শিল্পায়নে ১ লাখ একর জমি নিশ্চিত করতে চায় বেজা



সেরাজুল ইসলাম সিরাজ, স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
নকশায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী ছবি: সংগৃহীত

নকশায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

সরকারি ৫৯টি এবং ২৯টি প্রাইভেট ইকোনমিক জোনের কার্যক্রম চলমান রয়েছে। সরকারি খাতে বর্তমানে ৬০ হাজার একর জমি প্রস্তুত রয়েছে। এ খাতে মোট ১ লাখ একর জমির ব্যাংক তৈরি করতে চায় বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা)।

শিল্পায়নের জন্য বরাদ্দ দেওয়া হবে এসব জমি। ভবিষ্যতে পরিকল্পিত শিল্পায়ন করা হবে। বিচ্ছিন্নভাবে যেখানে সেখানে শিল্পায়ন থেকে বেরিয়ে আসতে চায় সরকার। এ জন্য ১০০ ইকোনমিক জোন স্থাপনের কাজ বেশ জোরেশোরেই এগিয়ে চলছে। মিরসরাই ও মহেশখালীতে বাস্তবায়নাধীন দু’টি ইকোনমিক জোনেই ৫৫ হাজার একর জমি প্রস্তুত করা হচ্ছে বলে জানিয়েছেন বেজা চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী।

সবচেয়ে বড় ইকোনমিক জোন হচ্ছে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব শিল্প নগরী। চট্টগ্রামের মিরসরাই, সীতাকুন্ডু ও ফেনীর সোনাগাজী উপজেলায় অবস্থিত এ জোনে জমি রয়েছে ৩০ হাজার একর। সড়ক ও নদীপথে সহজ ও উন্নত যোগাযোগ ব্যবস্থা রয়েছে এ জোনের সঙ্গে। এ জোনের থেকে সন্দ্বীপ চ্যানেলের দূরত্ব মাত্র ২৫ কিলোমিটার।

সবচেয়ে বড় এ জোনটি অগ্রগতিতেও সবচেয়ে এগিয়ে। এখানে দেশি-বিদেশি অনেক প্রতিষ্ঠান শিল্প স্থাপনে এগিয়ে এসেছে। অনেকগুলো প্রতিষ্ঠান এরই মধ্যে উৎপাদনের জন্য প্রস্তুত হয়েছে। ১৫ বছরের মধ্যে ১৫ লাখ মানুষের কর্মসংস্থান ও বছরে ১৫ বিলিয়ন ডলার রফতানির লক্ষ্যমাত্রা নির্ধারণ করা হয়েছে। চীনা প্রতিষ্ঠান কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল হোল্ডিং কোম্পানি ২.১৩ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করছে।

চীনা প্রতিষ্ঠান কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল হোল্ডিং কোম্পানি
কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল হোল্ডিং কোম্পানি

বাংলাদেশ গার্মেন্ট ম্যানুফ্যাকচার অ্যান্ড এক্সপোর্টার অ্যাসোসিয়েশন (বিজিএমইএ) ২ বিলিয়ন ডলার বিনিয়োগ করবে। সংগঠনটিকে ৫০০ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে গার্মেন্টস কারখানা স্থাপনের জন্য। অনন্ত গ্রুপ ২৫০ একর জমি বরাদ্দ নিয়েছে ফেবিক্স অ্যান্ড ইয়ার্ন ফ্যাক্টরি স্থাপনের জন্য। মোট ৫৫টি শিল্প প্রতিষ্ঠানের অনুকূলে ৬ হাজার ৭৭ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে বলে জানিয়েছে বেজা।

