বিধিনিষেধ: জনমনের প্রতিক্রিয়া



আনিসুর বুলবুল
ছবি: বার্তা২৪

ছবি: বার্তা২৪

  • Font increase
  • Font Decrease

করোনাভাইরাসের ভয়াল থাবায় বিপর্যস্ত দেশ। দানবীয় রূপ নিয়েছে এ মহামারি। ক্রমেই দীর্ঘ হচ্ছে মৃত্যুর মিছিল। সংক্রমণও ঊর্ধ্বমুখী। শুধু শহর নয়, জেলা-উপজেলা এমনকি প্রত্যন্ত এলাকায়ও ছড়িয়ে পড়েছে ভাইরাসটি। এমন পরিস্থিতিতে সংক্রমণ ঠেকাতে সরকার দেশজুড়ে বিধিনিষেধ দিয়েছে। চলমান বিধিনিষেধ নিয়ে দেশের বিভিন্ন পেশার মানুষের কাছে প্রতিক্রিয়া জানতে চেয়েছিলাম। বিভিন্ন পেশার মধ্যে স্কুল-কলেজের শিক্ষক, সরকারি চাকরীজীবি, নাট্যনির্মাতা, ট্রাফিক সার্জেন্ট, ব্যবসায়ী, অ্যাডভোকেট, মুদি দোকানদার, সিকিউরিটি গার্ড, গৃহকর্মীও ছিলেন।

এসব মানুষের কাছে দুটি প্রশ্ন করা হয়েছিল— চলমান বিধিনিষেধ নিয়ে তার প্রতিক্রিয়া কি এবং সরকারের উদ্দেশে তিনি কিছু বলতে চান কি না। তারা নানা রকম প্রতিক্রিয়া ব্যক্ত করেছেন। কেউ বলেছেন, লকডাউনের বিকল্প হিসাবে দ্রুত সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। কেউ বলেছেন, টিকার জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করতে হবে। আবার কেউ সাধারণ জনগণের ঘরে খাবার নিশ্চিত করার কথা বলেছেন। কেউ অনুরোধ করেছেন প্রতিটি জেলা সদরে করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা দ্বিগুণ করার। কেউ বা মাস্ক পরিধানকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলার কথাও বলেছেন।

বিধিনিষেধ নিয়ে নানা পেশার মানুষের প্রতিক্রিয়া তুলে ধরা হলো-

 

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু

সাইফুদ্দিন আহমেদ নান্নু
সহকারী অধ্যাপক ও বিভাগীয় প্রধান, বাংলা বিভাগ
খানবাহাদুর আওলাদ হোসেন খান কলেজ, মানিকগঞ্জ।

চলমান বিধিনিষেধ নিয়ে আমি ব্যক্তিগতভাবে সন্তুষ্ট নই। বিধিনিষেধ বা লকডাউন যাই বলি না কেন, যতটা কঠোরভাবে কার্যকর করলে কাঙ্ক্ষিত ফল লাভ করার কথা তেমনটা হচ্ছে না। সরকারি সংস্থা বিআইডাব্লিউটিসি প্রথম দিন থেকে সরকারি প্রজ্ঞাপন উপেক্ষা করে ফেরিতে যাত্রী, মোটর সাইকেল পারাপার করেছে। অনেক শিল্প কারখানা খুলেছিল। সাধারণ মানুষও নানা অজুহাতে বাইরে এসেছে, বাজারে গেছে। আমার প্রত্যাশা ছিল এবারের লকডাউনটা সত্যি সত্যি কঠোরভাবে পালিত হবে। কিন্তু কার্যত তা হয়নি।

