তৃষ্ণার্ত মানুষের প্রাণ জুড়াচ্ছে ইসহাকের শরবত



সোহেল মিয়া, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, রাজবাড়ী
তৃষ্ণার্ত মানুষের প্রাণ জুড়াচ্ছে ইসহাকের শরবত

তৃষ্ণার্ত মানুষের প্রাণ জুড়াচ্ছে ইসহাকের শরবত

  • Font increase
  • Font Decrease

বৈশাখের আগুন ঝরাচ্ছে আকাশ। গরমের তাপে অতিষ্ঠ জনজীবন। প্রখর রোদে দুপুরের বাইরে তাকালেই ঝলসে যায় চোখ। তপ্ত দুপুরের গরমের তীব্রতায় নাগরিক জীবন এখন চরম বিপর্যস্ত। রোদের তেজের সাথে পাল্লা দিয়ে বাড়ছে গরমের তীব্রতাও। বৃষ্টিহীন বৈশাখে বিস্তীর্ণ জনপদে বাড়ছে রোদের প্রখরতা।

ঠিক এমন গরমের সময় শরবতের কথা শুনলেই ভিতর থেকে চলে আসে এক প্রশান্তির বার্তা। সারাদিনের ক্লান্তি আর অবসাদ ভাব কাটাতে শরবতের যেন কোন বিকল্পই নেই।

এমন পরিবেশে তেমনই এক প্রশান্তি এনে দিচ্ছে ইসহাক মোল্লার বনজ শরবত। ইসহাক মোল্লা রাজবাড়ীর বালিয়াকান্দির জামালপুরের ডাঙ্গাহাতিমোহন গ্রামের বাসিন্দা। দীর্ঘ ৩৩ বছর ধরে তিনি এই শরবত বিক্রি করছেন। বিভিন্ন প্রজাতির বনজও গাছ দিয়ে তিনি এই শরবত তৈরি করে থাকেন। শরবত বিক্রি করে যে অর্থ আয় হয় তাই দিয়েই চলে ইসহাক মোল্লার সংসার।

শরবত খাচ্ছেন তৃষ্ণার্ত মানুষ

ইসহাক মোল্লা বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি ৩৩ বছর ধরে এই শরবত তৈরি করে বিক্রি করছি। মূলত আমি ঢাকার সাভারের কলমা বাজারে বিক্রি করতাম এবং ওখানেই পরিবার নিয়ে থাকতাম। কিন্তু করোনার কারণে লকডাউন থাকায় সাভার থেকে পরিবার নিয়ে গ্রামে চলে এসেছি। এখন কি করবো, তাই এখানে এসে এই শরবত বিক্রি করছি।

আখের গুড়, তুতমা, ইউসুফ গুলি, ইউসুফ গুলির ভুষি, শাহিদানা, অ্যালেভেরা ও উলটকমল দিয়ে এই শরবত তৈরি করি। এই শরবতের অনেক চাহিদা রয়েছে। বিশেষ করে প্রখর রোদে বা তীব্র গরমে এই শরবতের চাহিদা বেড়ে যায় কয়েকগুণ। কিন্তু করোনার কারণে এখন চাহিদা অনেক কম।

এদিকে বৃহস্পতিবার (২৯ এপ্রিল) বিকালে সরেজমিন জামালপুর বাজারে গিয়ে দেখা যায়, করোনার কারণে স্কুল বন্ধ থাকায় তার ছোট ছেলে নওপাড়া সরকারি প্রাথমিক বিদ্যালয়ের চতুর্থ শ্রেণির শিক্ষার্থী নাঈম মোল্লা তার বাবার অনুপস্থিতে শরবত তৈরি করে বিক্রি করছে। প্রতি গ্লাস শরবতের দাম ১০ টাকা।

শরবত পানকারী উত্তম গোস্বামী, সবুজ সিকদার, গোলাম মোর্তবা রিজু বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমরা প্রায়ই এখানে শরবত খেতে আসি। এই শরবত খেয়ে আমাদের এখন পর্যন্ত কোন পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া হয়নি। বরং যখন খায় তখন অনেক তৃপ্তিতেই খায়।