আগস্টের ১০ দিনে রেমিট্যান্স এসেছে ৮১ কোটি ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

চলতি বছরের আগস্ট মাসের ১০ দিনে দেশে ৮১ কো‌টি ৩০ লাখ (৮১৩ মিলিয়ন) মার্কিন ডলার পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা, যা বাংলাদেশের প্রায় ৭ হাজার ৮০৪ কোটি টাকা (প্রতি ডলার ৯৬ টাকা ধরে)।

বাংলাদেশ ব্যাংক সূত্রে এ তথ্য জানা গেছে।

এদিকে, ডলারের বাজার প্রায় প্রতিদিনই ঊর্ধ্বমুখী হচ্ছে। এখন এক ডলার রেমিট্যান্সের বিপরীতে ব্যাংক ৯৬ থেকে ৯৮ টাকা দিচ্ছে। সঙ্গে যোগ হচ্ছে সরকারের আড়াই শতাংশ প্রণোদনা। সব মিলিয়ে ১০০ টাকার মতো। এদিকে খোলা বাজারে টাকার দরপতন হয়েছে ব্যাপকভাবে। খোলা বাজারে ডলার বিক্রি হচ্ছে ১১৯ থেকে ১২০ টাকায়।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, ডলার সংকট কাটাতে রেমিট্যান্স প্রবাহ বাড়াতে নানা উদ্যোগ নিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। চলমান ধারা অব্যাহত থাকলে আগস্ট মাস শেষে রেমিট্যান্স প্রবাহে নতুন রেকর্ড গড়বে। তবে আন্তঃব্যাংক মুদ্রাবাজার এবং খোলা বাজারে ডলারের দামের পার্থক্য কমাতে পারলে এর সুফল প্রবাসী আয়ে পড়বে।

গত জুলাইয়ে প্রবাসী বাংলাদেশিরা ২০৯ কোটি ৬৯ লাখ মার্কিন ডলারের সমপরিমাণ বৈদেশিক মুদ্রা দেশে পাঠিয়েছেন, স্থানীয় মুদ্রায় বর্তমান বিনিময় হার অনুযায়ী এ অর্থের পরিমাণ প্রায় ২০ হাজার কোটি টাকা। জুলাইয়ে তার আগের মাস জুনের চেয়ে প্রায় ২৬ কোটি ডলার বেশি এসেছে। জুন মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৩ কোটি ৭২ লাখ ডলার। মে মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৮৮ কোটি ৫৩ লাখ ডলার। এ ছাড়া আগের বছরের জুলাইয়ের তুলনায় এ বছরের জুলাইয়ে ২২ কোটি ৫৪ লাখ ডলার বেশি এসেছে। গত বছর জুলাই মাসে প্রবাসীরা পাঠিয়েছিলেন ১৮৭ কোটি ১৫ লাখ ডলার।

মাদারীপুরের শিবচরে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
মাদারীপুরের শিবচরে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

মাদারীপুরের শিবচরে ইসলামী ব্যাংকের শাখা উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

মাদারীপুরের শিবচরে ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ লিমিটেড-এর ৩৮৬তম শাখা ২৮ সেপ্টেম্বর বুধবার উদ্বোধন করা হয়েছে। বাংলাদেশ জাতীয় সংসদের চিফ হুইপ নূর-ই-আলম চৌধুরী, এমপি প্রধান অতিথি হিসেবে এ শাখা উদ্বোধন করেন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার সভাপতিত্বে অনুষ্ঠানে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন মাদারীপুর জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান মুনির চৌধুরী, ব্যাংকের ডেপুটি ম্যানেজিং ডাইরেক্টর মোঃ আলতাফ হুসাইন, সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মিফতাহ উদ্দিন ও এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ আব্দুস সোবহান। স্বাগত বক্তব্য দেন ব্যাংকের সিনিয়র এক্সিকিউটিভ ভাইস প্রেসিডেন্ট মোঃ মাকসুদুর রহমান এবং ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন শিবচর শাখাপ্রধান মোঃ সাইফুল ইসলাম। গ্রাহক শুভানুধ্যায়ীদের পক্ষ থেকে বক্তব্য দেন শিবচর বণিক সমিতির সভাপতি মোঃ লোকমান খান। এ সময় সিনিয়র অ্যাসিস্ট্যান্ট ভাইস প্রেসিডেন্ট এ এম শহীদুল এমরানসহ ব্যাংকের নির্বাহী-কর্মকর্তা, গ্রাহক, শুভানুধ্যায়ী এবং বিশিষ্ট ব্যক্তিবর্গ উপস্থিত ছিলেন।