আমার অনুরোধ থাকবে করোনা মোকাবেলায় প্রতিটি জেলা সদরে করোনা ইউনিটের বেড সংখ্যা দ্বিগুণ করা। প্রয়োজনে জেলায় জেলায় ফিল্ড হসপিটাল চালুর প্রস্তুতি রাখা,পর্যাপ্ত অক্সিজেন সাপ্লাই নিশ্চিত করা, যতদ্রুত সম্ভব যত বেশি মানুষকে টিকার আওতায় নিয়ে আসা। এবং বর্তমান পরিস্থিতকে হেলথ ইমার্জেন্সি ঘোষণা করে সমস্ত প্রশাসনিক, রাজনৈতিক,সামাজিক এবং অর্থনৈতিক শক্তি করোনা মোকাবেলায় নিয়োজিত করা। এবং মাস্ক পরিধানকে বাধ্যতামূলক ঘোষণা করে সামাজিক আন্দোলন গড়ে তোলা।

 

কামরুজ্জামান
কামরুজ্জামান

কামরুজ্জামান
অতিরিক্ত উপমহাহিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রক
মহা হিসাব নিরীক্ষক ও নিয়ন্ত্রকের কার্যালয়, ঢাকা।

চলমান বিধিনিষেধ হলো সরকারের সর্বোচ্চ প্রচেষ্টা, করোনার এই উর্ধ্ব গতি নিয়ন্ত্রণ করার। আগে জীবন পরে জীবিকা এই নীতিতেই সরকার সংশ্লিষ্ট সবাইকে নিয়ে প্রচেষ্টা চালাচ্ছে। কঠোর বিধিনিষেধ আরোপ করে চেষ্টা করছে।

সরকার দ্রুত গতিতে টিকা দেয়া নিশ্চিত করে চলমান লকডাউন ধীরে ধীরে তুলে দিতে পারে। একই সাথে স্বাস্থ্যবিধি মানা ও নির্দেশাবলি পালন নিশ্চিত করণে আগের মতই সমন্বিত ব্যবস্থা চলমান রাখা জরুরি বলে একজন সাধারণ নাগরিক হিসেবে আমি মনে করি।

 

মাবরুর রশিদ বান্নাহ


 

মাবরুর রশিদ বান্নাহ
তরুণ নাট্যনির্মাতা

আমি সরকারের বিধিনিষেধের সঙ্গে অবশ্যই একমত পোষণ করি। কিন্তু এখানে কিছু কথা আছে। আমি মনে করি, এ বিধিনিষেধগুলো অনেক আগেই হওয়া উচিত ছিল। সময়ে সময়ে ছাড় দেওয়া বা আগেও কয়েকবার লকডাউনের কথা বলে সেটা পরিপূর্ণভাবে মেনে না চলা বা চলতে বাধ্য না করতে পারা— এগুলো ব্যর্থতার মধ্যেই পড়ে। তারপর খেটে খাওয়া মানুষ, যাদের সবচেয়ে বেশি কষ্ট হয়, যারা দিন এনে দিন খায়— সে মানুষগুলোর জন্য ব্যবস্থা করা দরকার। তারা কেমন আছে, তারা ভালো থাকবে কি না।

সরকারের উদ্দেশে অবশ্যই বলতে চাই, যদি লকডাউন ঘোষণা করেন তাহলে ঠিকঠাক মতো পালন করান। যাতে পরবর্তীতে খুব অল্প সময়ের মধ্যে আবার খুলে দেওয়া যায়। কিন্তু কোনো কিছুই যেন অর্ধেক না হয় বা পুরোটা শেষ হলো না এমনটা মনে না হয়। এটাই অনুরোধ। এদেশের জনসংখ্যা অনেক বেশি। এ কাজ অনেক কঠিন। সরকার যথেষ্ট চেষ্টা করছে। তারা যেন আরেকটু বাড়িয়ে করে।

 

মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা

মো. শফিকুল ইসলাম ভূঞা
সিনিয়র শিক্ষক, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট গার্লস পাবলিক স্কুল এন্ড কলেজ।

