অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!

অনিয়ম-দুর্নীতি, ব্যর্থতার পরও শীর্ষ পদে আতাউর রহমান প্রধান!

  • Font increase
  • Font Decrease

আতাউর রহমান প্রধান। ৩৭ বছরের ব্যাংকিং ক্যারিয়ারে বর্তমানে তিনি সোনালী ব্যাংকের প্রধান নির্বাহী (সিইও) ও ব্যবস্থাপনা পরিচালকের (এমডি) পদে দায়িত্ব পালন করছেন। তার বিরুদ্ধে ঋণ পাইয়ে দেওয়া, অনিয়ম ও দুর্নীতিসহ নানা অভিযোগ রয়েছে। এরপরও প্রভাবশালীদের ধরে ব্যাংকিং খাতের শীর্ষ পদে রয়েছেন আতাউর রহমান।

আতাউর রহমান প্রধান তিন বছর সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন। তার সময়ে সংঘটিত অনিয়ম-দুর্নীতি আর পরিচালন ব্যর্থতায় বন্ধ হয়ে যাচ্ছে ব্যাংকটি। আগামী ১৬ আগস্ট বিদেশের মাটিতে বাংলাদেশের মালিকানার একমাত্র ব্যাংকটি বন্ধ হবে বলে ঘোষণা করা হয়েছে।

দুর্নীতি ও অনিয়মের অভিযোগ থাকার পরও একজন ব্যক্তিকে কিভাবে পদন্নোতি দিয়ে শীর্ষ পদে রাখা হয় এ নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন সংশ্লিষ্ট মহল। তারা বলছেন, দেশের আর্থিক খাতের প্রভাবশালী একটি অংশের আশীর্বাদে আতাউর রহমান প্রধান তিরস্কৃত হওয়ার পরিবর্তে পুরস্কৃত হয়েছেন। সেই সঙ্গে তিনি রাষ্ট্রের ক্ষতি করে দেশের ভাবমূর্তি ক্ষুণ্ন করেছেন।

আতাউর রহমান ও সোনালী ব্যাংক ইউকে নিয়ে সোমবার  একটি প্রতিবেদন প্রকাশ করেছে দৈনিক বণিক বার্তা। প্রতিবেদন অনুসারে, যুক্তরাজ্যে বাংলাদেশের ব্যাংকটির ২০১২ সালের মার্চ থেকে ২০১৫ সালের মে পর্যন্ত শীর্ষ নির্বাহীর দায়িত্বে ছিলেন আতাউর রহমান প্রধান। ওই সময় একের পর এক দুর্ঘটনা ও আর্থিক অপরাধ সংঘটিত হয় ব্যাংকটিতে।

জানা গেছে, ২০১৩ সালের ২ জুন ব্যাংকটির ওল্ডহ্যাম শাখা থেকে সুইফট কোড জালিয়াতির মাধ্যমে ২ লাখ ৫০ হাজার ডলার হাতিয়ে নেয়া হয়। এর পরিপ্রেক্ষিতে ২০১৫ সালের ১৫ ডিসেম্বর শাখাটি বন্ধ করে দেয় ব্যাংক অব ইংল্যান্ড। ২০১৭ সাল থেকে চালু আছে শুধু লন্ডন ও বার্মিংহাম শাখা। ২০১০ সালের ২০ আগস্ট থেকে ২০১৪ সালের ২১ জুলাই সময়ে অর্থ পাচার প্রতিরোধ ব্যবস্থার দুর্বলতার কারণে সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডকে ৩২ লাখ ৫০ হাজার পাউন্ড জরিমানা করে যুক্তরাজ্যের আর্থিক খাতের নিয়ন্ত্রক সংস্থা ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটি (এফসিএ)। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ ৩৫ কোটি টাকারও বেশি। বন্ধ করে দেয় নতুন হিসাব খোলা। শীর্ষ নির্বাহী হিসেবে দায়িত্বে অবহেলা, সুপারভাইজরি ঘাটতি ও অন্যান্য কারণে ৭৬ হাজার ৪০০ পাউন্ড জরিমানার মুখে পড়েন আতাউর রহমান প্রধানও।

