নাজমুন নাহারের দুঃসাহসিক অভিযাত্রা



আনিসুর বুলবুল
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকা হাতে কেবল ১৯৩টি স্বাধীন দেশই নয়, পরাধীন আরো ৭টি দেশ পাড়ি দিয়ে বিশ্বের প্রথম মানবী হিসেবে গিনেস বুকে নাম লেখাতে চান বাংলাদেশের অভিযাত্রী নাজমুন নাহার। বুধবার (৫ অক্টোবর) তিনি ১৫০তম দেশ ভ্রমণের রেকর্ড করেছেন। বর্তমানে আফ্রিকার দ্বীপদেশ সাও টোমে ও প্রিন্সিপে অবস্থান করছেন।

নাজমুন নাহার মেসেঞ্জারে বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমি যে দেশটিতে এসেছি সেটি সাও টোমে ও প্রিন্সিপে। আফ্রিকা মহাদেশের ক্ষুদ্র একটি দেশ। গিনি সমুগ্র ও আটলার্টিক সমুদ্রের মধ্যে পড়েছে। যেটি ল্যান্ডলক কান্ট্রি থেকে ফ্লাই করে অনেক দূর যেতে হয়। সময় লাগে ৪ ঘণ্টা। ছোট্ট এই দেশে আসার পর আমি বাংলাদেশের পতাকা হাতে আজ ১৫০ দেশ ভ্রমণের যে রেকর্ড করেছি এটা অবশ্যই বিশাল আনন্দের।

বেশিরভাগ সময় তার গায়ে বা হাতে কিংবা মাথার কোথাও না কোথাও বাংলাদেশটা থাকেই।

নাজমুন নাহারের সব ভ্রমণে যে বিষয়টা চোখে পড়ে তা হলো, বেশিরভাগ সময় তার গায়ে বা হাতে কিংবা মাথার কোথাও না কোথাও বাংলাদেশটা থাকেই। পতাকা হোক, কিংবা লাল-সবুজের চিহ্ন। মেসেঞ্জারে বার্তা২৪.কমকে নাজমুন নাহার বললেন, আমি যতদূরেই যাই না কেন নিজের দেশের জন্য মন আনচান করে। খুব খারাপ লাগে। তাই দেশটাকে আমি সবসময় নিজের মধ্যে ধারণ করি।

ইতিহাসের সাহসী নারী নাজমুন নাহার। যিনি পথ চলতে জানেন, নিজে জাগ্রত হতে জানেন, অন্যকে জাগ্রত করতে জানেন, তার যাত্রা পথে যত বাধাই আসুক না কেন তিনি সবকিছুর অতিক্রম করে চলেছেন পৃথিবীর পথে পথে। অনেকবার মৃত্যুমুখেও পতিত হয়েছেন তিনি। জীবনের বহু ঝুঁকি নিয়ে তিনি বাংলাদেশের লাল-সবুজের পতাকাকে পৌঁছে দিয়েছেন অনন্য উচ্চতায়, তারই সাথে পৃথিবীতে শান্তির বার্তা পৌঁছে দিচ্ছেন তিনি।

নাজমুন নাহার বার্তা২৪.কমকে বলেন, আমার বহু কষ্ট, অনেক সংগ্রাম, অনেক বার মৃত্যুর মুখে পতিত হয়েছি। এই কভিডের সময় ভ্রমণ করা খুবই কঠিন। অনেক সময় ফ্লাইট থাকে না। অনেক সময় বর্ডার ক্রস করা যায় না। এরপরও আমি বাংলাদেশের পতাকা হাতে ১৫০তম দেশে পৌঁছেছি।

 ১৫০ দেশ ভ্রমণের রেকর্ড করলেন নাজমুন নাহার।

বাংলাদেশি এই অভিযাত্রী শততম দেশ ভ্রমণ করেছিলেন ২০১৮ সালের জুনে। ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে তা বেড়ে হয়েছিল ১৩৫। ১৪০তম দেশ ভ্রমণের রেকর্ড গড়েন ২০২০ সালের জানুয়ারিতে এবং ২০২১ সালের আগস্টে ১৪৫তম দেশ ভ্রমণ করেন।

খুব অল্প সময়ের মধ্যেই দেশ ও বিদেশে এই নারী তার এই দুঃসাহসিক অভিযাত্রার জন্য পেয়েছেন বহু সম্মাননা। যুক্তরাষ্ট্র আন্তর্জাতিক পিস টর্চ অ্যাওয়ার্ড, অনন্যা শীর্ষ দশ অ্যাওয়ার্ড, গেম চেঞ্জার অ্যাওয়ার্ড, মিস আর্থ কুইন অ্যাওয়ার্ড, ইয়ুথ গ্লোব অ্যাওয়ার্ড, অতীশ দীপঙ্কর গোল্ড মেডেল, জন্টা ইন্টারন্যাশনাল অ্যাওয়ার্ড ও রেড ক্রিসেন্ট মোটিভেশনাল অ্যাওয়ার্ড।

নাজমুন নাহারের লক্ষ্য বাংলাদেশের পতাকাকে ২০০ দেশে পৌঁছে দেওয়া। নাজমুনের হাত ধরে বিশ্বজুড়ে চলুক বাংলাদেশের ও বিশ্বমানবতার জয় গান।