আয়তনের দিক থেকে মিরসরাইয়ের পরেই মহেশখালীর অবস্থান। এখানে মোট জমির পরিমাণ রয়েছে ২৫ হাজার একর। এসকে গ্যাসকে (দক্ষিণ কোরিয়ান প্রতিষ্ঠান) ৪১০ একর জমি বরাদ্দ করা হয়েছে। এসকে গ্যাস ২.৩৯ বিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগের মাধ্যমে এলপিজি টার্মিনাল ও পেট্রোকেমিক্যাল শিল্প স্থাপনের প্রস্তাবনা দিয়েছে। সামুদা পেট্রোকেমিক্যালকে ১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। কোম্পানিটির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ৯২ মিলিয়ন মার্কিন ডলার। থাই কোম্পানি প্যাসিফিক গ্যাস বিডি লিমিটেডকে বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে ৬০ একর জমি।

মৌলভীবাজারে এগিয়ে চলছে শ্রীহট্ট ইকোনমিক জোনের কাজও। ৩৫২ একর জমি নিয়ে গঠিত এ জোনে ৬টি কোম্পানির নামে ২৩১ একর জমি বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। যারা এরই মধ্যে শিল্পায়নের কাজ শুরু করেছে। এ ৬টি কোম্পানির প্রস্তাবিত বিনিয়োগের পরিমাণ ১.৪ বিলিয়ন ইউএস ডলার।

বেজার সঙ্গে পিপিপির আওতায় সিকদার গ্রুপের সহযোগী প্রতিষ্ঠান পাওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোন প্রাইভেট লিমিটেড অঞ্চলটির উন্নয়ন করছে। মংলা বন্দরের অদূরে ২০৫ একর জমি নিয়ে গঠিত এ জোনে সড়ক যোগাযোগ, পানি সরবরাহ, বৈদ্যুতিক উপকেন্দ্র ও প্রশাসনিক ভবনের কাজ শেষ হয়েছে। ৪৪ শতাংশ প্লট বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে। অবশিষ্ট প্লট পুরোপুরি প্রস্তুত রয়েছে। এখানে ২৫ হাজার মানুষের কর্মসংস্থানের সুযোগ সৃষ্টি হবে বলে আশা করছেন ওয়ার প্যাক ইকোনমিক জোনের ব্যবস্থাপনা পরিচালক রন হক সিকদার।

দেশের ট্যুরিজমকে প্রমোট করার জন্য কক্সবাজার জেলায় তিনটি ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনের কাজ হাতে নিয়েছে। ১ হাজার ৪১ একর জমির ওপর প্রতিষ্ঠা করা হচ্ছে সাবরাং ট্যুরিজম পার্ক। বাংলাদেশের সর্ব দক্ষিণে টেকনাফ উপজেলার সাগর তীরে স্থাপিত হবে পার্কটি। টেকনাফ উপজেলায় নাফ নদীর মনোরম জালিয়ার দ্বীপে স্থাপন করা হবে নাফ ট্যুরিজম পার্ক। এটি হতে যাচ্ছে বাংলাদেশের প্রথম দ্বীপ নিয়ে পরিকল্পিত ট্যুরিজম পার্ক। মোট জমির পরিমাণ ২৯১ একর। কয়েকটি বিদেশি প্রতিষ্ঠান সম্পূর্ণ দ্বীপে ট্যুরিজম পার্ক স্থাপনে আগ্রহ প্রকাশ করেছে।

সোনাদিয়ায় ইকো-ট্যুরিজম পার্কের মাস্টার প্ল্যান দিতে পরামর্শক প্রতিষ্ঠান মাহিন্দ্রা কনসালটেন্টকে নিয়োগ দেওয়া হয়েছে।

বেজা জানিয়েছে, ২০১০ সালের নভেম্বরে বাংলাদেশ অর্থনৈতিক অঞ্চল কর্তৃপক্ষ (বেজা) প্রতিষ্ঠিত হয়। ১৫ বছরে ১০০ অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার মাধ্যমে ১ কোটি লোকের কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা এবং বার্ষিক ৪০ বিলিয়ন মার্কিন ডলার সমমূল্যের পণ্য ও সেবা উৎপাদনের লক্ষ্যে কাজ চলছে। ২১টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাক সমীক্ষা শেষ, ১২টি অঞ্চলের প্রাক সমীক্ষা প্রক্রিয়াধীন রয়েছে। ১৭টি অর্থনৈতিক অঞ্চলের প্রাথমিক সাইট অ্যাসেসমেন্ট সম্পন্ন হয়েছে। ২৪টি অর্থনৈতিক অঞ্চল স্থাপনে পরিবেশ ও সামাজিকগত সমীক্ষা সম্পন্ন করা হয়েছে।