নূর-ই-আলম চৌধুরী, এমপি প্রধান অতিথির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ তথা সারাবিশ্বে অন্যতম একটি অবস্থান তৈরী করতে সক্ষম হয়েছে। প্রযুক্তিভিত্তিক উন্নত সেবা প্রদান ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ গ্রহণ করে এ ব্যাংক সবার কাছে গ্রহণযোগ্যতা অর্জন করেছে। উন্নত ব্যাংকিং সেবা প্রদানের মাধ্যমে প্রধানমন্ত্রীর সোনার বাংলা গঠনে সহায়ক হিসেবে কাজ করবে ইসলামী ব্যাংক। শিবচরে ব্যাংকের নতুন শাখা উদ্বোধন করায় তিনি ব্যাংক কর্তৃপক্ষকে ধন্যবাদ জানান। শিবচরে শিল্প প্রতিষ্ঠান স্থাপন, উন্নত রেমিট্যান্স সেবা প্রদান ও জীবনমান উন্নয়নে বিনিয়োগের মাধ্যমে অর্থনীতিকে পরিবর্তন করতে ইসলামী ব্যাংকের গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করবে বলে তিনি আশা প্রকাশ করেন।

মুহাম্মদ মুনিরুল মওলা সভাপতির ভাষণে বলেন, ইসলামী ব্যাংক আমানত, বিনিয়োগ, আমদানি, রপ্তানি, রেমিট্যান্সসহ সকল সূচকে শীর্ষ অবস্থানে রয়েছে। বাংলাদেশের উন্নয়নে ইসলামী ব্যাংক অগ্রণী ভূমিকা রেখে চলেছে। সারা দেশে বিস্তৃত শাখা, উপশাখা, এজেন্ট ও সিআরএম নেটওয়ার্কের মাধ্যমে গ্রাহকদের সার্বক্ষণিক সেবা দেওয়া হচ্ছে। বাংলাদেশের অর্জিত রেমিট্যান্সের প্রায় ৩০% এককভাবে ইসলামী ব্যাংকের মাধ্যমে আসে। এছাড়া বাংলাদেশ ব্যাংকের রিজার্ভে উল্লেখযোগ্য অবদান রাখছে এ ব্যাংক। আধুনিক ব্যাংকিং সেবা গ্রহণ করে নিজেদের উন্নয়নের পাশাপাশি সমৃদ্ধ বাংলাদেশ গড়ার কাজে অংশ নিতে সকলকে আহবান জানান তিনি।

;

জালিয়াতির দায়ে দুবাই ও নবীনগর সিএনজির সংযোগ বিচ্ছিন্ন



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
প্রতীকী ছবি

প্রতীকী ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

জালিয়াতি করায় মেসার্স নবীনগর সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশন ও দুবাই সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করার কথা নিশ্চিত করেছেন সাভার জোনের ডিজিএম অজিত কুমার দেব। অন্যদিকে লাইসেন্স দেওয়ার আগেই পুনঃসংযোগ দেওয়ায় তিতাস গ্যাসের কাছে ব্যাখ্যা চেয়েছে বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি)।

