পশ্চিমবঙ্গের ভোটে তারার মেলা



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
সায়নী ঘোষ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

সায়নী ঘোষ ও মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়

  • Font increase
  • Font Decrease

আসন্ন বিধানসভা নির্বাচনের প্রাক্কালে ভোটের হাওয়া লেগেছে পশ্চিমবঙ্গের ফিল্মপাড়া টালিউডে। দক্ষিণ কলকাতার টালিগঞ্জের ফিল্মি জগতটি রাজ্যের মুখ্যমন্ত্রী মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের কালিঘাটের বাড়ির সন্নিকটে। কাছাকাছি তোপসিয়া রোড়ে তৃণমূলের কেন্দ্রীয় দফতর। ফলে টালিউডে দলের প্রভাব বিস্তৃত হওয়াই স্বাভাবিক।

আগেই কলকাতার শীর্ষ নায়িকা নুসরাত জাহান ও মিমি চক্রবর্তী তৃণমূলের টিকেটে সংসদে নির্বাচিত হয়েছেন। তারও আগে থেকে তৃণমূলের হয়ে নির্বাচনে জিতেছেন বেশ কয়েকজন নায়ক, নায়িকা, তারকা, সেলিব্রেটি। যাদের মধ্যে শতাব্দী রায়, তাপস পাল, দেবশ্রী রায় এবং আরো অনেকেই রয়েছেন।

তৃণমূলের তারকা গ্যালাক্সিতে এবার একদল নতুন নাম যুক্ত হয়েছে। টালিউডে 'স্পষ্টভাষী' ও ‘ঠোঁটকাটা’ বলে পরিচিত নায়িকা সায়নী ঘোষ তৃণমূলে যোগ দিলেন। বুধবার (২৪ ফেব্রুয়ারি) হুগলির সাহাগঞ্জের ডানলপ মাঠে মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়ের উপস্থিতিতে তৃণমূলের সভায় জোড়াফুল পতাকা হাতে তুলে নেন তিনি।

সাহাগঞ্জেই সায়নীর সঙ্গে জুন মাল্য, রাজ চক্রবর্তী, কাঞ্চন মল্লিক, মানালি দে, সুদেষ্ণা রায় এবং ক্রিকেটার মনোজ তিওয়ারি ও ফুটবলার সৌমিক দে জোড়াফুলের পতাকা হাতে তুলে নেন, যাদের অনেকের সঙ্গেই তৃণমূলের নৈকট্য ছিল। কলকাতা চলচ্চিত্র উৎসবের দায়িত্ব রাজের হাতে যাওয়ার পিছনেও তৃণমূলের সঙ্গে তার ‘নৈকট্য’ই অনুঘটকের কাজ করে। বাকিদের অনেককেই একাধিক বার সরকারি অনুষ্ঠানে তৃণমূলনেত্রীর পাশে দেখা গিয়েছে।

তৃণমূলে যোগ দিয়ে সায়নীর নিশানায় ছিলো বিজেপি। সায়নী সাহাগঞ্জের সভা থেকে বলেন, ‘দিদিকে ধন্যবাদ। এতো কম বয়সে, কম সময়ে আমাকে সুযোগ করে দেওয়ার জন্য। বাংলার মা-বোনদের সম্মান রক্ষা করতে হবে আমাদের। বাংলায় শান্তি এবং সম্প্রীতির পরিবেশ বজায় রাখতে হবে। বাংলার মাটি ১০ কোটি বঙ্গবাসীর হৃদয়ের টুকরো এবং হৃদস্পন্দন। শুধুমাত্র ভোটের আগে তা কারও পাখির চোখ হয়ে উঠতে পারে না। নিজেদের উপর বিশ্বাস রাখতে হবে আমাদের।’

বুধবার তৃণমূলে যোগ দিয়ে প্রথমেই ভাষণ দেন জুন মাল্য। তিনি বলেন, ‘এখন সবার মুখেই খেলা হবে স্লোগান শুনছি। আমি রাজনীতি বুঝি না। কিন্তু মানুষ বুঝি। নেতা বলতে একজনকেই বুঝি। তিনি আমাদের দিদি মমতা। বাংলার মানুষ বাংলার মেয়েকেই চান। আমি দিদির সঙ্গে আছি এবং আজীবন থাকবো।’

এতোদিন রাজনীতি থেকে সযত্নেই নিজেকে সরিয়ে রেখেছিলেন কাঞ্চন মল্লিক। তিনি বলেন, ‘আপনারা হয়তো জিজ্ঞেস করবেন, গত ১০ বছর কেনো চুপ করে ছিলাম? এতোদিন কী করছিলাম? আসলে আমি দেখছিলাম। সত্যি বলতে কী রাজনীতি বুঝি না আমি। অভিনয় করি। মানুষের মুখে হাসি ফোটানোই আমার কাজ। কারও চোখের জল দেখতে পারি না। বাংলার মানুষের মুখে হাসি ফোটানোর চেষ্টা করে চলেছেন মমতা বন্দ্যোপাধ্যায়। এতোদিন যারা বলতেন এই দলে একটাই পোস্ট বাকি সব ল্যাম্পপোস্ট, আজ তারাই সবুজ শিবির থেকে গিয়ে গেরুয়া বাগানে আলো দিচ্ছেন। আমাদের এই একটা পোস্টই যথেষ্ট। মানুষ বুঝিয়ে দেবেন। মমতা হ্যাট্রিক করবেন এবং ‘খেলা হবে’।’

কলকাতার রাজনীতির ময়দানে শিল্পীদের আনাগোনা কোনও নতুন ঘটনা নয়। তাপস পাল, দেবশ্রী রায়, শতাব্দী রায়, নয়না বন্দ্যোপাধ্যায়েরা বছরের পর বছর ধরে রাজনীতি করেছেন। তাদের পর রাজনীতিতে পা রেখেছেন দেব, মিমি চক্রবর্তী, নুসরাত জাহান, সোহম চক্রবর্তীর মতো নতুন প্রজন্মের শিল্পীরা। আবার তৃণমূলের হাত ধরে যাত্রা শুরু করলেও গেরুয়া শিবিরে চলে যেতেও দেখা গিয়েছে লকেট চট্টোপাধ্যায়, রুদ্রনীল ঘোষ এবং হিরণ চট্টোপাধ্যায়ের মতো মাঝারি মানের শিল্পীদের। তবে, মমতার কারিশমায় পশ্চিমবঙ্গে ভোটের আগে তৃণমূলের পক্ষে তারার মেলা রাজ্য রাজনীতিতে বিরাট চমক হয়ে দেখা দিয়েছে।