রেহানা মরিয়ম নূর: নারীবাদ নয়, ব্যক্তিগত ইগোর বহিঃপ্রকাশ



শুভ্রা গোস্বামী, অতিথি লেখক
অলংকরণ ও সম্পাদনা: রুদ্র হক

অলংকরণ ও সম্পাদনা: রুদ্র হক

  • Font increase
  • Font Decrease

বর্তমান সময়ে বাংলাদেশের সিনেমা অঙ্গন কাঁপছে 'রেহানা মারিয়াম নূর' জ্বরে। কান উৎসব থেকেই এই সিনেমা নিয়ে বাংলাদেশের দর্শকের মধ্যে শুরু হয়েছে নানান জল্পনা কল্পনা। অবশেষে বাংলাদেশের দর্শক এই সিনেমাটি দেখার সুযোগ পেয়েছে। রিলিজের পর থেকেই নানান দর্শকের ছিল নানান ধরনের অভিমত।

কারো কাছে এই সিনেমা নারীবাদের প্রতীক, কেউ দেখছেন প্রচণ্ড সাহসী সিনেমা হিসেবে, কেউ আবার এই সিনেমার মূল চরিত্র আজমেরী হক বাঁধনের ব্যক্তিগত জীবনের লড়াই এর সাথে এই সিনেমাকে গুলিয়ে ফেলছেন। কেউ বলছেন টেকনিক্যালি খুবই রিচ এই সিনেমা আবার কারো কাছে ক্যামেরার কাজ বিরক্তিকর মনে হয়েছে। সম্প্রতি দেখে এলাম রেহানা মারিয়াম নূর। নানান দেশের নানান ভাষার চলচ্চিত্র দেখার সুবাদে আমার মনে হয়েছে নিজের দেশের এই সিনেমা নিয়ে যে আলোচনাগুলো হচ্ছে সেগুলো আসলে অনেকাংশে অতিরঞ্জিত।  

প্রথমত বাংলাদেশের নব্য নারীবাদীরা মনে করছেন, এটা প্রচন্ড রকমের নারীবাদী সিনেমা, এই সিনেমায় নাকি পুরুষতান্ত্রিক সমাজের মুখে ঝামা ঘষে দেয়া হয়েছে। বাংলাদেশে নারীবাদ চর্চার এখন থার্ড ওয়েভ চলে। এবং এই থার্ড ওয়েভে এসে নারীবাদীরা নারীবাদ বিষয়টিকে গুলিয়ে ফেলছেন। যেমনটা কিছুদিন আগে নায়িকা পরিমনি ইস্যুতেও আমরা দেখেছি। অন্যায়ের প্রতিবাদ করলেই সেটা নারীবাদ হয়ে যায় না। এমনকি পুরুষের প্রতি ঘৃণা, কিংবা কারো ব্যক্তিগত জেদকেও নারীবাদ বলা যায় না। নারীবাদ একটা দীর্ঘস্থায়ী আন্দোলন।

নারীবাদী সিনেমার উৎকৃষ্ট  উদাহরণ আমাদের পাশের দেশেই আছে। আপনারা ‘পিংক’ কিংবা ‘থাপ্পড়’ সিনেমাটা দেখে থাকলে বুঝবেন যেখানে সরাসরি নারীবাদকে প্রমোট করা হয়েছে। ‘থাপ্পড়’ সিনেমায় মূল চরিত্রে যিনি ছিলেন তার জেদ আর রেহানা মারিয়াম নূর সিনেমার মূল চরিত্রের জেদের মধ্যে বিস্তর পার্থক্য আছে।