বিইআরসির লাইসেন্স না থাকায় সম্প্রতি বেশকিছু সিএনজি ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এরমধ্যে সাভার অঞ্চলেই নবীনগর ও দুবাইসহ ১৪টি। সংযোগ বিচ্ছিন্নের পর লাইসেন্স পেতে আবেদন জমা দেয় ৭০টির মতো প্রতিষ্ঠান। সেসব আবেদন বিষয়ে (২৭ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত) যাচাই-বাছাই প্রক্রিয়ার মধ্যে রয়েছে বিইআরসি।

কিন্তু কালিয়াকৈরে অবস্থিত দুবাই সিএনজি ও নবীনগর সিএনজি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির লোকজনকে ম্যানেজ করে ২৫ সেপ্টেম্বর সংযোগ নেন। এ নিয়ে বার্তা২৪.কমে একটি নিউজ প্রকাশ হলে চাঞ্চল্যের সৃষ্টি করে।

তিতাস গ্যাস সাভার জোনের ডিজিএম অজিত কুমার দেব বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, ওরা আমাদের লোকজনকে লাইসেন্স পাওয়ার মিথ্যা তথ্য দিয়ে পুনঃসংযোগ নিয়েছিল। খবরটি জানার পরেই আবার বিচ্ছিন্ন করে দেওয়া হয়েছে। আমার নির্দেশনা রয়েছে, কোন প্রতিষ্ঠান লাইসেন্স দেখাতে পারলে তাকে সংযোগ দিয়ে দিতে।

সংশ্লিষ্টরা জানিয়েছেন, তিতাস গ্যাসের সহকারি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন ওই অপকর্মের মূল হোতা। দুবাই সিএনজির মালিকপক্ষের সঙ্গে আতাত করে কাগজপত্র ছাড়াই পুনঃসংযোগ দিয়েছে। মমতাজ উদ্দিন ওই অঞ্চলে দীর্ঘ ৮ বছর ধরে কর্মরত। এরমাধ্যমে একটি সিন্ডিকেট গড়ে তুলেছেন।

দুবাই সিএনজি রিফুয়েলিং স্টেশনের ম্যানেজার ইকবাল হোসেন বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা এখনও লাইসেন্স পাইনি। কিভাবে সংযোগের ব্যবস্থা হয়েছে আমার জানার বাইরে। আমাদের হেড অফিস তিতাস গ্যাসের সঙ্গে যোগাযোগ করে পুনঃসংযোগের ব্যবস্থা করেছিলেন। মালিক আলহাজ্ব আব্দুর রহিম মিয়ার সঙ্গে কথা বলার চেষ্টা করেও তাকে পাওয়া যায় নি।

তিতাস গ্যাসের সাভার জোনের সহকারি ব্যবস্থাপক প্রকৌশলী মমতাজ উদ্দিন ফোন দিলে রিসিভ করেন। তবে প্রশ্ন জানার পর লাইন কেটে দেন।

বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশন (বিইআরসি) সূত্র জানিয়েছে, বার্তা২৪.কম এর নিউজটি নজরে এলে, কমিশন বিষয়টি আমলে নিয়েছে। এ বিষয়ে ব্যাখ্যা চেয়ে তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক বরাবরে চিঠি দেওয়া হয়েছে।

অন্যদিকে জালিয়াতি করার দুবাই ও নবীনগর সিএনজির লাইসেন্সির আবেদনের ইস্যুটি স্থগিত করা হয়েছে। আজ (২৮ সেপ্টেম্বর) নতুন লাইসেন্স প্রদান শুরু হলেও ওই দুইটি এখনই না দেওয়া সিদ্ধান্ত রয়েছে।

গত ১৯ সেপ্টেম্বর বিইআরসির কমিশনের বৈঠকে ৪৭টি লাইসেন্সের আবেদন উপস্থাপন করে। এরমধ্যে ৪০টি আবেদনে প্রয়োজনীয় কাগজপত্র থাকায় লাইসেন্স ইস্যুর সিদ্ধান্ত নেয় কমিশন।

