শিক্ষা দিতে আসিনি, বিনোদন দিতে এসেছি: অমি

বিনোদন ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
কাজল আরেফিন অমি, ছবি: সংগৃহীত

কাজল আরেফিন অমি, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

দেশের অন্যতম জনপ্রিয় ধারাবাহিক নাটক ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র পরিচালক কাজল আরেফিন অমি। তার এই ধারাবাহিকটির যেমন জনপ্রিয়তা আছে তেমনি আছে বেশ কিছু বিষয়ে সমালোচনা। সম্প্রতি বার্তা২৪.কমের সঙ্গে এক দীর্ঘ আলাপচারিতায় অংশ নিয়েছেন অমি। সেই আলাপচারিতায় প্রথম পর্বে থাকছে ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ বির্তক ও তার সাম্প্রতিক কাজ। অমির সঙ্গে কথা বলেছেন ইসমাইল উদ্দীন সাকিব ও জাহিদুল হক আসিফ।

বার্তা২৪.কম: ঘর বন্দী সময়ে আপনার সময় কিভাবে কাটছে?

অমি: ফ্যামিলি, ঘুম, খাওয়া-দাওয়া, মুভি দেখা, আর বিভিন্ন গল্প মাথায় আসে; তা লিখে রাখি।

বার্তা২৪.কম: ঘরে বসে অ্যাকশান কার্ট বলার অভিজ্ঞতা কেমন?

অমি: আমি ঘরে বসে দুটো কাজ করেছি ‘ওয়েটিং’ অন্যটি ‘ব্যাচেলর কোয়ারেন্টিন’। প্রথম কাজটা আমার সবচেয়ে বেশি চ্যালেঞ্জিং ছিল। কারণ আমি নিজেও জানতাম না; আমার কি কি করতে হবে, কি কি করা উচিৎ। তাই প্রথম কাজটা করে আমি অনেক কিছু শিখেছি, ফলে দ্বিতীয় কাজটা অনেক সহজ হয়েছিল। দ্বিতীয় কাজটিতে চ্যালেঞ্জিং ছিল ‘ব্যাচেলর কোয়ারেন্টিন’ স্ক্রিপ্টটেড শুটিং করা। কারণ আমি স্ত্রিপ্টটেড শুটিং করি না।

 কাজল আরেফিন অমি, ছবি: সংগৃহীত

বার্তা২৪.কম: ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ সবচেয়ে বেশি জনপ্রিয়তা দিয়েছে আপনাকে। এটাই কি আপনার সেরা কাজ?

অমি: আমি প্রত্যেকটি কাজেই সমান শ্রম দেই। এর মধ্যে কিছু কাজ মানুষের ভালো লেগে যায় আর কিছু কাজ হয়তো লাগেনা। যে কাজটা মানুষের ভালো লাগে না সেটাও আমার কাছে আপন। আমার দৃষ্টি থেকে আমার প্রত্যেকটা কাজই আমার কাছে আপন।

বার্তা২৪.কম: আপনার ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নিয়ে অভিযোগও কম নয়...

অমি: আমি নাটকের শুরুতে একটা ডিসক্লাইমার দিয়ে দেই। এই সিরিয়ালটা ১৮+ কিছু ডায়ালগ, কিছু শব্দ ব্যবহার করা হয়েছে। যদি মনে করেন আপনি এই নাটক দেখে ক্ষুদ্ধ হবেন তাহলে দেখবেন না। সাধারণত ব্যাচেলর ছেলেরা একসাথে যা যা করে সেটাই এ নাটকে দেখানো হয়। এসব পরিবারকে বলা যায় না, সুতরাং পরিবার নিয়ে এই নাটক সে দেখবে না, এটা সে ব্যাক্তিগত ভাবে দেখবে। যেগুলা আমরা ব্যাচেলর জীবনে করি তাই দেখানোর চেষ্টা করেছি। আমরা আমাদের বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথার মাঝে স্লেং ব্যবহার করেই থাকি। স্লেংগুলো সভ্য না তাই এখানে বিট দেওয়া হয়। বিষয়টা খারাপ বলেই এই বিটের ব্যাবহার।

‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’র পোস্টার

বার্তা২৪.কম: অশালীন লেখার টি-শার্টও ব্যাবহার করা হয় আপনার নাটকে...

অমি: তার চরিত্রে দেখানো হয়েছে সে একজন সন্ত্রাসী, জেল আসামী; তার টি-শার্ট এর লেখা দেখে আপনি শিক্ষা কেনো নিবেন? আমি এখানে শিক্ষা দিতে আসিনি, বিনোদন দিতে এসেছি। বিনোদনের মাধ্যমে মাঝেমধ্যে যদি সুযোগ হয় আমি অবশ্যই শিক্ষামূলক বিষয়বস্তু রাখার চেষ্টা করি। আপনার যদি মনে হয় ব্যাচেলর পয়েন্ট আপনাকে শিক্ষা দিচ্ছে না তাহলে আপনি দেখবেন না, আমি তো বলেই দিয়েছি এটি শিক্ষামূলক নাটক না। আর দেখুন, ‘ব্যাচেলর পয়েন্ট’ নাটকের শেষে আমরা যে বার্তাটা দিতে চেয়েছি সেটি ভাইরাল হয় নি। ভাইরাল হয়েছে টি-শার্ট এর লেখা। অথচ শেষে বোল্ড করে দেওয়া হয়ছে ‘দেশের এই দুর্যোগময় পরিস্থিতিতে আসুন আমরা আমাদের কাছের মানুষের পাশে দাঁড়ায়’ এই লেখাটি ভাইরাল হয় নি। যারা টি-শার্ট এর লেখা নিয়ে কথা বলছে তাদের মন-মানসিকতাটাই নোংরা। শেষের লেখাটা থেকে সামান্যতম যদি শিক্ষা কেউ নিজের ভেতরে নিয়ে থাকে তবে আমি সফল। এটাকে আমি খারাপভাবে দেখছি না। মানুষ বলছে, বলবে এটাই স্বাভাবিক। আমার কাজ যারা পছন্দ করে, যার করে না আমি সবার কাছে পৌঁছাতে চাই।

 কাজল আরেফিন অমি, ছবি: সংগৃহীত

 

আপনার মতামত লিখুন :