জন্ম-মৃত্যুর রাখিবন্ধনে সত্যজিৎ, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
দা ভিঞ্চি ও সত্যজিৎ রায়

দা ভিঞ্চি ও সত্যজিৎ রায়

  • Font increase
  • Font Decrease

২ মে, এমন একটি দিন, যা জন্ম-মৃত্যুর রাখিবন্ধনে আবদ্ধ করেছে দুই বিশ্ববরেণ্য প্রতিভা, সত্যজিৎ রায় ও লিওনার্দো দা ভিঞ্চিকে। ১৯২১ সালের ২ মে জন্ম নেন বিশ্ববিখ্যাত চলচ্চিত্রকার সত্যজিৎ রায়। এবার তার জন্মশতবর্ষের ঐতিহাসিক স্মারকবর্ষ। তারও ৫০০ আগে ১৫১৯ সালের ২ মে মৃত্যুবরণ করেছিলেন ইতালীয় তথা ইউরোপীয় রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী, অমর শিল্পনিদর্শন 'মোনালিসা' খ্যাত লিওনার্দো দা ভিঞ্চি। 

প্রলম্বিত বৈশ্বিক মহামারিতে ২০২০ সালের মতোই ২০২১ সালের ২ মে এসেছে শঙ্কা, নিঃসঙ্গতা, লকডাউন ও করোনা বিস্তারের আবহে। জীবন ও জীবিকার সন্ধিক্ষণে কেটেছে আন্তর্জাতিক শ্রমিক দিবস পহেলা মে। তারপর দোসরা মে মনে করিয়ে দিল সত্যজিৎ রায় আর দা ভিঞ্চিকে।

সত্যজিৎ রায় (১৯২১-১৯৯২)

সত্যজিৎ রায় প্রকৃতই এক বহুমাত্রিক প্রতিভা। চলচ্চিত্র নির্মাতা, চিত্রনাট্যকার, শিল্প নির্দেশক, সঙ্গীত পরিচালক, লেখক, সাময়িকী সম্পাদক, এমন বহু পরিচয়ে ঋদ্ধিমান তিনি। বাংলার আলোকদায়িনী পরিবারগুলোর অন্যতম উপেন্দ্রকিশোর-সুকুমার রায়ের পারিবারিক বংশধারার উজ্জ্বলতম জাতক সত্যজিতের আদি শিকড় বাংলাদেশের কিশোরগঞ্জের (তৎকালের বৃহত্তর ময়মনসিংহের) কটিয়াদি উপজেলার মসুয়া গ্রামে মিশে থাকলেও তার জন্ম ব্রিটিশ শাসিত ঔপনিবেশিক বাংলার কলকাতা শহরে। উত্তর কলকাতার ১০০ নম্বর গড়পাড় রোডে কাটে তার শৈশবের প্রথম পাঁচ বছর। 

সত্যজিৎ রায়ে চলচ্চিত্র নির্দেশনা


 

তার ঠাকুরদা উপেন্দ্রকিশোর রায়চৌধুরী ছিলেন সুপরিচিত লেখক, চিত্রকর ও দার্শনিক। সেসময় তিনি ছিলেন ব্রাহ্ম আন্দোলনের অন্যতম একজন নেতা। তার নিজের একটি ছাপাখানাও ছিল। সত্যজিতের বাবা ছিলেন অন্যতম সেরা শিশু সাহিত্যিক সুকুমার রায়। মা সুপ্রভা দেবী। মাত্র আড়াই বছর বয়সে তিনি বাবাকে হারান। ফলে তিনি উত্তর কলকাতা থেকে চলে আসেন মামার বাড়িতে দক্ষিণ কলকাতার বকুলবাগানে এবং বালিগঞ্জ গভর্নমেন্ট স্কুলে ভর্তি হন। মূলত মায়ের সান্নিধ্যেই বড় হয়ে ওঠেন সত্যজিৎ রায়।