বিইআরসি আইন ২০০৩ ও গ্যাস আইন ২০১০ অনুযায়ী বিইআরসির লাইসেন্স ছাড়া সিএনজি স্টেশন পরিচালনা করার কোন ‍সুযোগ নেই। লাইসেন্স ছাড়াই ব্যবসা চালিয়ে যাচ্ছে শতাধিক ফিলিং স্টেশন। ওইসব সিএনজি রি-ফুয়েলিং স্টেশনের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে ২০১৪ সালে প্রথম চিঠি দেয় বিইআরসি। এরপরও মোট ৮ দফায় দফায় চিঠি দেওয়া হলেও তিতাসের সাড়া দিচ্ছিল না। ওই বিষয়েও ৬ সেপ্টেম্বর বার্তা২৪.কমে রিপোর্ট প্রকাশিত হয়। নিউজের পর কিছুটা ক্ষুব্ধ হয়ে গণহারে সংযোগ বিচ্ছিন্নে নামেন। বিইআরসির নির্দেশনা ছিল যারা এখন পর্যন্ত লাইসেন্স নেননি,তাদের বিষয়ে কঠোর পদক্ষেপ নিতে।

কিন্তু তিতাস সম্প্রতি গত ১০ ও ১১ সেপ্টেম্বর বেশকিছু ফিলিং স্টেশনের সংযোগ বিচ্ছিন্ন করা হয়। এর মধ্যে নবায়নের মেয়াদ শেষ হয়েছে এমন সংযোগও বিচ্ছিন্ন করা হয়। এতে সিএনজি ফিলিং স্টেশন মালিকদের মধ্যে ব্যাপক ক্ষোভের সঞ্চার করে। একসঙ্গে অনেক লাইসেন্সের আবেদন জমা পড়ায় সামলাতে গিয়ে হিমশিম খেতে হচ্ছে বিইআরসিকে।

বিইআরসির সদস্য মোহাম্মদ আবু ফারুক বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমাদের লোকবলের সংকট রয়েছে। আমরা চেষ্টা করেছি দ্রুততার সঙ্গে লাইসেন্স ইস্যু করতে। গভীর রাত পর‌্যন্ত কাজ করেছে সংশ্লিষ্ট বিভাগ। এমনকি দ্রুত সেবা প্রদানের জন্য বন্ধের দিনেও কাজ করা হয়েছে। একজন সহকারি পরিচালক আড়াই হাজার লাইসেন্স ডিল করে। তাহলে বুঝতে পারছেন তাকে কি পরিমাণ লোড নিতে হয়। আমরা একটি লোকবল বাড়ানোর জন্য অর্গানোগ্রাম রেডি করেছি। চূড়ান্ত পর্যায়ে রয়েছে, লোকবল পেলে সেবার মান আরও বৃদ্ধি পাবে।

ইদানিং কমিশনের কিছু কর্মকর্তার ঘুষ দুর্নীতির সঙ্গে জড়িয়ে পড়ার অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। কমিশনের মিটিংয়ে অনুমোদন হয়নি তার আগেই পেট্রোলিয়ামের একটি লাইসেন্স ইস্যুর ঘটনা সামনে এসেছে। বিষয়টি কমিশনের চেয়ারম্যানের নজরে এলে ৫জনকে শোকজ করা হয়েছে। সংশ্লিষ্টরা মনে করে অংকুরেই দুর্নীতির শেকড় উপড়ে ফেলতে না পারলে বিইআরসি তার ভাবমূর্তি ধরে রাখতে ব্যর্থ হবে।

বিইআরসির চেয়ারম্যান আব্দুল জলিল বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আপনি সঠিক জেনেছেন, একজনের বিষয়ে অ্যাকশনে যাওয়া হয়েছে। অপরাধ প্রমাণ হলে কাউকে চুল পরিমাণ ছাড় দেওয়া হবে না। নবীনগর ও দুবাই সিএনজি বিষয়ে ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহীকে বলা হয়েছে।

কমিশনের সদস্য (গ্যাস) মকবুল ই ইলাহী চৌধুরী বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা ব্যাখা চেয়ে চিঠি দিচ্ছি। ব্যাখ্যা পেলে সে অনুযায়ী ব্যবস্থা নেওয়া হবে।

এ বিষয়ে কথা বলার জন্য ফোন দিলেও রিসিভ করেন নি তিতাস গ্যাস ট্রান্সমিশন এন্ড ডিস্ট্রিবিউশন কোম্পানির ব্যবস্থাপনা পরিচালক হারুনুর রশীদ মোল্লাহ।

;

‘স্বপ্ন’ এখন কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
‘স্বপ্ন’ এখন কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে

‘স্বপ্ন’ এখন কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বৃহত্তম রিটেইল চেইন শপ স্বপ্ন এখন কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে। বুধবার (২৮ সেপ্টেম্বর) সকাল ১২ টায় নতুন এই আউটলেটের উদ্বোধন করা হয়।

এসময় উপস্থিত ছিলেন চেয়ারম্যান জেলা পরিষদ, কুড়িগ্রাম এবং সাবেক এমপি কুড়িগ্রাম-২ এর মোঃ জাফর আলী, ফ্রাঞ্চাইজি পার্টনার সাজ্জাদ, রংপুর জোনের জোনাল ম্যানেজার অব অপারেশন মোঃ শাহ নেওয়াজ মজুমদার রনি, আউলেট ম্যানেজার নিয়াজ মাহমুদ, এক্সিকিউটিভ ফ্রাঞ্চাইজি এক্সপেনশন মোঃ রবিউল ইসলামসহ অনেকে। এটি স্বপ্নের ২৪৬তম আউটলেট।

স্বপ্নের নির্বাহী পরিচালক সাব্বির হাসান নাসির বলেন, ‘স্বপ্ন’ এখন দেশের ৪২টি জেলায়। কুড়িগ্রামের কলেজ রোডে আমাদের সেবার পরিসর আরও বিস্তৃত হবে। আশা করছি, স্বাস্থ্যসম্মত ও নিরাপদ পরিবেশে গ্রাহকরা স্বপ্নের এ আউটলেট থেকে নিয়মিত বাজারের সুযোগ পাবেন।

স্বপ্নের অপারেশন্স ডিরেক্টর আবু নাছের জানান, নতুন এ আউটলেটে থাকছে মাসব্যাপী নানা অফার ও হোম ডেলিভারি সেবা।

নতুন আউটলেটের ঠিকানা: স্বপ্ন কুড়িগ্রাম আউটলেট, পুরাতন রেজিষ্ট্রি পাড়া, কলেজ রোড, (শিশু নিকেতন স্কুলের বিপরীতে) কুড়িগ্রাম।

;

‘বাংলাদেশ ৫১ বছরের যাত্রায় কখনোই ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি’



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল

  • Font increase
  • Font Decrease

অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামাল বলেছেন, বর্তমানে বাংলাদেশে ADB-এর ক্রমবর্ধমান অর্থায়ন দাঁড়িয়েছে ২৭.৬ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। যার মধ্যে মোট বকেয়া ১১.৬৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার, বাংলাদেশ অত্যন্ত সক্ষমতার সাথে নিয়মিত ঋণ পরিশোধ করে চলেছে। বাংলাদেশের ৫১ বছরের যাত্রায় কখনোই দেশি-বিদেশি ঋণ পরিশোধে ব্যর্থ হয়নি। জিডিপি অনুপাতে বাংলাদেশ বিশ্বের মধ্যে সবচেয়ে কম ঋণের দেশের মধ্যে অন্যতম একটি দেশ, মাত্র ৩৪ শতাংশ।