লকডাউন দিয়ে এ দেশে করোনা মোকাবেলা করা সম্ভব নয়। দেশের বিদ্যমান আর্থ-সামাজিক কাঠামোর কারণেই তা অসম্ভব। এই ঘনবসতির দেশে দূরত্ব বজায় রেখে চলা অসম্ভব। বেশিরভাগ কায়িকশ্রমজীবী মানুষের পক্ষে মাস্ক পরে থাকাও অসম্ভব। আর কাজ বন্ধ রেখে মাসের পর মাস ঘরবন্দি থাকাও অসম্ভব। লকডাউনের বিকল্প হিসাবে দ্রুত সবাইকে টিকার আওতায় আনতে হবে। টিকা যোগাড়ের সাথে সাথে টিকাদান কার্যক্রমেও গতি বাড়াতে হবে। বর্তমানে টিকা পেতে অনলাইনে নিবন্ধনের যে উচ্চাভিলাসী পদ্ধতি চালু আছে সেভাবে চললে টিকা মেয়াদোত্তীর্ণ হবে কিন্তু মানুষ টিকা বঞ্চিতই থেকে যাবে।

টিকার জন্য নিবন্ধন পদ্ধতি সহজ করতে হবে। টিকা কেন্দ্রে টিকা কার্ড থাকবে, সেখানেই নিবন্ধন হবে। নিবন্ধনের জন্য প্রয়োজনে স্বেচ্ছাসেবক নিয়োগ করা যেতে পারে। প্রত্যেক ইউনিয়নে গণটিকাকেন্দ্র স্থাপন করে টিকা দেয়ার ব্যবস্থা করতে হবে। সরকারের সেই সামর্থ্য আছে। টিকার নিবন্ধনে জাতীয় পরিচয়পত্রের বিকল্প রাখতে হবে।

 

মুহাম্মদ সোহরাব হুসাইন

মুহাম্মদ সোহরাব হুসাইন
পু‌লিশ সা‌র্জেন্ট, ট্রা‌ফিক তেজগাঁও বিভাগ, ডিএম‌পি।

নিঃসন্দে‌হে সরকার সবসময় জনকল‌্যা‌ণেই সকল স্বিদ্ধান্ত নি‌য়ে থা‌কেন। এরই ধারাব‌া‌হিকতায় জনগণকে স্বাস্থ‌‌্যবি‌ধি মে‌নে চলায় অভ‌্যস্থ করা ও ভ‌বিষ‌্যৎ গণ‌বিপর্যয় নিয়ন্ত্রণের জন‌্য চলমান এ বি‌ধি‌নি‌ষেধ দি‌য়ে‌ছেন। কিন্তু এ বি‌ধি নি‌ষে‌ধের ফ‌লে দে‌শের সাম‌গ্রিক অর্থনী‌তির ওপর এবং সাধারণ জনগ‌ণের জী‌বিকা নির্বা‌হে কি ধর‌নের, কতটা বি‌রুপ প্রভাব পড়তে পা‌রে সে বিষ‌য়ে আরো চুল‌চেরা হি‌সেব করা উচিৎ।

সরকার ঘো‌ষিত লকডাউন বাস্তাবায়‌নে সম্মুখ স‌ারির আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকা‌রী বা‌হিনীর সদস‌্য হি‌সে‌বে চেক‌পো‌স্টে প্রতি‌দিন প্রা‌ন্তিক মানুষজ‌নের ক্রিয়া-প্রতি‌ক্রিয়া অভিমত থে‌কে এটা ম‌নে হয় যে, মানুষজন জী‌বিকা নির্বাহ ক‌রে বেঁচে থাক‌তে চায়। যেটা চলমান বি‌ধি‌নি‌ষে‌ধের ফ‌লে বৃহত্তর জন‌গো‌ষ্ঠী কর‌তে পার‌ছে না। সব‌চে‌য়ে বে‌শি বিপ‌দে প‌ড়ে‌ছে যারা কা‌রো কাছে হাত পাততে পার‌ছে না আবার নি‌জে উপার্জনও কর‌তে পার‌ছে না। আমা‌দের সমা‌জে এ শ্রেণির লোকজন অনেক বে‌শি। এমন প‌রি‌স্থি‌তে সরকা‌রের উচিৎ লকডাউনের বিকল্প ‌গণটিকা কর্মসূ‌চি‌ জোরদার করা। যত দ্রুত সম্ভব বি‌ধিনি‌ষেধ শিথিল ক‌রে দি‌য়ে জীবন যাত্রায় কিছুটা স্বাভা‌বিক অবস্থা ফি‌রি‌য়ে আনার চেষ্টা করা।