এছাড়া সোনালী ব্যাংক ইউকের মুদ্রা পাচার প্রতিরোধ বিভাগের প্রধান স্টিভেন স্মিথকে এ ধরনের চাকরিতে নিষিদ্ধ ও ১৮ হাজার পাউন্ড জরিমানা করা হয়। জরিমানার ৩২ লাখ পাউন্ড অর্থ রাষ্ট্রের কোষাগার থেকেই পরিশোধ করতে হয়।

যুক্তরাজ্যের এফসিএ কর্তৃক জরিমানার মুখে পড়ার বিষয়টি প্রায় ২ বছর পর ২০১৮ সালের ৪ ডিসেম্বর প্রকাশ করা হয়। তবে এত ঘটলেও ২০১৯ সালে আতাউর রহমান প্রধান পদোন্নতি পেয়ে রূপালী ব্যাংক থেকে সোনালী ব্যাংকের এমডি হয়েছেন। বিনিময়ে তিনি প্রভাবশালী গোষ্ঠীকে রাষ্ট্রায়ত্ত এ দুটি ব্যাংক থেকে হাজার হাজার কোটি টাকা ঋণ পাইয়ে দিতে সহযোগিতা করেছেন বলে অভিযোগ রয়েছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের একটি প্রজ্ঞাপন অনুসারে, কোন নিয়ন্ত্রক সংস্থা কর্তৃক ব্যাংক কর্মকর্তা শাস্তিপ্রাপ্ত হলে তিনি শীর্ষ নির্বাহী হতে পারবেন না। এই বিধি সত্ত্বেও আতাউর রহমান প্রধান কীভাবে রূপালী ও সোনালী ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহী হলেন সেটি নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।

এ প্রসঙ্গে বাংলাদেশ ব্যাংকের একজন কর্মকর্তা বলেন, যুক্তরাজ্যের ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির সিদ্ধান্তের বিরুদ্ধে আতাউর রহমান প্রধান আপিল করেছেন। আপিল নিষ্পত্তি না হওয়ায় তাকে এমডি পদে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল। কিন্তু দুর্ভাগ্য হলো, আপিল নিষ্পত্তি হওয়ার আগেই আতাউর রহমান প্রধান দুটি ব্যাংকের শীর্ষ নির্বাহীর পদে মেয়াদ শেষ করতে চলেছেন।

আতাউর রহমান প্রধানকে শাস্তি না দিয়ে পদোন্নতি দেওয়াকে দুর্নীতিবাজ পুরস্কৃত করা হয়েছে বলে মনে করছে ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল অব বাংলাদেশ (টিআইবি)।  সংস্থাটি মনে করে, দুর্নীতিবাজকে শাস্তি না দিয়ে পদোন্নতি দেওয়া দুর্নীতি উৎসাহ দেওয়ার সমান। ব্যাংক অব ইংল্যান্ড কর্তৃক সোনালী ব্যাংক ইউকে বন্ধ করে দেয়ার সিদ্ধান্তটি বাংলাদেশের ব্যাংক খাতের বিষয়ে বহির্বিশ্বে নেতিবাচক ধারণা তৈরি করবে।

বাংলাদেশ সরকার ও রাষ্ট্রায়ত্ত সোনালী ব্যাংকের জোগান দেয়া মূলধনে প্রতিষ্ঠিত হয় সোনালী ব্যাংক ইউকে। এর মধ্যে অর্থ মন্ত্রণালয়ের মালিকানা রয়েছে ৫১ শতাংশ। বাকি ৪৯ শতাংশ শেয়ারের মালিক সোনালী ব্যাংক লিমিটেড। ২০০১ সালে পূর্ণাঙ্গ ব্যাংক হিসেবে যুক্তরাজ্যে কার্যক্রম শুরু করে ব্যাংকটি। প্রতিষ্ঠার পর কয়েক দফায় দেশ থেকে মূলধন জোগান দেয়ায় এখন সোনালী ব্যাংক ইউকে লিমিটেডের মূলধনের পরিমাণ ৬ কোটি ৩৮ লাখ পাউন্ড। অস্তিত্ব টিকিয়ে রাখতে বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভ থেকে ৬ কোটি ডলার ঋণও দেয়া হয়।

