধী দলের সদস্যরা আলোচনা করেন। পরে কণ্ঠভোটে ছাঁটাই প্রস্তাবগুলো নাকচ হয়ে যায়।

ছাঁটাই প্রস্তাবে আলোচনা করেন জাতীয় পার্টির কাজী ফিরোজ রশীদ, ফখরুল ইমাম, রুস্তম আলী ফরাজী, পনির উদ্দিন আহমেদ, মজিবুল হক, রওশন আরা মান্নান, শামীম হায়দার পাটোয়ারী, বিএনপির হারুনুর রশীদ, মোশাররফ হোসেন, রুমীন ফারহানা, গণফোরামের মোক্কাবির খান এবং স্বতন্ত্র সদস্য রেজাউল করিম বাবলু।

এরপর সংসদ সদস্যগণ টেবিল চাপড়িয়ে নির্দিষ্টকরণ বিল-২০২২ পাসের মাধ্যমে ২০২২- ২৩ অর্থবছরের বাজেট অনুমোদন করেন।

এর আগে গতকাল ২৯ জুন সংসদে অর্থ বিল ২০২২ পাসের মাধ্যমে বাজেটের আর্থিক ও কর প্রস্তাব সংক্রান্ত বিধি-বিধান অনুমোদন করা হয়।

এদিকে ২০২২-২৩ অর্থ বছরের বাজেটে পরিচালনসহ অন্যান্য খাতে ব্যয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩১ হাজার ৯৯ কোটি টাকা। বার্ষিক উন্নয়ন কর্মসূচিতে বরাদ্দ  দেয়া  হয়েছে ২ লাখ ৪৬ হাজার ৬৬ কোটি টাকা।

বাজেটে মোট রাজস্ব আয় ধরা হয়েছে ৪ লাখ ৩৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড সূত্রে আয় ধরা হয়েছে ৩ লাখ ৭০ হাজার কোটি টাকা এবং অন্যান্য সূত্র থেকে কর রাজস্ব ধরা হয়েছে ৬৩ হাজার কোটি টাকা। এর মধ্যে এনবিআর বহির্ভূত ১৮ হাজার কোটি টাকা, কর ব্যতিত প্রাপ্তি ৪৫ হাজার কোটি টাকা।

সামগ্রিক বাজেট ঘাটতি ২ লাখ ৪৫ হাজার ৬৪ কোটি টাকা দেখানো হয়েছে, যা জিডিপির ৫.৫ শতাংশ। ২০২১-২২অর্থ বছরের বাজেটে ঘাটতি ছিল জিডিপির  ৬.২ শতাংশ।

এ ঘাটতি অর্থায়নে বৈদেশিক ঋণ থেকে ১ লাখ ১২  হাজার ৪৫৮ কোটি টাকা, অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে ১ লাখ ৪৬ হাজার ৩৩৫ কোটি টাকা আহরণ করা হবে। বৈদেশিক ঋণের মধ্যে ঋণ পরিশোধ খাতে ১৭ হাজার কোটি রাখা হয়েছে। অভ্যন্তরীণ উৎসের মধ্যে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ১ লাখ ৬ হাজার ৩৩৪ কোটি টাকা এবং সঞ্চয়পত্র ৩৫ হাজার কোটি টাকা, ব্যাংক বহির্ভূত উৎস থেকে ৪০ হাজার ১ কোটি টাকা এবং অন্যান্য খাত থেকে ৫ হাজার কোটি টাকা সংস্থানের ব্যবস্থা রাখা  হয়েছে।

