ড্রাকুলার দুর্গে করোনার টিকা!



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
রোমানিয়ার কার্পেথিয়ান পাহাড়ে ড্রাকুলা দুর্গ। সংগৃহীত

রোমানিয়ার কার্পেথিয়ান পাহাড়ে ড্রাকুলা দুর্গ। সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আইরিশ লেখক ব্রাম স্টোকার ১৮৯৭ সালে খলচরিত্র ভ্যাম্পায়ার ড্রাকুলাকে নিয়ে যে উপন্যাস রচনা করেন, তার ভিত্তিতে আলোড়ন সৃষ্টিকারী বহু চলচ্চিত্র নির্মিত হলেও বাস্তবে ড্রাকুলার দুর্গ রয়েছে রোমানিয়ার কার্পেথিয়ান পাহাড়ে। দক্ষিণ-পূর্ব ইউরোপের দেশ রোমানিয়ার ড্রাকুলা দুর্গকে কোভিড মহামারি রুখতে অভিনব কায়দায় ব্যবহার করেছে রোমানিয়া সরকার।

একটি পরিকল্পিত দৃশ্যপটে দেখা যাচ্ছে, দুর্গের প্রবেশ পথে দাঁড়িয়ে আছে স্বয়ং ড্রাকুলা। অদৃশ্য শত্রু করোনা ভাইরাসকে খতম করতে ইয়াবড় সিরিঞ্জ রয়েছে তার হাতে।

দেখলেই যে কেউ চমকে উঠবে। কিন্তু আদতে এই দুর্গে চলছে টিকাকরণ কর্মসূচি। সরকারি উদ্যোগে এখানেই চলছে রোমানিয়ানদের প্রতিষেধক দেওয়ার কাজ। আগাম নাম নথিভূক্তিকরণ না করেই মে মাসের প্রত্যেক শুক্র, শনি ও রবিবার টিকা নিতে পারছেন পর্যটকরাও। পাশাপাশি, টিকা নিলে মিলবে প্রবেশ মূল্যে বিশেষ ছাড়ও।

ব্রাম স্টোকারের আইকনিক উপন্যাসই এমন উদ্যোগের পিছনে অনুঘটকের কাজ করেছে বলে অনেকেই মনে করছেন। সে যাই হোক, টিকাকরণ কেন্দ্র হিসেবে ড্রাকুলা দুর্গ ইতিমধ্যেই বেশ জনপ্রিয় হয়েছে। প্রতিদিনই বহু মানুষ এখানে এসে প্রতিষেধক নিচ্ছেন বলে স্থানীয় প্রশাসন সূত্রে খবর।

কোভিডের বাড়বাড়ন্ত ইউরোপের এই ছোট্ট দেশটিতে কিছু কম নয়। তথ্য বলছে, এ পর্যন্ত ১০ লক্ষেরও বেশি মানুষ আক্রান্ত। মৃত্যুর সংখ্যা পৌঁছে গিয়েছে ২৯ হাজারের ঘরে। আর সেকারণেই কোভিড মহামারি রুখতে দ্রুত টিকাকরণ কর্মসূচি সম্পন্ন করতে চায় রোমানিয়া সরকার।

সরকারের পরিকল্পনা অনুযায়ী, আগামী সেপ্টেম্বরের মধ্যে তারা এক কোটি মানুষকে প্রতিষেধক দেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে। কিন্তু, টিকা নিতে বহু মানুষের অনীহা সরকারকে ভাবাচ্ছে। তাই টিকাকরণ নিয়ে সচেতনতা বৃদ্ধিতে একাধিক পদক্ষেপ নেওয়া হয়েছে। পাশাপাশি, অভিনব কিছু পরিকল্পনাও গৃহীত হয়েছে। তারই অন্যতম ড্রাকুলা দুর্গকে টিকাকেন্দ্র হিসেবে ব্যবহার করা।

রোমানিয়ার বিখ্যাত শহর ও রাজধানী বুখারেস্ট। সেখান থেকে ১৭০ কিমি উত্তরে কার্পেথিয়ান পাহাড়। তার পাদদেশে ঘন জঙ্গল। সেই পাহাড়ের চূড়ায় অবস্থিত ড্রাকুলা দুর্গ। এই ঐতিহাসিক দুর্গের সঙ্গে জড়িয়ে রয়েছে মধ্যযুগীয় অত্যাচারের নির্মম ইতিহাস। সেটা ৫০০-৬০০ বছর আগের কথা।

কথিত আছে যে, ওই পাহাড়ে এক অত্যাচারী শাসক ছিলেন। তার নাম ছিল ভলাদ। পাহাড়ের দুর্গম সমস্ত অঞ্চল ছিল তার নখদর্পণে। সেখানে কেউ প্রবেশ করলে তাকে ধরে-বেঁধে নিয়ে এসে পাহাড়ের চূড়ায় বন্দি করা হতো। তারপর তিনি তাকে নৃশংসভাবে মেরে ফেলতেন।

পৌরাণিক আবহে এমনও শোনা যায়, ভুলাদের সঙ্গে পাহাড়ে এক ড্রাকুলারও বাস ছিল। সেই থেকে রোমানিয়ার গল্পকথায় কুখ্যাত শাসকের আস্তানাটি ‘ড্রাকুলা দুর্গ’ হিসেবে পরিচিতি পায়।

তবে এখন আর অন্ধকার ও গা ছমছম সেই মধ্যযুগ নেই। নেই ভুলাদ কিংবা ড্রাকুলাও। কিন্তু থেকে গিয়েছে তাদের অত্যাচারের হাড়হিম করা কাহিনী। আর সেই কাহিনীকে ঘিরেই ড্রাকুলা দুর্গে প্রবেশের টান পর্যটকদের।

দুর্গের মার্কেটিং ডিরেক্টর আলেকজান্দ্রু প্রিস্কুর কথায়, ‘কোভিড মহামারীর কারণে এখন আর পর্যটক তেমন আসেন না। তবে, দুর্গটিকে টিকাকরণ কেন্দ্র হিসেবে গড়ে তোলায় পর্যটকদের সংখ্যা কিছুটা বাড়বে।’ মহামারির ক্রান্তিকালে সেটাই বড় প্রাপ্তি বলে মনে করছে রোমানিয়ার সরকার।