শিগগির সুদহার সীমা তুলে নেওয়ার সম্ভাবনা নেই: গভর্নর



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদার বলেছেন, ব্যাংক ঋণের সুদের হারের সীমা তুলে নেবে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। তবে এখনই এটি প্রত্যাহারের সঠিক সময় নয় বলে জানান তিনি।

বৃহস্পতিবার (১ ডিসেম্বর) বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ডেভেলপমেন্ট স্টাডিজ (বিআইডিএস) আয়োজিত এক সম্মেলনে বক্তব্য দেওয়ার সময় তিনি এ তথ্য জানান।

গভর্নর বলেন, আমরা একটি ভালো সময়ের জন্য অপেক্ষা করছি। সুদের সীমা প্রত্যাহার করা হবে, কিন্তু এখন এটি প্রত্যাহার করার সঠিক সময় নয়।

তিনি জানান, বাংলাদেশ ব্যাংক ইতিমধ্যেই ভোক্তা ঋণের সুদের হার শিথিল করেছে। বৈদেশিক মুদ্রার বিনিময় হার সম্পর্কে গভর্নর বলেন, বাংলাদেশ ব্যাংক বাজার শক্তিকে তা নির্ধারণ করতে দেবে।

কেন্দ্রীয় ব্যাংক কখনই কোনো আমদানি বিধিনিষেধ আরোপ করেনি উল্লেখ করে তিনি বলেন, শুধুমাত্র কিছু বিলাসবহুল আইটেমের আমদানি শুল্ক বাড়ানো হয়েছে। বিআইডিএসের মহাপরিচালক ড. বিনায়ক সেন সম্মেলনে সভাপতিত্ব করেন।

ভিক্ষুকের ঝুলিতেও বিদ্যুতের তোপ



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর সময় কৃষি সেচ এবং হতদরিদ্র গ্রাহকদের বিশেষ ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। তুলনামূলক ধনিক শ্রেণির ভোক্তাদের দাম বাড়িয়ে ঘাটতি মেটানো হতো, এখন আর কিছুই মানা হচ্ছে না।

এখন আর গবীর-ধনি, ক্ষুদ্র শিল্প, বৃহৎ শিল্প, রাস্তার পান দোকান কিছুই মানা হচ্ছে না। সবকিছু মিলিয়ে একাকার করে ফেলা হচ্ছে নির্বাহী আদেশে। এতে সামাজিক অস্থিরতার শঙ্কা করছেন জ্বালানি সংশ্লিষ্টরা।

হতদরিদ্র গ্রাহকদের বিশেষ সুবিধা দেওয়ার জন্য লাইফ লাইন শ্রেণি করা হয়েছিল। যাদের বসতি মূলত এক কক্ষ বিশিষ্ট। সীমিত সময়ের জন্য একটি বাল্ব ও একটি ফ্যান ব্যবহার করে এমন গ্রাহকরা এই সুবিধা পেতেন। সাধারণ শ্রমিক শ্রেণির লোকজন সারাদিন কাজ শেষে রাতে বাসায় ফিরে ফ্যান ছেড়ে ঘুমাতে যান। তাদেরকে সাশ্রয়ী দরে বিদ্যুৎ দিতে লাইফ লাইন গ্রাহক শ্রেণি করা হয়।

সেই লাইফ লাইনে ইউনিট প্রতি বিদ্যুৎ বিল ছিল ৩.৭৫ টাকা। সেই বিল ডিসেম্বরে ১৯ পয়সা বাড়িযে ৩.৯৪ টাকা করা হয়েছিল। এবার আরও ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৪.১৪ টাকা করা হয়েছে। অর্থাৎ হতদরিদ্র গ্রাহকের ইউনিট প্রতি খরচ বাড়লো ৩৯ পয়সা। অতীতে ৫০ ইউনিটের নীচে হলেই লাইফ লাইন বিবেচনা করা হলেও এবার সেই সুবিধাও বাতিল করা হয়েছে। অর্থাৎ পান দোকানিকেও বাড়তি বিল গুণতে হবে। আতঙ্কের আরেকটি কারণ হচ্ছে এদের অনেকেই পৃথক মিটার ব্যবহার করেন না, অন্যের দ্বারা নিয়ন্ত্রিত হয়ে থাকেন। বিদ্যুৎ বিল আদায়কারীরা, দাম বৃদ্ধির অজুহাতে কয়েকগুন বেশি আদায় করে থাকেন।