কান চলচ্চিত্র উৎসবে ওয়ার্ল্ড প্রিমিয়ার হয় চলচ্চিত্রটির

রেহানা মারিয়াম নূর-এ আমরা যেটা দেখি সেটা স্পষ্টত ব্যক্তিগত ইগোর বহিঃপ্রকাশ। চরিত্রটি শুরু থেকেই এংগজাইটিতে ভুগত এবং তার ইগো এতটাই বেশি যে নিজের সন্তানও সেই ইগোর হাত থেকে রক্ষা পায় নি। অপরদিকে ‘থাপ্পড়’ সিনেমায় সাধসসিধা এক গৃহবধূর লড়াই আমরা দেখি। যাকে তার স্বামী কোন দোষ ছাড়াই থাপ্পড় মেরেছিল এবং সে সেটা মেনে নিতে পারেনি তাই পরিবার ,সমাজের সাথে যুদ্ধ করে সে সম্পর্ক থেকে বেরিয়ে এসেছিল। কাজেই মানসিক ভাবে অস্থির, একজন ওসিডি পেশেন্টকে শুধুমাত্র অন্যায়ের প্রতিবাদ করার কারনে নারীবাদী বানিয়ে দিলে ঝামেলা। আমরা যেটা সচরাচর করে থাকি।

হ্যাঁ চরিত্রটি অসম্ভব সাহসী, বাস্তববাদী তবে সে নারীবাদী নয়। নারীবাদী হলে ওই শিক্ষককে শাস্তি দেবার জন্য এনির সাথে ঘটে যাওয়া ঘটনা নিজের বলে মিথ্যা অভিযোগ করতেন না বরং ঠান্ডা মাথায় ভিন্ন উপায়ে ওই শিক্ষকের শাস্তি নিশ্চিত করতেন। এখানে শুধুমাত্র নিজের জেদ, ব্যাক্তিগত ট্রমা আর ইগোকে স্যাটিসফাই করেছেন তিনি। নিজের মেয়ের ক্ষেত্রেও কথাটা সত্য। তার মেয়েকে তিনি পুরো ঘটনা না বলে, না বুঝিয়ে শুধু নিজের ইগোকে জিতিয়ে দিতে জঘন্য খারাপ ব্যবহার করেছেন। যাকে নব্য নারীবাদীদের নারীবাদ বলে মনে হতেই পারে তবে নারীবাদ এতটা স্থুল নয়।

এবার টেকনিক্যাল জায়গায় যদি আসি, তবে দেখব যে ক্যামেরার অতিরিক্ত নড়াচড়া দর্শকের মধ্যে বিরক্তি তৈরি করেছে। অনেকেই বলছেন দর্শককে অস্বস্তিতে ফেলতে ডিরেক্টর এটা ইচ্ছে করেই করেছেন। সেটা মানছি। মাথায় আপনি বাড়ি মেরে বুঝাতেই পারেন যে এই সিনেমা আরাম পাবার জন্য নয় কিন্তু চোখের কথাও তো ভাবতে হবে স্যার।

এশিয়া প্যাসিফিক স্ক্রিন অ্যাওয়ার্ডে দু’টি পুরস্কার জেতে চলচ্চিত্রটি

বার্টল ব্রেখট একজন মার্ক্সবাদী নাট্যকার ছিলেন। তিনি তার প্রযোজনাগুলোতে এলিয়েনেশন থিওরি ব্যবহার করতেন। অর্থাৎ কোন ইমোশনাল মুহূর্তে দর্শকের মোহ ভেঙ্গে দিয়ে তাকে বাস্তবতায় ফিরিয়ে আনা। তিনি মনে করতেন দর্শক নিষ্ক্রিয় নয়। তাদেরকে ভাবাতে পারলেই থিয়েটার সফল। সেই থিওরি অনুযায়ী চিন্তা করলেও আমরা এই সিনেমায় মোহ ভঙ্গের কিছু বিষয় দেখতে পাই, তবে সেটা দর্শককে ভাবানোর চাইতে বিরক্তিতে ফেলেছে বেশি। আমি নিজেই কিছুক্ষণ চোখ বন্ধ করে বসে ছিলাম কারন ব্যথা করছিল। মাথার আরাম চাইছিও না কারন বিষয়বস্তু আরামের নয় কিন্তু চোখের আরাম ভীষণ প্রয়োজন ছিল। তবে ফলো শট, কিছু জায়গায় ফোকাস ডিফোকাসের খেলাগুলো বেশ ভালো লেগেছে।

কালার গ্রেডেশন নিয়েও অনেকের নানান মতামত দেখা গেছে। এ ধরনের কালারে বাংলাদেশে খুব একটা সিনেমা দেখা যায়নি। বিষয়বস্তুর সাথে সিনেমার কালার আমার কাছে বেশ সামঞ্জস্যপূর্নই মনে হয়েছে। তবে লাইটের খেলা আরেকটু খেলতে পারতেন ডিরেক্টর। কিছু কিছু জায়গায় অযথা শ্যাডো চলে এসেছে যেটা সিনের সৌন্দর্য নষ্ট করেছে।

