আনন্দের উপকরণ!



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
আনন্দের উপকরণগুলো আছে আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে

আনন্দের উপকরণগুলো আছে আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে

  • Font increase
  • Font Decrease

আনন্দ ও সুখের জন্য টাকার পেছনে ছুটন্ত মানুষেরা একটু থামতে পারেন। কারণ গবেষণা সমীক্ষা বলছে, টাকা থাকা মানেই জীবনে আনন্দ থাকবে— তার কোনও মানে নেই। বরং সমীক্ষায় উঠে এসেছে অন্য তিনটি বিষয়। সেই উপকরণগুলো মানুষকে অর্থের চেয়েও বেশি আনন্দ দেয়। তেমনই তথ্য দিয়েছে ‘গ্রেটার গুড সায়েন্স সেন্টার’ নামক গবেষণাকারী সংস্থার সমীক্ষা। এগুলো হলো:

সুসম্পর্ক
এই তালিকার একেবারে প্রথমেই আছে সুসম্পর্কের বিষয়টি। বিশেষ করে বৈবাহিক বা প্রেমের জীবন যদি সুখের হয়, তা হলে জীবনে আনন্দের মাত্রা বেড়ে যায়। অর্থনৈতিক অভাবও সেখানে বিশেষ চাপ সৃষ্টি করে না। দক্ষিণ আমেরিকার বেশ কয়েকটি দেশে সমীক্ষা চালিয়ে এই দাবির সপক্ষে অনেকগুলো উদাহরণ উঠে এসেছে। দেখা গিয়েছে, শুধুমাত্র ভালোবাসার কারণেই মানুষ অর্থের অভাবের মধ্যেও বেশ আনন্দে আছেন।

শরীরচর্চা
নিয়মিত শরীরচর্চা করলে মন ভালো হয়। কারণ মন ভালো রাখার হরমোনগুলোর ক্ষরণ বাড়ে এর ফলে। কিন্তু সেই ভালো থাকার পরিমাণ কতোটা? তাকে কি টাকার অঙ্কে ব্যাখ্যা করা যাবে? সমীক্ষা এই প্রশ্নেরও উত্তর দিয়েছে। বলা হয়েছে, একজন গড়পড়তা আমেরিকান নাগরিকের বার্ষিক বেতন যদি ২০ লাখ টাকা পর্যন্ত বাড়ে, তা হলে তিনি যতোটা আনন্দ পান, রোজ শরীরচর্চা করলেও ঠিক ততোটাই আনন্দ হয়।

যাতায়াতের সময়
তালিকার প্রথম দু’টি বিষয় পড়েই অবাক হতে পারেন কেউ। টাকার চেয়েও বেশি আনন্দ দেয় এগুলো! সে ক্ষেত্রে তৃতীয় বিষয়টি আরও বিস্ময়কর ঠেকতে পারে তাদের কাছে। সমীক্ষা বলছে, অফিস বা কর্মক্ষেত্র থেকে যাতায়াতের সময় কমলে, মানুষের মন ভালো হতে থাকে এবং সময় বাড়লে ঠিক উল্টোটা। এটিকেও সংখ্যায় ব্যাখ্যা করা হয়েছে সমীক্ষায়। কর্মক্ষেত্র থেকে যাতায়াতের সময় ২০ মিনিট বেড়ে গেলে মানুষের ঠিক ততোটা বিরক্ত লাগে, যতোটা বিরক্ত লাগে বার্ষিক বেতন ১৯ শতাংশ কমে গেলে।

অতএব, টাকা যে জীবনে আনন্দের একমাত্র উৎস নয়, তা পরিসংখ্যানের মাধ্যমে দেখিয়েছে গবেষণা সমীক্ষা। নিঃসন্দেহে অর্থনৈতিক উন্নতি হলে আনন্দ বাড়ে। কিন্তু সবচেয়ে বেশি আনন্দ যে যে জিনিসগুলো দিতে পারে, সেই তালিকার প্রথম তিনে নেই টাকা। বরং প্রধান আনন্দের উপকরণগুলো আছে আমাদের হাতের নাগালের মধ্যে, যা দিয়ে জীবনে আনন্দের মাত্রা বাড়াতে পারেন যে কেউই!