'বেবি ট্রাম্প’



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
তিনি আছেন নিন্দায়, কলঙ্কে, মন্দার্থে। ছবি: সংগৃহীত

তিনি আছেন নিন্দায়, কলঙ্কে, মন্দার্থে। ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ভালো বা মন্দ, উভয় অর্থেই, বহু মানুষ পৃথিবীর ইতিহাসে স্থান লাভ করেন। ইতিহাসে 'ভালো' প্রশংসিত আর 'মন্দ' নিন্দিত হতে থাকে। সদ্য-বিদায়ী মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পও ইতিহাসে জায়গা পেয়েছেন। তবে সেটি নিন্দার্থে।

হোয়াইট হাউস ছাড়লেও ডোনাল্ড ট্রাম্পের আদলে তৈরি বিখ্যাত ‘বেবি ট্রাম্প’বেলুন লন্ডনে মিউজ়িয়ামে ঢুকে পড়ে ইতিহাসে জায়গা পাকা করে ফেলেছে। হাওয়ায় ভরা ট্রাম্পের ছ’মিটার উঁচু ব্যঙ্গপ্রতিরূপটি মার্কিন প্রাক্তন প্রেসিডেন্টের বিরুদ্ধে ব্রিটেনের প্রতিবাদের প্রতীক।

জনতহবিলে বানানো হিলিয়াম গ্যাস ভরা বেলুনটিতে বিদায়ী প্রেসিডেন্ট ন্যাপি পরা কমলা রঙের দাঁত খিঁচোনো শিশু, খুদে হাতে স্মার্টফোন খামচে আছেন। ২০১৮ সালে প্রেসিডেন্ট ট্রাম্পের প্রথম ব্রিটেন-সফরকালে প্রতিবাদ হিসাবে পার্লামেন্ট স্কোয়্যারের আকাশে উড়েছিল এই বেলুন। ২০১৯-এ ট্রাম্প আবার ব্রিটেনে এলে ফের ভেসে উঠেছিল বেলুন। উড়েছিল ফ্রান্স, আর্জেন্টিনা, আয়ারল্যান্ড, ডেনমার্ক ও মার্কিন মুলুকের বিভিন্ন জায়গায়।

লন্ডন মিউজ়িয়াম জানিয়েছে, জাদুঘরের ‘প্রতিবাদ সংগ্রহ’-এ ভোটাধিকার, জলবায়ু, শান্তি আন্দোলনের শিল্পস্মারকগুলোর সঙ্গে ট্রাম্প-বেলুনটিও থাকবে, তার বিপরীত অবস্থান তুলে ধরার জন্য। যদিও রাজনীতি নিয়ে জাদুঘর মাথা ঘামায় না, তথাপি ব্যঙ্গবিদ্রুপ ব্রিটিশদের ভারী পছন্দের প্রতিক্রিয়া। বেলুনটিতে তারই ছোঁয়া রয়েছে।

জাদুঘর কর্তৃপক্ষ আরো বলেছেন, 'আমরা কৌতুকের ঢালাও ব্যবহার করি। নেতাদের নিয়ে ঠাট্টা করি। আক্ষরিক অর্থেই এটি তার বিরাট উদাহরণ। আর বিষয়টি এসেছেও বৈশ্বিক মহামারির দারুণ সময়ে। মজার কথা, জাদুঘরে বেলুনটি এখন কোয়রান্টিনে। সাজিয়ে রাখার আগে সব কিছুকেই কোয়রান্টিনে রাখা হয়। পোকামাকড় থাকতে পারে তো, তাই।' অর্থাৎ, করোনা ট্রাম্পের প্রতীকের পিছু ছাড়ে নি।

ট্রাম্প ক্ষমতার দৃশ্যপট থেকে বিদায় নিলেও তার ছায়া মার্কিন সহনশীল সমাজে ও বহুত্ববাদী গণতান্ত্রিক ব্যবস্থায় প্রেতের মতো ঘুরছে। আক্রমণ ও হুঙ্কার দিচ্ছে প্রায়শই। তার কুপ্রভাব মার্কিন দেশ ও বিশ্ব থেকে দ্রুতই মুছবে না। তিনি যত বিভ্রান্তিকর এবং মানব-পরিবেশ-প্রাণবৈচিত্র্য বিরোধী নীতি ও পদক্ষেপ নিয়েছেন, সেগুলোকে ঠিকঠাক করতেও যথেষ্ট সময় লাগবে। পৃথিবীর মানুষ ও আগামী ইতিহাসে নিন্দার ভাষায় সামনের দিনগুলোতেও ট্রাম্পের কথা উল্লেখ করবে।

ট্রাম্প চলে গিয়েও রয়ে গেছেন জন-আলোচনায়। যেমন রয়েছেন হিটলার, মুসোলিনি, জার ও রাসপুটিন। বর্তমান পেরিয়ে তিনি ইতিহাস আছেন। তবে তা নিন্দায়, কলঙ্কে এবং মন্দার্থে।