জল ডুবুডুবু নীল দেশ মালদ্বীপ!



মানসুরা চামেলী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
জল ডুবুডুবু নীল দেশ মালদ্বীপ!

জল ডুবুডুবু নীল দেশ মালদ্বীপ!

  • Font increase
  • Font Decrease

স্যান্ড ব্যাংক আইল্যান্ড, মালদ্বীপ ঘুরে: হয়ত ভ্রমণ উত্তেজনায় মালদ্বীপের দ্বিতীয় দিনে ঘুমটা সকাল সকালেই ভেঙে গেল। রাতটা কাটে কখনও গভীর ঘুমে কখনও আধো ঘুমে! জানালার পর্দা সরিয়ে বাইরে তাকাতেই সকাল ছয়টাতেও কড়া রোদের ঝাপটা লাগল চোখে। পথঘাট দেখে বোঝা গেল শেষ রাতে বৃষ্টিতে ভিজেছে মালদ্বীপ। তাই হুলুমালে দ্বীপ আরও চকচক করছে। 

ঝটপট রেডি হয়ে নাস্তা সেরে নিলাম! সকাল ৮টায় কোন এক আইল্যান্ডে যাওয়ার প্ল্যান। তখনও আইল্যান্ডের নাম জানতে পারিনি। সাংবাদিকদের বিশাল গ্রুপ নিয়ে ইউএস বাংলা এয়ারলাইন্স এই ট্যুরের আয়োজন করেছে। গ্রুপটা বড় হওয়ায় সময় মেইনটেন্ট করতে কিছুটা এদিক-ওদিকে হয়ে যায়। তাই, এই ফাঁকে হুলু মালের হোয়াইট বিচে একটু চক্কর মারলাম।   

হুলু মালের হোয়াইট বিচ

হোয়াইট বিচের সাগরের পানি অতটা নীল না হলেও এর নৈসর্গিক দৃশ্য অতুলনীয়! সৈকতের চকচকে সাদা বালু, সাগরের তীরে নারিকেল গাছসহ পরিকল্পনা করে লাগানো গাছের সারি সবাইকে মুগ্ধ করবে।

স্থানীয় সময় সাড়ে ৯ টায় ডাক আসে আইল্যান্ডে যাত্রার। সাজানো গোছানো শহর হুলুমালের পথ-ঘাট পেরিয়ে জেটিতে পৌঁছাই। এরপরেই চক্ষু ছানাবড়া। সামনে অথৈ নীল সমুদ্র। তখনই মনে পড়ল গিরীন্দ্রনাথ দত্তের সমুদ্র দর্শন কবিতার ‘অনন্ত আকাশ উচে/ অনন্ত সাগর নীচে/ অনন্তে অনন্তে দেখ করে আলিঙ্গন।’ সেই কবিতার সঙ্গে আমিও নীল জলের লহরীতে নিজেকে সমর্পণ করলাম সারা দিনের জন্য!

হুলুমালে জেটি

জেটিতে সারি সারি স্পিড বোট, ফেরি ও ইঞ্জিনচালিত নৌকা। পিছনে সমুদ্র রেখে মোবাইলের ক্যামেরায় কয়েকটি ক্লিক করলাম। হুলুমালের এই জেটি থেকে স্পিড বোট, ফেরি ও ইঞ্জিন চালিত নৌকায় করে বিভিন্ন আইল্যান্ড ও রিসোর্টে যান পর্যটকরা। ইঞ্জিনচালিত বোটে করে সাগরের নীল মায়ার গালিছা মাড়িয়ে ছুটলাম স্যান্ড ব্যাংক আইল্যান্ডে! ঢেউয়ের তালে তালে ছুটছে বোট। বোটে উঠেই আমি গন্তব্য স্থলের নাম জানলাম। যদিও পূর্ব প্রস্ততি হিসেবে কাপড়-চোপড়ও সঙ্গে নিয়েছিলাম; যাতে করে অন্তত জলকেলি করা যায়। হুলু মালে থেকে স্যান্ড ব্যাংক আইলান্ডে যেতে দেড় ঘণ্টা সময় লাগে। কিন্তু আমি দেখলাম সময় আরও বেশি লেগেছে।

ড্রিম অ্যাভাঞ্জার্সে কর্মরত বাঙালি যুবক বাবু মিয়া সময়ের বিষয়টা পরিষ্কার করে বললেন, স্পিড বোটের হিসেবে সময় গণনা করা।

মালদ্বীপ প্রবাসী বাবু মিয়া, পিছনের তিনজনের মাঝে মাহাদী

প্রবাসে থাকা ব্রাহ্মণবাড়িয়ার বাবু বেশ হাসি-খুশি ছেলে! পুরো পথ জুড়ে তার প্রাণবন্ত চেহারার দিয়ে পর্যটকদের খুশি করার চেষ্টা করেছেন। পাঁচ -ক্লাস পর্যন্ত পড়া বাবু মালদ্বীপে আসা ভ্রমণ প্রেমীদের ভালো হ্যান্ডেল করা শিখেছেন। প্রয়োজনীয় ইংরেজিও বলতে পারেন। তাকে দেখে মনে পড়ে পাশের বাড়ির সহযোগিতা পরায়ণ ছেলেগুলোর কথা।