যদিও শেষ পর্যন্ত বন্ধ করা হচ্ছে বিদেশের মাটিতে একমাত্র বাংলাদেশি মালিকানার ব্যাংকটি। ব্যাংক অব ইংল্যান্ডের প্রুডেন্সিয়াল রেগুলেশন অথরিটি (পিআরএ) এবং ফাইন্যান্সিয়াল কন্ডাক্ট অথরিটির (এফসিএ) সিদ্ধান্তে বন্ধ হচ্ছে সোনালী ব্যাংক ইউকে। গত ২৭ জানুয়ারি বিষয়টি সোনালী ব্যাংক ইউকে-কে জানিয়েও দেয়া হয়েছে।  

তবে যুক্তরাজ্যে অবস্থিত ব্যাংকটিকে বাঁচাতে তত্পর হয়েছে অর্থ মন্ত্রণালয়ের আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ। এজন্য সোনালী ব্যাংক ইউকের পরিবর্তে যুক্তরাজ্যে দুটি অ-ব্যাংক আর্থিক প্রতিষ্ঠান গড়ে তোলার প্রস্তাব দেয়া হচ্ছে। মোট চারটি প্রস্তাব দিয়ে এ বিষয়ে প্রধানমন্ত্রীর কাছে সারসংক্ষেপ পাঠাচ্ছে আর্থিক প্রতিষ্ঠান বিভাগ।

এ সব বিষয়ে আতাউর রহমান প্রধানের কাছে জানতে চাইলে তিনি এ বিষয়ে মন্তব্য করতে নিষেধাজ্ঞা আছে বলে জানিয়েছেন। কারণ তিনি তার বিরুদ্ধে এফসিএর জরিমানা করার বিষয়টি নিয়ে আপিল করেছেন।

জাতীয় গ্রিডে যোগ হচ্ছে আরও ৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ



আল মামুন, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ব্রাহ্মণবাড়িয়া
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির (এপিএসসিএল) নতুন নির্মিত ৪’শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল পাওয়ার প্লান্ট (ইস্ট) থেকে পরীক্ষামূলক বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়েছে। গত সোমবার সকাল থেকে এ ইউনিটটি সিম্পল সাইকেলে (আংশিক শক্তি) পরীক্ষামূলক উৎপাদনে চেষ্টা শুরু করে কর্তৃপক্ষ। প্রথম ২-১ দিন বিদ্যুৎ উৎপাদন কম হলেও পর্যায়ক্রমে তা বেড়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) দুপুরে ইউনিটটি (সিম্পল সাইকেলে নির্ধারিত) পুরোপুরি চালু করা হলে প্রায় ৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে সক্ষম হয়েছে। ফলে নতুন এই ইউনিটটি থেকে জাতীয় গ্রিডে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন থেকে আরও অতিরিক্ত ৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ যোগ হল।

আগামী সেপ্টেম্বরের শেষে ইউনিটটি কম্বাইন্ড সাইকেলে (পূর্ণ শক্তিতে) চালু হলে ৪’শ থেকে ৪’শ ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন সম্ভব হবে বলে জানিয়েছে এপিএসসিএল কর্তৃপক্ষ। এদিকে এ ইউনিটটি চালু হওয়ায় জাতীয় গ্রিডে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানির দৈনিক বিদ্যুৎ সরবরাহ করছে ১৮’শ থেকে ১৯’শ মেগাওয়াট।

আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেড সূত্রে জানা যায়, বর্তমান সরকারের বিদ্যুৎ উৎপাদনের মহাপরিকল্পনার অংশ হিসাবে ২০০৯ সালে আওয়ামী লীগ সরকার আশুগঞ্জকে ‘পাওয়ার হাব’ ঘোষণা করে। এরই ধারাবাহিকতায় আগামী ২০৩০ সালের মধ্যে এই কেন্দ্রের বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যমাত্রা ৬ হাজার মেগাওয়াটে উন্নীতকরণের কাজ শুরু করে এপিএসসিএল কর্তৃপক্ষ। ইতিমধ্যে ৪৫০ মেগাওয়াটের কম্বাইন সাইকেল (নর্থ ও সাউথ) প্লান্ট দুটি, ২২৫ মেগাওয়াটের ইউনাইটেড পাওয়ার প্লান্ট ও ২০০ মেগাওয়াটের মডিউলার প্লান্ট ইউনিট নির্মিত এবং চালু হয়েছে। এরই অংশ হিসেবে অধিক পুরানো দুটি কম বিদ্যুৎ উৎপাদনকারি (প্রতিটি ৬৪ মেগাওয়াটের ইউনিট জিটি-১.জিটি-২ ও এসটি ইউনিটটি) অপসারণ করে একই প্রায় সমপরিমাণ জ্বালানি (গ্যাস) ব্যবহার করে অধিক বিদ্যুৎ উৎপাদনের লক্ষ্যে ৪‘শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (ইস্ট) প্লান্ট নির্মাণে প্রকল্প হাতে নেয় কর্তৃপক্ষ।

এপিএসসিএল সূত্রে আরও জানা যায়, ২০১৫ সালের ২২ সেপ্টেম্বর জাতীয় অর্থনৈতিক কমিটির (একনেক) সভায় ৪‘শ মেগাওয়াট ক্ষমতা সম্পন্ন কম্বাইন্ড সাইকেল (ইস্ট) প্রকল্পটি অনুমোদন পায়। দরপত্র প্রক্রিয়ায় ২০১৮ সালে ২০ মার্চ সর্বনিম্ন দরদাতা হিসাবে চায়না ন্যাশনাল টেকনিক্যাল ইমপোর্ট এন্ড এক্সপোর্ট কর্পোরেশন এবং চায়না ন্যাশনাল কর্পোরেশন ফর অভারসিস ইকোনোমিক্স কো-অপারেশন কনস্ট্রাকশন প্রকল্পটি বাস্তবায়নের দায়িত্ব পায়। প্রকল্পটি বাস্তবায়নে মোট ব্যয় ১৮০.৩২৫ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। এ অর্থের মধ্যে এডিবি ১০৭.৯২ মিলিয়ন আইডিবি ৮৫ মিলিয়ন ডলার এবং অবশিষ্ট টাকা বাংলাদেশ সরকার প্রদান করার কথা রয়েছে। ঠিকাদারি প্রতিষ্ঠান ২০১৮ সালের মার্চ মাসে চুক্তি স্বাক্ষর করলেও তারা একই বছরে ১৬ জুলাই থেকে প্রকল্পের নির্মাণ কাজ শুরু করে। চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পটি ডিসেম্বর/২০২০ এ সিম্পল সাইকেলে (আংশিক) ও জুন/২০২১ কম্বাইন্ড সাইকেল (পুরোপুরি ) ৪‘শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদনের কথা ছিল। কিন্ত প্রথমে প্রকল্প বাস্তবায়নকারি দেশ চীন ও পরে সারা বিশ্বে করোনাভাইরাসের বিস্তার ও মহামারি আকার ধারন করায় এ প্রকল্পের কাজে স্থবিরতা নেমে আসে।