 

মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জসিম

মুহাম্মদ শফিকুল ইসলাম জসিম
অ্যাডভোকেট, জজ কোর্ট, মানিকগঞ্জ।

এভাবে একের পর এক লকডাউন সমস্যার সমাধান নয়। আমাদের মত গরিব দেশে লকডাউন কার্যকর করা অনেক কঠিন। প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে খাদ্যের ব্যবস্থা না করে কখনো লকডাউন ফলপ্রসূ হবে না, তাই লকডাউনের বিকল্প হিসেবে সবাইকে মাস্ক পরিধান করতে হবে এবং পার্সোনাল দূরত্ব বজায় রাখতে হবে পরিশেষে বলছি সকল মানুষকে ভ্যাকসিন এর আওতায় নিয়ে আসতে হবে।

লকডাউন যদি দিতেই হয় তার আগে প্রান্তিক জনগোষ্ঠীকে ৭/১৪ দিনের খাওয়ার ব্যবস্থা করবেন তার পরই লকডাউন দিবেন। সকল নাগরিককে ভ্যাকসিনের আওতায় নিয়ে আসতে হবে এবং সব কিছুই স্বাভাবিক করে দিতে হবে।

 

সাফায়েত হোসেন

সাফায়েত হোসেন
প্রিন্সিপাল, স্কাইলার্স মডেল স্কুল, মাটিকাটা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

বাংলাদেশ একটি উন্নয়নশীল এবং ঘনবসতিপূর্ণ দেশ। কারও ঘরে খাবার আছে, কারও ঘরে খাবার নেই। এ ধরনের বিধিনিষেধ দিয়ে সরকার এক শ্রেণির জনগণকে পর্যায়ক্রমে দারিদ্র্য সীমার নিচে ঠেলে দিয়েছে। তাই এ ধরনের বিধিনিষেধ আমাদের দেশে কার্যকরী পদক্ষেপ হবে বলে আমার মনে হয় না। এবং জনগণ বাধ্য হয়ে করোনায় আক্রান্ত হয়ে মৃত্যুর চেয়ে ক্ষুধার যন্ত্রণাকে প্রাধান্য দিচ্ছে।

সরকারের উদ্দেশ্যে বলতে চাই- আগে সাধারণ জনগণের ঘরে খাবার নিশ্চিত করুন। প্রয়োজনে অন্য খাত থেকে অর্থ এনে স্বাস্থ্য খাতকে উন্নত করুন এবং প্রত্যেকের জন্য টিকার ব্যবস্থা করুন। তারপর লকডাউনের পরিবর্তে কার্ফিউ জারি করুন।

 

সাজযাদ হোসেন শোয়েব

সাজযাদ হোসেন শোয়েব
ডিজিটাল মিডিয়া ও মার্কেটিং বিশেষজ্ঞ

এরকম জোরদার লকডাউনে ঢাকার বাইরে নিজ নিজ এলাকায় যত শ্রমিক ও বাংলাদেশি অবস্থান করছেন সরকার চাইলে প্রত্যেক জেলায় জেলায় নগরায়ন ও কর্মসংস্থান করে দিতে পারে। এতে করে ঢাকা শহরের ওপরে চাপ কমবে এবং উপজেলা শহরে কর্মসংস্থান সৃষ্টি করা যাবে।

যে জেলার যে মানুষ সে সেই জেলাতেই কাজ করতে পারবেন। ইন্ডাস্ট্রিগুলোও ঢাকার বাইরে কর্মসংস্থান গড়তে পারবে ও সেটাপ করতে পারবে। ঢাকা বর্তমানে যে ফাঁকা অবস্থাতে আছে সেরকম ভাবে থাকলে ঢাকার ওপরে বহিরাগতের চাপ কমবে ও জেলায় জেলায় তারা বিভিন্ন কর্মে যোগ দিতে পারলে তারাও বেঁচে থাকতে পারবে।

