বিশ্বসেরা নারী স্পাই মাতাহারি মৃত্যুর আগে চুম্বনসিক্ত হতে চেয়েছিলেন

জাভেদ পীরজাদা, কন্ট্রিবিউটিং করেসপন্ডেন্ট
মার্গারেটা গিরট্রুইডা মাতাহারি

মার্গারেটা গিরট্রুইডা মাতাহারি

  • Font increase
  • Font Decrease

মাতাহারি। তার কোড নাম এইচ-২১। আসল নাম মার্গারেটা গিরট্রুইডা। আরো নাম আছে, বিশটিরও বেশি। এত নাম কেন? কারণ তিনি ছিলেন প্রথম বিশ্বযুদ্ধের গুপ্তচর। জন্ম ১৮৭৬ সালের ৭ আগস্ট। মারা যান ১৯১৭ সালের ১৫ অক্টোবর, মাত্র ৪১ বছর বয়সে। সে বছর জার্মানি ও ফ্রান্স, উভয় পক্ষে কাজ করতে গিয়ে শেষপর্যন্ত ফরাসিদের হাতে তিনি ধরা পড়েন। পরে ফ্রান্সে গুলি চালিয়ে তাকে হত্যা করা হয়। মৃত্যুর আগে জানতে চাওয়া হয়েছিল, শেষ কোনো ইচ্ছা আছে কি না? তিনি বলেছিলেন, “সবাই আমাকে চুম্বন করো। চুম্বন খেতে খেতে মরতে চাই।”

১৯০০ সালের শুরুতে তিনি প্যারিসের হোটেলগুলো মাত করে দেন ক্যাবারে ড্যান্সার হিসেবে। তার দিকে দৃষ্টি পড়ে মন্ত্রী, সেনা কর্মকর্তা, মাস্তান, গুপ্তচর, ব্যবসায়ী—সবার। তিনি নেচে যেভাবে রোজগার করতেন তেমনি অর্থের বিনিময়ে শরীরও বেচতেন। ডায়েরিতে তিনি লিখেছিলেন, “শরীর নিয়ে ট্যাবু থাকে অশিক্ষিতদের। সবাই বহুগামী। কেউ মনোজগতে। কেউ বাস্তবে।” তার বয়স যখন ১৮, তখন ডাচ সংবাদপত্রে প্রকাশিত ‘পাত্রী চাই’ বিজ্ঞাপনে সাড়া দিয়ে সামরিক কর্মকর্তা ক্যাপ্টেন রুডলফ ম্যাকলেওডকে বিয়ে করেন। স্বামীর সাথে ডাচ ইস্ট ইন্ডিজ উপনিবেশে (বর্তমানে ইন্দোনেশিয়ায়) বসবাস শুরু করেন। সেসময় তিনি অস্ত্র চালানো, মদ্যপান, কৌশলে তথ্য জানার পদ্ধতিগুলো শেখেন। এরপর ডিভোর্স! আর সেই থেকে শুরু তার বেপরোয়া জীবন।

তিনি এক জারশাসক, ইংল্যান্ডের সেনাপ্রধানসহ অনেকের সঙ্গে রাত কাটিয়েছেন। বিশ্বযুদ্ধের সময় জার্মানির কর্নেল হাইডে’র প্রেমে পড়েন। শুরু করেন ফ্রান্সের তথ্য পাচার। ফ্রান্স সরকারের তালিকাভুক্ত গুপ্তচর ছিলেন তিনি। কিন্তু জার্মানির হাইডে তার কাছ থেকে সব তথ্য জেনে নিতেন। রাইন নদীতীরে এক বিকেলে হাইডের কাঁধে মাথা রেখে মাতাহারি বলেন, “তোমাকে সত্যি ভালোবাসি বলেই জার্মানকে আমি ভালোবাসি। আমরা যুদ্ধ শেষে এক দেশ থেকে অন্য দেশে ঘুরে বেড়াব, আর প্রতিদিনই অনেক আপেল কেটে মোম জ্বালিয়ে বাসররাত উদযাপন করব। তুমি রাজি তো?’ হাইডে রাজি হয়েছিলেন। কিন্তু যুদ্ধ শেষ হওয়ার আগেই মাতাহারির মৃত্যু ও জার্মানির পরাজয়ে তিনি পাগল হয়ে যান। ভর্তি হন হাইডেলবার্গের স্যানাটোরিয়ামে। শুধু বিড়বিড় করতেন ‘হোয়্যার এইচ-২১।’

◤ নৃত্যরত মাতাহারি, ১৯০৫ ◢


এদিকে মৃত্যুর আগে চুম্বনসিক্ত হওয়ার পাশাপাশি একমাত্র কন্যাকে কাছে পাওয়ার জন্যেও ব্যাকুল হয়েছিল তিনি। একসময় উপার্জন না থাকায় আদালতের নির্দেশে সাবেক স্বামীর কাছেই রেখে আসতে হয়েছে মেয়েকে। পরে উপার্জন শুরু করলেও পতিতা হিসেবে অপমান করে তাড়িয়ে দিয়েছিলেন সেই স্বামী। চরিত্রহীন, বাজে নারীর কাছে মেয়েকে দেওয়া যাবে না। মেয়েকে লেখা অজস্র চিঠি সব ফেরত এসেছে, একটাও দেওয়া হয়নি মেয়েকে। একবার তো ব্যাকুল মা মেয়েকে স্কুল থেকে অপহরণও করার চেষ্টা করেছিল কিন্তু সফল হয়নি। মৃত্যুর আগেও প্রেমিক হাইডে আর মেয়েকে চিঠি লিখেছিল মাতাহারি, জেল কর্তৃপক্ষকে অনুরোধ করেছিলেন তাঁর জীবনের শেষ ইচ্ছা, এই চিঠি দুটো তাদের পাঠিয়ে দেওয়া হোক। কিন্তু দেওয়া হয়নি।

তাঁকে নিয়ে মুভি করেছেন নির্মাতা সোফি ফিয়েননেস। আর নর্তকী মাতাহারির চরিত্রে শরীর দুলিয়েছেন ম্যাক্সিকান সুন্দরী সালমা হায়েক। তবে আজ অবধি মাতাহারির বিরুদ্ধে অভিযোগ তোলা গুপ্তচরবৃত্তি প্রমাণিত হয়নি। আজও ফরাসি সরকার মাতাহারি সংক্রান্ত নথিপত্র প্রকাশে অনিচ্ছুক। অবশেষে মাতাহারি আসছেন বড় পর্দায়। সালমা বলেন “সোফি আমাকে বলেছে মাতাহারিকে নিয়ে আমাদের অনেক ভুল ধারণা রয়েছে। তার নাচের দক্ষতাকে সেনাকর্তা এবং উচ্চপদস্থ কূটনীতিবিদদের প্রলুব্ধ করতে ভুলভাবে ব্যবহার করা হয়েছে। অনেক পুরুষই তাকে বিশেষভাবে পছন্দ করতেন। কিন্তু তিনি যে গুপ্তচর ছিলেন না সে বিষয়ে যথেষ্ট প্রমাণ রয়েছে। তবে মাতাহারির চরিত্রে আমি অভিনয় করে গর্বিত।”

আপনার মতামত লিখুন :