অভিনয় নিয়ে কোন কথা নাই। বাঁধনের এটা এখনো পর্যন্ত বেস্ট কাজ। বাকি সবাই বেশ ভালো অভিনয় করেছেন। আরেফিন চরিত্রের ডায়লয় থ্রোয়িং এ শুরুর দিকে ঝমেলা মনে হলেও পরবর্তীতে সেটাকেই ন্যাচারাল মনে হয়েছে। ইমু চরিত্রে বাচ্চাটি বেশ ভালো অভিনয় করেছে।

এই সিনেমায় মিউজিকের তেমন ব্যবহার নাই। তবে আবহসংগীত বেশ ভালো ছিল। কিছু জায়গায় আবার বেশি ও মনে হয়েছে যেমন দরজা খোলা বন্ধ করার শব্দ মাঝে মাঝেই মিলছিল না। তারপরও ফলি নিয়ে বেশ খেটেছেন রেহানা মারিয়াম টিম।

ডায়লগ খুবই পরিমিত পরিমানে ছিল। তবে কিছু জায়গায় চরিত্র কি বোঝাতে চাচ্ছে তা ভালোভাবে বোঝা যায়নি। যেমন রেহানা যতবার ফোনে কথা বলেছে ততবারই ডায়লগ শুনে পুরো পরিস্থিতি কল্পনা করতে হয়েছে কারন এক্সপ্রেশন যতটা বোল্ড ছিল ডায়লগ ততটা ছিল না।

আমার কাছে মনে হয়েছে বাংলাদেশের সিনেমা হিসেবে যথেষ্ট ভালো সিনেমা। তবে সিনেমার ভাষা কম মনে হয়েছে সেটা, ডায়লগ, কালার, সিনেমাটোগ্রাফি সব জায়গাতেই। ক্লোজ শটের সংখ্যা খুব বেশি ছিল তাই কিছু কিছু জায়গায় নাটক বা টেলিফিল্মের মতন লেগেছে। কয়েকদিন আগে ‘ধামাকা’ নামে নেটফ্লিক্সে একটা সিনেমা দেখলাম যেখানে একটা স্টুডিও তে পুরো সিনেমা শেষ হয় অথচ শট গুলো কি চমৎকার।

কান উৎসবে প্রযোজক, নির্মাতা, ও অভিনেত্রী বাঁধন

বিষয়বস্তু মানেই সিনেমা নয়। তাহলে তো ক্যামেরা লাগতোই না বই পড়েই সিনেমার স্বাদ নেয়া যেত। আসলে বাংলাদেশে এই ধরনের বিষয়বস্তু নিয়ে সিনেমা হয় না বললেই চলে তাই দর্শক ওভাররেটেড করে ফেলেছেন।

অপরদিকে কান ফেস্টিভ্যাল একটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয়।  কানে না গেলে এই সিনেমা বাংলেদেশের কতজন দর্শক দেখতেন তা নিয়ে আমার যথেষ্ট সন্দেহ আছে। তবে দিনশেষে মন্দের ভালো সাদ কে অভিনন্দন এইরকম বিষয়বস্তু নিয়ে সিনেমার গল্প ভাবার জন্য।

 

 

আরও পড়ুন
‘রেহানা মরিয়ম নূর’র প্রশংসায় পঞ্চমুখ অনুরাগ কাশ্যপ
অ্যাপসায় সেরা ‘রেহানা মরিয়ম নূর’ ও বাঁধন
‘রেহানা মরিয়ম নূর’ সমালোচনায় তসলিমা, প্রতিবাদী প্রিন্স
এর চাইতেও আরও ভালো কিছু হয়তো করতে পারতাম: সাদ
কানের লালগালিচায় এক টুকরো বাংলাদেশ

অস্কারে লড়বে ‘দ্য গ্রোভ’, গাজী রাকায়েতের সেই কথাই সত্য হতে চলেছে?



