ওয়ালটনের ‘ব্র্যান্ডিং হিরোস’ অ্যাওয়ার্ড পেলো ৪৭ ব্যক্তি ও প্রতিষ্ঠান



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘ব্র্যান্ডিং হিরোজ’ পুরস্কারপ্রাপ্তরা

ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদসহ ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাদের সঙ্গে ‘ব্র্যান্ডিং হিরোজ’ পুরস্কারপ্রাপ্তরা

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের শীর্ষ ইলেকট্রনিক্স প্রতিষ্ঠান ওয়ালটনের ‘ব্র্যান্ডিং হিরোস’ অ্যাওয়ার্ড পেলো ৪৭ ব্যক্তি ও ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠান। ক্রিয়েটিভ আইডিয়ার মাধ্যমে তৃণমূল পর্যায়ে ওয়ালটন এবং মার্সেল ব্র্যান্ডের ডিজিটাল ক্যাম্পেইনে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম পরিচালনার মাধ্যমে বিক্রয় বৃদ্ধিতে বিশেষ অবদান রাখায় এই পুরস্কার দেয়া হয়। ব্র্যান্ডিং হিরোসদের পুরস্কারের ক্রেস্ট, সার্টিফিকেট এবং মুকুট তুলে দেন ওয়ালটন হাই-টেক ইন্ডাস্ট্রিজ পিএলসির ম্যানেজিং ডিরেক্টর ও সিইও গোলাম মুর্শেদ। সে সময় তিনি বর্তমান বৈশ্বিক সংকটময় পরিস্থিতিতে ব্যবসা পরিচালনা সংক্রান্ত বিষয়ে সংশ্লিষ্টদের গুরুত্বপূর্ণ পরামর্শ ও দিক-নির্দেশনা দেন।

বুধবার (৩ আগস্ট) বিকেলে রাজধানীর ওয়ালটন করপোরেট অফিসের অডিটোরিয়ামে ‘ব্র্যান্ডিং হিরোজ’ পুরস্কার প্রদান অনুষ্ঠানটির আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে অন্যদের মধ্যে উপস্থিত ছিলেন ডেপুটি ম্যানেজিং ডিরেক্টর নজরুল ইসলাম সরকার, এমদাদুল হক সরকার, ইভা রিজওয়ানা নিলু ও হুমায়ূন কবীর, ওয়ালটন প্লাজা ট্রেডস-এর সিইও মোহাম্মদ রায়হান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর এস এম জাহিদ হাসান, ফিরোজ আলম, তানভীর রহমান, আরিফুল আম্বিয়া, ড. সাখাওয়াৎ হোসেন ও আমিন খান, এক্সিকিউটিভ ডিরেক্টর শহিদুজ্জামান রানা প্রমুখ।

জানা গেছে, ব্র্যান্ডিং হিরোজ পুরস্কারপ্রাপ্তদের মধ্যে রয়েছে ২১ পরিবেশক প্রতিষ্ঠান এবং ওয়ালটন প্লাজা। এসব প্রতিষ্ঠান নিজ নিজ ব্যবসায়িক ক্ষেত্রে তৃণমূল পর্যায়ে ডিজিটাল ক্যাম্পেইনের ব্র্যান্ডিং এক্টিভেশন এবং এর মাধ্যমে ওয়ালটন পণ্যের বিক্রয় বৃদ্ধিতে অসামান্য অবদান রেখেছে। পাশাপাশি, দেশব্যাপী অভিনব ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম, সেলস, সেলস গ্রোথ, কালেকশন, কালেকশন গ্রোথ এবং রিসিভঅ্যাবল গ্রোথ এসব মূল্যায়ণ মানের ওপর ভিত্তি করে প্রতিষ্ঠানটির ২৬ জন কর্মকর্তাকে বিভিন্ন ক্যাটাগরিতে পুরস্কৃত করা হয়।

