আবার আসিবো ফিরে



নোমান মিয়া
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

৫৬৩ দিন!  মাসের হিসেবে ১৮ মাসেরও অধিক! দেখা হয় না দুচোখ দিয়ে ক্লাসরুম, ফুডকোর্ট, টং, শহীদ মিনার, হলের ক্যান্টিন, এক কিলো, লাইব্রেরি, ক্যাফেটেরিয়া আরো কত কি! খেলা হয় না হ্যান্ডবল গ্রাউন্ডে ও  সেন্ট্রাল ফিল্ডে, যোগ দেওয়া হয় না বিভিন্ন সাংস্কৃতি অনুষ্ঠানে, শিখা হয় না টিচার ও সিনিয়রদের কাছ থেকে নতুন নিয়ম কলা-কৌশল। শুনিনা এখন আর আড্ডায় বসে কবি বন্ধুর নতুন কবিতা, হয় না আর সিনিয়র জুনিয়র একসাথে আড্ডা, বৈশ্বিক রাজনীতি  ও পরিস্থিতি নিয়ে বিতর্ক,  মিডনাইটে বার্বিকিউ পার্টি। বিশ্ববিদ্যালয় বন্ধের সময়টা  ফ্যাকাশে বর্ণের রং ধারণ করে একই জায়গায় স্থির।  দূরে থেকেও বন্ধুবান্ধবদের সাথে ভার্চুয়াল মাধ্যমে যোগাযোগ থাকায় কিছুটা সময় কাটে আনন্দঘন স্মৃতিপটে।  অতীতের সেই সোনালী সময়গুলোর স্মৃতিচারণায় গুনতে থাকি প্রহর।

কলেজের গন্ডি পেরিয়ে বিশ্ববিদ্যালয়ে আসা নিতান্তই একটা সংগ্রাম,ত্যাগ- তিতিক্ষার নাম। কিন্তু বিশ্ববিদ্যালয়ে আসার সেই স্বপ্ন যখন বাস্তবে রূপায়িত হয়, ঠিক তখনই বেজে উঠে মর্মর, বেদনাহত ধ্বনি।  সেই মর্মের ধ্বনিটা কোনো অশনি সংকেত নয়। তা প্রিয়জনদেরকে ছেড়ে দূরে থাকার বেদনা, পুরনো বন্ধুবান্ধবদেরকে ছেড়ে নতুনদের খোঁজার সঠিক দিগন্তের উন্মোচন করা । মনে সংশয় ঘটে, আমি কি পাবো নতুনদেরকে আমার সেই পুরনো বন্ধুবান্ধবের মতো, পারবো কি না নতুন পরিবেশে নিজেকে খাপ খাওয়াতে। কেমন হবে ক্লাস, কেমন হবে টিচারদের সহানুভূতি,  চালাতে পারবো কি নিজেকে আমার মতো এক অজপাড়াগাঁয় থেকে বেড়িয়ে আসা ছেলে বিশ্বের সাথে তাল মিলিয়ে চলা বিদ্যালয়ের সাথে! নানান সংশয় আচ্ছাদিতো চিন্তাভাবনা। 

এসব অনিশ্চিত চিন্তাভাবনা নিঃশেষ হয়েছে শিক্ষক, সিনিয়র, বন্ধুসুলুভ সহপাঠীদের উপস্থিতিতে। সময় কেটেছে ক্যাম্পাসে মাত্র ৪৫ দিন। কিন্তু ক্যাম্পাস মনে হয়েছে চিরচেনা। ক্যাম্পাসে আসা আমার মতো বন্ধুরা বিশ্ববিদ্যালয়কে বানিয়ে নিয়েছে দ্বিতীয় পরিবার। আমিও এর ব্যতিক্রম নই। পরিচিতি হয়েছি বৈচিত্র্যতায় পূর্ণ এক মেলবন্ধনের সাথে । 

সকাল আটটায়  ক্লাসে উপস্থিত না থাকলে, স্যার পরে ঢুকতে দিবেনা, এই ভয়ে ঘুমের রাজ্য ভূমিকম্প হতো আটটা বাজার অনেক আগেই। শীতের সকালটা কেটেছে  ক্যাম্পাসের নির্মলতার সাথেই। সকালের সূর্যের বর্ণীল রশ্মী রাঙিয়ে দিতো ক্যাম্পাসকে। এ রূপ মনে প্রস্ফুটিত করেছে নতুন আশা ও স্বপ্নের। তাই ক্যাম্পাস যেনো হৃদয়ের গভীরে পুঁথিত এক সদ্য রোপিত বীজ। এই স্নিগ্ধতা মহীরুহে পরিণত হবে অনাগত দিনগুলোতে। 