বিদ্যুতের আরেকটি গুরুত্বপুর্ণ খাত বিবেচনা করা হয় কৃষি সেচকে। কৃষি উৎপাদন নিরবিচ্ছিন্ন রাখতে এ খাতে বিদ্যুতের দাম সব সময়েই সাশ্রয়ী রাখার চেষ্টা করা হতো। এবার সেখানেও কোপ পড়তে যাচ্ছে। সার-বীজের দাম বেড়ে যাওয়া আসন্ন বোরো মৌসুম নিয়ে এমনিতেই শঙ্কায় রয়েছে কৃষকরা। তারপর সেচে দফায় দফায় দাম বাড়ানো হয়েছে। ১২ ডিসেম্বর ২১ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৩৭ টাকা করা হয়েছিল, এবার আরও ২২ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৫৯ টাকা করা হয়েছে। কৃষিতে মধ্যমচাপে ফ্ল্যাট রেটে ৫.৫১ টাকা, অফপীকে ৪.৯৭ টাকা এবং পীকে ৬.৮৯ টাকা করা হয়েছে। বাদ দেওয়া হয়নি রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পের বিলেও। দুই দফায় দাম বাড়িয়ে ৮.৪৯ টাকা করা হয়েছে।

ক্ষুদ্র শিল্পের জন্য সাশ্রয়ী দরের কোন ব্যবস্থা রাখা হয় নি। ফ্ল্যাট রেটে ৯.৪১ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে যা বৃহৎ শিল্পের তুলনায় মাত্র ২ পয়সা কম। বৃহৎ শিল্পে ফ্ল্যাট রেটে দর ধরা হয়েছে ৯.৪৩ টাকা।

ক্যাবের সিনিয়র সহ-সভাপতি ও জ্বালানি বিষয়ক উপদেষ্টা ড. শামসুল আলম বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, বাংলাদেশ এনার্জি রেগুলেটরি কমিশনে (বিইআরসি) সে সব প্রক্রিয়ার মধ্যদিয়ে দাম বাড়ানো হতো, সেখানে নানা রকম অসঙ্গতিগুলো চিহ্নিত হতো। সবক্ষেত্রে যে প্রতিপালন করা যেতে সেটা বলবো না, তবে কিছুটা উন্নতি হচ্ছিল। সমাজের পিছিয়ে থাকা বিপুল পরিমাণ জনগোষ্ঠিকে সহায়তা করার চেষ্টা থাকত। মূল্যহারের অভিঘাত থেকে হতদরিদ্র গ্রাহক, গ্রামের পান-বিড়ির দোকান, কৃষি সেচকে মুক্ত রাখার চেষ্টা করা হতো। একজন পান দোকানী আর বসুন্ধরা সিটির দোকানীর বিদ্যুতের বিল সমান হতে পারে না। সেই জায়গাগুলো দেখে রাখার চেষ্টা হতো। এখন সেসব চর্চ্চা বন্ধ করে দেওয়া হলে সমাজে বিশৃঙ্খলা দেখা দিতে পারে। বিইআরসিকে এখন ক্লিনিক্যালি ডেড বলা যায়। এ কূফল অনেক ভয়াবহ হবে।

তিনি আরও বলেন, যেহারে দাম বাড়ানো হচ্ছে এর ফল উল্টো হবে। সরকারের রাজস্ব বাড়ানোর কৌশল, হিতের বিপরীত হতে পারে। বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম যতো বাড়বে, ততো ভোগ ব্যয় কমবে। বাজারে পণ্য বিক্রি কমে যাবে, এতে কমে আসবে সরবরাহ। কমে যাবে ভ্যাট-ট্যাক্স থেকে আয়।

এক প্রশ্নের জবাবে বলেন, বিদ্যুৎ-গ্যাসের দাম যেহারে বাড়ানো হয়েছে, তার কোনই যৌক্তিকতা নেই। আমরা আগেও বলেছি এখনও বলছি দাম না বাড়িয়েও সামাল দেওয়ার অনেক বিকল্প ছিল। অনেকগুলো যাওগায় অপচয় রয়েছে, অস্বচ্ছ প্রক্রিয়ায় চুক্তি করা হয়েছে। এতে ব্যয় বেড়ে যাচ্ছে।

বাংলাদেশ মুঠোফোন গ্রাহক অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি মহিউদ্দিন আহমেদ বার্তা২৪.কমকে বলেছেন, আমরা গণশুনানিতে নিয়মিত অংশ নিতাম। সমাজের ভারসাম্য রক্ষার জন্য পিছিয়ে থাকা জনগোষ্ঠিকে বিশেষ ছাড় দেওয়ার রেওয়াজ ছিল। উন্নত দেশেও পিছিয়ে পড়া জনগোষ্ঠির জন্য বিশেষ সুবিধা দেওয়া হয়।

