পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু নিয়ে বিভক্ত পরিচালকরা

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস



সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডিএসই লোগো

ডিএসই লোগো

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে সরকারি-বেসরকারি অফিসগুলো চলছে সাধারণ ছুটি। এ অবস্থায় পুঁজিবাজারে লেনদেন চালুর দাবি জানিয়েছেন দেশের প্রধান পুঁজিবাজার ঢাকা স্টক এক্সচেঞ্জের (ডিএসই) পরিচালক রকিবুর রহমান।

তিনি বলেছেন, ব্যাংকের মতো পুঁজিবাজারে লেনদেন সীমিত আকারের চালু করার দাবি জানাচ্ছি। মানবিক কারণেও পুঁজিবাজারে লেনদেন চালু করা জরুরি। অনেক ক্ষুদ্র বিনিয়োগকারী জীবনের সব সঞ্চয় পুঁজিবাজারে বিনিয়োগ করেছেন। তাদের হয়তো জরুরি টাকা দরকার। লেনদেন বন্ধ থাকায় তারা কোনো টাকা তুলে নিতে পারছেন না। লেনদেন চালু হলে তাদের জন্য সঙ্কট মোকাবিলা কিছুটা সহজ হবে।

ডিএসই’র পরিচালক রকিবুর রহমানের পক্ষে মত দিয়েছেন আরও একজন স্বতন্ত্র পরিচালক।

তবে পুঁজিবাজারে লেনদেন বন্ধ রাখার পক্ষে মত দিয়েছেন ডিএসইর সাবেক সভাপতি ও বর্তমান পরিচালক শাকিল রিজভী, পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান, মিনহাজ মান্নান ইমন এবং ডিএসইর শেয়ারহোল্ডারদের সংগঠন ডিএসই ব্রোকার্স অ্যাসোসিয়েশন অব বাংলাদেশের (ডিবিএ) সভাপতি শরীফ আনোয়ার হোসেন।

মহামারির এই সময়ে লেনদেন চালু করতে গেলেই জনবল ও বিনিয়োগকারীদের উপস্থিতির প্রয়োজন পড়বে, যা চলমান পরিস্থিতির মারাত্মক ঝুঁকিপূর্ণ। এ পরিস্থিতিতে জীবনের ঝুঁকি নিয়ে লেনদেন চালু করা সম্ভব হবে না বলে মত দিয়েছেন তারা।

ডিএসইর পরিচালক শাকিল রিজভী বলেন, লেনদেন চালু করতে মেইন কম্পিউটার (ম্যাচিং কম্পিউটার) পরিচালনা করতেই ২০-২৫ জন কর্মকর্তা-কর্মচারী দরকার পড়ে। লেনদেন কার্যক্রম চালাতে প্রতিটি ব্রোকারেজ হাউজে লোকবলের দরকার। সরকারি ছুটির কারণে অনেকেই নিরাপদ অবস্থানে আছেন। তারা চলমান পরিস্থিতিতে হাউজে উপস্থিত হবেন কী করে?

ডিএসইর আরেক পরিচালক মিনহাজ মান্নান ইমন বলেন, এই পরিস্থিতিতে অন্যসব দেশের পুঁজিবাজার চালু রাখা সম্ভব হলেও আমাদের দেশে সম্ভব না। কারণ, সরকারি ছুটির সঙ্গে সঙ্গে আইনগতভাবে কিছু প্রতিষ্ঠান বন্ধ রাখা হয়। এর আওতায় বিএসইসি, সিডিবিএল ও স্টক এক্সচেঞ্জও রয়েছে।

এছাড়া ছুটির মধ্যে ব্যাংকের লেনদেন সময় সীমিত করা হয়েছে। এই পরিস্থিতিতে স্টক এক্সচেঞ্জের দৈনিক ৩০০-৪০০ কোটি টাকার লেনদেন ব্যাংকের মাধ্যমে সমাধান করা সম্ভব না বলে জানান তিনি।

ডিএসইর লেনদেন অটোমেটেড হলেও আন্তর্জাতিক মানের হয়নি বলে মত দেন মিনহাজ মান্নান ইমন।

ডিবিএ’র প্রেসিডেন্ট শরীফ আনোয়ার হোসেন বলেন, সরকারি ছুটির কারণে অনেকেই গ্রামের বাড়িতে অবস্থান করছেন। এই পরিস্থিতিতে চাইলেই লকডাউন ভেঙে সবাই চলে আসতে পারবে না। ব্রোকারেজ হাউজগুলোতে কর্মকর্তা-কর্মচারীদের সশরীরে উপস্থিতি দরকার হলেও সেটা সম্ভব হবে না।

ডিএসইর আরেক পরিচালক মোহাম্মদ শাহজাহান বলেন, জীবনের চেয়ে অন্য কিছু বড় হতে পারে না। সরকারের সাধারণ ছুটির সাথে স্টক এক্সচেঞ্জের কার্যক্রম বন্ধ রাখা সঠিক ও সময়োপযোগী পদক্ষেপ।

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস