গলায় কারুকাজময় পাখি নীলাগলা ফিদ্দা



স্পেশাল করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সিলেট
গলায় যেন মালা পড়ে আছে নীলগলা ফিদ্দা। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

গলায় যেন মালা পড়ে আছে নীলগলা ফিদ্দা। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

  • Font increase
  • Font Decrease

কিছু পাখি আছে যাদের সহজে দেখা যায় না। বনবাদারে এতো গোপনে এরা চলাচল করে যে তাদের দেখা বড্ড কঠিন। মানুষ কিংবা অন্যান্য প্রাণীদের দেখা মাত্রই আত্মগোপনে চলে যায়। সব সময়ই কেমন একটা অজানা ভয় কাজ করে তাদের মনে। ফলে একদিক থেকে এদের বলা যায়, এরা সহজে দেখা না পাওয়া পাখি।

এ পাখিটির গলায় অপূর্ব কারুকাজ রয়েছে। পাখিটির কণ্ঠসৌন্দর্য হৃদয়কে ভরিয়ে দেয়। একবার দেখলে বারবার দেখে করে। এই পাখিটির নাম নীলগলা ফিদ্দা। ইংরেজি নাম Bluethroat এবং Luscinia svecica এর বৈজ্ঞানিক নাম। এরা আমাদের দেশের শীত পরিযায়ী পাখি।

খালি চোখে এ পাখিকে দেখা কঠিন। দূরবীনের সাহায্যের এর অবস্থান লক্ষ্য করে এর কণ্ঠনালির রঙিন সৌন্দর্য বারবার দেখা যায়। তবে মজার ব্যাপার- সে আপনাকে সময় দেবে খুব কম! যতই দ্রুত দেখতে পারবেন তত আপনার জন্য ভালো। নয়তো কখন যে উড়াল দিয়ে উধাও হবে টের পাবেন না একদম। তাই বড়জোড় ২ থেকে ৪ সেকেন্ড সে আপনাকে সময় দেবে, এর মাঝেই তাকে দেখার কাজটা সেরে ফেলতে হবে।

দু-তিন সেকেন্ডের জন্য দেখা দিয়ে হঠাৎ হারিয়ে যাওয়া এই চঞ্চল পাখিটির নামই নীলগলা ফিদ্দা। এরা জলাভূমি সংলগ্ন ছোটছোট গাছপালায় ঘুরে বেড়ায়। এদের শরীরের বেশিটা অংশ ধূষর বর্ণের। যা ধুষর প্রকৃতির মাঝে মিশে থাকে। ফলে সাধারণভাবে সহজে দেখা যায় না।

দূর থেকেও এর কণ্ঠনালীর সৌন্দর্য ফুটে ওঠে। ছবি: আবু বকর সিদ্দিক

স্ত্রী পাখিটি থেকে পুরুষ পাখিটি অধিকতর সুন্দর। দেশের বিভিন্ন প্রাকৃতিক জলাভূমি, হাওর-বিলের নীরব স্থানে ঘুরে বেড়ালেই এই পাখিটিকে সহজে দেখা যাবে। গলায় যেন তার চারটি রঙের অপূর্ব সমবিন্যাস। যা পাখির সৌন্দর্যকে ধূষর প্রকৃতির বুকেও দারুণভাবে মেলে ধরে।

প্রখ্যাত পাখি গবেষক এবং বাংলাদেশ বার্ড ক্লাবের প্রতিষ্ঠাতা ইনাম আল হক বলেন, শীতের পরিযায়ী পাখি নীলগলা ফিদ্দা। মাটি, পাথর ও পাতা থেকে পোকা খুঁটে খুঁটে খায়। হেঁটে খাবার খোঁজার সময় লেজ উপরে তুলে লেজের লালচে পট্টি প্রদর্শন করে। এরা ছোট আকারের ভূচর পাখি। ছোট বলে সাধারণ মানুষের চোখ পড়ে না এ পাখিটি।

পাখিটির শারীরিক বর্ণনা প্রসঙ্গে ইনাল আল হক বলেন, এদের দৈর্ঘ্য ১৫ সেমি এবং ওজন মাত্র ১৭ গ্রাম। পুরুষ পাখিটির থুতনি থেকে বুক পর্যন্ত নীল রং এবং লালচে ছোপ। ওই রঙের উপস্থিতি অনেকটা মালার মতো। প্রজনন মৌসুমে সঙ্গীকে আকর্ষনের জন্য এই রঙের মালাটি প্রশস্ত হয়।

তিনি আরো বলেন, আর স্ত্রী পাখিটির বুকে কিছু সরু নীল দাগ রয়েছে। দীর্ঘ সাদা ভ্রু-রেখা। পুরুষ-স্ত্রী উভয় পাখির চোখ বাদামি। ঠোঁট কালো। মুখ উজ্জ্বল হলুদ। পা  ও পায়ের পাতা কালচে-বাদামি। শীতের সারা দেশের প্রান্তরে থাকে। তবে কম দেখা মেলে।

হাওর, বিল বা জলাশয়ে ধারের ঝোপে অথবা নলবনে এরা অন্য পাখিদের সঙ্গে রাত কাটায়। সাধারণত একাকী থাকে। এরা ইউরোপ, আফ্রিকা ও এশিয়ায় বিচরণকারী পাখি। শীতে আমাদের বাংলাদেশে কিছু দিনের জন্য ওরা আসে। তারপর আবার ফিরে যায় বলে জানান ইনাম আল হক।