চীনা প্রতিষ্ঠান কুনমিং আয়রন অ্যান্ড স্টিল হোল্ডিং কোম্পানি
নিমার্ণাধীন মূলফটক

অন্যদিকে ২০টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চল প্রতিষ্ঠার জন্য প্রি-কোয়ালিফিকেশন লাইসেন্স দিয়েছে, যার মধ্যে ৮টি বেসরকারি অর্থনৈতিক অঞ্চলকে চূড়ান্ত লাইসেন্স দেওয়া হয়েছে। এসব অর্থনৈতিক অঞ্চলে এরই মধ্যে ১৯টি শিল্প কারখানা স্থাপিত হয়েছে। আর ২০টির কাজ চলছে। এসব অঞ্চলে মোট ২ হাজার ৩২৬ মিলিয়ন মার্কিন ডলার বিনিয়োগ হয়েছে এবং ২২ হাজার ২৮০ জনের কর্মসংস্থান সৃষ্টি হয়েছে।

বেজার চেয়ারম্যান পবন চৌধুরী বার্তাটোয়েন্টিফোর.কমকে বলেন, অন্যান্য দেশ অনেক আগে অর্থনৈতিক অঞ্চল গড়তে শুরু করেছে। আমরা মূলত ২০১৫ সালে কাজ শুরু করেছি। আমাদের লক্ষ্য ১০০ ইকোনমিক জোন স্থাপন করা। প্রথমে মিরসরাইতে ৫৫০ একর জমি দিয়ে যাত্রা শুরু করি। এখন সেখানে ৩০ হাজার একর জমি কনফার্ম হয়েছে। অনেক শিল্প কারখানা স্থাপনের কাজও চলছে। মহেষখালীতে ২৫ হাজার একর জমি নিশ্চিত করা হয়েছে। বেজা এরই মধ্যে ৬০ হাজার একর জমির ব্যাংক করেছে। আমরা এক লাখ একর জমি কনফার্ম করতে চাই।

আমরা এতোদিন ইকোনমিক জোন বলতে রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকার মধ্যে আটকে ছিলাম। ৩৯ বছরে মাত্র ৮টি ছোট ছোট ইপিজেড স্থাপন করেছি। যাতে মোট জমি রয়েছে মাত্র ২ হাজার ২৯৮ একর। এখন জোনগুলোতে অভ্যন্তরীণ ও রফতানিমুখী শিল্প থাকবে। আমরা মিনিটের কম সময়ের মধ্যে ট্রেড লাইসেন্স করে দিচ্ছি। অনেক কাজ এখন সহজ হয়ে গেছে বলেও মন্তব্য করেছেন বেজা চেয়ারম্যান।

প্রধানমন্ত্রীর বেসরকারি বিনিয়োগ বিষয়ক উপদেষ্টা সালমান এফ রহমান এক অনুষ্ঠানে বলেছেন, ১০০ ইকোনমিক জোন স্থাপনের ঘোষণা অনেকে অতিরঞ্জিত মনে করেছিলেন। এখন মনে হচ্ছে, এ সংখ্যা যথেষ্ট নয়, আরো বাড়ানো উচিত।

   

রিজার্ভের পরিমাণ জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রিজার্ভের পরিমাণ জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