ক্লাস শেষে সিনিয়র ভাইদের ট্রিট, ব্যাচমেটদর সাথে আড্ডা, গ্রপিং সেলফি, পুরো ক্যাম্পাস ঘুরে দেখা, বিশ্ববিদ্যালয়ের বাস দিয়ে দলবেঁধে স্টেডিয়ামে খেলা দেখতে যাওয়া এ যেনো কিছুই মনে হইনি। কারণ তৃষার্ত আত্মা এগুলো উপভোগ করে যেনো আরও চাই বলে বলে অস্থির। 

ডিপার্টমেন্টের খেলা!  এ যেনো আরেক উপভোগ অধ্যায়ের নাম। অন্য ডিপার্টমেন্টের সাথে খেলা হলেই, এ যেনো নেমে এল নির্বাচনী মিছিল পুরো বিশ্ববিদ্যালয় জুড়ে। জয় পেলে তো একটা স্লোগানই কানে বাজে আমাদের ডিপার্টমেন্টই সেরা! সেরা!

হলের ডাইনিং এর খিচুড়িটা সকালে খুব জমতো। ক্লাসের যাওয়ার আগে না খেয়ে গেলে স্যারের লেকচারটাই যেন অতৃপ্তি লাগতো। দুপুরের দিকে ক্যাফেটেরিয়ায় বসে চায়ে চুমুক দিয়ে বন্ধুদেরকে নিয়ে হতো একরাশ মশকারা । আমারও শেষ রক্ষা হতো না তাদের সেই চায়ের আসরের হাসি-তামাশায়-ঠাট্টায়। 

দেশের বিভিন্ন অঞ্চল থেকে আসা বন্ধুরা সত্যেই চমকে দেওয়ার মতো। 

শুরুর দিকে ক্যাম্পাসে ব্যাচমেটদের মধ্যে বিরাজ করতো ভাষার বৈচিত্রতা। সিলেটি, নোয়াখালী, রংপুর, বরিশাল, ভোলা, কক্সবাজর, সিরাজগঞ্জ, রাজশাহী, চাপাইনবাবগঞ্জ, ভোলা এইসব এলাকার বন্ধুরা চমকে দিতো আঞ্চলিক কথায় ও গানে।

সহপাঠীদের কারও বার্থডে হলে তার উপর দিয়ে যেতো সুনামির নতুন আগ্রাসন। কেক ফ্লেভার থেকে রেহাই পেতোনা তার অবয়ব, রক্ষা হত না তার মানিব্যাগের। খাওয়া চলতো দিনভর।

ক্লাসের সিআর (ক্লাস রিপ্রেজেন্টেটিভ) সে ছিলো আর একটা দমকা হাওয়া। সবাই যখন ক্লাস করার ধৈর্য্য সহকারে বসে আছে ঠিক সেই সময় সে শুনিয়ে দিতো স্যারের ব্যস্ততার কথা। বেচারা সিআর!  কি আর করবে সব দখল সহ্য করতে হয় তাকেই। 

ক্যাম্পাসের সেই ৪৫ দিনই ছিলো নতুন পরিবেশ, পরিস্থিতি, নিয়ম-কানুন,নতুন অভিজ্ঞতা। নিত্যনিতুন কিছু সংরক্ষিত হতো ব্যাক্তিগত নোটবুকের  তারিখ খচিত পৃষ্ঠাতে। 

মহামারীর কঠিন সময়টা বদলে দিলো অনেক কিছু। নানান সম্পর্কের হয়েছে পরিবর্তন। এখনও যোগাযোগ হয়, দেখা হয় ক্যাম্পাসকে। কিন্তু প্রত্যক্ষভাবে নয়, গুগল, ফেসবুক, ম্যাসেঞ্জার, ওয়াটসএপ এর মতো   সামাজিক যোগাযোগ মাধ্যমে ও খবরের কাগজে। দেখি কিন্তু নেই সেই পুরনো চাঞ্চল্যতা। 

তবে ক্যাম্পাস আবার খুলবে, আবার সেই পুরনো স্মৃতিগুলোর সাথে নতুন কিছুর সম্মিলন ঘটবে, সেই প্রতীক্ষায় গুনছি প্রহর। নোটবুকের বাকী পৃষ্ঠা গুলোতে লিপিবদ্ধ হবে নতুন কোনো অজানা দৃশ্যপট।ক্যাম্পাসের নীরবতা ও ভূতুরে পরিবেশে প্রাণ ফিরাতে আমরা আবার আসিবো ফিরে। আবার আসিবো ফিরে নতুনদেরকে বরণ করে নিতে। আবার আসিবো ফিরে কালের স্বাক্ষী হয়ে। 

