নির্বাচন প্রক্রিয়াও দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়: মাহবুব তালুকদার

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম, ঢাকা
মাহবুব তালুকদার, ছবি: সংগৃহীত

মাহবুব তালুকদার, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দুর্নীতির আওতামুক্ত নয় বলে মন্তব্য করেছেন নির্বাচন কমিশনার মাহবুব তালুকদার।

তিনি বলেছেন, ‘নির্বাচন কমিশন, নির্বাচন কমিশন সচিবালয় ও মাঠ পর্যায়ের নির্বাচন কর্মকর্তাদের বিষয়ে দুর্নীতির অভিযোগ দুঃখজনক। একটি দুর্নীতিমুক্ত ও স্বচ্ছ নির্বাচন কমিশন সর্বদাই জাতির প্রত্যাশা। দেশের নির্বাচন প্রক্রিয়াও দুর্নীতির আওতামুক্ত নয়। যেসব জনপ্রতিনিধি অবৈধ উপায়ে বা দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনে জয়যুক্ত হন, তাদের নির্বাচনের কোনো বৈধতা থাকে না।’

রোববার (২০ অক্টোবর) নির্বাচন প্রশিক্ষণ ইনস্টিটিউটে (ইটিআই) আয়োজিত এক কর্মশালায় অংশ নিয়ে তিনি এসব কথা বলেন। 'ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম যুগোপযোগীকরণ এবং ভোটার নিবন্ধন সংক্রান্ত ফরমসমুহ পুনর্বিন্যাসকরণ' শীর্ষক এ কর্মশালাটি আয়োজন করে ইটিআই।

মাহবুব তালুকদার লিখিত বক্তব্যে বলেন, ‘জনগণের প্রতি অবৈধ জনপ্রতিনিধিদের দায়বদ্ধতা ও জবাবদিহিতার প্রশ্ন ওঠে না। এতে গণতন্ত্র সুসংহত ও যথাযথভাবে সংরক্ষিত হতে পারে না। অবাধ ও সুষ্ঠু নির্বাচনের মাধ্যমে গণতন্ত্র প্রতিষ্ঠাই জাতির প্রত্যাশা। গণতন্ত্রবিহীন জাতি আত্মমর্যাদাহীন। আমরা বিশ্বসভায় মর্যাদাশীল জাতি হিসেবে আত্মপরিচয় সমুন্নত রাখতে চাই।’

‘কোনো সুষ্ঠু সুন্দর আইনানুগ ও গ্রহণযোগ্য নির্বাচনের পূর্বশর্তই হলো সুষ্ঠু, সত্য ও বিশ্বস্ত ভোটার তালিকা। সত্য ও বিশ্বস্ত শব্দ দু’টি এখানে বিশেষভাবে প্রযোজ্য। এর কারণ হচ্ছে এক সময় ভোটার তালিকায় বিপুল সংখ্যক অস্তিত্বহীন বা দ্বৈত ভোটার চিহ্নিত হয়। বিভিন্ন জরিপ প্রতিবেদনে তার সত্যতা খুঁজে পাওয়া যায়। তৎকালীন ভোটার তালিকাটি ছিল অকার্যকর। এ অবস্থা থেকে উত্তরণ ঘটে ছবিসহ নতুন ভোটার তালিকা প্রণয়নে। ছবিসহ বায়োমেট্রিক ডাটাবেজ তৈরি দেশের জন্য এক যুগান্তকারী পদক্ষেপ। এ পর্যন্ত সেই ডাটাবেজ ধরেই আমরা ভোটার তালিকা হালনাগাদ করছি,’ যোগ করেন তিনি।