মঙ্গলবার (২৭ সেপ্টেম্বর) দুপুরে, ম্যানিলায় এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র সদর দপ্তরে বার্ষিক সভার অংশ হিসাবে অর্থমন্ত্রী আ হ ম মুস্তফা কামালের সাথে এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়ার দ্বিপাক্ষিক বৈঠক অনুষ্ঠিত হয়। বৈঠকের শুরুতে প্রতিষ্ঠার পর থেকে ADB বাংলাদেশের বিষয়গুলো অত্যন্ত গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করায় অর্থমন্ত্রী আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন।

অর্থমন্ত্রী অপ্রত্যাশিত অভিঘাত কোভিড-১৯-এর সংকটে এডিবি দ্রুত সাড়া দেওয়ার ক্ষেতে প্রেসিডেন্টের সক্রিয় এবং গতিশীল নেতৃত্বের জন্য আন্তরিক ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করেন।

তিনি আরো বলেন, এডিবি এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে অর্থনৈতিক ও স্বাস্থ্য সংকট পুনরুদ্ধারের জন্য বাংলাদেশসহ উন্নয়নশীল সদস্য দেশগুলোকে দ্রুত ভ্যাকসিন ও ব্যয় সহায়তা দিয়ে সাহায্য করেছে। এটি অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ বিষয় যে, বাংলাদেশ-এডিবি কান্ট্রি পার্টনারশিপ স্ট্র্যাটেজি (২০২১-২০২৫), বাংলাদেশের জাতীয় উন্নয়ন ও লক্ষ্যগুলির সাথে সমন্বয় করে তৈরি করা হয়েছে। যা আগামী পাঁচ বছরে আমাদের জন্য ১২-১৫ বিলিয়ন মার্কিন ডলার ঋণ সহয়তার যোগান থাকবে বলে আশা করা যায়। আমাদের উন্নয়নের মাইলফলক অর্জনে এডিবির ক্রমাগত সমর্থন বাংলাদেশের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ।

বাংলাদেশর সক্ষমতা ও অগ্রগতি তুলে ধরে অর্থমন্ত্রী বলেন, আমাদের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দূরদর্শী ও বিচক্ষণ নেতৃত্বে বাংলাদেশ সকল আর্থ-সামাজিক সূচকে উল্লেখযোগ্য অগ্রগতি সাধন করেছে। সাম্প্রতিক সময়ে বাংলাদেশের উন্নয়ন বিশ্ব সম্প্রদায়ের দ্বারা ব্যাপকভাবে প্রশংসিত হয়েছে। বাংলাদেশ গত ১৩ বছরে গড়ে ৬.৬% জিডিপি প্রবৃদ্ধি অর্জন করেছে। কিন্তু কোভিড-১৯ মহামারী এবং বর্তমান ভূ-রাজনৈতিক সংকটের কারণে, খাদ্য, জ্বালানি, সার, এবং আর্থিক সংকট বিশ্বব্যাপী সরবরাহ চেইনকে ব্যাহত করেছে এবং সারা বিশ্বে মূল্যস্ফীতি বাড়িয়েছে। সামাজিক ও অর্থনৈতিক স্থিতিস্থাপকতা নিশ্চিত করার জন্য, আমাদের এডিবি থেকে বাজেট সহায়তার পাশাপাশি নীতি ভিত্তিক ঋণ (PBL) প্রয়োজন।

এ বিষয়ে অর্থমন্ত্রী এডিবি’র বিশেষ সহযোগিতা কামনা করেন এবং বাংলাদেশও এডিবি সদর দপ্তরের সঙ্গে ঘনিষ্ঠ যোগাযোগ রাখবে বলে আশা ব্যক্ত করেন।