তিনি বলেন, লাইফ লাইন গ্রাহক শ্রেণি করা হয়েছে হতদরিদ্রের জন্য। তারা একটি বাল্ব একটি ফ্যান ব্যবহার করেন। মাসে যার ব্যবহার অনধিক ৫০ ইউনিট বিদ্যুৎ। রাস্তায় রাস্তায় ঘুরে ভিক্ষা করে জীবনযাপন করেন। সেই বৃদ্ধা ভিক্ষারিনীর ঘরেও একটি বাল্ব জ্বলে। সেই ভিক্ষারিনীর ঝোলাতে হাত বসাতে চায় বিদ্যুতের কোম্পানিগুলো। অনেকদিন ধরেই তারা এই শ্রেণির গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম বাড়াতে তৎপর, কিন্তু বিইআরসিতে ভোক্তাদের চাপের মুখে পিছিয়ে গেছে। নির্বাহী আদেশে গরীবের স্বস্তির জায়গা বন্ধ করে দেওয়া হচ্ছে।

 

;

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

বাংলাদেশ ব্যাংক ও ইউনিয়ন ব্যাংকের মধ্যে চুক্তি স্বাক্ষর

  • Font increase
  • Font Decrease

১০ হাজার কোটি টাকার রফতানি সহায়ক প্রাক-অর্থায়ন তহবিলে অংশগ্রহণের লক্ষ্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের সঙ্গে শরী‘আহ ভিত্তিক ইউনিয়ন ব্যাংক লিমিটেড চুক্তি স্বাক্ষর করেছে।

বাংলাদেশ ব্যাংকের গভর্নর আব্দুর রউফ তালুকদারের উপস্থিতিতে ইউনিয়ন ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও সিইও এ. বি. এম. মোকাম্মেল হক চৌধুরী এবং বাংলাদেশ ব্যাংকের ব্যাংকিং রেগুলেশন এন্ড পলিসি বিভাগের (বিআরপিডি) পরিচালক মাকসুদা বেগম নিজ নিজ প্রতিষ্ঠানের পক্ষে চুক্তিতে স্বাক্ষর করেন।

চুক্তি স্বাক্ষর অনুষ্ঠানে উভয় প্রতিষ্ঠানের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন।

;

১৮ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো বিদ্যুতের দাম



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

১৮ দিনের ব্যবধানে আবারও বাড়লো বিদ্যুতের দাম। এবার নির্বাহী আদেশে গ্রাহকের পাশাপাশি পাইকারি পর্যায়েও বিদ্যুতের দাম বাড়ানো হয়েছে। বাড়তি দর ১ ফেব্রুয়ারি থেকে কার্যকর হবে।

এ দফায় গ্রাহক পর্যায়ে ৫ শতাংশ এবং পাইকারি পর্যায়ে ৮ শতাংশ দাম বাড়িয়ে গেজেট প্রকাশ করা হয়েছে। এভাবে ঘন ঘন বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘটনা নজিরবিহীন। মাত্র ১৮ দিন আগে ১২ জানুয়ারি গ্রাহক পর্যায়ে গড়ে ৫ শতাংশ বাড়ানো হয়। অন্যদিকে বিইআরসি সর্বশেষ গত ২১ নভেম্বর বিদ্যুতের পাইকারি দাম বাড়িয়েছিল। তখন ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা থেকে গড়ে ১৯.৯২ শতাংশ বাড়িয়ে ৬.২০ টাকা করা হয়।

নির্বাহী ক্ষমতায় দেওয়া আদেশে পল্লী বিদ্যুতায়ন বোর্ডের পাইকারি দর ২৩০ কেভিতে ৮.১০ টাকা, ১৩২ কেভিতে ৮.১৩ টাকা এবং ৩৩ কেভিতে ৫.৮৯ টাকা করা হয়েছে। ২৩০ ও ১৩২ কেভিতে অভিন্ন দর নির্ধারণ করা হলেও ৩৩ কেভিতে ভিন্ন ভিন্ন ধরা হয়েছে। ডিপিডিসির ৩৩ কেভিতে ৮.২২ টাকা, ডেসকো ৮.২৪ টাকা, ওজোপাডিকো ৭.১২ টাকা এবং নেসকোতে ৬.৭০ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে। বিগত তিন সপ্তাহে তিন দফায় গ্যাস বিদ্যুতের দাম বাড়ানোর ঘটনা ঘটলো, যা বাংলাদেশের ইতিহাসে বিরল। আগে কখনই এতো কম সময়ের মধ্যে দফায় দফায় দাম বাড়েনি। এতে বিদ্যুৎ ও জ্বালানি খাতে অস্থিরতা দেখা দিয়েছে।

