'কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে'



কনক জ্যোতি, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
'কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে'/ছবি: বার্তা২৪.কম

'কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে'/ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রিটিশ-বাংলার ঢাকায় জন্মগ্রহণকারী দক্ষিণ ভারতীয় শিল্পী সুমন কল্যাণপুর প্রকৃতির পালাবদলের বার্তা ঘোষণা করেছেন গানে। বলেছেন, 'কৃষ্ণচূড়ার বন্যায় চৈতালি ভেসে গেছে'। চৈতালি-বসন্ত বিদায়ে নীলাকাশে লালের ছোপ মেখে বিস্তৃত হয় কৃষ্ণচূড়ার অগ্নিরথ। পৃথিবীর বিভিন্ন দেশে কৃষ্ণচূড়া ফোটার সময় বিভিন্ন হলেও দক্ষিণ এশিয়া অঞ্চলে কৃষ্ণচূড়া সাধারণত এপ্রিল-জুন সময়কালে ফুল ফোটে। বাংলাদেশের প্রকৃতিতে এখন চলছে কৃষ্ণচূড়ার মহোৎসব।

নগরায়ন-দানবের হাত গলে ঢাকার রমনায়, চন্দ্রিমায় উদ্ভাসিত হয়েছে কৃষ্ণচূড়ার বাহার। গুলশান, ধানমন্ডির লেকের পাশে খানিকটা প্রকৃতিময় পরিবেশে কৃষ্ণচূড়া মাতাল বাতাসে ছুঁয়েছে নাগরিক-বারান্দা। বাংলাদেশের প্রকৃতিস্পর্শী ক্যাম্পাসগুলোতে আদিঅন্তহীন দিগন্তরেখায় পুঞ্জিভূত কৃষ্ণচূড়া করোনাকালে রয়েছে একাকী ও নিভৃতে। বন্ধ ক্যাম্পাসে অবারিত লাল কৃষ্ণচূড়া ফুল ছুঁয়ে যেতে পারছেনা যুথবদ্ধ তরুণ-তরুণীর হৃদয়ের মর্মমূল।

তথাপি প্রায়-আবদ্ধ, মহামারি-তাড়িত জীবন-যাপনে রঙের উল্লাসে উদ্ভাসিত কৃষ্ণচূড়ার আবাহন উপেক্ষা করতে পারেনা মানুষ। শত বিরূপতায় জেগে উঠে মানবসত্তা প্রকৃতির অনিন্দ্য সদস্য কৃষ্ণচূড়ার পুষ্পিত জাগরণে।

কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া

কৃষ্ণচূড়ার বৈজ্ঞানিক নাম ডেলোনিক্স রেজিয়া। এই গাছ চমৎকার পত্র-পল্লব এবং আগুনলাল কৃষ্ণচূড়া ফুলের জন্য প্রসিদ্ধ। এটি ফ্যাবেসি পরিবারের অন্তর্গত একটি বৃক্ষ, যা গুলমোহন নামেও প্রাচ্যদেশের মধ্য প পশ্চিম এশিয়ায় পরিচিত।

কৃষ্ণচূড়া ফুলের রং উজ্জ্বল লাল। পত্র ঝরা বৃক্ষ, শীতে গাছের সব পাতা ঝরে যায়। বাংলাদেশে বসন্তের শেষে, গ্রীষ্ম ও বর্ষায় এ ফুল ফোটে। ফুলগুলো বড় চারটি পাপড়ি যুক্ত। পাপড়িগুলো প্রায় ৮ সেন্টিমিটারের মত লম্বা হতে পারে। কৃষ্ণচুড়া জটিল পত্র বিশিষ্ট এবং উজ্জ্বল সবুজ। প্রতিটি পাতা ৩০-৫০ সেন্টিমিটার লম্বা এবং ২০-৪০ টি উপপত্র বিশিষ্ট।

বাংলাদেশের প্রকৃতিতে এখন চলছে কৃষ্ণচূড়ার মহোৎসব

কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে। কৃষ্ণচূড়া প্রথমে মাদাগাস্কারের শুষ্ক পত্রঝরা বৃক্ষের জঙ্গলে পাওয়া যায়। যদিও জঙ্গলে এটি বিলুপ্ত প্রায়, বিশ্বের বিভিন্ন অঞ্চলে এটি জন্মানো সম্ভব হয়েছে। সৌন্দর্য বর্ধক গুণ ছাড়াও এই গাছ উষ্ণ আবহাওয়ায় ছায়া দিতে বিশেষভাবে উপযুক্ত। কৃষ্ণচূড়া উদ্ভিদ উচ্চতায় কম (সর্বোচ্চ ১২ মিটার) হলেও শাখা-পল্লবে এটি বেশি অঞ্চল ব্যাপী ছড়ায়। শুষ্ক অঞ্চলে গ্রীষ্মকালে কৃষ্ণচূড়ার পাতা ঝরে গেলেও, নাতিশীতোষ্ণ অঞ্চলে এটি চিরসবুজ।

কৃষ্ণচূড়া গাছের লাল, কমলা, হলুদ ফুল এবং উজ্জল সবুজ পাতা একে অন্যরকম দৃষ্টিনন্দন করে তোলে

কৃষ্ণচূড়ার জন্মানোর জন্য উষ্ণ বা প্রায়-উষ্ণ আবহাওয়ার দরকার। এই বৃক্ষ শুষ্ক ও লবণাক্ত অবস্থা সহ্য করতে পারে। ক্যারাবিয়ান অঞ্চল, আফ্রিকা, হংকং, তাইওয়ান, দক্ষিণ চীন, বাংলাদেশ, ভারত সহ বিশ্বের অনেক দেশে এটি জন্মে থাকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রে কৃষ্ণচূড়া শুধু মাত্র দক্ষিণ ফ্লোরিডা, দক্ষিণ পশ্চিম ফ্লোরিডা, টেক্সাসের রিও গ্রান্ড উপত্যকায় পাওয়া যায়।

তবে, নদীবিধৌত, সবুজাভ প্রকৃতির বাংলাদেশে লাল আলোর দ্যোতনায় কৃষ্ণচূড়া নিয়ে আসে চিত্রময় আবহ। বর্ণময় বাংলাদেশের দ্যুতি সার্থকতা পায় কৃষ্ণচূড়ার বন্যায়। যে সুতীব্র রঙের বন্যায় সকল আবিলতা মুছে প্রেমের, আনন্দের, জীবনের জোয়ার আসে তাপিত মানুষের অন্তরাত্মায়।