নৌকা ছুটছে- আর গাঢ় নীল সমুদ্র তার মুগ্ধতা দিয়ে গ্রাস করছে। জল ডুবুডুবু নীল দেশ মালদ্বীপ মায়ার চাদরে জড়িয়ে নিচ্ছে। কোথাও গাঢ় নীল, কোথাও আবার আকাশের নীল রঙের মতো পানি দূর থেকে আহ্বান জানায়। একটু পর পর আকাশে সি প্লেনের গর্জন, পর্যটকদের নিয়ে সাগর ছুঁই ছুঁই করছে প্লেনগুলো।

নয়নাভিরাম রিসোর্ট, এখানে বিলাসবহুল জীবন যাপন করে দেশের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষ

আবার টইটুম্বুর সাগরে চলার পথে কখনও হাতছানি দেয় বিলাসবহুল জাহাজ বা নয়নাভিরাম সারি সারি রিসোর্ট। যেখানে পৃথিবীর বিভিন্ন প্রান্ত হতে হাজারো পর্যটক আসেন একান্ত সময় কাটাতে। সেই সঙ্গে গুণতে হয় কাড়ি কাড়ি ডলারও। শুনেছি, মালদ্বীপের আসল সৌন্দর্য এই দ্বীপগুলোই। যদিও এবার সেই ভাগ্য হল না- তবে অপেক্ষা থাকবে সুপ্রসন্ন ভাগ্যের উপর।

১২’শর বেশি দ্বীপ নিয়ে ভারত মহাসাগরের বুকে ভেসে উঠেছে মালদ্বীপ। এই দ্বীপপুঞ্জের মোট জিডিপির ৭০ শতাংশ আসে পর্যটন শিল্প থেকে। মালদ্বীপকে ধরা হয় বিশ্বের আদর্শ ট্যুরিস্ট স্পট হিসেবে। ঘন নীল আর শ্যাওলা সবুজ ঢেউ খেলানো ভারত মহাসাগরের বুকে দোল খাওয়া এই অনিন্দ্য সুন্দর ভূখণ্ডের কোন তুলনা নেই। এখানে রয়েছে লোকাল আইল্যান্ড; যেগুলোতে স্থানীয়রা বসবাস করেন। আর প্রাইভেট আইল্যান্ড যা পর্যটকদের জন্য।

পানির রঙ এত গাঢ় নীল যে- মনে হবে কেউ কাপড়ে দেওয়ার নীল রঙ ঢেলে দিয়েছে

মালদ্বীপ এসে যাদের ব্যয় নিয়ে চিন্তা তাদের জন্য বেস্ট অপশন হবে হুলু মালে। মালে এয়ারপোর্ট থেকে চায়না-মালদ্বীপ ফ্রেন্ডশিপ ব্রিজ পার হলেই হুলুমালে দ্বীপ। এখানে অপেক্ষাকৃত কম দামে বিচের অদূরেই হোটেল পাওয়া যায়। যারা বিলাসবহুল রিসোর্টে রাত কাটাতে চান না; তারা এখানে রাতে থেকে স্পিড বোট ও ফেরিতে করে রিসোর্ট ডে ওয়াইজ ঘুরে আসতে পারেন। এতে খরচটা কম হয়- অর্থাৎ ‘রথ দেখাও হল কলাও বেচা হল’।

আরও পড়ুন: নীলাকাশ থেকে নেমেই নীল জলের অভ্যর্থনা!

নৌকার ইঞ্জিন যিনি নিয়ন্ত্রণ করছেন তার নাম মাহাদী! শ্রীলঙ্কান, গাল ভাঙা খটখটে চেহারা, লম্বা বাবরি চুল, গায়ের রঙ তামাটে। তার চোখে পড়লেই ঈষৎ হাসি দেন- কোন প্রয়োজন কিনা ভাঙা ইংরেজিতে জানতে চান। চটপটে মাহাদীকে বেশ ভালো লাগল। যাত্রা পথে তিনি থেকে থেকে সিংহালি গানের সঙ্গে নাচার চেষ্টা করে পর্যটকদের মাতিয়ে রাখছেন।

স্যান্ড ব্যাংক আইল্যান্ড

ঠিক ভরদুপুরে ভারত মহাসাগরের শান্ত নীল ঢেউ পেরিয়ে স্যান্ড ব্যাংক আইল্যান্ডে পৌঁছাই। স্যান্ড স্নানগ্লাস ছাড়া চোখ মেলা দায়! স্যান্ড ব্যাংক মানে বালির তট। চারপাশের নীল জল- মাঝখানে ধপধপে সাদা বালি। দূর থেকে দেখলে মনে হবে এক খণ্ড গোলাকার সাদা মেঘ! বালিতে পড়ে আছে নানা রঙের কোরাল।

বেশি দেরী না করে বোট থেকে দ্রুত নেমে শুরু হল জলের খেলা। কেউ মেতে উঠেছে স্নোরকেলিং। স্বচ্ছ পরিষ্কার পানির গভীরে সামুদ্রিক প্রাণীকূলের জীবন, কোরাল, মাছেদের চলাফেরা ও সৌন্দর্য দেখার জন্য স্নোরকেলিং বেস্ট। অন্যদিকে অনেকেই ব্যস্ত হয়ে পড়লেন সার্ফিং, বোটিং-এ। আমি ছবি তোলা ও ভিডিওর কাজটিই করে গেলাম।

