ডাক বাক্সের কদর আর নেই



সাইফুর রহমান রানা, স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, রংপুর
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্ত্রী স্বামির কাছে এখন আর আবেগতাড়িত হয়ে কোন চিঠি যেমন লেখেন না,অনুরুপভাবে মা তার সন্তানদের কাছে কিংবা কোন তরুন তরুনী তার প্রিয় জনের কাছে চিঠি লিখে ডাক বাক্সে দিয়ে আসেন না। বর্তমান সময়ের মানুষরা তার প্রিয় জনের কাছে মোবাইল ফোনের মাধ্যমে দ্রুততম সময়ের মধ্যে প্রয়োজনীয় কাজ সারেন।

বর্তমানে ডাক বাক্স যেন এক সুদুর অতীত। এক সময়ের ডাক বাক্সের কদর আর আগের মত নেই। ডাক বাক্সে চিঠি ফেলে দিয়ে কবে তার প্রিয়জন সেই চিঠি পাবেন এই অপেক্ষা এখন আর কেউ করেন না।

মোবাইল ফোন কিংবা ইন্টারনেটের মাধ্যমে প্রিয়জনের কাছে দ্রুত ভাব বিনিময় করা যায় সত্য কিন্তু প্রকৃত অর্থে লিখুনির মাধ্যমে তার আবেগতাড়িত ভালবাসার কথা তাতে তেমনভাবে ফুটে উঠে না। প্রিয়জনের কাছ হাতে পাওয়া সেই চিঠির জন্য অপেক্ষা কি যে মধুর তখনকার প্রিয়জনরাই তা অনুভব করতেন।

সময় পাল্টে গেছে আধুনিকতার ছোঁয়ায় আমাদের মানসিকতাও পাল্টে গেছে। সময় নষ্ট করে আর কেউ যেমন চিঠি লেখেন না,তেমনি চিঠি অনেক দেরি করে প্রিয়জনের হাতে পৌঁছে যাক এটাও কেউ চায় না।

কালের গর্ভে এভাবেই হারিয়ে যাচ্ছে প্রিয়জনের কাছে হাতে লিখা চিঠি আর জৌলুস ছড়ানো ডাক বাক্সের কদর। এখন ডাক বাক্সে সরকারি চিঠি পত্র ছাড়া আর কোন চিঠিই পাওয়া যায় না।

কথা হয় হাতে লেখা চিঠি নিয়ে ডাক বাক্সে ফেলতে আসা প্রবীন ব্যক্তি উপজেলার রামনাথপুর ইউপির সাবেক চেয়ারম্যান মহিউদ্দিন প্রামানিক এর সাথে,তিনি জানান, আমার নাতি ঢাকায় চাকুরি করে তার কাছে চিঠি পাঠাতে এখানে এসেছি। আমি বাবা আগের মানুষ। মোবাইলে মেসেজ দিতে পারি না। আর মেসেজ কিংবা মোবাইল ফোনে সব কথা বলা সম্ভব হয় না তাই চিঠি লিখে তার কাছে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

বদরগঞ্জ উপজেলা পোষ্টমাষ্টার ইউনুস আলি জানান,আগের দিনের মত এখন আর চিঠি পত্র লেনদেন হয় না। বর্তমানে পোষ্ট অফিসে পার্সেল,বীমা,পরীক্ষার খাতা,সঞ্চয়পত্রের মত কাজগুলো হচ্ছে।