তাই গাইতেই হয় বন্ধনার গান-

 

          আবার আসিবো ফিরে এই অঙ্গনে

           মেলবন্ধনের নতুন দিগন্ত উন্মোচন করিতে

           যা হয় নি বলা, হয় নি করা ঐ কদিনে। 

           আবার আসিবো ফিরে ওই হলের ক্যান্টিনে

           খিচুরির সাথে ডিম ভাজিটা ডালের সাথে মিশাতে

           আবার আসিবো ফিরে আড্ডার আসরে

           কে কি করেছে তা নিয়ে নতুন সুর বাঁধিতে। 

           আবার আসবো ফিরে ওই রাতের ল্যাম্পপোস্টের নিচে

           নতুন পরিকল্পনার বীজ রোপন করিতে। 

           আবার আসিবে ফিরে প্রান ফিরিয়ে দিতে

            আমার প্রিয়ো ক্যাম্পাসকে।

লেখক: শিক্ষার্থী, পলিটিক্যাল স্টাডিজ বিভাগ, ১ম বর্ষ, শাহজালাল বিজ্ঞান ও প্রযুক্তি বিশ্ববিদ্যালয় (শাবিপ্রবি)

বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হৃদয়



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়ালের কদর সবচেয়ে বেশি। বিড়াল শান্তশিষ্ট প্রাণী, তার মেজাজ-মর্জিও অন্যসব পোষা প্রাণী থেকে আলাদা। বিড়ালের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ যুগ যুগ ধরে অব্যাহত। পাহাড় ও অরণ্যের মেলবন্ধনের অনিন্দ্য ভূমিতট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক এলাকায় বহুমাত্রিক প্রাণবৈচিত্র্যে অভাব নেই। অবাধে ঘুরে বেড়ায় নানা বন্য প্রাণী। বিভিন্ন বাড়িতে রয়েছে পোষা প্রাণীও। যার মধ্যে বিড়ালের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মানব সমাজে ঠিক কবে থেকে বিড়ালকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার প্রচলন শুরু হয়, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে শুরু করে নবী করিম (সা.)-এর জামানায় অনেকেই বিড়াল পুষতেন। এমনকি সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী (৫৩৭৫টি হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন) সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে 'বিড়ালের পিতা' বলে ডেকেছেন স্বয়ং নবী করিম (সা.)। তিনিও বিশ্ববাসীর কাছে আবু হুরায়রা বা  'বিড়ালের পিতা' নামে পরিচিত, যদিও তার প্রকৃত নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর।

আবু হুরায়রা বা 'বিড়ালের বাবা' নামটির পেছনে একটি মজার কাহিনী রয়েছে। একদিন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জামার আস্তিনের নিচে একটি বিড়ালছানা নিয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। সে সময় বিড়ালটি হঠাৎ করে সবার সামনে বেরিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে রসিকতা করে, ‘হে বিড়ালের পিতা’ বলে সম্বোধন করলেন। এরপর থেকে তিনি আবু হুরায়রা নামে খ্যাতি লাভ করেন। আর সেদিন থেকে তিনি নিজেকে আবু হুরায়রা নামেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।


উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যায়, ইসলামে বিড়াল পালনে কোনো বাধা নেই। যারা মসজিদের হারাম কিংবা মসজিদে নববিতে যান, তারা সেখানে প্রচুর বিড়াল ছোটাছুটি করতে দেখেন। আগত মুসল্লিরাও তাদের পানি কিংবা খাবার দিয়ে থাকেন।

অনেকেই জানতে চান, বিড়াল পালা কি জায়েজ? এর উত্তরে ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, হ্যাঁ, বিড়াল পালা বৈধ। তবে তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। বিড়াল পুষতে চাইলে অবশ্যই তাকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। বিড়ালের প্রতি যথাযথ দয়া-অনুগ্রহ দেখাতে হবে। বিড়ালকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। শুধু বিড়াল নয় কোনো প্রাণীর ওপর কোনো ধরনের অমানবিক নির্যাতন কিংবা অবিচার করলে গোনাহগার হতে হবে।