তাছাড়া চুক্তি মোতাবেক প্রকল্পের গ্যাস টারবাইন ও স্টিম টারবাইন জার্মানের সিমেন্স কোম্পানি কিছু যন্ত্রপাতি চীন থেকে আসার কথা থাকলেও আর্ন্তজাতিক যোগাযোগ বন্ধ থাকায় তা বাধাগ্রস্ত হয়। করোনার প্রকোপ কমে গেলে জার্মান থেকে জেনারেটর ও কারিগরি টিম আসলে তা পুনরায় কাজ শুরু করা হলেও জেনারেটরের একটি অংশে ত্রুটি দেখায় পুনঃনির্ধারিত সময়েও উৎপাদন শুরু করা সম্ভব হয়নি। পরে জেনারেটর সরবরাহকারি দেশ জার্মানের কারিগরি টিমের সার্বিক তত্ত্বাবাধনে উদ্ভুত সমস্যা সমাধান ও পরীক্ষা নিরীক্ষা শেষে গত সোমবার থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন শুরু হয়।

এ ব্যাপারে আশুগঞ্জ পাওয়ার স্টেশন কোম্পানি লিমিটেডের ব্যবস্থাপনা পরিচালক এ. এম. এম সাজ্জাদুর রহমান বার্তা২৪.কম-কে বলেন, নতুন ইউনিটটি বর্তমানে ৩’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ উৎপাদন হচ্ছে। সব কিছু ঠিক থাকলে চলতি বছরের সেপ্টেম্বর নাগাদ ইউনিট কম্বাইন্ড সাইকেলে (পুরুদমে) চালু করা সম্ভব হবে। ইউনিটটি পুরোপুরি চালু হলে জাতীয় গ্রিডে দৈনিক ৪’শ থেকে ৪’শ ২০ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ সরবরাহ করা যাবে। পাশাপাশি পুরোনো দুটি ইউনিট বন্ধ করা হলে অনেক জ্বালানি সাশ্রয় হবে। এই ইউনিটটি পুরোপুরি চালু হলে আশুগঞ্জ থেকে দৈনিক প্রায় ১৯’শ মেগাওয়াট বিদ্যুৎ জাতীয় গ্রিডে সরবরাহ করা যাবে।

;

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকার স্মারক নোট



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকার স্মারক নোট

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকার স্মারক নোট

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতির গৌরবের প্রতীক ‘পদ্মা সেতু’র উদ্বোধন উপলক্ষে ১০০ টাকা মূল্যমানের নতুন স্মারক নোট মুদ্রণ করেছে বাংলাদেশ ব্যাংক।

বৃহস্পতিবার (২৩ জুন) বাংলাদেশ ব্যাংকের এক সংবাদ বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে।

আগামী ২৬ জুন (রোববার) হতে উক্ত স্মারক নোট বাংলাদেশ ব্যাংকের মতিঝিল অফিস এবং পরবর্তীতে অন্যান্য শাখা অফিসে পাওয়া যাবে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর ফজলে কবির স্বাক্ষরিত ১৪৬ মিমি×৬৩ মিমি পরিমাপের এ স্মারক নোটের সম্মুখভাগের বাম পাশে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান এবং প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতিকৃতি ও ব্যাকগ্রাউন্ডে পদ্মা সেতুর ছবি মুদ্রিত রয়েছে।

নোটের উপরিভাগে সামান্য ডানে নোটের শিরোনাম ‌‘জাতির গৌরবের প্রতীক পদ্মা সেতু’ লেখা রয়েছে। এছাড়া নোটের উপরে ডান কোণে স্মারক নোটের মূল্যমান ইংরেজিতে ‘১০০’, নিচে ডান কোণে মূল্যমান বাংলায় ‘৳১০০’ এবং উপরিভাগে মাঝখানে ‘একশত টাকা' লেখা রয়েছে।

নোটের পেছন ভাগে পদ্মা সেতুর পৃথক একটি ছবি সংযোজন করা হয়েছে। নোটের উপরিভাগে ডানদিকে নোটের শিরোনাম ইংরেজিতে ‘Padma Bridge The symbol of national pride ONE HUNDRED TAKA’ লেখা রয়েছে। এছাড়া, নোটের উপরে বাম কোণে ও নিচের ডান কোণে মূল্যমান ইংরেজিতে ‘১০০’ এবং নিচে বাম কোণে বাংলায় ‘৳১০০’ লেখা রয়েছে। এছাড়া নোটের নিচে মাঝখানে ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম এবং এর বাম পাশে BANGLADESH BANK’ ও ডান পাশে ‘ONE HUNDRED TAKA’ লেখা রয়েছে।