যে যার মতো ব্যস্ত সবাই, স্যান্ড ব্যাংক আইল্যান্ডে

এমন প্রকৃতির মাঝে আসলে মনটা কেমন জানি পালাই পালাই করে। অস্থির হয়ে ওঠে নানা অনুভূতি! ভালোলাগার মোড়কে আটকা পড়ে- নানা শূন্য ও অমূল্য স্মৃতি। তাই কোলাহলে গা না ভাসিয়ে বালুকাবেলায় মাথা ও নীল জলে পা রেখে গুণগুনিয়ে গেয়ি উঠি- ‘আমি নিরালায় বসে বেঁধেছি আমার স্মরণ বীণ, একি বেদনার মত বেজেছে আবার হারানো দিন।’

প্রায় তিন ঘণ্টার মতো পানি, বালু ও মাছের সঙ্গে খেলা শেষে লাঞ্চ! বোটেই লাঞ্চের ব্যবস্থা ছিল। টুনা ফিশ দিয়ে ফ্রাইড রাইস, নুডুলস, সালাদ এবং জুস দিয়ে সারতে হল মধ্যাহ্নভোজন। লাঞ্চ পর্ব খুব বেশি সুখকর হলো না।

পিছনে তাকালে ভেসে উঠল আকাশি রঙের জলে ঘেরা স্যান্ডব্যাংক আইল্যান্ড

মধ্যাহ্নভোজনের পরেই ফেরার পালা। আবার ঢেউয়ে ভাসলো বোট। এবার যেন আরও গাঢ় নীল সাগরের জল। পিছনে তাকালে ভেসে উঠল আকাশি রঙের জলে ঘেরা স্যান্ডব্যাংক আইল্যান্ড। কিছুক্ষণের জন্য কোলাহলে ভরে ওঠা আইল্যান্ডটি আবারও পড়ে রইলো পর্যটকের অপেক্ষায় নিঃসঙ্গ হয়ে।

স্নোরকেলিং-এ যেতে প্রস্তুত এক পর্যটক

ফেরার পথে– প্রস্তাব আসল সাগরে ডলফিন শো দেখার! ভ্রমণ অভিজ্ঞ বিটিভির সাংবাদিক সাইফুল্লাহ সুমন ভাই জানালেন, ডলফিন দেখতে হলে ভাগ্য সুপ্রসন্ন থাকতে হবে। অনেক সময় ডলফিনের দেখা যায় না। যাই হোক- ভাগ্য দেবীর উপর ভরসা রেখে ডলফিনের দেখার প্রস্তাবে সবাই রাজি হলাম। বোট এসে থামল সাগরের ডলফিনের কর্নারে। একটু পরেই শুরু হলো হুল্লোড়! একটা পর একটা সাগরের স্তন্যপায়ী জলজন্তুটি লাফ দিচ্ছি। কেউ কেউ মাথা উঁচু করে আবারও ডুবে যাচ্ছে। খুব কাছ থেকে না হলেও দেখা তো পেলাম।  

ফেরার পথে – প্রস্তাব আসল সাগরে ডলফিন শো দেখার

সমুদ্রে যাত্রার এই অভিযান শেষে সন্ধ্যার আগেই ফিরলাম জেটিতে। হোটেলে ফেরার আগে হুলুমালের সেন্ট্রাল পার্কে সন্ধ্যাটা হাঁটলাম। এখানে রাতে নানা রঙের জলের নৃত্য দেখা যায়। যেখানে শিশুরা খেলা মেতে উঠে। দিনভর চোখ ‍জুড়ানো মায়াময় প্রকৃতি দেখে ক্লান্তি টের না পেলেও বিছানায় শুইতে গিয়ে টের পেলাম। এরপর এক ঘুমে ক্লান্তি দূর হয়ে সকাল হল।

সমুদ্রে যাত্রার এই অভিযান শেষে সন্ধ্যার আগেই ফিরলাম জেটিতে

মালদ্বীপ আসলে যা জানা জরুরি

মালদ্বীপ এ on arrival visa, সুতরাং ভিসা নিয়ে টেনশন করার কোন দরকার নাই। নিজের কোন কাগজপত্র লাগবে না। ডলার এন্ডোর্সমেন্টসহ পাসপোর্ট; অবশ্যই মিনিমাম ৬ মাসের ভ্যালিডিটি থাকতে হবে। হোটেল বুকিং এর কাগজপত্র, রিটার্ন টিকেট। করোনাভাইরাসের কারণে এখন যোগ হয়েছে- করোনা নেগেটিভ সনদ, টিকা সনদ এবং ইমিগ্রেশন হেলথ ফরম পূরণের কোড।  