পরবর্তীতে প্রেসিডেন্সি কলেজ ও শান্তিনিকেতনে রবীন্দ্রনাথের বিশ্বভারতী বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়াশোনা শেষে সত্যজিতের কর্মজীবনের শুরু একজন বাণিজ্যিক চিত্রকর হিসেবে। তবে, প্রথমে কলকাতায় ফরাসি চলচ্চিত্র নির্মাতা জঁ রনোয়ারের সাথে সাক্ষাৎ ও পরে লন্ডন শহরে সফররত অবস্থায় ইতালীয় নব্য বাস্তবতাবাদী ছবি ‘লাদ্রি দি বিচিক্লেত্তে’ দেখার পর তিনি চলচ্চিত্র নির্মাণে উদ্বুদ্ধ হন এবং ছবি বানানোর জন্য পূর্ব অভিজ্ঞতাহীন কিছু কলাকুশলীকে একত্রিত করেন।

নিজের জমানো অর্থ খরচ করে প্রথম ছবি 'পথের পাঁচালি'র শ্যুটিং শুরু করেছিলেন সত্যজিৎ। আর্থিক সহায়তার অভাবে ছবিটির দৃশ্যগ্রহণ চলে দীর্ঘ তিনবছর ধরে। পরে পশ্চিমবঙ্গ সরকারের কাছ থেকে ঋণ নিয়ে ১৯৫৫ সালে ছবি তৈরির কাজ শেষ করেন তিনি এবং সেই বছরই ছবিটি মুক্তি পায়। 

মুক্তি পাওয়ার পর পরই ছবিটি দর্শক-সমালোচকের অকুণ্ঠ প্রশংসা লাভ করে ও বহু পুরস্কার জিতে নেয় ও দেশে বিদেশে ছবিটি বিশেষভাবে সমাদৃত হয়। মানুষের জীবন নিয়ে তার সংবেদনশীলতাকে তিনি ছবিতে ভাষা দিয়েছেন। ক্যামেরা দিয়ে তিনি জীবনের নানা ছবি এঁকেছেন।

সত্যজিৎ রায় মোট ৩২টি কাহিনি চিত্র এবং চারটি তথ্য চিত্র নির্মাণ করেন ও নানা পুরস্কারে ভূষিত হন। জীবনের শেষ প্রান্তে চলচ্চিত্রের সর্বোচ্চ সম্মান অস্কার পান তিনি ১৯৯২ সালে। শুধু চলচ্চিত্র নির্মাণই নয়, অনেক ছোট গল্প ও উপন্যাস লিখেছেন তিনি। তার সাহিত্যকর্মে শিশু কিশোরদের জন্য একটা বিশেষ জায়গা ছিল। বাংলা সাহিত্যের সবচেয়ে জনপ্রিয় দুটি চরিত্রের স্রষ্টা তিনি। একটি হল গোয়েন্দা ফেলুদা, অন্যটি বিজ্ঞানী প্রফেসর শঙ্কু। 

তিনি ছিলেন সম্পূর্ণ একজন মানুষ এবং তার সেই সম্পূর্ণতাকে পাওয়া যায় তাঁর ছবিগুলোতে। সব বিষয়ে তার অসামান্য একটা দখল ছিল। তিনি মিউজিক জানতেন, এডিটিং জানতেন, স্ক্রিপটিং জানতেন, ডিরেকশন তো জানতেনই। ফটোগ্রাফি, সিনেমাটোগ্রাফি জানতেন। ৭১ বছর বয়সে ২৩ এপ্রিল ১৯৯২ সালে তিনি কলকাতায় পরলোকগমন করেন।

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৪৫২ - ১৫১৯)