তিনি আরো বলেন, আমরা দৃঢ়ভাবে আশা করি যে ADB এশিয়া ও প্রশান্ত মহাসাগরীয় অঞ্চলে বিশেষ করে বাংলাদেশকে জলবায়ু অভিযোজন, প্রশমন এবং দুর্যোগ ঝুঁকি হ্রাসে অসহায় মানুষদের সাহায্য করার জন্য গতিশীল ভূমিকা পালন করতে পারে। আমি বিশ্বাস করি যে জলবায়ু পরিবর্তনের দুর্বলতা মোকাবেলায় মিশ্র অর্থায়নের পরিবর্তে নমনীয় ঋণ সহায়তা হবে বাস্তবসম্মত পদ্ধতি। এছাড়াও ADB চতুর্থ শিল্প বিপ্লবের উপর বিশেষ মনোযোগ দিয়ে আইসিটি ভিত্তিক উদ্যোক্তা উন্নয়ন, কৃষি বৈচিত্র্যকরণ, স্থিতিস্থাপক স্বাস্থ্য, শিক্ষা এবং মানসম্পন্ন অবকাঠামোর কৃষি প্রবর্তনে তার উদার সহায়তা প্রসারিত করতে পারে।

বাংলাদেশ ও এডিবির সম্পর্কের ৫০ বছর পূর্তিকে গুর্ত্বারোপ করে অর্থমন্ত্রী বলেন, আগামী বছর বাংলাদেশ ও এডিবির জন্য একটি ঐতিহাসিক মাইলফলক। ২০২৩ সাল আমাদের অংশীদারিত্বের ৫০তম বার্ষিকী হবে। ৫০ বছর পূর্তি উপলক্ষে অর্থমন্ত্রী, আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা এবং ১৬৫ মিলিয়ন বাংলাদেশি নাগরিকদের পক্ষ থেকে এডিবি প্রেসিডেন্টকে বাংলাদেশ সফর এবং ৫০ বছর পূর্তি অনুষ্ঠান উদযাপন করার জন্য আমন্ত্রণ জানান।

বিশাল পোর্টফোলিও এবং ADB-এর সাথে দৃঢ় সম্পৃক্ততার কথা বিবেচনা করে, বাংলাদেশ থেকে ADB-এর শীর্ষ ব্যবস্থাপনা ও প্রশাসনে ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তা, বিশেষ করে ভাইস-প্রেসিডেন্ট নিয়োগ করার কথা বিবেচনা করতে অনুরোধ করেন।

এশীয় উন্নয়ন ব্যাংক (এডিবি)’র প্রেসিডেন্ট মাসাতসুগু আসাকাওয়া বাংলাদেশের অর্থনৈতিক অগ্রগতি ও সক্ষমতার ভূয়সী প্রশংসা করেন।

তিনি বলেন, নিজস্ব অর্থায়নে পদ্মা সেতু নির্মান বাংলাদেশের সক্ষমতার একটি প্রতীক। এজন্য তিনি মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় নেতৃত্বের বিশেষ প্রসংশা করেন। কোভিড-১৯ মহামারির কারণে সৃষ্ট স্বাস্থ্যগত ও আর্থ-সামাজিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় বাংলাদেশ গৃহীত পদক্ষেপ এবং টিকা কার্যক্রমেরও প্রশংসা করেন। তিনি বলেন, শুরু থেকেই বাংলাদেশের প্রতি এডিবি’র বিশেষ গুরুত্ব রয়েছে। এবারের বার্ষিক সভায় বাংলাদেশ যে বিষয়গুলো তুলে ধরেছে সেগুলোও গুরুত্বের সাথে বিবেচনা করা হবে। করোনা মহামারি কাটিয়ে উঠতে বাংলাদেশের সামাজিক এবং অর্থনৈতিক নিরাপত্তা পুনরুদ্ধারে এডিবি শুরু থেকেই বাংলাদেশের পাশে থেকে সহযোগিতা করছে এবং ভবিষ্যতেও বাংলাদেশের পাশে সবসময় এডিবি থাকবে বলে তিনি আশা ব্যক্ত করেছেন।

;