বাজেটে মোট দেশজ উৎপাদন (জিডিপি) প্রবৃদ্ধির লক্ষ্যমাত্রা ৭.৫ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। এছাড়া মূল্যস্ফীতি ৫.৬  শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাজেটে সামাজিক অবকাঠামো খাতে বরাদ্দ রাখা হয়েছে ১ লাখ ৮৩ হাজার ৪২৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২৭.০৫ শতাংশ; এর মধ্যে মানবসম্পদ খাতে (শিক্ষা, স্বাস্থ্য এবং সংশ্লিষ্ট অন্যান্য খাত) বরাদ্দ করা হয়েছে ১ লাখ ৬৭ হাজার ৫২৪ কোটি টাকা। ভৌত অবকাঠামো খাতে ২ লাখ ৮৬০ কোটি টাকা বা ২৯.৬২ শতাংশ; যার মধ্যে সার্বিক কৃষি ও পল্লী উন্নয়ন খাতে ৮৬ হাজার ৭৯৮ কোটি; যোগাযোগ অবকাঠামো খাতে ৭৯ হাজার ২৬ কোটি এবং বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে ২৬ হাজার ৬৫ কোটি টাকা। সাধারণ সেবা খাতে ১ লাখ ৫৩ হাজার ২০৮ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ২২.৫৯ শতাংশ। সরকারি-বেসরকারি অংশীদারিত্ব (পিপিপি), বিভিন্ন শিল্পে আর্থিক সহায়তা, ভর্তুকি, রাষ্ট্রায়ত্ত, বাণিজ্যিক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানে বিনিয়োগের জন্য ব্যয় বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৫৩ হাজার ১৫৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ৭.৮৪ শতাংশ; সুদ পরিশোধ বাবদ বরাদ্দ দেয়া হয়েছে ৮০ হাজার ৩৭৫ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১১.৮৫ শতাংশ; নিট ঋণদান ও অন্যান্য ব্যয় খাতে ৭ হাজার ৪১ কোটি টাকা, যা মোট বরাদ্দের ১.০৪ শতাংশ।

বাজেটে সামাজিক নিরাপত্তা, যোগাযোগ অবকাঠামো, ভৌত অবকাঠামো, আবাসন, শিক্ষা, স্বাস্থ্য, বিজ্ঞান-প্রযুক্তি, কৃষি, মানবসম্পদ উন্নয়ন খাতকে সর্বোচ্চ অগ্রাধিকার দেয়া হয়েছে।

;

২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা

২০২২-২৩ অর্থবছরের মুদ্রানীতি ঘোষণা

  • Font increase
  • Font Decrease

বেসরকারি খাতে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ ঋণ বাড়ানোর প্রক্ষেপণ করে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে। আগের অর্থবছরে এই লক্ষ্যমাত্রা ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ থাকায় নতুন মুদ্রানীতিতে এই ঋণ প্রবৃদ্ধি শূন্য দশমিক ৭০ শতাংশ কম ধরা হয়েছে। এ মুদ্রানীতি কিছুটা সংকোচনমুখী।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিকেলে মুদ্রানীতি ঘোষণা করেন গভর্নর ফজলে কবির। বর্তমান গভর্নর ফজলে কবিরের এটাই শেষ মুদ্রানীতি ঘোষণা। আগামী ৩ জুলাই তার মেয়াদ শেষ হবে।

মুদ্রানীতি ঘোষণাকালে ফজলে কবির বলেছেন, ‘বৈশ্বিক ও অভ্যন্তরীণ অর্থনীতির সর্বশেষ পরিস্থিতি এবং সম্প্রতি সংঘটিত দেশের উত্তর-পূর্বাঞ্চলের বন্যার অর্থনৈতিক প্রভাব পর্যালোচনা করে প্রতীয়মান হয় যে, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য মুদ্রানীতির মূল চ্যালেঞ্জ হবে টাকার অভ্যন্তরীণ ও বাহ্যিক মান অর্থাৎ মূল্যস্ফীতি ও বিনিময় হারকে স্থিতিশীল রাখা। একই সঙ্গে, কর্মসংস্থান সৃষ্টির লক্ষ্যে চলমান অর্থনৈতিক পুনরুদ্ধার কার্যক্রমে সমর্থন অব্যাহত রাখাও আসন্ন মুদ্রানীতির জন্য অপরিহার্য বলে বিবেচিত হয়েছে। সে বিবেচনায় মূল্যস্ফীতি ও টাকার বিনিময় হারের ঊর্ধ্বমুখী চাপকে নিয়ন্ত্রণে রেখে কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জনে সহায়তা করার নিমিত্তে ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সতর্কতামূলক মুদ্রানীতি ভঙ্গি অনুসরণ করা হয়েছে, যা কিছুটা সংকোচনমুখী। সে আলোকে পুরো অর্থবছরের জন্য অর্থ ও ঋণ কর্মসূচি প্রণয়ন করা হয়েছে।’