১০০ ভাগ কটন কাগজে মুদ্রিত ১০০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটটির সম্মুখভাগে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতির বামে ৪ মিলিমিটার চওড়া নিরাপত্তা সুতা রয়েছে। নোটের ডান দিকে জলছাপ এলাকায় ‘বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতি, ‘200’ এবং ‘বাংলাদেশ ব্যাংকের মনোগ্রাম’ মুদ্রিত রয়েছে। এছাড়া নোটের উত্তরা পৃষ্ঠে ভার্নিশের প্রলেপ সংযোজন করা হয়েছে।

১০০ টাকা মূল্যমান স্মারক নোটটির জন্য পৃথকভাবে বাংলা ও ইংরেজি লিটারেচার সংবলিত ফোল্ডার প্রস্তুত করা হয়েছে। ফোল্ডার ছাড়া শুধুমাত্র খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ১৫০ টাকা এবং ফোল্ডার ও খামসহ স্মারক নোটটির মূল্য নির্ধারণ করা হয়েছে ২০০ টাকা।

;

উপায় একাউন্টে কর্মীদের বেতন দেবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
উপায় একাউন্টে কর্মীদের বেতন দেবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

উপায় একাউন্টে কর্মীদের বেতন দেবে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের দ্রুত বর্ধণশীল মোবাইল ফিনান্সিয়াল সার্ভিস প্রদানকারী প্রতিষ্ঠান উপায় এর মাধ্যমে কর্মীদের বেতন প্রদান করবে দেশের অন্যতম বৃহৎ শিল্প প্রতিষ্ঠান প্রাণ-আরএফএল গ্রুপ। প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন কারখানার কর্মীরা বেতন পাবেন তাদের নিজ নিজ উপায় একাউন্টে।

এছাড়াও উপায় কাস্টমাররা তাদের উপায় একাউন্ট ব্যবহার করে প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের বিভিন্ন অঙ্গ প্রতিষ্ঠান যেমন, বেষ্ট বাই, ভিশন ইলেক্ট্রনিক্্স, ওয়াকার (ফুটওয়ার), টেষ্টি ট্রিট, মিঠাই, রিগাল ফার্নিচার, ডেইলি শপিং, অথবা ডট কম এর ১৮০০ এর বেশি আউটলেট থেকে কেনাকাটা করতে পারবেন।

উপায় এর ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও রেজাউল হোসেন এবং প্রাণ-আরএফএল গ্রুপের চিফ ফাইনান্সিয়াল অফিসার উজমা চৌধুরী নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে আজ বৃহস্পতিবার ঢাকার একটি হোটেলে এ সংক্রান্ত একটি চুক্তি স্বাক্ষর করেন। উভয় প্রতিষ্ঠানের উচ্চপদস্থ কর্মকর্তারা এসময় উপস্থিত ছিলেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে রেজাউল হোসেন বলেন, ‘ প্রাণ-আরএফএল গ্রুপে তাদের বিভিন্ন কারখানার কর্মীদের বেতন প্রদানের মাধ্যম হিসেবে উপায়কে নির্বাচন করায় এবং প্রাণ গ্রুপের বিভিন্ন ব্যান্ড আউটলেটে উপায় পেমেন্ট সুবিধা চালু করতে পারায় আমরা আনন্দিত। আমরা আশাকরি প্রাণের কর্মীরা নির্বিঘ্নে উপায় এর বিভিন্ন সেবা উপভোগ করতে পারবেন’।

উজমা চৌধুরী বলেন, ‘আমাদের কর্মীদের সুবিধা হবে এমন কিছু অনন্য ফিচার থাকায় আমরা উপায়কে নির্বাচন করেছি। ভবিষ্যতে প্রাণ ও উপায়ের মধ্যে আরো কাযক্রমে বৃদ্ধি পাবে বলে আমি আশাকরি’।

উপায় একাউন্টে বেতন প্রাপ্তির পর প্রাণের কর্মীরা উপায়ের যেকোন এজেন্ট পয়েন্ট হতে সাশ্রয়ী খরচে টাকা তুলতে পারবেন।

উপায় একাউন্টে রয়েছে মাল্টিওয়ালেট ফিচার। প্রাইমারী ওয়ালেটের পাশাপাশি রয়েছে স্যালারী ওয়ালেট, রেমিটেন্স ওয়ালেট এবং ডিসবার্জমেন্ট ওয়ালেট।

উপায় একাউন্টে বেতন গ্রহণের পাশাপাশি প্রাণের কর্মীরা ফান্ড ট্রান্সফার, মোবাইল রিচার্জ, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট পেমেন্ট সহ বিভিন্ন ধরণের এমএফএস সেবা নিতে পারবেন।

২০২১ সালের ১৭ মার্চ আনুষ্ঠানিক যাত্রা শুরু করে ইউনাইটেড কমার্শিয়াল ব্যাংকের সাবসিডিয়ারি ‘উপায়’। বর্তমানে উপায় বিস্তৃত পরিসরে এমএফএস সেবা প্রদান করছে ইউএসএসডি এবং মোবাইল অ্যাপ উভয়ের মাধ্যমে। উপায় এর মাধ্যমে গ্রাহকরা সব ধরনের আর্থিক লেনদেন যেমন: ক্যাশ-ইন, ক্যাশ-আউট, ইউটিলিটি বিল পেমেন্ট, মার্চেন্ট ও ই-কমার্স পেমেন্ট; রেমিট্যান্স, বেতন ও সরকারি ভাতা গ্রহণ এবং মোবাইল রিচার্জ ছাড়াও ট্রাফিক ফাইন পেমেন্ট এবং ভারতীয় ভিসা ফি পেমেন্টের মতো এক্সক্লুসিভ সেবা গ্রহণ করতে পারছেন।

;

বন্যার্তদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের খাদ্য সামগ্রী প্রদান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বন্যার্তদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের খাদ্য সামগ্রী প্রদান

বন্যার্তদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের খাদ্য সামগ্রী প্রদান

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সম্প্রতি নেত্রকোণায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছে। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ময়মনসিংহ জোনপ্রধান মোঃ আনিসুল হক বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য নেত্রকোণার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ সামগ্রী হস্তান্তর করেন।

জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আফতাব আহমেদ। এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে।

ব্যাংকের দেয়া ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার ও ঔষধ। বন্যার্তদের জন্য ইসলামী ব্যাংকের খাদ্য সামগ্রী প্রদান

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড সম্প্রতি নেত্রকোণায় বন্যায় ক্ষতিগ্রস্তদের জন্য খাদ্য সামগ্রী প্রদান করেছে। ব্যাংকের এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট ও ময়মনসিংহ জোনপ্রধান মোঃ আনিসুল হক বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য নেত্রকোণার জেলা প্রশাসকের দপ্তরে এ সামগ্রী হস্তান্তর করেন। জেলা প্রশাসনের পক্ষ হতে খাদ্য সামগ্রী গ্রহণ করেন জেলা ত্রাণ ও পুনর্বাসন কর্মকর্তা আফতাব আহমেদ।

এ ছাড়া সিলেট, সুনামগঞ্জ, বগুড়া, লালমনিরহাট, কুড়িগ্রাম ও সিরাজগঞ্জ জেলায় বন্যার্তদের মাঝে বিতরণের জন্য জেলা প্রশাসন কার্যালয়ে খাদ্যসামগ্রী প্রদান করা হয়েছে। ব্যাংকের দেয়া ত্রাণ সামগ্রীর মধ্যে রয়েছে শুকনো খাবার ও ঔষধ।

;