মালদ্বীপের অধিবাসীদের প্রায় সবারই স্কুটি বা বাইক রয়েছে। পর্যটকরা মালে শহরে যানবাহন হিসেবে ব্যবহার করেন ট্যাক্সি। মালে শহরের যেই জায়গায় নামেন ৩০ রুপি ভাড়া দিতে হবে। রাজধানী মালেকে ব্রিজ দিয়ে হনুমালের সঙ্গে সংযুক্ত করা হয়েছে। ব্রিজ দিয়ে গেলে ট্যাক্সিতে পড়বে ৭৫ রুপি আর বোটে গেলে দশ রুপি।

মালদ্বীপের নীল জলে এক ঘণ্টা সার্ফিংয়ের জন্য ৩০-৪০ রুপি খরচ হবে। সার্ফিং, বোটিংয়ের সঙ্গে কয়েকটি রাইড নিলে প্যাকেজে ২০০-৩০০ রুপির মধ্যেও সম্ভব। মালদ্বীপের আরেকটি আকর্ষণীয় বিষয় প্যারাগ্লেডিং এবং সাবমেরিন। বিলাশ বহুল রিসোর্টের বিচ ভিলা ও ওয়াটার ভিলায় থাকতে হলে সর্বনিম্ন ১২০ ডলার থেকে এমন ভাড়া গুণতে হবে।

মালদ্বীপে মাছ ছাড়া নিজস্ব কোন প্রোডাক্ট নেই কাজেই কেনাকাটা আপনার নিজস্ব সিদ্ধান্ত। চকলেটের দোকান আছে, তবে সেখানে সবই বাইরের চকলেট। এছাড়া ভারতেরও কিছু চকলেট ওখানে পাওয়া যায়। সবশেষে একটা কথা বলি, পর্যাপ্ত টাকা ও সময় না নিয়ে গেলে মালদ্বীপ থেকে দীর্ঘশ্বাস ও আফসোস নিয়ে ফিরতে হবে। তাই ভেবে চিন্তে ট্যুর প্লান করুন।

বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হৃদয়



মায়াবতী মৃন্ময়ী, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবিরের গৃহপালিত বিড়ালগুলো। বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

স্তন্যপায়ীদের মধ্যে পোষা প্রাণী হিসেবে বিড়ালের কদর সবচেয়ে বেশি। বিড়াল শান্তশিষ্ট প্রাণী, তার মেজাজ-মর্জিও অন্যসব পোষা প্রাণী থেকে আলাদা। বিড়ালের প্রতি মানুষের মমত্ববোধ যুগ যুগ ধরে অব্যাহত। পাহাড় ও অরণ্যের মেলবন্ধনের অনিন্দ্য ভূমিতট চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয় ক্যাম্পাস ও আবাসিক এলাকায় বহুমাত্রিক প্রাণবৈচিত্র্যে অভাব নেই। অবাধে ঘুরে বেড়ায় নানা বন্য প্রাণী। বিভিন্ন বাড়িতে রয়েছে পোষা প্রাণীও। যার মধ্যে বিড়ালের সংখ্যা সবচেয়ে বেশি।

মানব সমাজে ঠিক কবে থেকে বিড়ালকে পোষা প্রাণী হিসেবে রাখার প্রচলন শুরু হয়, তার সুনির্দিষ্ট কোনো তথ্য নেই। প্রাক-ইসলামি যুগ থেকে শুরু করে নবী করিম (সা.)-এর জামানায় অনেকেই বিড়াল পুষতেন। এমনকি সবচেয়ে বেশি হাদিস বর্ণনাকারী (৫৩৭৫টি হাদিস তিনি বর্ণনা করেছেন) সাহাবি হজরত আবু হুরায়রা (রা.)-কে 'বিড়ালের পিতা' বলে ডেকেছেন স্বয়ং নবী করিম (সা.)। তিনিও বিশ্ববাসীর কাছে আবু হুরায়রা বা  'বিড়ালের পিতা' নামে পরিচিত, যদিও তার প্রকৃত নাম আবদুর রহমান ইবনে সাখর।

আবু হুরায়রা বা 'বিড়ালের বাবা' নামটির পেছনে একটি মজার কাহিনী রয়েছে। একদিন হজরত আবু হুরায়রা (রা.) জামার আস্তিনের নিচে একটি বিড়ালছানা নিয়ে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.)-এর দরবারে উপস্থিত হন। সে সময় বিড়ালটি হঠাৎ করে সবার সামনে বেরিয়ে পড়ল। এ অবস্থা দেখে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) তাকে রসিকতা করে, ‘হে বিড়ালের পিতা’ বলে সম্বোধন করলেন। এরপর থেকে তিনি আবু হুরায়রা নামে খ্যাতি লাভ করেন। আর সেদিন থেকে তিনি নিজেকে আবু হুরায়রা নামেই পরিচয় দিতে পছন্দ করতেন।


উপরোক্ত ঘটনার পরিপ্রেক্ষিতে বোঝা যায়, ইসলামে বিড়াল পালনে কোনো বাধা নেই। যারা মসজিদের হারাম কিংবা মসজিদে নববিতে যান, তারা সেখানে প্রচুর বিড়াল ছোটাছুটি করতে দেখেন। আগত মুসল্লিরাও তাদের পানি কিংবা খাবার দিয়ে থাকেন।