লিওনার্দো দা ভিঞ্চি ইতালীয় তথা ইউরোপীয়  রেনেসাঁসের কালজয়ী চিত্রশিল্পী। বহুমুখী প্রতিভাধর লিওনার্দো দা ভিঞ্চির অন্যান্য পরিচয়ও সুবিদিত। তিনি ছিলেন ভাস্কর, স্থপতি, সঙ্গীতজ্ঞ, সমরযন্ত্রশিল্পী এবং বিংশ শতাব্দীর বহু বৈজ্ঞানিক আবিষ্কারের নেপথ্য জনক। দুসরা মে তার মৃত্যুবার্ষিকী।

লিওনার্দো দ্য ভিঞ্চির জন্ম ইতালীর ফ্লোরেন্স শহরের অদূরবতী ভিঞ্চি নগরের এক গ্রামে, ১৪৫২ সালের ১৪ কিংবা ১৫ এপ্রিল। লিওনার্দোর জন্ম হয়েছিল এপ্রিল রাত্রি ত্রিপ্রহরে। তুসকান এর পাহাড়ি এলাকা ভিঞ্চি তে, আর্নো নদীর ভাটি অঞ্চলে। তিনি ছিলেন ফ্লোরেন্সের এক নোটারি পিয়েরে দ্য ভিঞ্চির এবং এক গ্রাম্য মহিলা ক্যাটরিনার অবৈধ সন্তান। তার মা সম্ভবত মধ্যপ্রাচ্য থেকে আগত দাসী ছিলেন। আধুনিক দৃষ্টিকোণ থেকে দেখলে লিওনার্দোর নামে কোন বংশ পদবী ছিল না। 'দ্য ভিঞ্চি' দিয়ে বোঝায় তিনি এসেছেন ভিঞ্চি নগরী থেকে। তার পুরো নাম 'লিওনার্দো দাই সের পিয়েরো দা ভিঞ্চি', এর অর্থ হল পিয়েরোর পুত্র লিওনার্দো এবং সে জন্মেছে ভিঞ্চিতে।

দা ভিঞ্চির 'দ্য লাস্ট স্যাপার' চিত্রকর্ম


 

লিওনার্দোর জীবনের প্রথম অংশ বিষয়ে খুবই অল্প জানা গিয়েছে। তার জীবনের প্রথম ৫ বছর কেটেছে আনসিয়ানো-র একটি ছোট্ট গ্রামে। তারপর তিনি চলে যান ফ্রান্সিসকো তে তার পিতা, দাদা-দাদী ও চাচার সাথে থাকতে। তার পিতা অ্যালবিরা নামে এক ষোড়শী তরুণীকে বিয়ে করেছিল। সে লিওনার্দোকে অনেক স্নেহ করত। কিন্তু অল্প বয়সেই সে মৃত্যবরণ করে। এর পরে কৈশোর জীবন বিষয়ে লিওনার্দো দুটি ঘটনার কথা লিপিবব্ধ করে গিয়েছেন। প্রথমটি হল — একবার একটি চিল হঠাৎ করে আকাশ থেকে নেমে তার দোলনার উপর দিয়ে যাবার সময় তার মুখে এর লেজের পালক বুলিয়ে যায়। লোকজন এই ঘটনাকে তার ভবিষ্যৎ জীবনের সফলতার লক্ষণ হিসেবেই ধরে নিয়েছিল। দ্বিতীয় ঘটনা হল — তিনি ছোটবেলায় একবার এক পাহাড়ে ঘুরতে গিয়েছিলেন। সেখানে তিনি একটা গুহা আবিষ্কার করেছিলেন। গুহাটা ছিল অন্ধকার, আর তার মনে হচ্ছিল এর ভিতরে নিশ্চয় কোনো অতিকায় দৈত্য লুকিয়ে আছে। কিন্তু তার অদম্য কৌতূহলের কারণে তিনি এই গুহায় কী আছে, তা খুঁজেও দেখেছিলেন।