অনুষ্ঠানে ব্র্যান্ডিং হিরোজ অ্যাওয়ার্ডপ্রাপ্তদের ‘এক্সটাঅর্ডিনারি সোলজার্স’ হিসেবে অভিহিত করেন ওয়ালটন হাই-টেকের এমডি ও সিইও গোলাম মুর্শেদ। তিনি বলেন, আপনারা সবাই এক একজন সৈনিক। দলবদ্ধ হয়ে কাজ করার ফলেই বৃহৎ সাফল্য আসে। ইউনিক কিছু অর্জন করতে গেলে প্রবল ইচ্ছাশক্তি থাকতে হয়। কাক্সিক্ষত সাফল্যে পৌঁছাতে কঠোর পরিশ্রম করতে হয়। সেজন্য পরিবর্তন যদি আনতে হয়, সমষ্টিগত ভাবে আনতে হবে। আমাদের নিজের মধ্যে পরিবর্তন আসতে হবে।

প্রধান অতিথির বক্তব্যে গোলাম মুর্শেদ বলেন, বর্তমানে বৈশ্বিক ব্যবসায়িক মন্দা যাচ্ছে। মূল্যস্ফীতি বেড়ে গিয়েছে। এর বিপরীতে বদ্ধস্ফীতি দেখা দিয়েছে। আন্তর্জাতিক বাজারে কাঁচামালের দাম এবং পরিবহন ব্যয় বৃদ্ধি পেয়েছে। ডলারের বিনিময় মূল্য বেড়ে গেছে। সব মিলিয়ে পণ্যের উৎপাদন খরচ অনেক বৃদ্ধি পেয়েছে। তারপরও বৈশি^ক এ সংকটময় পরিস্থিতিতে গ্রাহকদের কথা বিবেচনায় উৎপাদন খরচ অনুযায়ী ওয়ালটন পণ্যের মূল্য বাড়ানো হয়নি। প্রফিট সেক্রিফাইস করে আমরা ক্রেতাদের পণ্য দিচ্ছি। কারণ আমরা চাই ওয়ালটনের প্রতিটি সদস্য, দেশের প্রতিটি মানুষ ভালো থাকুক। দ্রুত এ পরিস্থিতির উন্নয়ন ঘটুক।

বিশ্বব্যাপী জ্বালানি সংকট উত্তরণে সবাইকে বিদ্যুৎ ব্যবহারে সাশ্রয়ী হওয়ার আহ্বান জানান ওয়ালটন সিইও। তিনি বলেন, কর্মস্থলের পাশাপাশি বাসস্থানে সব বিষয়ে সাশ্রয়ী হোন। এরকম সংকটময় পরিস্থিতিতে আমাদের একটু সচেতনতা ও ত্যাগস্বীকার অন্যের জন্য অনেক বড় উপকারে আসতে পারে।

গোলাম মুর্শেদ আরো বলেন, ওয়ালটন গ্রাহকের চাহিদা ও প্রয়োজনীয়তা অনুযায়ী প্রতিনিয়ত প্রোডাক্ট ডেভেলপ করে। এজন্য বাংলাদেশে ওয়ালটনের রয়েছে সর্ববৃহৎ রিসার্চ অ্যান্ড ইনোভেশন (আরঅ্যান্ডআই) সেন্টার। এর পাশাপাশি দক্ষিণ কোরিয়ায় আমাদের ইনোভেশন সেন্টার চালু হয়েছে। বিশ্বের অত্যাধুনিক প্রযুক্তি ও মেশিনারিজ সম্বলিত নিজস্ব প্রোডাকশন প্ল্যান্টে দ্রুততম সময়ের মধ্যে গ্রাহকের চাহিদা অনুযায়ী পণ্য উৎপাদনের সক্ষমতা আমাদের আছে। ফ্রিজ, টিভি, এসি থেকে শুরু করে সব পণ্যের নতুন নতুন মডেল আসছে। আশা করছি খুব শিগগিরই আমরা সব ধরনের সংকট কাটিয়ে উঠতে পারবো।

‘ব্র্যান্ডিং হিরোস’ পুরস্কারপ্রাপ্তদের পক্ষ থেকে হবিগঞ্জের টি আর ইলেকট্রো মার্টের স্বত্ত্বাধিকারী মোদারিছ আলী টেনু বক্তব্য রাখেন। তিনি ওয়ালটনের সঙ্গে দীর্ঘদিনের ব্যবসায়িক সুসম্পর্কের জন্য কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। তিনি বলেন, ওয়ালটন সিইও’র দেয়া গুরুত্বপূর্ণ দিক-নির্দেশনা ব্যবসাখাতে তাদের অনুপ্রাণিত করবে, উৎসাহ যোগাবে।