বিনোদন রিপোর্ট, বার্তা ২৪.কম
গাজী রাকায়েত

গাজী রাকায়েত

  • Font increase
  • Font Decrease

অস্কারে চলচ্চিত্র জমা দিয়েই আত্মবিশ্বাসী নির্মাতা গাজী রাকায়েত বার্তা ২৪.কমকে বলেছিলেন, “নব্বই শতাংশ নিশ্চিত হয়েছি চলচ্চিত্রটি প্রতিযোগীতার জন্য মনোনিত হবে।”

সে কথাই কি সত্যি হতে চলেছে?

ছবিটি অস্কার রিমাইন্ডার লিস্টে জায়গা করে নিয়েছে। অ্যাকাডেমি অব মোশন পিকচার আর্টস অ্যান্ড সায়েন্সেস প্রতিযোগিতার জন্য ২৭৬টি ছবির নাম ঘোষণা করেছে। তার মধ্যে স্থান পেয়েছে ‘দ্য গ্রেভ’।

বিষয়টি নিয়ে গাজী রাকায়েত বলেন, “ছবিটি ভোটাভুটির জন্য নির্বাচিত হয়েছে। খুব ভালো লাগছে এই ভেবে যে সারাবিশ্বে অস্কারের ১০ হাজার ভোটার যারা শিল্পী ও কলাকুশলী। তাদের কাছে আমাদের ছবিটা পৌঁছে যাবে। যারা ম্যাক্সিমাম ভোট পাবে তারা পুরস্কারের জন্য মূল পর্বে অংশ নেবে। আমার জানা মতে, বাংলাদেশ থেকে এর আগে এতটা উঁচুতে কোনও ছবি যায়নি।”


গাজী রাকায়েত জানান, ভোটাভুটির মাধ্যমে সেরা ছবির জন্য ১০টিসহ প্রায় ২০টি ক্যাটাগরিতে ৫টি করে সিনেমা মনোনয়ন পাবে। অর্থাৎ রিমাইন্ডার লিস্টের ২৭৬টি ছবি থেকে প্রায় ১২০টি ছবি চূড়ান্ত মঞ্চে দেখা যাবে।

চলতি বছরের ২৭ মার্চ অনুষ্ঠিত হবে ৯৪তম অস্কারের অ্যাওয়ার্ড প্রদান অনুষ্ঠান। যুক্তরাষ্ট্রের লস অ্যাঞ্জেলসে ক্যালিফোর্নিয়ার ডলবি থিয়েটারে মোট ২৪টি শাখায় দেওয়া হবে পুরস্কারগুলো।

বার্তা ২৪.কমকে দেয়া সাক্ষাৎকারে গাজী রাকায়েত বলেছিলেন, “তাদের সাথে আমার এখন পর্যন্ত যে ধরনের মেইল আদান প্রদান হয়েছে তাতে আমি নব্বই শতাংশ নিশ্চিত হয়েছি চলচ্চিত্রটি প্রতিযোগীতার জন্য মনোনিত হবে। শর্টলিস্ট এলে ১০০ শতাংশ নিশ্চিত হওয়া যাবে। তবে জেনারেল ক্যাটাগরিতে এভাবে বাংলাদেশের কোনো চলচ্চিত্র আগে জমা পড়েনি। আসলে এভাবে ছবি জমা দেওয়া সম্ভব এটাই অনেকে জানেনই না।”

শনিবার বার্তা ২৪.কমকে প্রতিক্রিয়ায় গাজী রাকাযেত বলেন, “খুব ভালো একটি সময় আমরা পার করছি। যে স্বপ্ন এবং লক্ষ্য নিয়ে আমরা পরিশ্রম করেছি নির্মাণেরও তিন বছর আগ থেকে, সেই স্বপ্ন পূরণের কাছাকাছি যে যেতে পেরেছি তাতেই আমরা অনেক খুশি। স্বপ্নটি হয়তো গতকালই মরে যেতে পারতো, এই সংবাদে স্বপ্নটা আরেকটু দীর্ঘায়িত হল।”