প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে রয়েছে যে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জনৈক মহিলাকে বিড়ালের প্রতি অমানবিক আচরণের কারণে আজাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটি বন্দি করে রাখে, এ অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এমনকি বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে করে বিড়ালটি জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৭৪৫)

বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেছেন, ‘এ হাদিস থেকে বিড়াল পালা ও বিড়ালকে বেঁধে রাখা জায়েজ বলে প্রমাণিত হয়, যদি তাকে খানাপিনা দেওয়ার ব্যাপারে ত্রুটি না করা হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৪১২)


এ ছাড়া আরও কিছু হাদিস রয়েছে, যা থেকে বিড়াল পালন জায়েজ প্রমাণিত হয়। সুতরাং পৃথিবীতে বিড়ালসহ আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে, সবকিছুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করতে হবে। কেননা, নবী করিম (সা.) নিজেও তা করেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন অজু করতেন তখন নিজের অজুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করাতেন। এ সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহও দয়া করেন। তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪১)

দুনিয়ায় আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে সবকিছুর প্রতি দয়া অনুগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে, মানুষের পরম বন্ধু বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা বা মমত্ববোধ দেখাতে হবে। সমাজের অনেকেই আছে, যারা বিড়াল দেখলে তাড়িয়ে দেয়, অকারণে পেটায়, গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারে এসব পাপের কাজ; যা মোটেও কাম্য নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় বিড়ালের প্রতি স্নেহ ও প্রেমের অম্লান দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। একটি বিড়ালের আকস্মিক মৃত্যুতে মানবিক বেদনার ধারাও লক্ষ্য করা গেছে। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক, সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবির জানান, 'আমাদের বাসার বিড়ালটা আজ (শুক্রবার) বেলা পৌনে বারোটার দিকে মারা গিয়েছে। তাকে আমি ডাকতাম "ঘুষুমা" বলে, আমার মেয়ে ডাকত "পেঙ্গু" আর আমার স্ত্রী, আনোয়ারা ম্যাডাম, "এনজো" বলে ডাকতেন। সে একটা হুলো বিড়াল ছিল। তার বয়স হয়েছিল মাত্র দশ মাস।'

তিনি জানান, 'আমাদের ক্যাম্পাসস্থ বাসায় প্রথমে বিড়ালটা মায়ের আশ্রয়স্থল হয়। এরপর এই বাসাতেই বাচ্চাটার জন্ম হয়। বাসাতেই বড় হয়। ম্যাডামের উদ্যোগে বাসার সবার আদরে, যত্নে, ভালোবাসায়, বাসার একজন সদস্য হিসাবে। আমাদের সবার প্রতি তার দাবী ছিল আলাদা।'

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রুটিন অনুযায়ী আমি তাকে দুধ ও টোস্ট বিস্কুট খেতে দেই। উল্লেখ্য, ও শীতে আমার কম্বলের নীচে ঘুমাত।

তারপর রুটিনমতোই বাসা থেকে বের হয়ে তিন রাত পরে ভয়ংকর অসুস্থ ও কাহিল অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে বাসার দরজায় বসে কান্না করতে থাকে। এটা অস্বাভাবিক রকমের ব্যতিক্রম ছিল। একটানা এতদিন কখনো সে বাইরে থাকেনি। দিনে চার-পাঁচবার সে বাসায় আসতো, খেতো। তো, ওর কান্না শুনে ম্যাডাম ওকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অবশেষে সে বাসায় এলো বলে মনে স্বস্তি পেলেও তার পরিস্থিতি দেখে ভয় পেলাম, কষ্ট হলো। বাঁচবে তো! এমন অলক্ষুণে চিন্তা মাথায় এসে গেল। আমি নিজেই তখন অনেক অসুস্থ। ভয় বেড়ে গেল যখন দেখলাম সে ঠিকমত হাঁটতে পারছেনা, সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। কিছুই খাচ্ছিলনা দেখে মনের ভিতরটা আৎকে উঠল। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। কলিগ/ক্যাম্পাসের ভাতিজা পিলু (প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী)'র সাথে পরামর্শক্রমে হাটহাজারীতে প্রাণিসম্পদ অফিসে ডাক্তার দিয়ে দেখানো হলো। কিন্তু সবার ভালোবাসা নিয়ে, সবাইকে ভালোবাসায় কাঁদিয়ে আমাদের "ঘুষুমা"/"পেঙ্গু"/"এনজো" এই নিষ্ঠুর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। জানান প্রফেসর কবির।