উল্লেখ্য, জাতীয় বাজেট বক্তৃতার তথ্য অনুযায়ী, ২০২২-২৩ অর্থবছরের জন্য সরকারের কাঙ্ক্ষিত জিডিপি প্রবৃদ্ধি ও মূল্যস্ফীতির লক্ষ্যমাত্রাগুলো হলো যথাক্রমে ৭.৫ ও ৫.৬ শতাংশ। এ লক্ষ্য ঠিক রেখে নতুন মুদ্রানীতি ঘোষণা করা হয়েছে।

পুরো ২০২২-২৩ অর্থবছরে বেসরকারি খাতে ঋণ প্রবৃদ্ধির প্রক্ষেপণ করা হয়েছে ১৪ দশমিক ১০ শতাংশ। আগের মুদ্রানীতিতে লক্ষ্যমাত্রা ছিল ১৪ দশমিক ৮০ শতাংশ। আগামী ডিসেম্বর পর্যন্ত বেসরকারি ঋণের প্রবৃদ্ধির লক্ষ্য রাখা হয়েছে ১৩ শতাংশ ৬০ শতাংশ। চলতি জুন পর্যন্ত বেসরকারি খাতে ঋণের প্রবৃদ্ধি হয়েছে মাত্র ১৩ দশমিক ১০ শতাংশ।

ঘোষিত নতুন মুদ্রানীতিতে সরকারের লক্ষ্যমাত্রার আলোকে ঋণ গ্রহণের প্রবৃদ্ধি ৩৬ দশমিক ৩ শতাংশ নির্ধারণ করা হয়েছে। মোট অভ্যন্তরীণ ঋণের প্রবৃদ্ধি ধরা হয়েছে ১৮ দশমিক ২০ শতাংশ।

মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণ ও কাঙ্ক্ষিত প্রবৃদ্ধি অর্জনের মধ্যে ভারসাম্য রাখতে কেন্দ্রীয় ব্যাংক মুদ্রানীতি প্রণয়ন ও প্রকাশ করে। দেশের আর্থিক ব্যবস্থাপনায় মুদ্রানীতি খুবই গুরুত্বপূর্ণ। এর মাধ্যমে অভ্যন্তরীণ ঋণ, মুদ্রা সরবরাহ, অভ্যন্তরীণ সম্পদ, বৈদেশিক সম্পদ কতটুকু বাড়বে বা কমবে, তার পরিকল্পনা তুলে ধরা হয়।

;

চট্রগ্রামের খুলশীতে স্বপ্নর ২২৪তম আউটলেট



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
চট্রগ্রামের খুলশীতে স্বপ্নর ২২৪তম আউটলেট

চট্রগ্রামের খুলশীতে স্বপ্নর ২২৪তম আউটলেট

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট এখন চট্টগ্রাম শহরের খুলশীতে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) সকাল ১১ টায় খুলশীর জাকির হোসেন রোডে (হলি ক্রিসেন্ট হাসপাতালের বিপরীতে) নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন স্বপ্নর অপারেশনস ডিরেক্টর আবু নাসের, স্বপ্নর রিটেইল এক্সপানশন ডিরেক্টর সামসুদ্দোহা শিমুল, স্বপ্ন’র হেড অব বিজনেস (প্রোটিন অ্যান্ড পেরিশেবলস) মো. মাহাদী ফয়সাল, স্বপ্ন’র হেড অব বিজনেস মো: ইকবাল হোসেন, চট্রগ্রামের এরিয়া ম্যানেজার সাইফুর রব তারেকসহ অনেক।