এর আগে বহুবার অস্কার পুরস্কারের বিদেশি ভাষার ছবির জন্য সিনেমা পাঠানো হরেও তারেক মাসুদের ‘মাটির ময়না’ ছাড়া মনোনয়ন পায়নি কোনোটিই। এবার বাংলাদেশিদের জন্য সুখবর বয়ে আনলো গাজী রাকায়েতের ‘গোর’ বা ‘দ্য গ্রেভ’।

পড়ুন সেই সাক্ষাৎকারটি
‘নব্বই শতাংশ নিশ্চিত ‘গোর’ অস্কারে মূল প্রতিযোগীতার জন্য মনোনীত হবে’

 

এক নজরে গোর-দ্য গ্রেভ

গোর-দ্য গ্রেভ
পরিচালক: গাজী রাকায়েত
প্রযোজক: ফরিদুর রেজা সাগর[
চিত্রনাট্যকার: গাজী রাকায়েত
কাহিনিকার: গাজী রাকায়েত
উৎস: গোর (নাটক), ১৯৯৮

শ্রেষ্ঠাংশে
গাজী রাকায়েত
মৌসুমী হামিদ
দিলারা জামান
মামুনুর রশীদ
আশিউল ইসলাম
সুষমা সরকার
এ কে আজাদ সেতু
দীপান্বিতা মার্টিন
ওমর ফারুক
শামীমা তুষ্টি
অর্থা (শিশু শিল্পী)
এসএম মহসীন
গাজী আমাতুন নূর

সুরকার:  মোঃ ফজলে কাদের স্বাধীন
চিত্রগ্রাহক: পঙ্কজ পালিত, নিয়াজ মাহবুব
সম্পাদক: মোহাম্মদ শরিফুল ইসলাম রাসেল
প্রযোজনা কোম্পানি: ইমপ্রেস টেলিফিল্ম
পরিবেশক: ইমপ্রেস টেলিফিল্ম (বাংলাদেশ)
ইলিয়ট ক্যানবার (যুক্তরাষ্ট্র)
মুক্তি: ২৫ ডিসেম্বর ২০২০ (বাংলাদেশ), ১৪ মে ২০২১ (লস এঞ্জেলেস)
দৈর্ঘ্য ১৩২ মিনিট

;

‘মায়া মাখা’ গানে আদর-বুবলী



বিনোদন ডেস্ক, বার্তা ২৪.কম
গানের দৃশ্য

গানের দৃশ্য

  • Font increase
  • Font Decrease

জাতীয় চলচ্চিত্র পুরস্কারপ্রাপ্ত চলচ্চিত্র পরিচালক সৈকত নাসির নির্মাণ করেছেন নতুন চলচ্চিত্র ‘তালাশ’। আগামী ৪ ফেব্রুয়ারি মুক্তি পেতে যাওয়া এই ছবির প্রকাশ পেল এর প্রথম গান ‘মায়া মাখা’ ।

টাইগার মিডিয়ার ইউটিউব চ্যানেলে প্রকাশিত হয় গানটি। গানের গল্পে উঠে এসেছে চলচ্চিত্রের প্রধান দুই চরিত্র আদর আজাদ ও শবনম বুবলীর কষ্ট ও যন্ত্রণার গল্প।

‘তালাশ’ ছবির কাহিনি গড়ে উঠেছে এক দল গান পাগলাটে ছেলে-মেয়ের জীবনের গল্প নিয়ে। ছবিটিতে সুমন চরিত্রে অভিনয় করেছেন আদর আজাদ।

তিনি বলেন, “রোমান্টিক থ্রিলার ঘরানার গল্পে ছবিটি নির্মিত হয়েছে। কাজটির জন্য অনেক পরিশ্রম করেছি। চেষ্টা করেছি নিজের সেরাটি দিতে। দর্শক প্রেক্ষাগৃহে গিয়ে সিনেমাটি দেখলে বুঝতে পারবেন৷ ভালো একটি সিনেমা দিয়ে বড় পর্দায় অভিষেক হতে যাচ্ছে ভেবে খুবই ভালো লাগছে।”

ছবিটির কাহিনি পরিচালকের সঙ্গে যৌথভাবে লিখেছেন আসাদ জামান।

গত বছর সেপ্টেম্বর সিনেমাটির শুটিং শুরু হয়। ঢাকা, কক্সবাজার, বিএফডিসি টানা শুটিংয়ের মাধ্যমে কাজ শেষ হয়।