মাহবুব তালুকদার বলেন, ‘এ কথা অনস্বীকার্য যে অস্তিত্বহীন বা ভুয়া ভোটার তালিকা নির্বাচনের জন্য গ্রহণযোগ্য হতে পারে না। সেই অবস্থা থেকে আমরা পরিত্রাণ পেয়েছি। প্রসঙ্গত মনে রাখা প্রয়োজন যে নির্বাচন কমিশন যদি সরকার বা রাজনৈতিক দলের অঙ্গুলি হেলনে আন্দোলিত হয়, তাহলে নির্বাচন কমিশনের স্বাধীন সত্তার বিকাশ ও প্রকাশ সম্ভব নয়। ভোটার তালিকা তৈরির সূচনা থেকে ভোটের ফল প্রকাশ পর্যন্ত নির্বাচন কমিশনের স্বাধীনতা অক্ষুণ্ন না থাকলে সমগ্র নির্বাচন প্রক্রিয়া প্রশ্নবিদ্ধ হয়ে পড়ে। এতে বিশ্বাসযোগ্য ও গ্রহণযোগ্য স্বাভাবিক নির্বাচন অনুষ্ঠিত হতে পারে না।’

এবারের ভোটার তালিকা হালনাগাদ কার্যক্রম যুগোপযোগী করার পর সামনে একটি বড় চ্যালেঞ্জ রয়েছে। রোহিঙ্গারা যাতে ভোটার তালিকার অন্তর্ভুক্ত হতে না পারে সে জন্য সর্বোচ্চ সতর্কতা প্রয়োজন। রোহিঙ্গাদের ভোটার করার বিষয়ে যদি কোনো নির্বাচন কর্মকর্তার সংশ্লিষ্টতা পাওয়া যায়, তার বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নিতে হবে। একই সঙ্গে মৃত ব্যক্তিদের ভোটার তালিকা থেকে বাদ দিতে সর্বদা সচেষ্ট থাকা দরকার। নবাগতদের ভোটার তালিকায় যুক্ত করার জন্য প্রশিক্ষণের মাধ্যমে নিজেদের দক্ষ জনবল গড়ে তোলার পদক্ষেপ গ্রহণ জরুরি বলেও উল্লেখ করেন তিনি।

আইনি দিক তুলে ধরে এ কমিশনার বলেন, ‘ভোটার তালিকার বর্তমান ব্যবস্থায় তথ্যসংগ্রহ ও বায়োমেট্রিক গ্রহণ কার্যক্রম এবং ভোটার তালিকা আইন ২০০৯ ও ভোটার তালিকা বিধিমালা ২০১২-এর অসঙ্গতি দূরীকরণ একসঙ্গে সম্পন্ন করার প্রয়োজন রয়েছে। এ জন্য নানা ধরনের সংশোধন, সংযোজন ও পরিবর্তন অপরিহার্য। তাছাড়া ভোটার তালিকা হালনাগাদের পদ্ধতি যুগোপযোগী করার জন্য বিদ্যমান ফরমগুলো সহজতর করা আবশ্যক।’

এ সময় প্রধান নির্বাচন কমিশনার (সিইসি) কেএম নূরুল হুদা বলেন, ‘জাতীয় পরিচয়পত্রে (এনআইডি) সঠিক বয়স লিপিবদ্ধ করা এবং মৃত ভোটার তালিকা থেকে বাদ দেওয়াটা একটা সমস্যা। এ সমস্যা থেকে উত্তরণের জন্য শিশুর জন্মের পর এবং কেউ মারা গেলে সে তথ্য থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে মৌখিক বিবৃতি আকারে জানানোর বিষয়টি নিয়ে ভাবতে হবে। মৃত ভোটার একটা সমস্যা। বৃটিশ আমলে একটা নিয়ম ছিল। কেউ মারা গেলে থানায় ভারবাল স্টেটমেন্ট দিতে হতো। কোনো বাড়িতে কোনো বাচ্চা জন্ম নিলে বা মারা গেলে থানায় মৌখিক তথ্য দিতে হতো। চৌকিদার যেয়ে বলত যে ওই বাড়িতে অমুকের একটা সন্তান জন্ম নিয়েছে। কিংবা ওই গ্রামের ওই বাড়ির অমুক মৃত্যুবরণ করেছে। থানায় এখন সেটা বলা সম্ভব কিনা, তবে চৌকিদার থানা নির্বাচন কর্মকর্তার কাছে এ তথ্য দিতে পারে কি না ভাবা দরকার।’

কর্মশালায় নির্বাচন কমিশনের (ইসি) অতিরিক্ত সচিব মো. মোখলেছুর রহমানসহ অন্য নির্বাচন কমিশনার ও ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন।

আপনার মতামত লিখুন :