 

স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট এখন কচুয়ার রহিমানগর বাজারে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট এখন কচুয়ার রহিমানগর বাজারে

স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট এখন কচুয়ার রহিমানগর বাজারে

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন’র নতুন আউটলেট এখন ইলিশের বাড়ি চাঁদপুর জেলার কচুয়া উপজেলার রহিমানগর বাজারে। 

বুধবার (১৭ই আগস্ট) বিকাল ৪টায় নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয় ।

এসময় উপস্থিত ছিলেন উপজেলা চেয়ারম্যান মোঃ শাহজাহান শিশির, কচুয়া থানার ওসি মোঃ মহিউদ্দীন, বিশিষ্ট ব্যবসায়ী হাজী আব্দুল মান্নান, স্বপ্ন'র রিজিওনাল হেড অফ অপারেশনস আবদুল্লাহ আল মাহবুব, রিজিওনাল সেলস ম্যানেজার রিয়াজ উদ্দিন, স্বপ্নের আউটলেট ম্যানেজার মিঠুন, রহিমানগর আউটলেট ফ্র্যাঞ্চাইজি মাহবুবুল আলম ও মাসুদ মান্নানসহ আরো স্থানীয় গণ্যমান্য ব্যক্তবর্গ।

স্বপ্নর নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘স্বপ্ন এখন দেশের ৪০টি জেলায়। রহিমানগর স্বপ্ন আউটলেটটি আমাদের সেবার পরিসরকে আরও বিস্তৃত করবে। আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত এবং নিরাপদ পরিবেশে এখানের সব গ্রাহক স্বপ্নতে নিয়মিত বাজার করবেন।

স্বপ্ন'র অপারেশনস ডিরেক্টর আবু নাসের জানান, নতুন এই আউটলেটে থাকছে মাসব্যাপী নানা অফার এবং হোম ডেলিভারি সেবা।

নতুন আউটলেটের ঠিকানা: রহিমানগর মেইন রোড শাহজালাল শপিং কমপ্লেক্স সংলগ্ন। রহিমানগর নতুন এই আউটলেটে হোম ডেলিভারির জন্য যোগাযোগের নম্বর: ০১৮৪৩-৩৯৯৩২৩

;

ডিআইবি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিআইবি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত

ডিআইবি পরীক্ষার ফল প্রকাশিত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক ট্রেনিং অ্যান্ড রিসার্চ একাডেমি (আইবিটিআরএ) পরিচালিত 'ডিপ্লোমা ইন ইসলামিক ব্যাংকিং’ (ডিআইবি) পরীক্ষার মে ২০২২ পর্বের ফলাফল প্রকাশিত হয়েছে।

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা ১৭ আগস্ট বুধবার ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে আনুষ্ঠানিকভাবে ফলাফল প্রকাশ করেন। ব্যাংকের চিফ হিউম্যান রিসোর্সেস অফিসার মোঃ মোস্তাফিজুর রহমান সিদ্দিকী, আইবিটিআরএর প্রিন্সিপাল এস এম রবিউল হাসান, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট কে এম মুনিরুল আলম আল মামুন, সিনিয়র ভাইস প্রেসিডেন্ট মোহাঃ আনোয়ার হোসেন ও নজরুল ইসলাম এ সময় উপস্থিত ছিলেন।

৩৫টি ব্যাংক ও আর্থিক প্রতিষ্ঠানের মোট ৫,৬৪১ জন প্রার্থী এ পরীক্ষায় অংশগ্রহণ করেন। পার্ট-১ পরীক্ষায় ৯.৬১ শতাংশ এবং পার্ট-২ পরীক্ষায় ১৫.৫১ শতাংশ প্রার্থী চূড়ান্তভাবে উত্তীর্ণ হন।

;

