বিশ্বময় সতর্কতা, করোনার বড় বিপদ 'অপেক্ষমাণ'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

শুধু ভারত বা বাংলাদেশ কিংবা বিশেষ কোনো অঞ্চল বা দেশ নয়, বৈশ্বিক মহামারি নিয়ে বিশ্বময় সতর্ক-বার্তা শোনা যাচ্ছে বিশেষজ্ঞদের কণ্ঠে। তাদের ভাষায়, সঙ্কট মোটেও শেষ হয়নি। বরং সামনে করোনার আরো বড় বিপদ 'অপেক্ষমাণ'। বিশেষজ্ঞরা এমনও জানিয়েছেন যে, 'টিকাকরণ ও করোনা প্রতিরোধে দৃশ্যমান সাফল্যটুকুই সব নয়। বিপদ এখনও কাটেনি। ফের আছড়ে পড়তে পারে সংক্রমণ ঢেউ। কোথাও কোথাও তা প্রলয়ঙ্করী আকারে শুরুও হয়ে গেছে।'

ব্রিটেনের ক্ষেত্রে এমন আশঙ্কাজনক অভিমত পাওয়া গেছে স্বাস্থ্য ও ভাইরাস বিশেষজ্ঞদের তরফে। ব্রিটেন জুড়ে দ্রুত গতিতে টিকাকরণের জোরে আগের থেকে অনেকটা ‘সুস্থ’ হয়ে উঠছে মানুষ এবং সংক্রমণ কমে 'উন্নতি' হয়েছে করোনা পরিস্থিতির। হাসপাতালে রোগী ভর্তি কমছে। মৃত্যুও কম। কিন্তু সেরে ওঠার সেই আত্মবিশ্বাসী মনোভাবকে খারিজ করে দিয়েছে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থা (হু)।

হু-এর ইউরোপ শাখার শীর্ষস্থানীয় বিশেষজ্ঞ ক্যাথরিন স্মলউড সতর্ক করে দিয়ে বলেছেন, 'সংক্রমণ কমলেও যে পরিমাণে এখনও ঘটছে, সেটা ভয়ের। এখনও বিপদসীমাতেই রয়েছে ব্রিটেন। আর একটা ঢেউ এলে সামলাতে পারবে না।'

এদিকে গতকাল শনিবারই (১০ এপ্রিল) ব্রিটিশ প্রশাসনের পক্ষ থেকে জানানো হয়েছে, 'সংক্রমণ কিছুটা কমায় তারা করোনা-বিধি হাল্কা করার কথা ভাবছে। অতিপ্রয়োজনীয় নয় এমন দোকান, জিম, আউটডোর রেস্তরাঁ, পাব হয়তো খুলে দেওয়া হবে শীঘ্রই।'

সরকারের এমন সিদ্ধান্ত জানার পর শনিবারই (১০ এপ্রিল) স্বাস্থ্য বিশেষজ্ঞ স্মলউড বলেন, ‘এত দিন এই কড়াকড়িগুলো হচ্ছিল বলেই কিন্তু সংক্রমণ কমেছিল।’ হু-র এই বিশেষজ্ঞের কথায়, ‘টিকাকরণ জরুরি। সকলের টিকা নেওয়া উচিত। তাতে নিজেদের প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা গড়ে উঠছে। কিন্তু ব্রিটেনের যা পরিস্থিতি, তা ঢিলেঢালা করে দিলে সংক্রমণ বাড়তে সময় লাগবে না।’

স্মলউড আরও মনে করিয়ে দিয়েছেন, ‘ভাইরাস শক্তি বাড়িয়ে ভয়ঙ্কর হয়ে উঠেছে। নতুন স্ট্রেনের সংক্রমণ ক্ষমতা ও মারণ ক্ষমতা, দুই-ই বেশি। এই নতুন স্ট্রেনের সামনে এখন রয়েছে কমবয়সিরা, যাদের টিকাকরণ হয়নি।’

ফলে এখনই নিজেদের সাফল্যে ব্রিটেনের খুশি হওয়ার মতো কিছু হয়নি বলে মনে করেন ক্যাথরিন এবং শক্ত ব্যবস্থা বজায় রাখার ও স্বাস্থ্যবিধি আলগা না করার ঘোরতর পক্ষে তিনি।

এদিকে, দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছে, তাদের দেশে ছড়িয়ে পড়া নতুন স্ট্রেনের ক্ষেত্রে কোনও কাজ দিচ্ছে না চ্যাডক্স১। ভারতের সিরাম ইনস্টিটিউটকে ৫ লক্ষ ডোজ়ের মূল্য বাবদ অর্থ আগাম দিয়ে রেখেছিল দক্ষিণ আফ্রিকা। সেই টিকা তারা আর কিনতে চায় না। আগাম নেওয়া অর্থ ফিরিয়ে দিয়েছে সিরাম ইনস্টিটিউট। দক্ষিণ আফ্রিকা জানিয়েছে, আগে সরবরাহ করা ডোজ়গুলো তারা আফ্রিকা মহাদেশের অন্য দেশকে বেচে দিয়েছে।

অন্যদিকে, আমেরিকা জানিয়েছে, ফাইজ়ার, মডার্না, জনসন অ্যান্ড জনসন-এর টিকা দেওয়াই তারা চালিয়ে যেতে চায়। এখনও পর্যন্ত অক্সফোর্ডের প্রতিষেধকটিকে প্রয়োগে অনুমতি দেওয়া হয়নি। আমেরিকায় বয়সের দিকটিকে শিথিল করে নাগরিকদের বৃহত্তর অংশকে টিকার আওতায় আনার পরিকল্পনা নিয়ে কাজ শুরু হয়েছে। বাইডেন প্রশাসনও টিকাকরণের পরিধি বাড়ানোর পক্ষে মত দিয়েছে।

আন্তর্জাতিক মিডিয়ায় প্রাপ্ত সর্বশেষ পরিসংখ্যানে বিশ্বব্যাপী করোনায় মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা ৩০-৪০% ভাগ বেড়েছে। ব্রাজিলের পরিস্থিতি চরম আকার ধারণ করেছে। সেখানে মৃত্যুর মিছিল চলছে। অন্যান্য দেশের ভাইরাসের নতুন নতুন ধরনের সন্ধান পাওয়া গেছে এবং প্রতিদিনই মৃত্যু ও আক্রান্তের সংখ্যা রেকর্ড ভেঙে ভেঙে বৃদ্ধি পাচ্ছে।