অনেকেই জানতে চান, বিড়াল পালা কি জায়েজ? এর উত্তরে ইসলামি স্কলাররা বলেছেন, হ্যাঁ, বিড়াল পালা বৈধ। তবে তাকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। বিড়াল পুষতে চাইলে অবশ্যই তাকে পর্যাপ্ত খাদ্য-পানীয় সরবরাহ করতে হবে। বিড়ালের প্রতি যথাযথ দয়া-অনুগ্রহ দেখাতে হবে। বিড়ালকে কোনো ধরনের কষ্ট দেওয়া যাবে না। শুধু বিড়াল নয় কোনো প্রাণীর ওপর কোনো ধরনের অমানবিক নির্যাতন কিংবা অবিচার করলে গোনাহগার হতে হবে।

প্রসঙ্গে হাদিস শরিফে রয়েছে যে, হজরত আবু হুরায়রা (রা.) থেকে বর্ণিত, হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘জনৈক মহিলাকে বিড়ালের প্রতি অমানবিক আচরণের কারণে আজাব দেওয়া হয়। সে বিড়ালটি বন্দি করে রাখে, এ অবস্থায় বিড়ালটি মারা যায়। এমনকি বন্দি করে রেখে পানাহার করায়নি এবং ছেড়েও দেয়নি, যাতে করে বিড়ালটি জমিনের পোকা-মাকড় খেয়ে বাঁচতে পারে।’ (সহিহ মুসলিম : ৫৭৪৫)

বর্ণিত হাদিসের ব্যাখ্যায় হাফেজ ইবনে হাজার (রহ.) বলেন, ইমাম কুরতুবি (রহ.) বলেছেন, ‘এ হাদিস থেকে বিড়াল পালা ও বিড়ালকে বেঁধে রাখা জায়েজ বলে প্রমাণিত হয়, যদি তাকে খানাপিনা দেওয়ার ব্যাপারে ত্রুটি না করা হয়।’ (ফাতহুল বারি : ৬/৪১২)


এ ছাড়া আরও কিছু হাদিস রয়েছে, যা থেকে বিড়াল পালন জায়েজ প্রমাণিত হয়। সুতরাং পৃথিবীতে বিড়ালসহ আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে, সবকিছুর প্রতি দয়া ও অনুগ্রহ করতে হবে। কেননা, নবী করিম (সা.) নিজেও তা করেছেন। হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) যখন অজু করতেন তখন নিজের অজুর পাত্র থেকে বিড়ালকে পানি পান করাতেন। এ সম্পর্কে হাদিস বর্ণিত হয়েছে, হজরত আবদুল্লাহ ইবনে আমর (রা.) থেকে বর্ণিত, এক হাদিসে হজরত রাসুলুল্লাহ (সা.) বলেন, ‘দয়াবানদের ওপর দয়াময় আল্লাহও দয়া করেন। তোমরা জমিনের অধিবাসীদের প্রতি দয়া করো, তাহলে যিনি আসমানে আছেন, তিনি তোমাদের প্রতি দয়া করবেন।’ (আবু দাউদ : ৪৯৪১)

দুনিয়ায় আল্লাহর যত সৃষ্টি রয়েছে সবকিছুর প্রতি দয়া অনুগ্রহ করতে হবে। বিশেষ করে, মানুষের পরম বন্ধু বিড়ালের প্রতি ভালোবাসা বা মমত্ববোধ দেখাতে হবে। সমাজের অনেকেই আছে, যারা বিড়াল দেখলে তাড়িয়ে দেয়, অকারণে পেটায়, গায়ে গরম পানি ছুড়ে মারে এসব পাপের কাজ; যা মোটেও কাম্য নয়।

চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের আবাসিক এলাকায় বিড়ালের প্রতি স্নেহ ও প্রেমের অম্লান দৃষ্টান্ত দেখা গেছে। একটি বিড়ালের আকস্মিক মৃত্যুতে মানবিক বেদনার ধারাও লক্ষ্য করা গেছে। রাজনীতি বিজ্ঞান বিভাগের বরিষ্ঠ অধ্যাপক, সেন্টার ফর এশিয়ান স্টাডিজ-এর প্রতিষ্ঠাতা-পরিচালক ড. ভূঁইয়া মো. মনোয়ার কবির জানান, 'আমাদের বাসার বিড়ালটা আজ (শুক্রবার) বেলা পৌনে বারোটার দিকে মারা গিয়েছে। তাকে আমি ডাকতাম "ঘুষুমা" বলে, আমার মেয়ে ডাকত "পেঙ্গু" আর আমার স্ত্রী, আনোয়ারা ম্যাডাম, "এনজো" বলে ডাকতেন। সে একটা হুলো বিড়াল ছিল। তার বয়স হয়েছিল মাত্র দশ মাস।'

তিনি জানান, 'আমাদের ক্যাম্পাসস্থ বাসায় প্রথমে বিড়ালটা মায়ের আশ্রয়স্থল হয়। এরপর এই বাসাতেই বাচ্চাটার জন্ম হয়। বাসাতেই বড় হয়। ম্যাডামের উদ্যোগে বাসার সবার আদরে, যত্নে, ভালোবাসায়, বাসার একজন সদস্য হিসাবে। আমাদের সবার প্রতি তার দাবী ছিল আলাদা।'