১৮৯৫ কোটি টাকার ১৬ প্রস্তাব অনুমোদন সরকারি ক্রয় কমিটির



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
১৮৯৫ কোটি টাকার ১৬ প্রস্তাব অনুমোদন সরকারি ক্রয় কমিটির

১৮৯৫ কোটি টাকার ১৬ প্রস্তাব অনুমোদন সরকারি ক্রয় কমিটির

  • Font increase
  • Font Decrease

এক হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা ব্যয়ে ১৬টি ক্রয় প্রস্তাবে অনুমোদন দিয়েছে সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটি।

বুধবার (১৭ আগস্ট) দুপুরে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সভাপতিত্বে কমিটির ভার্চুয়াল সভায় ক্রয় প্রস্তাবগুলোতে অনুমোদন দেওয়া হয়। সভা শেষে সাংবাদিকদের বিস্তারিত জানান মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল বারিক।

মন্ত্রিপরিষদ বিভাগের অতিরিক্ত সচিব মো. আবদুল বারিক বলেন, সরকারি ক্রয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির সভায় ১৬টি প্রস্তাব উপস্থাপন করা হয়েছে। ১৬টি প্রস্তাবই অনুমোদন পেয়েছে। প্রস্তাবনাগুলোর মধ্যে নৌ-পরিবহন মন্ত্রণালয়ের ৭টি, শিল্প মন্ত্রণালয়ের ৪টি, সড়ক পরিবহন ও মহাসড়ক বিভাগের ১টি, স্থানীয় সরকার বিভাগের ১টি এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ৩টি ছিল।

তিনি আরও বলেন, ‘ক্রয় কমিটির অনুমোদিত ১৬টি প্রস্তাব বাস্তবায়নে মোট ১ হাজার ৮৯৫ কোটি টাকা ব্যয় হবে।

এর মধ্যে, সরকারি তহবিল থেকে ব্যয় হবে ৫৬৩ কোটি ৪৭ লাখ টাকা। এছাড়া দেশীয় ব্যাংক, এডিবি ও বিশ্বব্যাংকের ঋণ থেকে ১ হাজার ৬০ কোটি ২৬ লাখ টাকা ব্যয় হবে।

;

গ্যাস চুরির সঙ্গে জড়িত আবুল খায়ের স্টিল



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ইনসেটে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ডিএমডি) আবু সাঈদ চৌধুরী

ইনসেটে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ডিএমডি) আবু সাঈদ চৌধুরী

  • Font increase
  • Font Decrease

 

আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেডের (একেএস) বিরুদ্ধে শুধু জালিয়াতি নয় গ্যাস চুরিরও তথ্য প্রমাণ পেয়েছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)। আলোচিত ওই কোম্পানিটির নামে ন্যূনতম হারে বিল করা হলেও তদন্তে বেশি গ্যাস ব্যবহারের তথ্য উঠে এসেছে।

দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে, অবৈধ প্রক্রিয়ার আবুল খায়ের লিমিটেড’র (শিল্প-৬২৪১) লোড বৃদ্ধি কার্যকর করা হয় ২০১৭ সালের ১৮ জানুয়ারি। চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের কারণে মাসিক গ্যাস লোড ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ২০৮  ঘন মিটার  এবং ন্যূনতম মাসিক গ্যাস লোড ১ লাখ ৮৫ হাজার ৮০২ ঘনমিটারের পরিবর্তে ৪ লাখ ৪৫ হাজার ৯২৫ ঘনমিটার নির্ধারিত হয়। চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে লোড বৃদ্ধি করার আগেই মাসিক ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪  ঘনমিটারের পরির্বতে ৭ লাখ ৪৩ হাজার ২০৮  ঘন মিটারে গ্যাস ব্যবহার করার প্রমাণ পায় দুদক। যে কারণে তাদের ন্যুনতম বিলের ক্ষেত্রে একটি বড় ধরনের জালিয়াতির তথ্য প্রমাণ পাওয়া গেছে।