‘স্বপ্ন’র নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, স্বপ্ন এখন দেশের ৪০টি জেলায়। চট্টগ্রামে আমাদের সেবার পরিসর আরো বিস্তৃত হবে । খুলশীতে অনেকদিন ধরেই আমরা স্বপ্নের একটি বড় আউটলেট করার পরিকল্পনা করছিলাম। আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ পরিবেশে এখানের সব গ্রাহক স্বপ্ন’তে নিয়মিত বাজার করবেন।


স্বপ্নর অপারেশনস ডিরেক্টর আবু নাসের বলেন, গ্রাহকের চাহিদা ও সন্তুষ্টিকে সবসময় অগ্রাধিকার দেয় 'স্বপ্ন'। আশা করছি, এখানের সব গ্রাহক আমাদের এই নতুন আউটলেটটি পছন্দ করবেন।

স্বপ্নর রিটেইল এক্সপানশন  ডিরেক্টর  সামসুদ্দোহা শিমুল বলেন, স্বপ্নর ২২৪তম আউটলেট এটি।  চট্টগ্রামের মানুষদের জন্য আমাদের নতুন এই আউটলেটটিতে দৈনন্দিন জীবনের প্রয়োজনীয় সব কিছু আমরা রাখার চেষ্টা করেছি।

নতুন আউটলেটের ঠিকানা:  জাকির হোসেন রোড (হলি ফ্যামিলির বিপরীতে), উত্তর খুলশী, চট্রগ্রাম।

এই আউটলেটেও থাকছে মাসব্যাপী নানা অফার এবং হোম ডেলিভারি সেবা। খুলশীর নতুন এই আউটলেটে হোম ডেলিভারির জন্য যোগাযোগের নম্বর- ০১৮৪৭-২৬৫০৩৫ ।

;

‘জ্বালানি সনদে স্বাক্ষর রাষ্ট্রকে ঝুঁকির মধ্যে ফেলবে’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ক্যাব আয়োজিত সংলাপ

বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ক্যাব আয়োজিত সংলাপ

  • Font increase
  • Font Decrease

জ্বালানি সনদ চুক্তি কোনভাবেই জনগণের স্বার্থ রক্ষা করে না। এতে জ্বালানি রূপান্তর নীতি বাধাগ্রস্ত হবে, রাষ্ট্র ঝুঁকির মধ্যে পড়বে।

বৃহস্পতিবার (৩০ জুন) বিশ্ব সাহিত্য কেন্দ্র মিলনায়তনে ক্যাব আয়োজিত গণমাধ্যমের সঙ্গে সংলাপে এমন অভিমত উঠে এসেছে।

ঢাকা বিশ্ববিদ্যালের অধ্যাপক ড. তানজীমউদ্দিন খান বলেন, জ্বালানি সনদ চুক্তির মূল উদ্যোক্তা ছিল নেদারল্যান্ডস। তারাই এখন বের হয়ে যাওয়ার চেষ্টা করছেন। তবে বের হয়ে যাওয়া খুব সহজসাধ্য নয় তাই একে জংলী সনদ বলা হয়। ১৯৯১ সালে ডাবলিনে এক সভায় ডাচ প্রধানমন্ত্রী এনার্জি কমিউনিটি গড়ার প্রস্তাব দেন। ওই প্রস্তাবের হাত ধরে ইউরোপীয় জ্বালানি সনদ চূড়ান্ত হয়। চুক্তিটি ১৯৯৮ সাল থেকে কার্যকর হয়।