অন্যদিকে সবচেয়ে কম বিদ্যুৎ ব্যবহারকারী লাইফ লাইন (৫০ ইউনিট ব্যবহারকারী) গ্রাহকদের বিদ্যুতের দাম এর আগে ১৯ পয়সা বাড়িয়ে ৩.৯৪ টাকা করা হয়েছিল। এবার আরও ২০ পয়সা বাড়িয়ে ৪.১৪ টাকা করা হয়েছে। প্রথমধাপে ৭৫ ইউনিট ব্যবহারকারীর বিদ্যমান দর ৪.৪০ টাকা বাড়িয়ে ৪.৬২ টাকা, দ্বিতীয় ধাপে ৭৬-২০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দর ৬.০১ বাড়য়ে ৬.৩১ টাকা, ২০১-৩০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দর ৬.৩০ টাকা বাড়িয়ে ৬.৬২ টাকা ৩০১-৪০০ ইউনিটের বিদ্যমান দর ৬.৬৬ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৯৯ টাকা, ৪০১-৬০০ ইউনিট পর্যন্ত বিদ্যমান দর ১০.৪৪ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.৯৬ টাকা, সর্বশেষ ধাপ ৬০০ ইউনিটের ঊর্ধ্বে ব্যবহারকারীদের বিদ্যমান দর ১২.০৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১২.৬৩ টাকা করা হয়েছে।

কৃষি সেচে গত ১২ ডিসেম্বর ২১ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৩৭ টাকা করা হয়েছিল, এবার আরও ২২ পয়সা বাড়িয়ে ৪.৫৯ টাকা করা হয়েছে। শিক্ষা, ধর্মীয়, দাতব্য প্রতিষ্ঠান ও হাসপাতালে ৬.৩২ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৬.৬৪ টাকা, রাস্তার বাতি ও পানির পাম্পে ৮.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৪৯ টাকা, বাণিজ্যিক ও অফিসের বর্তমান দর ফ্ল্যাট রেটে ১০.৮২ টাকা বাড়িয়ে ১১.৩৬ টাকা, অফ-পীকে ৯,৭৩ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১০.২২ টাকা পীকে ১২.৯৮ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১৩.৬৩ টাকা করা হয়েছে। ক্ষুদ্র শিল্পে ( নিম্নচাপ) ফ্ল্যাট রেটে ৯.৪১ টাকা, অফপীকে ৮.৪৬ টাকা, পীকে ১১.২৯ টাকা দর ধরা হয়েছে।

মধ্যমচাপে শিল্প গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ৯.৪৩ টাকা, অফ পীকে ৮.৪৯ টাকা, পীকে ১১.৭৮ টাকা করা হয়েছে। উচ্চচাপ (৩৩ কেভি) গ্রাহকদের ফ্ল্যাট রেটে ৮.৮৭ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৯.৩১ টাকা, অফ-পীকে ৭.৯৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ৮.৩৯ টাকা এবং পীকে ১১.০৯ টাকা থেকে বাড়িয়ে ১১.৬৪ টাকা নির্ধারণ করা হয়েছে।

বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ডের (বিপিডিবি) পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবের উপর গত ১৮ মে গণশুনানি গ্রহণ করে বিইআরসি। বাংলাদেশ বিদ্যুৎ উন্নয়ন বোর্ড (বিপিডিবি) বর্তমান দর ইউনিট প্রতি ৫.১৭ টাকা থেকে ৬৬ শতাংশ বাড়িয়ে ৮.৫৮ টাকা করার আবেদন করেছিল। বিপিডিবির পাইকারি দাম বৃদ্ধির প্রস্তাবে বলেছিল, চাহিদা মতো গ্যাস সরবরাহ না পাওয়ায় তেল দিয়ে বিদ্যুৎ উৎপাদন করতে গিয়ে খরচ বেড়ে গেছে। ২০১৯-২০ অর্থ বছরে বিদ্যুতে গড় উৎপাদন খরচ ছিল ২.১৩ টাকা, ২০২০-২১ অর্থ বছরে বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৩.১৬ টাকায়। জ্বালানি তেলের দাম বৃদ্ধি, কয়লার মুসক বৃদ্ধির কারণে ২০২২ সালে ইউনিট প্রতি উৎপাদন খরচ দাঁড়াবে ৪.২৪ টাকায়। পাইকারি দাম না বাড়লে ২০২২ সালে ৩০ হাজার ২৫১ কোটি ৮০ লাখ টাকা লোকসান হবে। ওই শুনানির পর ১৯.৯২ শতাংশ পাইকারি দাম বাড়িয়ে দেওয়া হয়।