শুক্রবার (২১ জানুয়ারি) সকালে রুটিন অনুযায়ী আমি তাকে দুধ ও টোস্ট বিস্কুট খেতে দেই। উল্লেখ্য, ও শীতে আমার কম্বলের নীচে ঘুমাত।

তারপর রুটিনমতোই বাসা থেকে বের হয়ে তিন রাত পরে ভয়ংকর অসুস্থ ও কাহিল অবস্থায় রাত পৌনে একটার দিকে বাসার দরজায় বসে কান্না করতে থাকে। এটা অস্বাভাবিক রকমের ব্যতিক্রম ছিল। একটানা এতদিন কখনো সে বাইরে থাকেনি। দিনে চার-পাঁচবার সে বাসায় আসতো, খেতো। তো, ওর কান্না শুনে ম্যাডাম ওকে ভেতরে নিয়ে আসেন। অবশেষে সে বাসায় এলো বলে মনে স্বস্তি পেলেও তার পরিস্থিতি দেখে ভয় পেলাম, কষ্ট হলো। বাঁচবে তো! এমন অলক্ষুণে চিন্তা মাথায় এসে গেল। আমি নিজেই তখন অনেক অসুস্থ। ভয় বেড়ে গেল যখন দেখলাম সে ঠিকমত হাঁটতে পারছেনা, সারা শরীরে আঘাতের চিহ্ন। কিছুই খাচ্ছিলনা দেখে মনের ভিতরটা আৎকে উঠল। তবুও আশায় বুক বেঁধে রইলাম। কলিগ/ক্যাম্পাসের ভাতিজা পিলু (প্রাণীবিদ্যা বিভাগের আব্দুল ওয়াহেদ চৌধুরী)'র সাথে পরামর্শক্রমে হাটহাজারীতে প্রাণিসম্পদ অফিসে ডাক্তার দিয়ে দেখানো হলো। কিন্তু সবার ভালোবাসা নিয়ে, সবাইকে ভালোবাসায় কাঁদিয়ে আমাদের "ঘুষুমা"/"পেঙ্গু"/"এনজো" এই নিষ্ঠুর দুনিয়া ছেড়ে চলে গেল। জানান প্রফেসর কবির।

বিড়ালের মৃত্যুতে বাড়ির কারোই মন ভালো নেই। যারা বিড়ালটিকে দেখেছেন, তারা সবাই মর্মাহত। ঘটনাটি যারা শুনেছেন, তারাও বেদনাহত।  অবলা প্রাণী ও গৃহপালিত পশুর প্রতি মমত্বের চেতনায় দীপ্ত এই ঘটনা ক্যাম্পাস জীবনে গভীর প্রভাব বিস্তার করেছে। একটি বিড়ালের মৃত্যুতে আর্দ্র হয়েছে বহু হৃদয়।

;

দীর্ঘ লেজে উড়ন্ত সৌন্দর্যময় ‘বড় ভীমরাজ’



বিভোর বিশ্বাস, বার্তা২৪.কম, সিলেট
বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

বনের সুস্বাস্থ্যর জানান দেয় ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

  • Font increase
  • Font Decrease

বনের নিস্তব্ধতা। উঁচু গাছের মগডালে ডেকে চলেছে একটি পাখি। তবে যে পাখিটির যে ডাক হওয়ার কথা এই ডাকটি ওই পাখিটির নয়। উঁচু ডালের পাখিটি অন্য একটি পাখির ডাক নকল করে দিব্বি প্রতিধ্বনি ছড়াচ্ছে সবুজ সমারোহে।

গবেষকের মতে, বড় ভীমরাজ অন্যপাখির ডাক নকলে পটু। শুধু তা-ই নয়, ‘ভি’ আকারের লম্বা লেজের দু’পাশটি চিকন এবং মনোমুগ্ধকর। ওই লম্বা লেজ নিয়ে যখন উড়াল দেয় তখন এ দৃশ্যটি দৃষ্টিনন্দন লাগে। এই বিশেষ ধরণের বাহারি লেজ ভীমরাজের অন্যতম স্বতন্ত্র বৈশিষ্ট্য।

বড় ভীমরাজের ইংরেজি নাম Great Racket tailed Drongo এবং বৈজ্ঞানিক নাম Dicrurus Paradiseus। আকারে আমাদের পাতিকাকের সমান। আন্তর্জাতিক প্রকৃতি ও প্রাকৃতিক সম্পদ সংরক্ষণ সংঘ (আইইউসিএন) এর তথ্য অনুযায়ী এরা ‘ন্যূনতম বিপদগ্রস্ত’ পাখি।

‘ভি’ আকারের দীর্ঘ লেজের পাখি ভীমরাজ। ছবি: ড. কামরুল হাসান

জাহাঙ্গীরনগর বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রাণিবিদ্যা বিভাগের অধ্যাপক এবং বন্যপ্রাণি গবেষক ড. কামরুল হাসান বলেন, বড় ভিমরাজ পাখি চিরসবুজ বনের পাখি। বনের বাইরে বা লোকালয়ে এদেরকে পাওয়া যায় না। এরাও পতঙ্গভুক পাখি। যে সব বনে পোকা ও কীটপতঙ্গের উৎপাদন খুব ভালো সেখানে তাদের খুঁজে পাওয়া যায়। উড়ন্ত পোকা এরা ধরে ধরে খায়। এছাড়াও ফুলের মধু এবং পাখির ডিমও এরা খেয়ে থাকে।