তার বিখ্যাত শিল্পকর্মগুলোর মধ্যে 'মোনালিসা', 'দ্য লাস্ট স্যাপার' অন্যতম। তার শৈল্পিক মেধার বিকাশ ঘটে খুব অল্প বয়সেই। আনুমানিক ১৪৬৯  সালে রেনেসাঁসের অপর বিশিষ্ট শিল্পী ও ভাস্কর আন্দ্রেয়া ভেরোচ্চিয়োর কাছে ছবি আঁকায় ভিঞ্চির শিক্ষানবিশ জীবনের সূচনা। এই শিক্ষাগুরুর অধীনেই তিনি ১৪৭৬ সাল পর্যন্ত বিভিন্ন বিষয়ে, বিশেষত চিত্রাঙ্কনে বিশেষ দক্ষতা অর্জন করেন।  তবে, ভিঞ্চি কোন রকম আনুষ্ঠানিক লেখাপড়া গ্রহণ করেননি। তার লেখাপড়ার সবকিছুই ঘরোয়াভাবে। তার ছিল প্রকৃতির প্রতি ভীষণ টান। এজন্য তিনি বেশিরভাগ সময় বাইরে বাইরে কাটাতে পছন্দ করতেন। ১৪৬৬ সালে লিওনার্দোর বয়স যখন ১৪ তখন তাকে ডেল ভেরোচ্চির কাছে শিক্ষানবিশ হিসেবে পাঠানো হয়, এরপর দ্রুতই তার প্রতিভার প্রকাশ ঘটে। বলা হয়ে থাকে ভিঞ্চির 'দা ব্যাপ্টিজম অফ ক্রাইস্ট' এতটাই সুনিপুণ হয় যে, তা দেখার পর ভেরোচ্চি জীবনের জন্য আঁকা ছেড়ে দেবার পণ করেন।

ষোড়শ শতাব্দীর জীবনী লেখক ভ্যাসারি রেঁনেসার চিত্রশিল্পীদের জীবনী লিখেছিলেন। লিওনার্দোকে নিয়ে তিনি তার বর্ণনায় বলেছেন, লিওনার্দো-র বাবা কে স্থানীয় একজন লোক বলেছিল তিনি যেন তার ছেলেকে একটি ছবি আঁকতে বলেন। লিওনার্দো এই অনুরোধের প্রেক্ষিতে একটি ছবি এঁকেছিল। এতে ছিল একটি সাপের মুখ থেকে আগুন নির্গত হচ্ছে। ছবিটি এত সুন্দর হয়েছিল যে পিয়েরো তা স্থানীয় চিত্র ব্যবসায়ীদের কাছে তা বেশ ভাল দামে বিক্রি করেছিলেন। আর যে লোকটি তাকে এ ছবিটি আঁকিয়ে নিতে বলেছিল, তিনি তাকে একটি হৃদয়ের ছবি আঁকা ফলক উপহার দিয়েছিলেন। 

পেশাগত জীবনে লিওনার্দো তার নিজের ওয়ার্কশপে কাজ করেছেন। তিনি ১৪৭৮ সালে 'চ্যাপল অব সেন্ট বার্নার্ড' এবং 'অ্যাডোরেশন অব দ্য ম্যাগি' এবং ১৪৮১ সালে 'মঙ্ক অব সান ডোনাটো অ্যা স্কাপিটো' আঁকার দায়িত্ব পান। একই সময়ের তিনি ছিলেন সমকালের সেরা সংগীতজ্ঞ। ১৪৮২ সালে তিনি ঘোড়ার মাথার আকৃতির একটি বীণা তৈরি করেছিলেন। তিনি আরও অনেক বৈজ্ঞানিক যন্ত্রপাতি, নকশা ও ডিজাইন উদ্ভাবন করেন। শিল্পী, কলা-কৌশলী ও প্রকৌশলী রূপেও নন্দিত ছিলেন এই বহুমাত্রিক প্রতিভাবান ব্যক্তিত্ব।

