শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা নিয়ে হট্টগোল

স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তাটোয়েন্টিফোর.কম
শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ,ছবি: সংগৃহীত

শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা ,ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আগামী ২৫ অক্টোবর এফডিসিতে অনুষ্ঠিত হতে যাচ্ছে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতির ২০১৯-২০ মেয়াদের নির্বাচন। এর আগে শুক্রবার (৪ অক্টোবর) শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হয়ে গেল এফডিসির জহির রায়হান কালার ল্যাব চত্বরে। নিয়ম অনুসারে প্রতিবছর বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম অনুষ্ঠিত হওয়ার কথা থাকলেও দুই বছরের বেশি সময় ক্ষমতায় থাকার পর মিশা-জায়েদ কমিটির এটাই ছিল প্রথম ও একমাত্র বার্ষিক সাধারণ সভা বা এজিএম।

জানা গেছে, শুক্রবারের বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত ছিলেন প্রায় তিন শতাধিক সাধারণ সদস্য। বর্তমান কমিটির সভাপতি মিশা সওদাগর, সাধারণ সম্পাদক জায়েদ খান সহ উপস্থিত ছিলেন সহসভাপতি রিয়াজ, কার্যনির্বাহী কমিটির সদস্য অঞ্জনা, নাসরিন, জেসমিনসহ আরও কয়েকজন।

শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় উপস্থিত এক সূত্রে জানা গেছে, মিশা-জায়েদ কমিটির এই এজিএম বিতর্কিত ভাবে শেষ হয়েছে। শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভায় সভাপতি ও সাধারণ সম্পাদকের বাইরে কাউকে কথা বলার সুযোগ না নেওয়ার অভিযোগ উঠেছে। সহসভাপতি রিয়াজ আধা ঘণ্টা কথা বলার চেষ্টা করে ব্যর্থ হয়ে রাগে ক্ষোভে এজিএম থেকে ওয়াক আউট করে চলে যান।

এছাড়া অভিযোগ উঠেছে, আজকের শিল্পী সমিতির বার্ষিক সাধারণ সভা হয়েছে মূলত এবারের নির্বাচনের জন্য মিশা-জায়েদের প্যানেলের সদস্যদের পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য। এজন্য হুট করে এ আয়োজন।

এ প্রসঙ্গে রিয়াজ গণমাধ্যমকে বলেন, ‘এজিএম করার কথা প্রতি বছর। সেটা হয়নি। দুই বছর শেষে হচ্ছে সেখানেও যদি কথা বলার সুযোগ না থাকে তাহলে তো মেনে নেয়া যায় না। সভাপতি আর সেক্রেটারির বাইরে এজিএমে আর কোনো পদের লোক কথা বলতে পারবেন না এমন গঠনতন্ত্রের কথা আমার জানা নেই।’

রিয়াজ

আধা ঘণ্টা চেষ্টা করে আপনি কি বলতে চেয়েছিলেন এমন প্রশ্নে রিয়াজ গণমাধ্যমকে জানিয়েছেন, ‘কমিটির কোষাধ্যক্ষ যে আয়-ব্যয়ের হিসাব দিয়েছেন, তা আমার কাছে পরিষ্কার না। দুই বছরে অনুদান হিসেবে বাংলাদেশ চলচ্চিত্র শিল্পী সমিতি সংগ্রহ করেছে ৫৮ লাখ ৭০ হাজার ৯৬ টাকা। শিল্পীদের জন্য খরচ হয়েছে ২ লাখ ৯১ হাজার ৩০০ টাকা। বাকী টাকা কেন ফান্ডে ফেলে রাখা হয়েছে? তাছাড়া ভোটার তালিকা নিয়েও কথা বলার ছিলো। নতুন ভোটার তালিকায় অনেককে বাদ দেওয়া হয়েছে।’

যদিও এসব অভিযোগ ভিত্তিহীন দাবি করে সভাপতি মিশা সওদাগর গণমাধ্যমকে বলেন, এজিএম হলো যারা কমিটিতে থাকে তাদের দায়-দায়িত্ব নিয়ে কৈফিয়তের অনুষ্ঠান। সাধারণ সদস্যদের কাছে এদিন কমিটি জবাবদিহি করবে। সভাপতি ও সেক্রেটারি সব প্রশ্ন বা অভিযোগের উত্তর দেবেন। এখানে সবার কথা বলার কিছু নেই৷ এমন কোনো নিয়মও নেই। আমরা প্রথা ভেঙ্গে কমিটির লোককে হাইলাইট না করে আমাদের যারা সিনিয়র তাদের সামনে বসতে দিয়েছি। এজিএমের স্বাগত বক্তব্য দেয়ার সুযোগ দিয়েছি নির্বাচনে সভাপতি প্রার্থী প্রিয়দর্শিনী মৌসুমীকে। তিনি এই সম্মান পেয়ে আবেগে আপ্লুত হয়েছেন। আজকে প্রায় তিন শতাধিক সদস্যদের হাজির করেছি। আমরা প্রথম এজিএম করতে পারিনি সেজন্য সবার কাছে হাতজোড় ক্ষমা চেয়েছি।

২০১৭ সালের ৫ মে অনুষ্ঠিত নির্বাচনের মাধ্যমে সংখ্যাগরিষ্ঠতা নিয়ে ক্ষমতায় আসেন মিশা সওদাগর ও জায়েদ খান। আসন্ন ২৫ অক্টোবর নির্বাচনেও মিশা-জায়েদ এক হয়ে প্যানেল দিয়েছেন।

আপনার মতামত লিখুন :