বিড়ালের মৃত্যুতে বাড়ির কারোই মন ভালো নেই। যারা বিড়ালটিকে দেখেছেন, তারা সবাই মর্মাহত। ঘটনাটি যারা শুনেছেন, তারাও বেদনাহত।  অবলা প্রাণী ও গৃহপালিত পশুর প্রতি মমত্বের চেতনায় দীপ্ত এই ঘটনা ক্যাম্পাস জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। একটি বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হয়েছে বহু হৃদয়।

;

দীর্ঘ লেজে উড়ন্ত সৌন্দর্যময় ‘বড় ভীমরাজ’



বিভোর বিশ্বাস, বার্তা২৪.কম, সিলেট
বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

বনের নিস্তব্ধতা। উঁচু গাছের মগডালে ডেকে চলেছে একটি পাখি। তবে যে পাখিটির যে ডাক হওয়ার কথা এই ডাকটি ওই পাখিটির নয়। উঁচু ডালের পাখিটি অন্য একটি পাখির ডাক নকল করে দিব্বি প্রতিধ্বনি ছড়াচ্ছে সবুজ সমারোহে।

গবেষকের মতে, বড় ভীমরাজ অন্যপাখির ডাক নকলে পটু। শুধু তা-ই নয়, ‘ভি’ আকারের লম্বা লেজের দু’পাশটি চিকন এবং মনোমুগ্ধকর। ওই লম্বা লেজ নিয়ে যখন উড়াল দেয় তখন এ দৃশ্যটি দৃষ্টিনন্দন লাগে। এই বিশেষ ধরণের বাহারি লেজ ভীমরাজের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বড় ভীমরাজের ইংরেজি নাম Great Racket tailed Drongo এবং বৈজ্ঞানিক নাম Dicrurus Paradiseus। আকারে আমাদের পাতিকাকের সমান। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর তথ্য অনুযায়ী এরা ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ পাখি।

‘ভি’ আকারের দীর্ঘ লেজের পাখি ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, বড় ভিমরাজ পাখি চিরসবুজ বনের পাখি। বনের বাইরে বা লোকালয়ে এদেরকে পাওয়া যায় না। এরাও পতঙ্গভুক পাখি। যে সব বনে পোকা ও কীটপতঙ্গের উৎপাদন খুব ভালো সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। উড়ন্ত পোকা এরা ধরে ধরে খায়। এছাড়াও ফুলের মধু এবং পাখির ডিমও এরা খেয়ে থাকে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের দেহ নীলাভ কালো চকচকে। এই পাখিটির কপালে রয়েছে বিশাল ঝুঁটি। এদের লেজ লম্বা এবং দেখতে অনেকটা রকেটের মতো। লেজের শেষভাগের দুই দিকের পালকটি বাঁকানো। এদের চোখ বাদামি-লালচে। পালক এদের শারীরিক উচ্চতা প্রায় ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১২০ গ্রাম।’  

 ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।’

এদের এ বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এরা অন্যপাখির ডাক নকল করতে পারে। দেখা যায়, বনের মাঝে অন্যপাখির শিস নকল করে দিব্বি ডেকে চলেছে ভীমরাজ। এদের গলার আওয়াজ বেশ সুরেলা। অন্যান্য পাখির ডাক ও গান সহজে নকল করতে এরা পারদর্শী বলে জানান ড. কামরুল হাসান।

;

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা



আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ
বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

  • Font increase
  • Font Decrease

সুযোগ পেলেই চলে আসি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের কাছে। এবার কিশোরগঞ্জের হাওরের অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়ায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চৌদ্দমাদল উপলক্ষে ৪ দিন ব্যাপী মেলায় এসেছি।

 


১৮ জানুয়ারি থেকে বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে মেলা চলছে। এবার ৯১তম মেলাকে ঘিরে হাওরের এ গ্রামীণ জনপদে প্রাণচাঞ্চল্যের দেখা মিললে। মেলা উপলক্ষে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক আনন্দ প্রীতি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে এই মেলাকে ঘিরে। উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে এলাকার ঘরে ঘরে।


মেলায় দেশের নানা জায়গার প্রায় পাঁচশত ব্যাবসায়ী মিষ্টি, উইড়া, ফল, চটপটি, খেলনা, কসমেটিক, প্রসাধনী, জুতা, কাপড়, কাঠের ফার্নিচার, তৈজষপত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালি আসবাবপত্রসহ নানা রকম দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

 