রিজার্ভের পরিমাণ জানাল কেন্দ্রীয় ব্যাংক

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘদিন ধরে দেশে ডলার সংকটের প্রভাবে বৈদেশিক মুদ্রার সঞ্চয় বা রিজার্ভ ধারাবাহিকভাবে কমছে। আন্তর্জাতিক মুদ্রা তহবিলের (আইএমএফ) সর্বেশষ গণনায় দেশের রিজার্ভ ১৯ দশমিক ৪৫ বিলিয়ন ডলারে দাঁড়িয়েছে। অন্যদিকে বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসেবে তা ২৪ দশমিক ৮১ বিলিয়ন ডলার।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সাপ্তাহিক হালনাগাদ প্রতিবেদনে এসব তথ্য জানিয়েছে কেন্দ্রীয় ব্যাংক। 

কেন্দ্রীয় ব্যাংকের ওয়েবসাইটে প্রকাশিত প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, গত এক সপ্তাহে গ্রস রিজার্ভ কমেছে ৫৩ কোটি ডলার। বাংলাদেশ ব্যাংকের হিসাবে গত ২১ মার্চ সঞ্চিত বিদেশি অর্থের পরিমাণ ছিল ২৫ দশমিক ২৪ বিলিয়ন ডলার। আর আইএমএফের গণনা পদ্ধতি বিপিএম-৬ অনুযায়ী তা ছিল ১৯ দশমিক ৯৮ বিলিয়ন ডলার।

এ ছাড়া কেন্দ্রীয় ব্যাংকের নিট রিজার্ভের আরেকটি হিসাব রয়েছে। যা শুধু প্রকাশ করা হয় না, শুধুমাত্র আইএমএফকে দেওয়া হয়। জানা গেছে, ওই হিসাবে বর্তমানে দেশের প্রকৃত রিজার্ভ এখন প্রায় সাড়ে ১৭ বিলিয়ন ডলার। যা দিয়ে ৩ মাসের আমদানি ব্যয় মিটবে।

অর্থাৎ, পণ্য কেনা বাবদ মাসিক প্রায় ৬ বিলিয়ন ডলার করে দায় পরিশোধ করা হয়। নিয়ম অনুযায়ী যেকোনো দেশের ন্যূনতম ৩ মাসের আমদানি খরচের সমান রিজার্ভ থাকতে হয়। বাংলাদেশেরও সেই পরিমাণ রিজার্ভ রয়েছে।

;

ইসলামী ব্যাংকে বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শের উপর আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ইসলামী ব্যাংক বাংলাদেশ পিএলসির উদ্যোগে এবং বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী ব্যাংক ইউনিটের সহযোগিতায় “বঙ্গবন্ধুর জীবনাদর্শ ও বর্ণাঢ্য রাজনৈতিক জীবন” শীর্ষক আলোচনা সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মবার্ষিকী এবং স্বাধীনতা ও জাতীয় দিবস উপলক্ষ্যে ইসলামী ব্যাংক টাওয়ারে এ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

অনুষ্ঠানে প্রধান অতিথি হিসেবে বক্তব্য দেন শিল্পমন্ত্রী নূরুল মজিদ মাহমুদ হুমায়ুন। ব্যাংকের ম্যানেজিং ডাইরেক্টর ও সিইও মুহাম্মদ মুনিরুল মওলার সভাপতিত্বে বিশেষ অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন বঙ্গবন্ধু পরিষদের সাধারণ সম্পাদক আ.ব.ম ফারুক, ইসলামী ব্যাংকের পরিচালক, মুক্তিযোদ্ধা মো. জয়নাল আবেদীন, বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠান শিক্ষক কর্মচারী কল্যাণ ট্রাস্টের সচিব অধ্যক্ষ মো. শাহজাহান আলম সাজু, বাংলাদেশ আওয়ামী স্বেচ্ছাসেবক লীগের সাধারণ সম্পাদক একেএম আফজালুর রহমান বাবু, বঙ্গবন্ধু পরিষদের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক ডাঃ শেখ আব্দুল্লাহ আল মামুন। স্বাগত বক্তব্য দেন বঙ্গবন্ধু পরিষদ ইসলামী ব্যাংক ইউনিটের সভাপতি মো. মোজাহারুল ইসলাম মেহেদী। অনুষ্ঠানে প্রধান কার্যালয়ের নির্বাহী ও কর্মকর্তাগণ উপস্থিত ছিলেন।