শারীরিক বৈশিষ্ট্য উল্লেখ করে তিনি বলেন, ‘এদের দেহ নীলাভ কালো চকচকে। এই পাখিটির কপালে রয়েছে বিশাল ঝুঁটি। এদের লেজ লম্বা এবং দেখতে অনেকটা রকেটের মতো। লেজের শেষভাগের দুই দিকের পালকটি বাঁকানো। এদের চোখ বাদামি-লালচে। পালক এদের শারীরিক উচ্চতা প্রায় ৩২ সেন্টিমিটার এবং ওজন প্রায় ১২০ গ্রাম।’  

 ‘বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, শ্রীলঙ্কা, নেপাল, ভূটান, চীন, মিয়ানমার, থাইল্যান্ড, মালয়েশিয়াসহ পূর্ব এবং দক্ষিণপূর্ব এশিয়ায় এর বৈশ্বিক বিস্তৃতি রয়েছে।’

এদের এ বিশেষ বৈশিষ্ট্য হলো- এরা অন্যপাখির ডাক নকল করতে পারে। দেখা যায়, বনের মাঝে অন্যপাখির শিস নকল করে দিব্বি ডেকে চলেছে ভীমরাজ। এদের গলার আওয়াজ বেশ সুরেলা। অন্যান্য পাখির ডাক ও গান সহজে নকল করতে এরা পারদর্শী বলে জানান ড. কামরুল হাসান।

;

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা



আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ
বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

বাঙ্গালপাড়া চৌদ্দমাদল মেলা

  • Font increase
  • Font Decrease

সুযোগ পেলেই চলে আসি বাংলাদেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের ঐতিহ্য ও সাংস্কৃতিক সৌন্দর্যের কাছে। এবার কিশোরগঞ্জের হাওরের অষ্টগ্রামের বাঙ্গালপাড়ায় স্থানীয় হিন্দু ধর্মাবলম্বীদের উৎসব চৌদ্দমাদল উপলক্ষে ৪ দিন ব্যাপী মেলায় এসেছি।

 


১৮ জানুয়ারি থেকে বাঙ্গালপাড়া উচ্চ বিদ্যালয় খেলার মাঠে মেলা চলছে। এবার ৯১তম মেলাকে ঘিরে হাওরের এ গ্রামীণ জনপদে প্রাণচাঞ্চল্যের দেখা মিললে। মেলা উপলক্ষে জাতি, ধর্ম, বর্ণ ভেদাভেদ ভুলে পারস্পরিক আনন্দ প্রীতি বিনিময়ের মধ্য দিয়ে পরস্পরের মধ্যে সুন্দর বন্ধুত্ব গড়ে উঠেছে। এলাকায় সাজ সাজ রব পড়ে গেছে এই মেলাকে ঘিরে। উৎসব মূখর পরিবেশ বিরাজ করছে এলাকার ঘরে ঘরে।


মেলায় দেশের নানা জায়গার প্রায় পাঁচশত ব্যাবসায়ী মিষ্টি, উইড়া, ফল, চটপটি, খেলনা, কসমেটিক, প্রসাধনী, জুতা, কাপড়, কাঠের ফার্নিচার, তৈজষপত্র, কৃষি যন্ত্রপাতি, গৃহস্থালি আসবাবপত্রসহ নানা রকম দোকানের পসরা সাজিয়ে বসেছেন।

 


মেলায় বাহারী আসবাবপত্রের পসরা ছাড়াও চিত্তবিনোদনের জন্য রয়েছে রেলগাড়ি, নাগরদোলা,নৌকাদোলা, পুতুলনাচ ইত্যাদি।

 


 

হারিয়ে যাওয়া গ্রামীণ মিষ্টান্নে ভরপুর মেলা। গজা, জিলাপি, তালের পিঠা, মিষ্টি, নাড়ু, মোয়া ইত্যাদি তৈরি করে বিক্রি করা হচ্ছে। স্বাদে, গন্ধে অপূর্ব সেসব মিষ্টান্ন।

 


 

মেলায় এসেছে গ্রামীণ অনেক বাদ্যযন্ত্র। বিলুপ্ত হওয়ার পথে এসব বাদ্যযন্ত্র রক্ষা পাচ্ছে এসব গ্রাম্যমেলার মাধ্যমে। অনেকে শখে আর অনেকে প্রয়োজনে সংগ্রহ করছেন এসব সামগ্রী।

 


 

মেলা উদযাপন কমিটি স্বাস্থ্য বিধি মেনে, মাস্ক পরিধান করে দর্শনার্থীদের প্রবেশের জন্য নির্ধারিত প্রবেশদ্বার নির্মাণ করেছেন। সচেতনতা বৃদ্ধির লক্ষ্যে করোনা সংক্রমণ রোধে স্বাস্থ্য বিষয়ক প্রচারণা চালাচ্ছেন স্বাস্থ্যকর্মীরা।