মেলায় বাহারী আসবাবপত্রের পসরা ছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে রেলগাড়ি, নাগরদোলা,নৌকাদোলা, পুতুলনাচ ইত্যাদি।

 


 

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মিষ্টান্নে ভরপুর মেলা। গজা, জিলাপি, তালের পিঠা, মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্বাদে, গন্ধে অপূর্ব সেসব মিষ্টান্ন।

 


 

মেলায় এসেছে গ্রামীণ অনেক বাদ্যযন্ত্র। বিলুপ্ত হওয়ার পথে এসব বাদ্যযন্ত্র রক্ষা পাচ্ছে এসব গ্রাম্যমেলার মাধ্যমে। অনেকে শখে আর অনেকে প্রয়োজনে সংগ্রহ করছেন এসব সামগ্রী।

 


 

মেলা উদযাপন কমিটি স্বাস্থ্য বিধি মেনে, মাস্ক পরিধান করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত প্রবেশদ্বার নির্মাণ করেছেন। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ট্র্যাভেলর, ব্লগার।

;

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট



ছাইদুর রহমান নাঈম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কিশোরগঞ্জ
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দরগাহ মেলা। হাজারো মানুষের আনাগোনাতে জমে উঠেছে গ্রাম্য মেলা। মেলায় বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। ছোট বড় সবাই আসছে মেলা দেখার জন্য। কসমেটিকস সহ সবধরনের দোকান রয়েছে। তবে সবার থেকে আলাদা হচ্ছে মেলাতে আসা মাছের বাজার। বিভিন্ন রকমের বড় মাছের সমাহার মেলাতে।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের কটিয়াদী-মনোহরদী সড়কের পাশেই দরগাহ বাজারে এই মেলা। এই মেলা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে। মেলা চলবে টানা পাঁচ দিন।

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট

এ মেলার সময় আশেপাশের এলাকার মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে বড় বড় মাছ কিনে, সেই মাছ জামাইকে খাওয়ানো হয়। এটা এখানকার দীর্ঘ দিনের একধরনের প্রচলিত নিয়ম।

‘মাছের মেলা’ নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় বড় মাছের ছবি। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। এর মধ্যে নদীর বড় বড় বাঘাইর, আইড়, বোয়াল, কাতলা, পাঙ্গাস, সামুদ্রিক টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেচাকেনা হয়। তবে, চাষের বিভিন্ন ছোট বড় আকারের মাছও পর্যাপ্ত পাওয়া যায়।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ।

মেলার প্রথম দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই আছে। মেলায় সবকিছু ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি যেন মাছের বাজারের দিকে। একটি রুই মাছ দাম হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। বোয়াল মাছ ৩০ হাজার, বাঘা’ইর ২৫ হাজার, চিতল ৩০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা। নরসিংদী, বি-বাড়িয়া, গাজীপুর থেকে এসেছেন মাছ নিয়ে।

মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘১০ টি রুই মাছ, ৫ টি কাতল মাছ নিয়ে এসেছি মেলায়। রুই মাছ ৪০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছি। ক্রেতারা ২০-২৫ হাজার টাকা বলছেন। ৩০ হাজার হলে বিক্রি করবো।’

এলাকার জামাই আহমদ আলী বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে বেড়াতে আসছি। ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি বোয়াল মাছ কিনলাম। তবে মেলার বাজারে মাছের দাম চড়া মনে হচ্ছে।’

মেলায় থাকে বড় বড় আর লোভনীয় মাছের বিশাল সংগ্রহ, বিকিকিনি, সংসারের যাবতীয় উপকরণ, বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগরদোলা, পালাগান ইত্যাদি।

মেলা চলাকালে একসঙ্গে প্রচুর বড় ও জীবিত মাছ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক মাছচাষি কেবল মেলায় অধিক লাভে বড় মাছ বিক্রির জন্য মাছ বড় করে তোলেন। তাছাড়া মেলায় বিক্রির জন্য বেশ আগে থেকেই নদীর বাঘাইর, আইড় ইত্যাদি মাছ স্থানীয় পুকুরগুলোতে বা অন্য জলাশয়ে বেঁধে রাখা হয়।

মেলায় কেবল যে মাছ পাওয়া যায় তা নয়, মাছ ছাড়াও কাঠের আসবাবপত্র, বাঁশ ও বেতসামগ্রী, লৌহজাত দ্রব্য, ফলমূল, নানা ধরনের মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য এবং প্রচুর চুন পাওয়া যায়।

;