;

চীনের সঙ্গে এফটিএ করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময়



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
চীনের সঙ্গে এফটিএ করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময়

চীনের সঙ্গে এফটিএ করতে সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময়

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশ ও চীনের মধ্যে বাণিজ্য এবং বিনিয়োগ বাড়ানোর লক্ষ্যে মুক্ত বাণিজ্য চুক্তি (এফটিএ) সই করার বিষয়ে যৌথভাবে খসড়া সম্ভাব্যতা সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময় করেছে দুই দেশ।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সম্মেলন কক্ষে এ সমীক্ষা প্রতিবেদন বিনিময় করে বাংলাদেশ ও চীন।

এসময় বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের সিনিয়র সচিব তপন কান্তি ঘোষ, বাংলাদেশে নিযুক্ত চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন এবং বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, বাংলাদেশের স্বল্পোন্নত দেশ থেকে উন্নয়নশীল দেশে উত্তরণ বর্তমান সরকারের অর্থনৈতিক অগ্রযাত্রার উল্লেখযোগ্য অর্জন। এ অর্জন বিশ্বে বাংলাদেশের ইতিবাচক ভাবমূর্তি সৃষ্টি এবং বিনিয়োগ ও বাণিজ্যে নতুন সম্ভাবনা তৈরির পাশাপাশি বেশ কিছু চ্যালেঞ্জও তৈরি করবে।

তিনি আরও বলেন, যার মধ্যে স্বল্পোন্নত দেশ হিসাবে উন্নত ও উন্নয়নশীল দেশে পণ্য রপ্তানির সময় শুল্কমুক্ত কোটামুক্ত প্রবেশাধিকার সুবিধা ২০২৬ সালের পরে হারানো এবং মূল্য সংযোজনের হার অন্যতম। এর ফলে বাংলাদেশের রপ্তানি পণ্যকে ওই সব দেশের বাজারে প্রবেশের সময় সাধারণভাবে আরোপিত শুল্কের সম্মুখীন হতে হবে উল্লেখ করে তিনি বলেন, ফলে ওই সকল দেশে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংকোচনের সম্ভাবনা রয়েছে।

কবে নাগাদ এফটিএ সই হতে পারে সাংবাদিকদের এমন প্রশ্নের জবাবে সচিব বলেন, এখনো চুক্তি হয়নি। এখন আলোচনা শুরু হবে। আগামী তিন বছরের মধ্যে চুক্তি সম্পন্ন করতে পারলে ভালো। যদি না হয় আমাদের আলোচনা চালিয়ে যেতে হবে। আলোচনা শেষ না হলে ততোদিন যেন আমাদের এলডিসি হিসাবে এই সুবিধাগুলো তাঁরা দেয় এর জন্য বলবো।

চুক্তির ফলে বাংলাদেশ কি ধরনের সুবিধা পাবে এ বিষয়ে তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমাদের প্রধান রপ্তানি পণ্য গার্মেন্টের বাইরে আরও কিছু পণ্য আছে। রাষ্ট্রদূততের সঙ্গে আলাপকালে তিনি জানিয়েছেন আম ও পাটজাত পণ্যের অনেক সম্ভাবনা আছে। তারপর হস্তশিল্পের বিষয় আছে।

তিনি বলেন, এছাড়া আরও পণ্য আছে। আমরা ইতোমধ্যে চামড়া রপ্তানি করছি। আমরা মানসম্মত চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারি। চীনে ১৪০ কোটি মানুষ। সেখানে যদি আমরা বৈচিত্র্য পণ্য নিয়ে যেতে পারি, বড় বাজার। চুক্তি হয়ে গেলে বিনিয়োগ বাড়ারও সম্ভাবনা রয়েছে বলে জানান তিনি।

