শুভ্রতার পরশে, কাশের ছোঁয়ায় কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়



অনন মজুমদার, কুবি করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

উত্তাল বর্ষার পর আগমন হয় শুভ্র ঋতু শরতের। আকাশে তখন এলোমেলো ভাবে ছোটাছুটি করতে থাকে সাদা মেঘ। আর এই শরতে যদি আপনি কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ে আসেন তখন আপনার হয়তো মনে হতে পারে এই ক্যাম্পাসে হয়তো সাদা মেঘেরা কাশফুল হয়ে নেমে এসেছে। যেন প্রকৃতি মাতা কাশফুল দিয়ে নিজ হাতে সাজিয়েছেন এই লাল মাটির ক্যাম্পাস।

এই ক্যাম্পাসের সব-কয়টা ভবনই ছোট ছোট পাহাড়ের পাদদেশে অবস্থিত। আর এই শরতে পাহাড়গুলো যখন শুভ্র কাশফুলে ছেয়ে যায় তখন এর রূপ যেন তাকে আরো শুভ্রতায় ভরিয়ে দেয়।

জীবনানন্দ দাশ যেমন ‘এই পৃথিবীতে একস্থান আছে‘ কবিতায় শীতের সরিষাফুলকে বলেছিলেন ‘রূপসীর হলুদ শাড়ি’, কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের পাহাড়ের বুকের সেই সাদা সাদা কাশফুলকে বলা যায় ‘কুবি’র গায়ে শরতের শুভ্র শাড়ি।’ মৃদু বাতাসে দোলাকাশফুল ছড়িয়ে দেয় একরাশ মুগ্ধতা।

barta24
পাহাড়ের বুকের সাদা সাদা কাশফুলকে বলা যায় ‘কুবি’র গায়ে শরতের শুভ্র শাড়ি।

কিছু কিছু প্রকৃতিপ্রেমী শিক্ষার্থীরা দেশের এই ক্রান্তিলগ্নেও ছুটে যাচ্ছে আপন ক্যাম্পাসের নতুন সাজ দেখতে। কাছ থেকে আসা দর্শনার্থীরাও হারাচ্ছে না কুবি’র নতুন রূপ দেখার সুযোগ।

প্রধান ফটক থেকে দীর্ঘ রাস্তা কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারের দিকে। রাস্তার দুইপাশে সবুজবীথি কৃষ্ণচূড়ার সারি।

barta24
আকাশের মেঘেরা যেমন খেলা করে, বাতাসেকাশফুলগুলোও তেমন আকাশের মেঘের মত।

কেন্দ্রীয় শহীদ মিনার থেকে তাকালে চোখে পড়ে শুধু কাশফুল। শহীদ মিনারের পাশ দিয়ে, কেন্দ্রীয় মাঠের ধার ঘেঁষে, লালনচত্বরের পাহাড়ের বুক জুড়ে ছড়িয়ে আছে শুভ্রতার চিহ্ন এই কাশফুলের সারি। আকাশের মেঘেরা যেমন খেলা করে, বাতাসেকাশফুলগুলোও তেমন আকাশের মেঘের মত, সমুদ্রের ঢেউয়ের মত আছড়ে পরতে চায়।

কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয় একটি প্রকৃতির লীলাভূমি। প্রকৃতি তার নিয়ম মেনে চলে। আর প্রকৃতির প্রতিটি নিয়ম মেনে চলে কুমিল্লা বিশ্ববিদ্যালয়ের ক্যাম্পাস। গ্রীষ্মের প্রচন্ড দাবদাহে গাছের ছায়া, বসন্তে কৃষ্ণচূড়া রোডে রক্তিম কৃষ্ণচূড়া, বর্ষায় ভেসে যায়লালমাটির পাহাড় বেয়ে রক্তিম বৃষ্টির পানি আর ক্যাম্পাস মুখরিত হয় কদমের সুভাসে। শরতে ছেঁয়ে আছে সাদা সাদা কাশফুলে। প্রকৃতির এমন বৈচিত্র্য আর কোথায় পাবেন!