লিওনার্দো ১৪৮২ থেকে ১৪৯৯ সালের মধ্যবর্তী সময়ে মিলানে কাজ করেছেন। এখানে তিনি 'ভার্জিন অব দ্য রকস' এবং 'দ্য লাস্ট স্যাপার' ছবি দুটি আঁকার দায়িত্ব পান। ১৪৯৩ থেকে ১৪৯৫ এর মধ্যে তার অধীনস্তদের মাঝে ক্যাটরিনা নামে এক মহিলার নাম পাওয়া যায়। ১৪৯৫ সালে এ মহিলাটি মারা যান। সে সময় তার শেষকৃত্যের খরচ দেখে ধারণা করা হয় তিনি ছিলেন লিওনার্দোর মা। 

সেপ্টেম্বর ১৫১৩ থেকে ১৫১৬ পর্যন্ত অধিকাংশ সময় তিনি রোমে দশম পোপ এর অধীনে কাটিয়েছিলেন। অক্টোবর ১৫, ১৫১৫ তে যখন রাজা ফ্রান্সিস ১ম মিলান দখল করেন, তখন লিওনার্দো তার অধীনে কাজ শুরু করেন। তিনি তখন রাজার বাসভবনের পাশেই 'ক্লস লুইস' নামক ভবনে বসবাস করতে শুরু করেন, যেখানে তিনি তার জীবনের পরবর্তী ৩ বছর কাটান এবং বহু ঐতিহাসিক,  কালজয়ী শিল্পকর্মের জন্ম দেন। ২ মে ১৫১৯ সালে এই 'ক্লস লুইস' ভবনে ৬৭ বছর বয়সে  মৃত্যু বরণ করেন পৃথিবীর অন্যতম শ্রেষ্ঠ শিল্পী লিওনার্দো দা ভিঞ্চি।

পুনশ্চ

বাংলাদেশের প্রখ্যাত সাংবাদিক সাংস্কৃতিক ব্যক্তিত্ব ফয়েজ আহমেদের জন্মদিনও ২ মে। ১৯২৮ সালে তিনি জন্মগ্রহণ করেন এবং  ২০ ফেব্রুয়ারি ২০১২ সালে মৃত্যুবরণ করেন। সারা জাগানো 'মধ্যরাতের অশ্বারোহী' গ্রন্থের লেখক, সাংবাদিক-অধিকার-আন্দোলনের নেতা, অকৃতদার  ফয়েজ আহমেদ আজীবন গণতন্ত্র ও মানবাধিকারের জন্য লড়াই করেছেন। ১৯৯২ সালে জাহানারা ইমামের নেতৃত্বে ঘাতক দালাল নির্মূল কমিটির আন্দোলনে সক্রিয় ভূমিকা রেখেছিলেন ফয়েজ আহমদ। গোলাম আজমের বিচারের দাবিতে ১৯৯২ সালের ২৬শে মার্চ যে গণ আদালত গঠিত হয়েছিল তার অন্যতম বিচারক ছিলেন তিনি।  

উল্লেখ্য, সত্যজিৎ রায় (১৯২১) ও ফয়েজ আহমেদ (১৯২৮)  ছাড়াও এদিন জন্মগ্রহণ করেন ফ্রান্সের প্রধানমন্ত্রী, এদুয়ার বালাদুর (১৯২৯), ইংরেজ ফুটবলার ডেভিড বেকহ্যাম (১৯৭৫)। অন্যদিকে, লিওনার্দো দা ভিঞ্চি (১৫১৯) ছাড়াও এদিনে মৃত্যুবরণ করেন বাঙালি কবি মাহমুদা খাতুন সিদ্দিকা (১৯৭৬), বিখ্যাত অস্ট্রেলীয় ক্রিকেটার ক্ল্যারি গ্রিমেট (১৯৮০) এবং সন্ত্রাসবাদী গেরিলা যোদ্ধা এবং আল-কায়দা-এর প্রতিষ্ঠাতা ওসামা বিন লাদেন (২০১১)।