হাতি কমছে আফ্রিকায়!



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আফ্রিকায় হাতি এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে। সংগৃহীত

আফ্রিকায় হাতি এখন অস্তিত্বের সঙ্কটে। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রকৃতির রূপ আর প্রাণবৈচিত্র্যে ভরপুর আফ্রিকার আদিম ও অকৃত্রিম চেহারা ক্রমেই নষ্ট হচ্ছে। প্রতিনিয়ত হ্রাস পাচ্ছে বন্যপ্রাণি ও বনাঞ্চল। ক্রমেই বিলীন হচ্ছে বহু প্রজাতির উদ্ভিদ, পাখি, সরীসৃপ, পতঙ্গ এবং প্রাণি। সবচেয়ের উদ্বেগ্নজনক তথ্য হলো, হাতির চারণভূমি আফ্রিকায় অতিদ্রুত কমছে হাতি।

হাতি হলো আফ্রিকার আইকন। হাতির দাঁতের জন্য পশ্চিমা শিকারিরা বছরের পর বছর এ মহাদেশে হানা দিয়েছে। আফ্রিকার একটি দেশের নামই হাতি ও হাতির দাঁতের স্মৃতিবিজড়িত 'আইভরিকোস্ট'।

হাতির জন্য বিখ্যাত আফ্রিকায় হাতিদের ধারাবাহিকভাবে জনসংখ্যা কমার অন্যতম কারণ হিসাবে উঠে আসছে শিকার। দাঁতের জন্য নির্বিচারে চোরাশিকার চলছে আফ্রিকায়।

গবেষকরা বলছেন, ২০১১ সালে সর্বোচ্চ সংখ্যক হাতি শিকার করা হয়েছিল পূর্ব আফ্রিকায়। তারপর আইনি ব্যবস্থা নেওয়া হলেও পরিস্থিতি অনুকূলে আসেনি। চোরাশিকার অনেকটা কমলেও স্থিতাবস্থায় আসেনি হাতির সংখ্যায়।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী, শিকারের ঘটনা হ্রাস পেলেও তা সামান্য। পাশাপাশি হাতির প্রজননে দীর্ঘ সময় লাগার কারণে ক্ষতিপূরণ হয়ে উঠছে না কিছুতেই। যদি এমনটাই চলতে থাকে, আগামী কয়েক দশকের মধ্যেই সুমাত্রার গণ্ডারদের মতো মুছে যাবে আফ্রিকার হাতিদের অস্তিত্বও।

২০১৬ সালের গণনা অনুযায়ী আফ্রিকায় বর্তমানে উভয় প্রজাতি মিলিয়ে হাতির সংখ্যা ৪ লক্ষ ১৫ হাজারের কাছাকাছি। আফ্রিকার মতো একটি গোটা মহাদেশের নিরিখে দেখতে গেলে এই সংখ্যা সামান্যই। বর্তমানে ২০২০-২০২১ করোনার মধ্যোও তা আরও বেশ খানিকটা কমেছে। কারণ, অসৎ শিকারিরা সুযোগের সদ্ব্যবহার করে গোপনে হাতি নিধনে তৎপর রয়েছে। আর এতে জড়িত আছে আফ্রিকার প্রতিটি দেশের প্রশাসনের অসাধু কিছু লোক। 

বিজ্ঞানীদের গবেষণায় দেখা যাচ্ছে একের পর এক প্রাণি ও উদ্ভিদের প্রজাতি বিলীন হচ্ছে পৃথিবী থেকে। লোভী মানুষের আগ্রাসন ও আধিপত্যই যেন ক্রমশ সংকটে ঠেলে দিচ্ছে তাদের। বিজ্ঞানীদের মতে, অবলুপ্তির সেই তালিকায় বর্তমানে যুক্ত হয়েছে রাজকীয় প্রাণি হাতি। শুধু তাই নয়, বিপন্ন প্রজাতির তালিকায় স্থান পেয়ে আফ্রিকান হাতি সাম্প্রতিক গবেষণার ভিত্তিতে রেডলিস্টের অন্তর্ভুক্ত হয়েছে।

তবে সাধারণভাবে আফ্রিকান হাতি বললেও তার বৈচিত্র্য ও বৈশিষ্ট্য অনন্য। আফ্রিকান হাতির মধ্যে রয়েছে দুটি প্রজাতি— সাভানা এলিফ্যান্ট এবং ফরেস্ট এলিফ্যান্ট। সাভানা হাতির দেখা মেলে উপ-সাহারান আফ্রিকার সমভূমিতে। অন্যদিকে ফরেস্ট এলিফ্যান্টের বসবাস মূলত মধ্য এবং পশ্চিম আফ্রিকায়। সাভানা হাতির থেকে এই প্রজাতির আয়তন খানিকটা ছোটো। তাদের গায়ের রং-ও খানিক গাঢ়।

আফ্রিকান হাতিট দুটি প্রজাতিকেই বিপন্ন হিসাবে চিহ্নিত করেছেন বিজ্ঞানীরা। সম্প্রতি ইন্টারন্যাশনাল ইউনিয়ন ফর কনজারভেশন অফ নেচারের সরকারি মূল্যায়নের মাধ্যমেই তাদের নথিভুক্ত করা হয়েছে রেড লিস্টে। একই সঙ্গে উদ্বেগ প্রকাশ করে বলা হয়েছে, বাস্তুতন্ত্র বা বসতি রক্ষার ক্ষেত্রে আফ্রিকায় অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা নেয় এই রাজকীয় প্রাণিরা। তাদের অস্তিত্ব মুছে গেলে বিপজ্জনক মোড় নেবে আফ্রিকার পরিবেশের ভারসাম্য আর প্রাণবৈচিত্র্যের বিন্যাস। কাজেই অত্যন্ত প্রয়োজনীয় হয়ে পড়েছে তাদের সংরক্ষণ, এমনটাই মনে করেন প্রাণি বিশেষজ্ঞর।