নিরানন্দে ঈদ আনন্দ



মোঃ আরমান আলী, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নিরানন্দে ঈদ আনন্দ

নিরানন্দে ঈদ আনন্দ

  • Font increase
  • Font Decrease

বাইরে মহামারি করোনা কিন্তু ভিতরে অনাবিল ঈদের আনন্দ। মুসলমানদের সবচেয়ে বড় খুশির দিন আজ। যত বাধা থাকুক, এই আনন্দকে আটকানোর সাধ্য কারো নেই।

কবি নজরুলের ভাষায় ঈদের আনন্দ আজ সকলের মাঝে পড়ুক ছড়িয়ে। হিংসা-বিদ্বেষ, ধনী-গরিব ভেদাভেদ ভুলে জাত, ধর্ম, বর্ণ নির্বিশেষে মিলিত হই ঈদের এই সীমাহীন আনন্দ-উৎসবে।

ঈদ মানেই পরম তৃপ্তির আনন্দ। ঈদ মানেই নতুন জামাকাপড়,নতুন জুতো,আতর,সুরমা আর টুপির বাহারি ডিসপ্লে। ঈদ মানে দুই হাতে শখের মেহেদি লাগানো, সকাল বেলা মায়ের হাতের সেমাই খাওয়া, আত্মীয়-স্বজন আর বন্ধুদের মিলনমেলা, হৈ-হুল্লোড়, ঘুরে বেড়ানো, খাওয়া-দাওয়া আর আড্ডা।

নামাজ শেষে পরস্পরের সাথে কোলাকুলি করা, হাসি মুখে শুভেচ্ছা বিনিময় করা। কিন্তু বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের কারণে এবারের ঈদ আনন্দের সব কিছুতেই যেন ভাটা পড়েছে। তাই বলে থেমে গেছে ঈদের আনন্দ?

এরই ফাঁকে সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ঈদের শুভেচ্ছা জানানোর কমতি নেই মানুষের। করোনাভাইরাস সংক্রমণের কারণে ঘরবন্দি এই সময়ে এসব প্ল্যাটফর্মইতো হয়ে উঠেছে উৎসবে আনন্দ ভাগাভাগির জায়গা।   

টানা এক মাস রোজা রাখার ফলে একজন রোযাদার ব্যক্তির কাছে ঈদের অনাবিল আনন্দ বয়ে আনে এক অপার্থিব অনুভূতি। এ আনন্দ পরকালীন জীবনের জন্য শান্তি ও মুক্তি লাভের এক অনন্য মাধ্যম হয়ে ওঠে । তাই রহমত, মাগফিরাত ও নাজাতের রমজান শেষে শাওয়ালের নতুন চাঁদ দেখামাত্রই খুশির জোয়ার বয়ে যায় প্রতিটি রোজাদারের দেহ মনে। এই আনন্দ ছড়িয়ে পড়ে ধনী-গরিব, ছোট-বড় সবার মধ্যে। প্রতিটি প্রাণে দোলা দেয় ঈদের আনন্দ।

বাদ যায় না কেউ এই অনাবিল আনন্দ থেকে। উন্নতমানের খাবার সরবরাহ করা হয় বিভিন্ন হাসপাতাল, কারাগার, সরকারি শিশু সদন, ভবঘুরে কেন্দ্র ও এতিমখানায়।

এদিকে ঈদে বাণী আসে রাষ্ট্রপতি, প্রধানমন্ত্রীর দপ্তর থেকে। কিন্তু গেল বারের মতো এবারও বঙ্গভবনে রাষ্ট্রপতি মো. আবদুল হামিদ এবং গণভবনে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ঈদের দিনের বিভিন্ন শ্রেণি-পেশার মানুষের সঙ্গে শুভেচ্ছা বিনিময় করেন নি।

সরকারি নির্দেশনা অনুযায়ী, দূরপাল্লার বাস, লঞ্চ ও ট্রেন বন্ধ রয়েছে। তারপরও জীবনের ঝুঁকি নিয়ে নাড়ির টানে ঘরে ফেরার চেষ্টা করেছেন অনেক মানুষ। যারা সরকারের নির্দেশ মান্য করে বাড়ি যাওয়ার সিদ্ধান্ত থেকে সরে এসেছেন তারা নতুন পোশাক কিনতে বিপণিবিতান থেকে শুরু করে ফুটপাত পর্যন্ত স্বাস্থ্যবিধির তোয়াক্কা না করে জমিয়েছেন ভিড়।

ঈদের সময় যারা শহরে অবস্থান করে তাদের আনন্দের জন্য প্রতি বছরই নতুন করে সাজে চিড়িয়াখানা, শিশুপার্কের মতো বিনোদন কেন্দ্রগুলো। যেখানে ঈদের দিন থেকে টানা এক সপ্তাহ ভিড় জমান লাখো মানুষ। কিন্তু করোনা মহামারির কারণে এবারও তারা বঞ্চিত হচ্ছেন ছেলে মেয়ে পরিবার পরিজন নিয়ে এসব বিনোদন কেন্দ্রে গিয়ে আনন্দ করতে।

ফলে রাজধানীবাসী ঘরে বসেই উদযাপন করছে ঈদ। আর চোখ রাখছে টেলিভিশনের পর্দায়। প্রায় সব চ্যানেলেই রয়েছে ঈদ অনুষ্ঠানমালা। এছাড়াও ইউটিউব ও বিভিন্ন ওটিটি অ্যাপে রয়েছে ঈদের নতুন নাটক, টেলিফিল্ম ও ওয়েব ফিল্ম৷ তবে প্রেক্ষাগৃহ বন্ধ থাকায় ঈদ উপলক্ষে নতুন হোক আর পুরনো কোনো চলচ্চিত্রই দেখার সুযোগ হচ্ছে না কারই।