অন্ধকারের যাত্রী কণ্ঠী নিম প্যাঁচা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
দিনে বনের ভেতর লুকিয়ে থাকে কণ্ঠী নিম প্যাঁচা। ছবি: সংগৃহীত

দিনে বনের ভেতর লুকিয়ে থাকে কণ্ঠী নিম প্যাঁচা। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমাদের প্রিয় অনুভূতিগুলোকে, ভাবনাগুলোকে পাখিদের সাথে মিলিয়ে দেখার নিরন্তর চেষ্টা করেছেন কবিরা। রূপসি বাংলার কবি জীবনানন্দ দাশ। বাংলার পাখিদের নিয়ে দারুণভাবে আগ্রহী ছিলেন তিনি। তাঁর অসংখ্য কবিতার লাইনের ফাঁকে ফাঁকে বাংলার নানা প্রজাতির পাখিরা উঁকি দিয়ে রয়েছে। নানা পাখিদের মতো নিশাচর নিম প্যাঁচাও তার রচনায় স্থান পেয়ে পাণ্ডুলিপিকে করেছে সমৃদ্ধ।

কণ্ঠী নিম প্যাঁচা বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় নিম প্যাঁচা। এদের দৈর্ঘ্য ২৪ সেন্টিমিটার এবং ওজন ১৭০ গ্রাম। এরা সুলভ আবাসিক পাখির তালিকাভুক্ত হলেও বনায়ন এবং তাদের আবাসস্থল ধ্বংসের কারণে এর বর্তমানে অনেকটাই বিপন্ন হয়ে পড়েছে। এর ইংরেজি নাম Collared Scops Owl এবং বৈজ্ঞানিক নাম Otus bakkamoena।

আঁধারের যাত্রী প্যাঁচা। এরা পুরোপুরিভাবে নিশাচর। বন ঘিরে সন্ধ্যা নেমে এলেই শিকারের সন্ধানে উড়াল দেবার সময়। ‘নিম’ ‘নিম’ ‘নিম’ – দূর থেকে শুনলে মনে হয় এভাবেই সে ডেকে চলেছে। কানে ‌‌‘নিম’ শব্দটি কিছুটা স্পষ্টভাবে আঘাত হানে বলে এ পাখির নামটিও তাই নিম পেঁচা। নিজের মত করেই তারা জানান দিচ্ছে আমাদের প্রকৃতিতে তাদের প্রয়োজনীয়তা ও সহাবস্থানের কথা।

এদের মাথায় দু’টি কান-ঝুঁটি রয়েছে। মাথা এবং চোখের চাক্কিটিও বড়। পিঠের গাঢ় বাদামির উপর সাদাটে ও লালচে-বাদামি দাগ এবং রেখা রয়েছে। ঠোঁট ছোট। তবে ঠোঁটের রঙ দু’ধরণের। উপরের অংশ সবুজাভ, গোঁড়ার দিক ফিকে ও সামনের দিক কালো। নিচের ঠোঁট হলুদ ও কালো। ছেলে এবং মেয়ে পাখির চেহারা একই।

পুরুষ এবং স্ত্রী কণ্ঠী নিম প্যাঁচার চেহারা অভিন্ন। ছবি: সংগৃহীত

বাংলাদেশ বার্ড ক্লাব সূত্র থেকে জানা যায়, ফেব্রুয়ারি-এপ্রিল মাস তাদের প্রজনন মৌসুম। এ সময় গাছের কাণ্ডের প্রাকৃতিক ফোঁকরে কিংবা কাঠঠোকরা ও বসন্ত পাখির পরিত্যক্ত বাসায় সাদা বর্ণের ২টি-৩টি করে ডিম পাড়ে। এরা পুরোপুরি নিশাচর।

কণ্ঠী নিম প্যাঁচা চিরসবুজ বন ও কখনো কখনো দীর্ঘদেহী বৃক্ষঘেরা ফলের বাগান কিংবা আবাদি জমিতে বিচরণ করে। সচরাচর একা কিংবা জোড়ায় থাকে। দিনে গাছের পাতার আড়ালে বসে ঘুমায়। রাতে শিকার খোঁজে।

তাদের খাবার তালিকায় রয়েছে ফড়িং, টিকটিকি, মূষিক, গোবরে পোকা, ছোট পাখি। দিনের বেলায় এর ঘন পল্লব গুচ্ছ কাঁটাধারী গাছের ডাল ও গাছের কাণ্ডের গর্তে লুকিয়ে থাকে। দেহ টান করে গাছের সঙ্গে চেপে ধরে থাকে। যাতে চিনতে না পারে সেজন্য প্রায় সারাক্ষণ চোখ বন্ধ করে রাখে।

চির সবুজ বনের গভীরে তার দেখা পাওয়া খুবই কঠিন। মানুষ সহজে তার দেখা পায় না। ডাকের সাহায্যে সহজে চেনা যায়। তবে সচরাচর একবারই ডাকে। বাংলাদেশের প্রায় সব বিভাগের চিরসবুজ পাওয়া যায়। দক্ষিণ এশিয়া থেকে দক্ষিণপূর্ব এশিয়া, চীন, ভারত, মালদ্বীপ প্রভৃতি দেশে এর বৈশ্বিক অবস্থানের প্রমাণ পাখি বিজ্ঞানীরা পেয়েছেন।