 

;

২৭ দিনে রেমিট্যান্স এল ১৬৭ কোটি ডলার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

২০২৩ সালের শুরুতে রেমিট্যান্সের পালে ইতিবাচক হাওয়া লেগেছে। চলতি জানুয়ারির প্রথম ২৭ দিনে ১৬৭ কোটি লাখ ডলার রেমিট্যান্স পাঠিয়েছেন প্রবাসীরা। বাংলাদেশি মুদ্রায় যার পরিমাণ প্রায় ১৮ হাজার কোটি টাকা

বাংলাদেশ ব্যাংকের হালনাগাদ প্রতিবেদনে এই তথ্য পাওয়া গেছে।

সংশ্লিষ্টরা বলছেন, এই ধারা অব্যাহত থাকলে চলমান বছরের প্রথম মাস শেষে রেমিট্যান্স ১৭০ কোটি ডলার অতিক্রম করবে। গত বছরের শেষ মাস ডিসেম্বরে তা এসেছিল ১৬৯ কোটি ৯৭ লাখ ডলার।

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের তথ্য পর্যালোচনায় দেখা গেছে, জানুয়ারির ২৭ দিনে রাষ্ট্রায়ত্ত ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে ২২ কোটি ৬ লাখ ডলার, বিশেষায়িত একটি ব্যাংকের মাধ্যমে ৩ কোটি ৮৯ লাখ মার্কিন ডলার, বেসরকারি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ১৪০ কোটি ৫২ লাখ ডলার এবং বিদেশি ব্যাংকগুলোর মাধ্যমে এসেছে ৫৮ লাখ মার্কিন ডলার রেমিট্যান্স।

রেমিট্যান্স আহরণ নিয়ে কেন্দ্রীয় ব্যাংক প্রকাশিত সাপ্তাহিক রিপোর্টে দেখা যায়, ২০২২-২৩ অর্থবছরের প্রথম মাস জুলাইয়ে দেশে ২০৯ কোটি ৬৩ লাখ ডলার প্রবাসী আয় আসে। পরের মাসে কিছুটা কমে দাঁড়ায় ২০৩ কোটি ৬৯ লাখ ডলারে। সেপ্টেম্বরে মাসের ব্যবধানে এক লাফে ৫০ কোটি ডলার কম আসে। ওই মাসে প্রবাসী আয় ছিল ১৫৩ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

অক্টোবরে আরেক দফা নিম্মমুখী হয়ে রেমিট্যান্স আসে ১৫২ কোটি ৫৫ লাখ ডলার। তবে নভেম্বরে আবার ঊর্ধ্বমুখী হতে থাকে প্রবাসীদের আয়ের অঙ্ক। সেই মাসে তা আসে ১৫৯ কোটি ৫২ লাখ ডলার। আর বিদায়ী বছরের শেষ মাসে রেমিট্যান্স এসেছিল ১৬৯ কোটি ৯৬ লাখ ডলার।

বিদায়ী ২০২১-২২ অর্থবছরে মোট রেমিট্যান্স এসেছে ২ হাজার ১০৩ কোটি ১৭ লাখ ডলার। এর আগে ২০২০-২১ অর্থবছরে প্রবাসী বাংলাদেশিরা দেশে পাঠান ২ হাজার ৪৭৭ কোটি ৭৭ লাখ ডলার।

দেশে ডলার সংকট বাড়ছে। বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্য অনুযায়ী, সবশেষ ২৫ জানুয়ারি বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ ৩২ দশমিক ২৯ বিলিয়ন ডলারে নেমে এসেছে। আন্তর্জাতিক মানদণ্ডে হিসাব করলে তা আরও কম।

সেই হিসাবে এখন প্রকৃত রিজার্ভ সাড়ে ২৪ বিলিয়ন ডলার। গত ৮ বছরের মধ্যে যা সর্বনিম্ন। ২০১৪-১৫ অর্থবছরে বিদেশি মুদ্রার সঞ্চায়ন ছিল ২৫ বিলিয়ন ডলার।

;