আবুল খায়ের লিমিটেড (শিল্প-৬২৪১) ন্যূনতম লোডে বিল হওয়ার বিষয়টিও রহস্যজনক। কারণ কোস্পানিটি আগে থেকেই ( আবুল খায়ের স্টিল ও ক্যাটিভ পাওয়ার) বেশি গ্যাস ব্যবহার করে আসছিল। ন্যূনতম লোডে বকেয়া গ্যাস বিলের পরিমান বর্তমানে ২টি প্রতিষ্ঠানের বিপরীতে প্রায় ১২ (বার) কোটি টাকা অনাদায়ী রয়েছে। সঠিকভাবে বিল করা হলে এই বিল কয়েকগুণ বেশি হওয়ার কথা। আবুল খায়ের গ্রুপের এই গ্যাস চুরির বিষয়টি গ্যাস কোম্পানি কেজিডিসিএল’র অনেকেই অবগত ছিলেন। কিন্তু তারা অবৈধ লেনদেনের মাধ্যমে বিষয়টি চেপে গেছেন। এমনকি ন্যূনতম বকেয়ার টাকাও আদায়ে উদ্যোগি হননি বলে দুদকের তদন্তে বলা হয়েছে।

আবুল খায়ের স্টিলের জালিয়াতি এবং গ্যাস চুরির বিষয়টি ওপেন সিক্রেট হলেও তাদের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নেওয়া হয় নি। কোম্পানিটি এতোটাই প্রভাবশালী যারা দুর্নীতি ধরার চেষ্টা করেছিলেন তারাই অনেকে চাকরি ছেড়ে পালাতে বাধ্য হয়েছেন। ওই পুকুরি চুরির এতো এতো প্রমাণ পাওয়ার পরও না একেএস (আবুল খায়ের স্টিল) না কেজিডিসিএল’র (কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লিমিটেড) কারো বিরুদ্ধে কোন ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে! বহাল তবিয়তে রয়ে গেছে কেজিডিসিএল’র কোম্পানি সচিব ফিরোজ খান, মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমানসহ সাঙ্গপাঙ্গরা। আর যথারীতি সংযোগটিও সক্রিয় রয়েছে এখন পর‌্যন্ত। নজির বিহীন জালিয়াতির মাধ্যমে পাওয়া ওই সংযোটি নিয়ে কেউই মুখ খুলতে রাজি না। কথিত রয়েছে প্রভাবশালী ওই কোম্পানিটি লাইন পেতে জলের পানির মতো টাকা ঢেলেছেন। যে কারণে পরিবেশ অধিদপ্তর ও বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র ছাড়া এবং উপদেষ্টার অনুমোদন বিহীন লোড বাড়িয়ে দেওয়া হয়েছে। রহস্যজনক কারণে উপর থেকে নিচ পর‌্যন্ত প্রায় সকলেই ঠোঁট চেপে বসে আছেন, যেনো কিছুই ঘটেনি, যা ঘটেছে সবই নিয়মের মধ্যেই হয়েছে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য একাধিকবার ফোন দিলেও ফোন রিসিভ করেন নি কোম্পানি সচিব ফিরোজ খান, এসএম দিলেও সাড়া দেন নি। মহাব্যবস্থাপক আমিনুর রহমান ফোন রিসিভ করলেও কোনো মন্তব্য করতে রাজি হননি।

কেজিডিসিএল’র একজন কর্মকর্তা নাম প্রকাশ না করার শর্তে বলেছেন, প্রায় ১২ কোটি টাকা বকেয়ার তথ্য গোপন করে শ্রেণি পরিবর্তনের নামে লোড দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়েছে। সংযোগটি প্রদানের ক্ষেত্রে কোনো রকম নিয়মনীতির তোয়াক্কা করা হয়নি। আবার তারা আগে থেকেই বেশি গ্যাস ব্যবহার করতো, সবকিছু জানার পরও কর্তারা নিরব দর্শকের ভূমিকা পালন করছেন। এক কর্মকর্তা যায় আরেকজন আসে কিন্তু এসব দুর্নীতি বন্ধ হয় না। এর পেছনে কারণ হচ্ছে এসব অবৈধ সংযোগ থেকে মাসোহারা পেয়ে আসছে কর্তারা। তাই সবকিছু জেনেও চোখ বন্ধ থাকেন তারা।

আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেডের (একেএস) বিরুদ্ধে গ্যাস জালিয়াতির অভিযোগ উঠেছে। কোম্পানিটি ১১ কোটি ৯০ লাখ টাকার বকেয়া বিলের তথ্য গোপন করে অবৈধভাবে ৩টি সংযোগে লোড দ্বিগুণ করে নিয়েছেন। শুধু বকেয়ার তথ্য গোপন নয়, ক্যাপটিভ পাওয়ারে বিস্ফোরক অধিদপ্তরের ছাড়পত্র, পরিবেশ অধিদপ্তরের ছাড়পত্র বাধ্যতামূলক হলেও এগুলো ছাড়াই সংযোগ পাওয়ার প্রমাণ পেয়েছে দুদক।

আবার ফাইল অনুমোদন হওয়ার দুই দিন আগেই সংযোগ পেয়ে জালিয়াতির রেকর্ড গড়েছে আলোচিত ওই কোম্পানিটি। কেজিডিসিএল (কর্ণফুলী গ্যাস ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানি লি) নিয়মনীতি উপেক্ষা করে গ্যাসের লোড বাড়িয়ে দিয়েছে বলে দুর্নীতি দমন কমিশনের (দুদক) তদন্তে উঠে এসেছে। সম্প্রতি চট্টগ্রাম দুদকে ওই প্রতিবেদন জমা দিয়েছেন একজন সহকারি পরিচালক। তদন্ত রিপোর্টে আবুল খায়ের গ্রুপের পরিচালক (ডিএমডি) আবু সাঈদ চৌধুরীর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করার সুপারিশ করা হয়েছে। ওই তদন্ত রিপোর্ট জমা হওয়ার পর থেকেই ধামাচাপা দিতে উঠে পড়ে লেগেছে আবুল খায়ের গ্রুপ।

সূত্র জানায়, একেএস’র সীতাকুন্ডের শীতলপুর কারখানায়(শিল্প খাত কোড নং- ৬৩১১, ক্যাপটিভ পাওয়ার খাত কোড নং-৬৩১১) গ্যাস সংযোগ বিদ্যমান। চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে অত্যন্ত সুকৌশল ও পরিকল্পিতভাবে বর্ণিত গ্রাহককে দুই গুণ লোড লোড বৃদ্ধি করে দেন কেজিডিসিএল। যখন গ্যাসের লোডটি বাড়িয়ে দেওয়া হয়, তখন কোনো বিতরণ কোম্পানির হাতে এই ক্ষমতা ছিল না। গ্যাস সংযোগ প্রদান কিংবা লোড বাড়িয়ে দিতে হলে প্রধানমন্ত্রীর বিদ্যুৎ জ্বালানি ও খনিজ সম্পদ বিষয়ক উপদেষ্টা কমিটির পূর্বানুমোদন আবশ্যক ছিল। কিন্তু একেএস’র সংযোগ প্রদানের ক্ষেত্রে ওই কমিটির কোনো পূর্বানুমোদন নেওয়া হয় নি।

কোম্পানিটির সীতাকুন্ডের শীতলপুরে অবস্থিত আবুল খায়ের স্টিল লিমিটেড’র (গ্রাহক সংকেত শিল্প-৬৩১১) অনুমোদিত লোড ২১ লাখ ১৬ হাজার ২৯৬ ঘনমিটার থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ, একই ঠিকানায় থাকা ক্যাপটিভ পাওয়ারে (গ্রাহক সংকেত শিল্প-৬৩১১) ২১ লাখ ৬২ হাজার ৯৭২ ঘন মিটার থেকে বাড়িয়ে লোড দ্বিগুণ করে দেওয়া হয়। মাদামবিবিরহাটে অবস্থিতি আবুল খায়ের লিমিটেড (গ্রাহক সংকেত শিল্প ৬২৪১) ৩ লাখ ৭১ হাজার ৬০৪ থেকে বাড়িয়ে দ্বিগুণ করা হয়। দুদকের তদন্তে চালনা ধাঁচ পরিবর্তনের আড়ালে আরও একটি মহাদুর্নীতির প্রমাণ উঠে আসে।

;