মুক্তা চাষে আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের



নিউজ ডেস্ক, বার্তা ২৪
ফাইল ছবি

ফাইল ছবি

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশেও ঝিনুক চাষ ও প্রযুক্তি ব্যবহার করে মুক্তা উৎপাদন শুরু হয়েছে এবং তাতে চাষীরা সফল হচ্ছেন। উৎপাদন খরচ কম, আবহাওয়া অনুকূলে হওয়া ও সারা দেশে অসংখ্য পুকুর-জলাশয় থাকায় মুক্তা চাষে দিন দিন আগ্রহ বাড়ছে চাষীদের।

বিশেষজ্ঞরা বলছেন, এটি মাছের সাথে চাষ করা যায়। মাছের খাবার বা সার থেকেই ঝিনুকের খাবার তৈরি হয়। মুক্তার পাশাপাশি মুক্তা উৎপাদনকারী ঝিনুকের মাংস মাছ ও চিংড়ির উপাদেয় খাদ্য হিসাবেও ব্যবহৃত হয়। ঝিনুকের খোলস থেকে চুন, বোতাম, গহনা তৈরি এবং খোলস চূর্ণ পশু খাদ্যের উপাদান হিসাবে ব্যবহৃত হয়। ফলে চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। চাষীরাও বলছেন, এখানে লোকসানের কোনো সুযোগ নেই।

মুক্তা একটি মূল্যবান রত্ন, যা সাধারণত গহনা তৈরিতে ব্যবহৃত হয়। মুক্তার একমাত্র উৎস হলো ঝিনুক। একসময় প্রাকৃতিকভাবে ঝিনুকে মুক্তা উৎপন্ন হতো আর সেগুলো আহরণ করে মুক্তা সংগ্রহ করতো জেলে বা চাষীরা। কিন্তু পরে মুক্তা উৎপাদন কৌশল উদ্ভাবিত হওয়ায় বিশ্বব্যাপী এর উৎপাদন ব্যাপকভাবে বেড়ে যায়।

বিবিসি বাংলার প্রতিবেদনে বলা হয়, মৎস্য গবেষণা ইন্সটিটিউট বাংলাদেশে এ পর্যন্ত বাংলাদেশে মুক্তা উৎপাদনকারী পাঁচ ধরণের ঝিনুক পেয়েছে। এর মধ্যে একটি ঝিনুক থেকে সর্বোচ্চ ১২টি পর্যন্ত মুক্তা হতে পারে। মুক্তার ক্ষেত্রে এর রং অনেক গুরুত্বপূর্ণ এবং এ পর্যন্ত বাংলাদেশে চারটি রংয়ের মুক্তা পাওয়া গেছে।

মুক্তা চাষ প্রযুক্তি উন্নয়ন ও সম্প্রসারণ প্রকল্পের পরিচালক ও প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা ডঃ মোহসেনা গণমাধ্যমকে বলেছেন, আমাদের গবেষণায় আমরা দেখেছি বাংলাদেশে একটি ঝিনুকে ১০ থেকে ১২টি মুক্তা জন্মে। প্রতিটি মুক্তার খুচরা মূল্য কমপক্ষে ৫০ টাকা। প্রতি শতাংশে ৬০ থেকে ১০০টি ঝিনুক চাষ করা সম্ভব এবং প্রতি শতাংশে ৮০টি ঝিনুকে গড়ে ১০টি করে ৮০০ মুক্তা পাওয়া গেলে যার বাজারমূল্য প্রায় ৪০ হাজার টাকা। সেই হিসাবে প্রতি একরে ৪০ লাখ টাকার মুক্তা উৎপাদন করা সম্ভব।

তিনি বলেন, আমরা শতাধিক কৃষককে প্রশিক্ষণ দিয়েছি। প্রযুক্তি দিয়েছি। তারা আবার অনেককে শেখাচ্ছেন। ঢাকার নামকরা কয়েকটি প্রতিষ্ঠান মুক্তা কিনতে শুরু করেছে। আবার সুপরিচিত একটি প্রতিষ্ঠান নিজেরাই মুক্তা চাষ শুরু করতে যাচ্ছে।

মুক্তা চাষ করে বেশ দৃষ্টি কেড়েছেন রাজবাড়ীর সাজ্জাদুর রহমান তারেক। তিনি ভারত থেকে প্রশিক্ষণ নিয়ে এসেছেন এবং তিন বছর ধরে রাজবাড়ীতে এটা শুরু করেছেন। এ বছর বড় পরিসরে করছেন। আশা করছেন সফলতা পাবেন।

তিনি বলেন, ঝিনুক সংগ্রহের পর এর মধ্যে এক ধরনের বিশেষ 'ডাইজ' স্থাপন করতে হয় এবং নিউক্লিয়াস পদ্ধতিতে টিস্যু প্রতিস্থাপন করে ঝিনুককে আবার পানিতে ছেড়ে দেয়া হয়। এ টিস্যু প্রতিস্থাপনের সময় সেখানে নানা ডিজাইনের নকশা দেয়া হয়। এরপর ঝিনুক পানিতে ছাড়ার কয়েক মাস পরই ওই নকশার মতোই মুক্তা তৈরি হয়।

ডঃ মোহসেনা জানান, বাংলাদেশে মুক্তা তৈরির ঝিনুক আছে আবার উৎপাদন খরচও কম। এটি মাছের সাথে চাষ করা যায়। মাছের খাবার বা সার থেকেই ঝিনুকের খাবার তৈরি হয়। এসব কারণে চাষীদের আগ্রহ বাড়ছে। তাদের একটু সহায়তা করলেই অনেক ভালো ফল পাওয়া যাবে।