তপন কান্তি ঘোষ বলেন, আমরা প্রধানত তৈরি পোশাক রপ্তানি করি। ২০২২-২৩ অর্থবছরে আমরা চীনে ৬৭৭ মিলিয় মার্কিন ডলারের পণ্য রপ্তানি করেছি। বিপরীতে চীন থেকে ২২ দশমিক ৯০ বিলিয়ন ডলার আমদানি করা হয়েছে।

সাংবাদিকদের এক প্রশ্নের উত্তরে চীনের রাষ্ট্রদূত ইয়াও ওয়েন বলেন, বাংলাদেশে চীনের বড় বিনিয়োগ রয়েছে। এখন চীন বাংলাদেশে দ্বিতীয় বৃহৎ বিনিয়োগকারী দেশ। এফটিএ সই হওয়ার পর বিনিয়োগ আরও বাড়বে। বাংলাদেশ চীনে আম, কাঠাল, আলু, পাটপণ্য, চামড়াজাত পণ্য রপ্তানি করতে পারে।

তিনি আরও বলেন, বর্তমান বৈশ্বিক চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা এবং টেকসই অর্থনৈতিক উন্নয়নের জন্য এফটিএ করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের পক্ষ থেকে জানানো হয়, এলডিসি উত্তরণ পরবর্তী সম্ভাব্য চ্যালেঞ্জ মোকাবিলায় সরকারের অষ্টম পঞ্চবার্ষিক পরিকল্পনা অনুসারে বাংলাদেশের রপ্তানি বাজার সংরক্ষণ এবং সম্প্রসারণে বাণিজ্য মন্ত্রণালয় ইতোমধ্যে বাণিজ্যিকভাবে গুরুত্বপূর্ণ বিভিন্ন দেশ ও ট্রেড ব্লকের সাথে আঞ্চলিক বাণিজ্য চুক্তি সম্পাদনের উদ্যোগ গ্রহণ করেছে।

;

ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে শুক্রবার



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে শুক্রবার

ভারত থেকে পেঁয়াজ আসছে শুক্রবার

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম নিয়ন্ত্রণে ভারত থেকে ৫০ হাজার টন পেঁয়াজ আমদানি করছে সরকার। আগামীকাল শুক্রবার (২৯ মার্চ) এর মধ্যে ১ হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ দেশে আসতে পারে বলে জানিয়েছে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়।

বৃহস্পতিবার (২৮ মার্চ) সচিবালয়ে বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের অতিরিক্ত সচিব (আমদানি ও অভ্যন্তরীণ বাণিজ্য অধিশাখা) রেজওয়ানুর রহমান গণমাধ্যমকে এ তথ্য জানান।

তিনি বলেন, প্রথম পর্যায়ে ১ হাজার ৬৫০ টন পেঁয়াজ ট্রেনে করে দেশে আসছে। শুক্রবারের মধ্যে আসার কথা রয়েছে। অবশিষ্ট পেঁয়াজ পর্যায়ক্রমে আমদানি হবে।

জানা গেছে, দেশের বাজারে পেঁয়াজের দাম অস্বাভাবিক বেড়ে যাওয়ায় ভারত থেকে জিটুজি পদ্ধতিতে পেঁয়াজ আমদানির সিদ্ধান্ত নেয় সরকার। তবে ভারতের অভ্যন্তরীণ বাজারে দাম বাড়ায় দেশটির সরকার রফতানি বন্ধ করে দেয়। এতে বিপাকে পড়ে বাংলাদেশ। পরে হঠাৎ করে পণ্যটির দাম অনেক বেড়ে যায়।

এর আগে বুধবার (২৭ মার্চ) অর্থমন্ত্রী আবুল হাসান মাহমুদ আলীর সভাপতিত্বে অনুষ্ঠিত অর্থনৈতিক বিষয় সংক্রান্ত মন্ত্রিসভা কমিটির বৈঠকে ভারত থেকে ৫০ হাজার মেট্রিকটন পেঁয়াজ আমদানির একটি প্রস্তাবে নীতিগত অনুমোদন দেয়া হয়।

;