সনদে স্বদেশি বিদেশি বাছ-বিচার না করে সবাইকে সুরক্ষা দেওয়া কথা বলা হয়েছে। বাংলাদেশ ২০১৫ সালে এনার্জি চার্টারে স্বাক্ষর করে এখন পর্যবেক্ষক হিসেবে রয়েছে। ২০১৮ সালে আন্তর্জাতিক নবায়নযোগ্য সম্মেলনে বাংলাদেশ চুক্তি স্বাক্ষরের বিষয়ে নিশ্চিত করেছে, শিগগিরই চুক্তি করার পথে রয়েছে। ধারা ৫, ১১ ও ১৪ অনুযায়ী লোকাল কোনো পণ্য ব্যবহারে বাধ্য করতে পারবে না। জনবলও নিতে বাধ্য করা যাবে না।

ভোক্তার জন্য জ্বালানি মূল্য কমালে বিনিয়োগকারী যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়, তাতে মামলা করতে পারবে। এই সনদে সই করলে বিদেশি কোম্পানি বিনা বাঁধায় তাদের পুঁজি, মুনাফা ফেরত নিয়ে যেতে পারবে। সবচেয়ে বিপদজনক হচ্ছে, বিনিয়োগ সংক্রান্ত দ্বন্দ্ব নিরসনে অতি ব্যয়বহুল আন্তর্জাতিক সালিসের দ্বারস্থ হতে বাধ্য করা হয়েছে। অন্যান্য আইনের মতো প্রাথমিক ধাপে স্বাগতিক রাষ্ট্রের আদালতে যাওয়ার বাধ্যবাধকতা নেই। এই সনদ স্বাগতিক দেশের জন্য একটি অসম ও ভারসম্যহীন অবস্থায় সৃষ্টি করা হয়েছে।

সূচনা বক্তব্য রাখেন ক্যাবের সভাপতি গোলাম রহমান। তিনি বলেন, শরীরে রক্ত প্রবাহ ঠিক না থাকলে যেমন শরীর অচল হয়ে পড়ে। অর্থনীতির জন্য জ্বালানিও তেমনি। আমাদের দেশে এখন পর্যন্ত মূল্যস্ফীতি কিছু নিয়ন্ত্রণে রয়েছে জ্বালানির মূল্য কিছুটা স্থিতিশীল রয়েছে। যেসব দেশে স্বয়ংক্রিয়ভাবে জ্বালানির দাম উঠানামা করে তাদের মূল্যস্ফীতি অনেক বেশি। আমেরিকা তার উপযুক্ত উদাহরণ। মূল্যস্ফীতি নিয়ন্ত্রণে রাখার জন্য জ্বালানির দাম জনগণের নাগালে রাখতে হবে।

ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ড. এম শামসুল আলম বলেন, প্রশাসনিক কর্তৃপক্ষের অবৈধ ও এখতিয়ার বর্হিভূত কর্তৃত্ব, রেগুলেটরি সংস্থার নিষ্ক্রিয়তা ও অদক্ষতা, সুশাসনের সংকট এবং উপেক্ষিত জ্বালানি অধিকার ও পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জ্বালানি জাস্টিস এমন অবস্থা বাংলাদেশে জনবান্ধন জ্বালানি উন্নয়নে বড় বাঁধা।

সাশ্রয়ী মূল্যে জ্বালানি সরবরাহের দায়িত্ব বিইআরসির। কিন্তু তারা আইন যথাযথভাবে পালন করছে না। তারা লুন্ঠনমূলক ব্যয় অনুমোদন দিচ্ছে। ভোক্তাদের স্বার্থ সংরক্ষণের জন্য সরকারের পক্ষ থেকে তেমন কোন উদ্যোগ দৃশ্যমান নয়। এমনকি সামাজিকভাবেও তেমন কোন আন্দোলন দেখা যাচ্ছে না।

এদেশে নবায়নযোগ্য জ্বালানির নামে নিম্নমানের জিনিসের ব্যবসা হচ্ছে। রাজস্থানে যে সৌর বিদ্যুৎ উৎপাদন করা হচ্ছে, সেখানে ৩ টাকার কম খরচ পড়ছে।

;