শরতের কাশফুলে সেজেছে জাবি ক্যাম্পাস



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, সাভার
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

ষড়ঋতুর দেশ বাংলাদেশ। আষাঢ়ের বারিধারা, শরতের কাশফুল, শীতের কুয়াশা কি নেই বাংলার রূপে। যেকোন ঋতুর চেয়ে বর্ষা ও শরৎ তার স্নিগ্ধ রূপে মুগ্ধ করে প্রকৃতি প্রেমীদের। শরতের দিগন্তময়ী শুভ্রতা লোকালয় ছেড়ে পৌঁছে যায় প্রকৃতির নগরী খ্যাত জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় (জাবি) ক্যাম্পাসে। সুইজারল্যান্ড এবং বিশ্বকবি রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর হল প্রাঙ্গণ এখন সাদা সাদা কাশফুলের দখলে। সাদা মেঘের খুনসুটি আর দিগন্তজোড়া কাশফুলের বাতাসে দোল খাওয়ার দৃশ্য যেন মন কাড়ে সবার। প্রতিবছর শরতের এই সময়টাতে ক্যাম্পাস যেন মিলনমেলায় পরিণত হয়।

করোনা মহামারির কারণে দীর্ঘদিন ধরে বন্ধ রয়েছে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাকার্যক্রম। শিক্ষার্থীশূন্য ফাঁকা ক্যাম্পাসে তাই জেকে বসেছে শরৎ উৎসব। শীতল বাতাসে ভেসে বেড়াচ্ছে সাদা কাশফুল। আর এমন সৌন্দর্য উপভোগ করতে প্রায়ই ভিড় জমাচ্ছেন ক্যাম্পাসের আশেপাশে অবস্থান করা শিক্ষার্থীরা। কেউবা স্বপরিবারে ঘুরতে এসেছেন আবার কেউ প্রিয়জনের সাথে এসেছেন সোনালী শরতের মিষ্টি গন্ধের স্বাদ নিতে।

ক্যাম্পাসের লেক পাড়ের সুইজারল্যান্ড, সিডনি ফিল্ড, রাঙামাটি এবং বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমান আবাসিক হলের সামনের প্রাঙ্গণে যেন সাদা কাশফুলের মেলা বসেছে। সাদায় সাদায় মুখরিত। অনেকে মুক্ত মনে সাদা কাশফুলের ঘ্রাণ নিচ্ছেন, সুন্দর সেই অনুভূতিগুলো ক্যামেরাবন্দি করছেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের অধিকাংশ শিক্ষার্থী বাড়িতে থাকায় শরতের মন মাতানো ক্যাম্পাস নিয়ে হাজারো স্মৃতির রোমন্থন করছেন সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমগুলোতে।

barta24

প্রতি বছর শরতের আগমনে শিক্ষার্থীদের কোলাহল বাড়ে। কাশফুল তুলতে হিড়িক পড়ে তাদের মধ্যে। শিক্ষার্থীশূন্য থাকায় নেই ভারী কোলাহল। থোকায় থোকায় কাশফুল যেন হাতছানি দিয়ে ডাকছে সবাইকে।

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংবাদিকতা ও গণমাধ্যম অধ্যয়ন বিভাগের অনার্স দ্বিতীয় বর্ষের শিক্ষার্থী আরিফিন ইশা বলেন, বাংলাদেশে ঝকঝকে নীল আকাশ, ঝলমলে সূর্য, অফুরান প্রাণশক্তি এবং পূজোর আমেজ নিয়ে আসে শরৎকাল। জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাসে তাই শরতের পূর্ণ আমেজ পাওয়া যায়।

লেক ভর্তি শাপলা ফুল, গাছে গাছে শেফালী, জুঁই, মালতী, টগর, কামিনী আর ক্যাম্পাসজুড়ে শরতের স্মারক কাশফুল যেন সেজে ওঠে শরৎকে বরণ করে নিতে। এবছর করোনা মহামারির জন্য সাধারণ শিক্ষার্থীরা এখনো ক্যাম্পাসে আসতে পারেননি। তবে আশা করা যায়, মহামারির প্রকোপ কমে গেলে শিক্ষার্থীরা আবার উপভোগ করার সুযোগ পাবেন।