গান দিয়ে হিট যেসব তারকা



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবিঃ সংগৃহীত

ছবিঃ সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

রূপালি পর্দায় প্রায় সময়ই আবির্ভাব হয় নতুন নতুন সব তারকার। যাদের মধ্যে কেউ হয় সুপার-ডুপার হিট। আবার কেউ কেউ হয় সুপার ফ্লপ অর্থাৎ যাদের অভিনয় ক্যারিয়ার শুরুর আগেই শেষ হয়ে যায়।

এদিকে, একটি ছবির গল্পের দিকে নির্মাতারা যেমন নজর রাখেন ঠিক একইভাবে এতে ব্যবহৃত গানের দিকেও প্রাধান্য দিতেন তারা। মানে গানের জোরেই ছবি হিট হয়ে যেতো। ছবির সঙ্গে সঙ্গে হিট হতেন তারকারাও। এমন উদাহরণ প্রচুর রয়েছে বলিউডে।

আজ আমরা জেনে নেবো নব্বই দশকের বলিউড ইন্ডাস্ট্রির এমনই কয়েকজন তারকার নাম। যারা তাদের অভিনীত ছবির জন্য নয়, হিট হয়েছিলেন শুধুমাত্র তাতে ব্যবহৃত গানের জন্য। কিন্তু সেসব অভিনেতাকে একটি বা দুটি ছবিতে কাজ করার পর আর দেখা যায়নি। বলা যায় ইন্ডাস্ট্রি থেকে গায়েবই হয়ে গিয়েছেন তারা।

 

রোহিত ভাটিয়া
আজকের এই প্রতিবেদনে শুরুতেই কথা বলবো এমন একটি গানের যা আজও শ্রোতাদের হৃদয় ছুঁয়ে যায়। কিন্তু সেই গানটিতে যে অভিনেতা কাজ করেছিলেন তিনি এখন ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রি থেকে গায়েব। ৯০ দশকে মুক্তি পা্ওয়া ‘তুমহারে নাজরো মে হামনে দেখা’ এই গানটির কথা কে ভুলতে পারে। ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘কাল কি আওয়াজ’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো এই গান। এতে অভিনয় করেছিলেন রোহিত ভাটিয়া। একজন প্রোডাকশন ম্যানেজার ছিলেন তিনি। কিন্তু তার ভাগ্য এতোটাই খারাপ ছিলো যে, তিনি বহু ছবিতে চুক্তিবদ্ধ হওয়ার পর হয় সেই ছবির কাজ বন্ধ হয়ে গিয়েছে না হয় তার বদলে সেখানে অন্য কাউকে নিয়ে নেওয়া হয়েছে।

পমি দেব
তার অভিনীত হিট গানটি ছিলো ‘আজা বাহারো কে মালকা’। ৮০ বা ৯০ দশকে জন্মগ্রহণ করা কেউই এই গানের সঙ্গে অপরিচিত নয়। ১৯৯১ সালে মুক্তি পাওয়া ‘দাস্তুর’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো এই গানটি। এই গানের কারণে আজও পমি দেবকে চেনেন মানুষ। এমনকি সেসময় চার্টবাস্টার বক্সে দীর্ঘদিন সেরা দশে জায়গা ধরে রেখেছিলো গানটি।

পৃথিবী
এখন বলবো এমন একজন তারকার নাম যার অভিনীত ছবি 'দিল কা কেয়া কাসুর' একটি মিউজিক্যাল হিট ফিল্ম ছিলো। আর এই ছবির গানের সঙ্গে সঙ্গে এর অভিনেতাও হিট হয়ে গিয়েছিলেন। আর এই অভিনেতার নাম ছিল পৃথিবী। এতে তার বিপরীতে ছিলেন দিব্যা ভারতী। ছবিটি মুক্তি পেয়েছিলো ১৯৯২ সালে। ছবিতে ব্যবহৃত প্রতিটি গানই ছিল সুপার ডুপার হিট। সেসময় দিব্যা হিট তারকাদের একজন ছিলেন। তবে ফায়দা হয়েছিলো পৃথিবীর। দিব্যার পাশাপাশি হিট হয়েছিলেন তিনিও। এরপর তিনি বেশ কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেও ‘দিল কা কেয়া কাসুর’র জন্য বেশি পরিচিত ছিলেন তিনি।

অবিনাশ ওয়াধাওয়ান
আজকের এই প্রতিবেদনে যে কয়জন তারকার নাম উল্লেখ করবো তাদের মধ্যে এই অভিনেতাই হয়তো বেশি ছবিতে কাজ করেছেন। তবে তিনি পরিচিত পেয়েছিলেন দুই থেকে তিনটি ছবিতে কাজ করে। যেগুলো মিউজিক্যালি হিট ছিলো। তিনি হলেন- অবিনাশ ওয়াধাওয়ান। ‘আই মিলান কি রাত’ ছবির প্রতিটি গানই ব্লকবাস্টার হিট হয়েছিলো। এছাড়াও তার অভিনীত ‘মিরা কা মোহান’ও মিউজিক্যালি হিট ছিলো। এরপর বহু ছবিতে কাজ করলেও তেমন জনপ্রিয়তা পাননি। তবে চলচ্চিত্র ইন্ডাস্ট্রি ছেড়ে ছোটপর্দায় সক্রিয় হন তিনি।

সুরজ
তিনি হচ্ছেন এমন একজন তারকা যাকে শুধুমাত্র ‘যাতে হো পারদেশ পিয়া’ গানটির জন্যই চেনেন মানুষ। ১৯৯১ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জিনা তেরি গালি মে’ ছবিতে ব্যবহৃত হয়েছিলো এই গানটি। এই ছবিটি ছাড়াও আরও দুটি ছবিতে কাজ করেছিলেন সুরজ। কিন্তু দুটিই ফ্লপ হয়েছিলো।

আয়ুব খান
বলিউডের এই অভিনেতার অভিনীত ‘সালামী’ ছবিটি অ্যাকশন ফিল্ম হলেও এটি হিট হয়েছিলো এর গানগুলোর জন্য। এরপর বহু ছবিতে কাজ করলেও তেমন জনপ্রিয়তা পাননি তিনি। পরবর্তীতে টিভিতে অনেক কাজ করলেও এই ছবির গানগুলোর জন্যই বেশি পরিচিতি ছিলেন আয়ুব খান।

নকুল কাপুর
‘তুমসে আচ্ছা কৌন হ্যায়’ এই ছবিটি শুধু মিউজিক্যালি হিট ছিলো না। চকলেক লুক এবং ছবিতে নকুল কাপুরের অভিনয়ের প্রশংসার করেছিলো সকলে। কিন্তু শোনা যায়, বলিউড ইন্ডাস্ট্রিতে চলা কিছু পলিটিক্সের কারণে পরবর্তীতে তাকে আর দেখা যায়নি ছবিতে। বর্তমানে তিনি কানাডাতে ইয়োগা প্রশিক্ষকের কাজ করছেন। 

রনিত রয়
চকলেট হিরোদের কথা আসলে মাথায় চলে আসে রনিত রয়ের নামটিও। বর্তমানে তিনি তার অভিনয় দক্ষতার পরিচয় নানাভাবে দিলেও, কিন্তু ১৯৯২ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত ‘জান তেরে নাম’ ছবিটি তাকে রাতারাতি তারকা বানিয়ে দিয়েছিলো। এই মিউজিক্যাল ব্লকবাস্টার ছবিটির গানগুলো ভেঙে দিয়েছিলো সকল রেকর্ড। এতো জনপ্রিয়তা পাওয়ার পরও এর পরবর্তী ছবিগুলোতে পার্শ্ব চরিত্রে অভিনয় করতে হয়েছিলো তাকে। আর একটা সময় তার কাছে কাজ আসাই বন্ধ হয়ে গিয়েছিলো। এরপর সিকিউরিটি এজেন্সি চালু করে বলিউড তারকাদের নিরাপত্তা দেওয়ার কাজ শুরু করেন রনিত।

কমল সাদানাহ
১৯৯৩ ‘রঙ’ একটি মিউজিক্যাল ব্লকবাস্টার ছবি ছিলো। যেখানে দিব্যা ভারতী ও জিতেন্দ্র কাজ করলেও কয়েকটি গানে লিপ সিং করার সুযোগ পেয়েছিলেন কমল সাদানাহ। আর এই ছবিতে ব্যবহৃত ‘তুঝে না দেখু তো চ্যান’গানটির জন্য বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন কমল। ‘বেখুদি’ সিনেমায় বলিউড অভিনেত্রী কাজলের বিপরীতে অভিনয়ের মধ্য দিয়ে অভিষেক হয়েছিলো কমলের। আর এই ছবির একটি গানের জন্যও বেশ জনপ্রিয়তা পেয়েছিলেন তিনি। এরপর কয়েকটি ছবিতে কাজ করলেও তেমনভাবে সফলতা পাননি তিনি। যার ফল স্বরূপ তিনিও হারিয়ে যান বলিউড ইন্ডাস্ট্রি থেকে।

সিদ্ধার্থ
১৯৯৩ সালে মুক্তিপ্রাপ্ত অ্যাকশন-থ্রিলার ‘বাজিগর’ ছবিটিও মিউজিক্যাল হিট ছিলো। এতে অভিনয়ের পর শাহরুখ খান কিং খান হওয়ার দিকে এগিয়ে যেতে থাকেন। কিন্তু এই ছবিতে তার সঙ্গে দেখা গিয়েছিলো আরও একজন অভিনেতাকে। তিনি হলেন- সিদ্ধার্থ। তিনি ‘ছুপানা ভি নেহি আতা’ গানটিতে অভিনয় করেছিলেন। এই গানের জনপ্রিয়তা এখনও রয়েছে অটুট। তবে ‘বাজিগর’-এ শাহরুখের তুলনায় সিদ্ধার্থের চরিত্রটি একটু নাজুক ছিলো। তাই সেভাবে দর্শকদের মনে ছাপ ফেলতে পারেননি তিনি। তবে এই একটি গান তাকে বেশ পরিচিতি এনে দিয়েছিলো।