সিনেমাটিতে গান রয়েছে পাঁচটি। গানগুলো লিখেছেন প্রসেনজিৎ মণ্ডল, রওনক একরাম, সাদাত হোসেন। কণ্ঠ দিয়েছেন ইমরান মাহমুদুল, দিলশাদ নাহার কনা, এ আর রাব্বী, দ্বীন ইসলাম শাহরুখ, ঐশী, আরিফ রহমান জয়, মেজবাহ বাপ্পী।

আদর ও বুবলি ছাড়া ছবিটিতে আরও অভিনয় করেছেন আসিফ আহসান খান, মাসুম বাশার, মিলি বাশার, যোজন মাহমুদ প্রমুখ। ক্লিওপেট্রা ফিল্মসের ব্যানারে নির্মিত হয়েছে ‘তালাশ’।

দেশ বিদেশে পরিবেশনা করবে দ্য অভি কথাচিত্র।

;

করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হলেন পুর্ণিমা



বিনোদন রিপোর্ট, বার্তা২৪.কম
পূর্ণিমা

পূর্ণিমা

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনা ভাইরাসে আক্রান্তের মিছিলে তারকাদের সংখ্যাও বাড়ছে প্রতিদিন। এবার করোনা আক্রান্ত হলেন চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা। তথ্যটি বার্তা ২৪.কমকে নিশ্চিত করেছেন পূর্ণিমা নিজেই। তিনি জানান, সম্প্রতি উপসর্গ টের পাওয়ায় করোনা পরীক্ষা করান। তাতে আজ (২২ জানুয়ারি) ফলাফল পজেটিভ এসেছে।

বর্তমানে নিজ ঘরেই আইসোলেশনে আছেন পূর্ণিমা। বললেন, “এখন পূর্ণ বিশ্রাম। চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ি চলছি। সবার কাছে দোয়া কামনা রইল। সবাই সাবধানে থাকবেন, সচেতন থাকবেন।”

চিত্রনায়িকা পূর্ণিমা বর্তমানে ‘টফি স্টার সার্চ’ নামের ট্যালেন্ট হান্ট শোর বিচারক হিসেবে কাজ করছেন। তার মুক্তিপ্রতিক্ষিত চলচ্চিত্র ‘গাঙচিল’।

 

;

হলদে পরীর বিয়ে আজ, বর সেই শরিফুল রাজ



বিনোদন রিপোর্ট, বার্তা ২৪.কম
রাজ ও পরী

রাজ ও পরী

  • Font increase
  • Font Decrease

গিয়াস উদ্দিন সেলিমের মুক্তি প্রতীক্ষিত ‘গুণিন’ চলচ্চিত্রে শুটিং করতে গিয়ে তাদের সখ্যতা ও প্রেম। তারপর লুকিয়ে গত বছরের ১৭ অক্টোবর বিয়ে হয় অভিনেতা শরিফুল রাজ ও পরীমনির। তারপর এল সন্তান ধারণের খবর। ফের ‘টক অব দ্য কান্ট্রি’ পরীমনি।

তারপর পারিবারিকভাবে এই প্রথম আনুষ্ঠানিক আয়োজন। গতকাল শুক্রবার (২২ জানুয়ারি) দুই পরিবারের কাছের সদস্যদের উপস্থিতিতে ঘরোয়া আয়োজনে হয় পরী ও রাজের গায়ে হলুদ। বিয়ের অনুষ্ঠান হতে যাচ্ছে আজ। তার আগে গায়ে হলুদের এক ঝলক দেখা যাক।

মেহেদী হাতে রাজ ও পরী

 

গায়ে হলুদ মাখা রাজ-পরী 

পরীর অভিবাবক হিসেবে ছিলেন নির্মাতা গিয়াস উদ্দিন সেলিম ও চয়নিকা চৌধুরী

উপস্থিত ছিলেন অভিনেতা ডিএ তায়েব

গর্ভের সন্তান কি কান পেতে শুনছেন পরী ও রাজের আনন্দোৎসব?

ভালোবাসার বন্ধন দেখিয়ে দিলেন রাজ

 

 

 

 

 

;