 

আনোয়ার হোসেন মিয়া

আনোয়ার হোসেন মিয়া
সুলতানার স্বপ্ন জেনারেল স্টোর, বাগানবাড়ি, উত্তর ভাষাণটেক।

চলমান বিধিনিষেধ মোটেও কার্যকর একটি পদ্ধতি না। এটি কার্যকর হচ্ছে না। সরকারের সদিচ্ছার যে অভাব তা আমি বলবো না। আসলে প্রক্রিয়াটাই এরকম যে মানুষকে ঘরে ধরে রাখা যাচ্ছে না। মানুষ ঠিকই বেরিয়ে যাচ্ছে। আমি একজন ক্ষুদ্র ব্যবসায়ী, মুদি ব্যবসায়ী। জনগণ জানে ঠিকই যে তিনটা পর্যন্ত মুদি দোকান খোলা থাকবে। কিন্তু আমার দিনের বেলার চেয়ে রাতেই বেশি কাস্টমার হয়। আমি কোনো না কোনোভাবে বিধিনিষেধ ভঙ্গ করে দোকান খোলা রাখি। কারণ একটাই কাস্টমার যদি না আসতো আমি নিজেই দোকান খুলতাম না।

সরকারের উদ্দেশে অনেক কিছুই বলতে চাই। তারমধ্যে করোনা নিয়ে বলতে গেলে বলতে হবে যে বর্তমান পদ্ধতি লকডাউন আসলে গতানুগতিক হয়ে গেছে। সরকারকে নতুন করে নতুন কিছু ভাবতে হবে। যেটা শতভাগ কার্যকর হয়।

 

আশরাফুল ইসলাম

আশরাফুল ইসলাম
সিকিউরিটি গার্ড, ইউনাইটেড হোমস্, বাগানবাড়ি, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

চলমান বিধিনিষেধে আমাদের মতো নিম্নমধ্যবিত্ত পরিবারগুলো খুব কষ্টে আছে। পরিবহন বন্ধ থাকায় তারা সঠিকভাবে উপার্জন করতে পারছে না। তাই তারা খুব কষ্টে জীবন যাপন করছে। এর জন্য বিধিনিষেধ অনেকেই মানতে চাচ্ছে না।

সরকারের উদ্দেশে একটা কথায় বলতে চাই। গরিব মানুষগুলোর পাশে দাঁড়াতে সীমিত আকারে জেলা পর্যায়ে পরিবহনগুলো চলাচল করতে দেওয়া হয়। আর গরিবদের খাদ্যদ্রব্য যেনো সঠিকভাবে পায়। নেতারা যেনো গরিবদের খাদ্যদ্রব্যগুলো নিজেরাই খেয়ে না ফেলে সে দিকে খেয়াল রাখতে বলছি।

 

নাসিমা আক্তার

নাসিমা আক্তার
গৃহকর্মী, মোহনগঞ্জ বস্তি, মাটিকাটা, ঢাকা ক্যান্টনমেন্ট।

আমরা তো খুব কষ্টে আছি। আমার মা যে বাসায় ছুটা কাজ করত এখন আর করতে পারছে না। করোনার কারণে তারা বাদ দিয়ে দিছে। আমি একটা বাসায় কাজ করি। সে বাসাতেই থাকি। আমাকে বাদ দেয় নাই কিন্তু আমাকে তো আর বাবা-মায়ের সঙ্গে দেখা করতে দেয় না। বলে ভাইরাস নিয়া আসবা। আমাদের বস্তির বাচ্চাকাচ্চা অসুস্থ ওষুধ নিতে পারতেছে না। কারো কাছে তো টাকা নাই। যারা কাজ করতো বাইরে কেউ করতে পারতেছে না। খুবই কষ্ট।