রিচার্জেবল পৃথিবী গড়ার প্রত্যয়ে নোবেল দেওয়া হলো রসায়নে

সাইফুল মিল্টন, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
জন বি গুডেনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো

জন বি গুডেনাফ, এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও আকিরা ইয়োশিনো

  • Font increase
  • Font Decrease

সেলফোন বা টেলিভিশনের রিমোট কন্ট্রোলার থেকে ইলেকট্রিক কার—সর্বত্রই রিচার্জেবল ব্যাটারির ব্যবহার আমাদের দৈনন্দিন জীবনকে করেছে বেগবান। সেই ১৮০০ সালে বিজ্ঞানী আলেসান্ড্রো ভোল্টার প্রথম ইলেকট্রিক ব্যাটারি আবিষ্কারের পর আরো উন্নত মানের ব্যাটারি উদ্ভাবনের চেষ্টা বিজ্ঞানী মহলে অব্যাহত ছিল।

আরো পড়ুন ➥ অ্যাবি আহমেদ শান্তিতে নোবেল পেলেন পশ্চিমাপ্রীতির কারণে!

জীবাশ্ম জ্বালানিবিহীন বিদ্যুৎ উৎপাদানে লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি আবিষ্কার ও এর ধারাবাহিক উন্নয়নের জন্য এবছর রসায়নে নোবেল পুরস্কার পেলেন তিন বিজ্ঞানী। তাঁরা হলেন মার্কিন বিজ্ঞানী জন বি গুডেনাফ, ব্রিটিশ বংশোদ্ভূত আমেরিকান বিজ্ঞানী এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ও জাপানী বিজ্ঞানী আকিরা ইয়োশিনো।

আরো পড়ুন ➥ সৃষ্টিরহস্য ও জ্যোতির্বিজ্ঞানে নতুন মাইল ফলক

নোবেল বিজয়ী জাপানী বিজ্ঞানী আকিরা ইয়োশিনোকে বলা হয় আধুনিক লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির জনক। তিনি ১৯৮৫ সালে পূর্ববর্তী লিথিয়াম ব্যাটারির মডেলে একটি গুণগত পার্থক্য এনে নিরাপদ, টেকসই ও অধিক ক্ষমতাসম্পন্ন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির উদ্ভাবন ও বাণিজ্যিক উৎপাদনে অগ্রণী ভূমিকা পালন করেন। জাপানের আসেই কাসেই কর্পোরেশনের গবেষক ও মেইজো বিশ্ববিদ্যালয়ের অধ্যাপক আকিরা ব্যাটারির অ্যানোডে পেট্রোলিয়াম কেক ব্যবহার করেন যা ব্যাটারিকে অধিক চার্জ নিরাপদে সংরক্ষণে সক্ষম করে।

◤ লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারির কার্যপ্রণালি ◢


ব্যাটারিতে বৈদ্যুতিক শক্তি রাসায়নিক শক্তি হিসাবে সঞ্চিত থাকে। একটি ব্যাটারির তিনটি অপরিহার্য অংশ হলো অ্যানোড, ক্যাথোড ও ইলেকট্রলাইট। অ্যানোড ও ক্যাথোড হচ্ছে ঋণাত্মক ও ধনাত্মক চার্জযুক্ত দুটি দণ্ড যাদের সাধারণভাবে ইলেকট্রোড বলে। আমরা যখন ব্যাটারি চালাই তখন ঋণাত্মক চার্জযুক্ত ইলেকট্রন অ্যানোড থেকে ক্যাথোডে একটি সরু সার্কিটের মাধ্যমে প্রবাহিত হয় যার মাধ্যমে বৈদ্যুতিক শক্তির সৃষ্টি হয়। আবার যখন ব্যাটারি চার্জ দেওয়া হয় তখন অ্যানোডে ঋণাত্মক চার্জ পরবর্তী ব্যবহারের জন্য সঞ্চিত হয়।

আরো পড়ুন ➥ যে কারণে চিকিৎসায় নোবেল পেলেন বিজ্ঞানীত্রয়ী

লিথিয়াম ব্যাটারির বিপ্লবটা কিন্তু শুরু হয়েছিল বিংশ শতাব্দীর ৭০-এর দশক থেকে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রের বিংহামটন ইউনিভার্সিটির মেটারিয়াল সায়েন্স ও প্রকৌশল প্রোগ্রামের পরিচালক ও রসায়নের অধ্যাপক এম স্ট্যানলি হুইটিংহ্যাম ১৯৭০ সালে পুরাতন অ্যালকালিন ব্যাটারির বদলে লিথিয়াম ব্যাটারি নিয়ে পরীক্ষা-নিরীক্ষা শুরু করেন। হুইটিংহ্যামের লিথিয়াম ব্যাটারি ২ ভোল্ট বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদনে সক্ষম ছিল।

◤ হুইটিংহ্যামের ব্যাটারির মডেল ◢


১৯৮০ সালে নোবেল ইতিহাসের সবচেয়ে বর্ষীয়াণ বিজয়ী জন বি গুডেনাফ (৯৭) পূর্ববর্তী লিথিয়াম ব্যাটারির ক্যাথোডে টাইটেনিয়াম ডাই সালফাইডের পরিবর্তে কোবাল্ট অক্সাইড ব্যবহার করেন। টাইটেনিয়াম ডাই সালফাইড নির্মিত ক্যাথোডে বিভিন্ন লেয়ারের মাঝ দিয়ে ইলেকট্রন লস হতো যা কোবাল্ট অক্সাইডের লেয়ার দিয়ে প্রবাহিত হতে পারে না। এ কারণে গুডেনাফের উদ্ভাবিত মডেল ৪ ভোল্টের বিদ্যুৎ শক্তি উৎপাদন করে।

◤ গুডেনাফের ব্যাটারির মডেল ◢


অবশেষে, ১৯৮৫ সালে বিজ্ঞানী আকিরা মেটাল লিথিয়ামের পরিবর্তে লিথিয়াম আয়ন ব্যবহার করে এর বাণিজ্যিক উৎপাদনের পথ সুগম করেন।

আরো পড়ুন ➥ সাহিত্যে একত্রে ঘোষিত হলো দু বছরের নোবেল বিজয়ীর নাম

নোবেল জুরি বোর্ডের সদস্যরা বলেন, হালকা, পরিবহনযোগ্য ও অধিক চার্জ সম্পন্ন লিথিয়াম আয়ন ব্যাটারি শুধু মানুষের জীবন সহজ করবে না, জীবাশ্ম জ্বালানির ওপর নির্ভরশীলতাও কমাবে। পরিবেশ দূষণ ও জলবায়ু পরিবর্তনের ক্ষতিকারক প্রভাব থেকে পরিবেশকে রক্ষা করতে ভূমিকা পালন করবে।

আপনার মতামত লিখুন :