আবু রায়হান ওবায়দুল্লাহ, অনলাইন অ্যাক্টিভিস্ট, ট্র্যাভেলর, ব্লগার।

;

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট



ছাইদুর রহমান নাঈম, ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা ২৪.কম, কিশোরগঞ্জ
ছবি: বার্তা ২৪.কম

ছবি: বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রতিবছরের মতো এবারও শুরু হয়েছে ঐতিহ্যবাহী দরগাহ মেলা। হাজারো মানুষের আনাগোনাতে জমে উঠেছে গ্রাম্য মেলা। মেলায় বিভিন্ন রকমের জিনিসপত্রের পসরা সাজিয়ে বসেছে বিক্রেতারা। ছোট বড় সবাই আসছে মেলা দেখার জন্য। কসমেটিকস সহ সবধরনের দোকান রয়েছে। তবে সবার থেকে আলাদা হচ্ছে মেলাতে আসা মাছের বাজার। বিভিন্ন রকমের বড় মাছের সমাহার মেলাতে।

কিশোরগঞ্জ জেলার পাশ্ববর্তী মনোহরদী উপজেলার খিদিরপুর ইউনিয়নের কটিয়াদী-মনোহরদী সড়কের পাশেই দরগাহ বাজারে এই মেলা। এই মেলা শুরু হয়েছে মঙ্গলবার (১৮ জানুয়ারি) থেকে। মেলা চলবে টানা পাঁচ দিন।

দরগাহ মেলায় নজর কাড়ছে বড় মাছের হাট

এ মেলার সময় আশেপাশের এলাকার মেয়ে আর জামাইকে দাওয়াত করে আনা হয়। তারপর মেলা থেকে বড় বড় মাছ কিনে, সেই মাছ জামাইকে খাওয়ানো হয়। এটা এখানকার দীর্ঘ দিনের একধরনের প্রচলিত নিয়ম।

‘মাছের মেলা’ নাম শুনলেই চোখের সামনে ভেসে ওঠে বড় বড় মাছের ছবি। এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ। এর মধ্যে নদীর বড় বড় বাঘাইর, আইড়, বোয়াল, কাতলা, পাঙ্গাস, সামুদ্রিক টুনা, ম্যাকরেল ইত্যাদি উল্লেখযোগ্য পরিমাণে বেচাকেনা হয়। তবে, চাষের বিভিন্ন ছোট বড় আকারের মাছও পর্যাপ্ত পাওয়া যায়।

এখানকার অন্যতম আকর্ষণ বিভিন্ন প্রজাতির বড় বড় মাছ।

মেলার প্রথম দিন সরেজমিনে গিয়ে দেখা যায়, মেলায় দর্শনার্থীদের ভীড় লেগেই আছে। মেলায় সবকিছু ছাপিয়ে সবার দৃষ্টি যেন মাছের বাজারের দিকে। একটি রুই মাছ দাম হচ্ছে ৪০ হাজার টাকা। বোয়াল মাছ ৩০ হাজার, বাঘা’ইর ২৫ হাজার, চিতল ৩০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছে বিক্রেতারা। নরসিংদী, বি-বাড়িয়া, গাজীপুর থেকে এসেছেন মাছ নিয়ে।

মাছ বিক্রেতা আবুল হোসেন বলেন, ‘১০ টি রুই মাছ, ৫ টি কাতল মাছ নিয়ে এসেছি মেলায়। রুই মাছ ৪০ হাজার টাকা দাম চাচ্ছি। ক্রেতারা ২০-২৫ হাজার টাকা বলছেন। ৩০ হাজার হলে বিক্রি করবো।’

এলাকার জামাই আহমদ আলী বলেন, ‘মেলা উপলক্ষে বেড়াতে আসছি। ৩৫ হাজার টাকা দিয়ে একটি বোয়াল মাছ কিনলাম। তবে মেলার বাজারে মাছের দাম চড়া মনে হচ্ছে।’

মেলায় থাকে বড় বড় আর লোভনীয় মাছের বিশাল সংগ্রহ, বিকিকিনি, সংসারের যাবতীয় উপকরণ, বিনোদনের জন্য সার্কাস, নাগরদোলা, পালাগান ইত্যাদি।

মেলা চলাকালে একসঙ্গে প্রচুর বড় ও জীবিত মাছ পাওয়া যায়। এলাকার অনেক মাছচাষি কেবল মেলায় অধিক লাভে বড় মাছ বিক্রির জন্য মাছ বড় করে তোলেন। তাছাড়া মেলায় বিক্রির জন্য বেশ আগে থেকেই নদীর বাঘাইর, আইড় ইত্যাদি মাছ স্থানীয় পুকুরগুলোতে বা অন্য জলাশয়ে বেঁধে রাখা হয়।

মেলায় কেবল যে মাছ পাওয়া যায় তা নয়, মাছ ছাড়াও কাঠের আসবাবপত্র, বাঁশ ও বেতসামগ্রী, লৌহজাত দ্রব্য, ফলমূল, নানা ধরনের মিষ্টি ও মিষ্টিজাত দ্রব্য এবং প্রচুর চুন পাওয়া যায়।

;