করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জীবনসংগ্রামের পথে পৃথিবী

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস

ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জীবনসংগ্রামের পথে পৃথিবী/ছবি: সংগৃহীত

করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জীবনসংগ্রামের পথে পৃথিবী/ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

 

শুধু বাংলাদেশেই নয়, সর্বত্রই করোনার আতঙ্ক কাটিয়ে জীবনসংগ্রামের পথে চলেছে পৃথিবী এবং পৃথিবীর সাহসী মানুষ। উৎপত্তিস্থল চীনের উহানে করোনা ঠেকিয়ে জীবন স্বাভাবিক হয়েছে। একই চিত্র ইউরোপ-আমেরিকায়ও। মধ্যপ্রাচ্যে, বিশেষত আরবের পবিত্র মসজিদগুলো একে একে খুলে দেওয়া হচ্ছে। জীবন ফিরে আসছে নিজস্ব ছন্দে।

ডিসেম্বর ২০১৯ সালে আঘাত হানার ছয় মাস পর বিশ্বের দেশে দেশে বিমান, ট্রেন, বাস চালু হচ্ছে। স্বাভাবিক কাজকারবারও ধীরে ধীরে এবং পর্যায়ক্রমে শুরু হচ্ছে। মানুষের জীবন ও জীবিকার যে গতি করোনা স্তব্ধ করে দিয়েছিল, তার সবই ক্রমশ উন্মোচিত হচ্ছে, তবে অবশ্যই সীমিত আকারে এবং সতর্কতার সঙ্গে।

আশা করা হচ্ছে করোনা পরিস্থিতিকে আয়ত্তের মধ্যে নিয়েই মানুষ জীবনের দাবি মিটিয়ে এগিয়ে যাবে, জীবনবিমুখ হয়ে পড়ে থাকবেনা। নানা বিপদের মতো করোনার আপদকেও লাগাম টেনে পৃথিবী চলবে তার স্বাভাবিক গতিতে আর মানুষ চলবে স্বাভাবিক নিয়মে।

ঘোরতর এই পরিস্থিতিতেও করোনার বিরুদ্ধে সামাজিক ও ব্যক্তিগত প্রতিরোধের পাশাপাশি বিজ্ঞানীরা নানাবিধ প্রতিষেধক আবিষ্কারে মগ্ন। সর্বশেষ খবর হলো,  চীনা বিজ্ঞানীদের তৈরি ‘কোরোনাভ্যাক’ ভ্যাকসিন করোনার বিরুদ্ধে লড়তে ৯৯ শতাংশ কার্যকরী।

আরো আশার কথা হলো, মৃত ও আক্রান্তের সঙ্গে পাল্লা দিয়ে করোনাকে জয় করে ফিরে আসছে অসংখ্য মানুষ। তাদের সংখ্যা ক্রমবর্ধমান। ফলে করোনা পরিস্থিতির ভয়াবহতাকে স্বাভাবিক স্তরে নিয়ে আসতে প্রস্তুত হচ্ছে মানব সম্প্রদায়।    

আস্তে আস্তে সবকিছু স্বাভাবিক হওয়ার মুখে অবশ্যই কিছু বিধিবিধান ও সতর্কতা মান্য করার প্রয়োজন হবে। বার্তা২৪ এ সম্পর্কে আলোকপাত করেছে:

একইভাবে করোনাকালে সমাজ কাঠামো ও মানুষের সুরক্ষার বিষয়টিও প্রাধান্য দিতে হবে। বিরূপ পরিস্থিতিকে মোকাবেলা করে বেঁচে থেকেই সবকিছু করতে হবে।

অতীতেও বৈশ্বিক মহামারি হয়েছে। মহাযুদ্ধ, মারী, মন্বন্তর হয়েছে। পৃথিবীর মানুষকে এসব বিপদ উত্তরণের মাধ্যমেই বেঁচে থাকতে হয়েছে। করোনার ক্ষেত্রেও তাই করতে হবে। মুখ বুঁজে আত্মসমর্পণ করা কিংবা পরাজিত হওয়া মানব স্বভাবের পরিপন্থী। মানুষ সদাসর্বদা লড়াইয়ের জন্য প্রস্তুত। এমনই লড়াই করে মানুষ সভ্যতাকে এগিয়ে এনেছে শতসহস্র বছর ধরে।               

মানুষের সংগ্রামশীলতা নিয়ে অসংখ্য চমৎকার উদ্ধৃতি আছে। যার একটি হলো বাঙালিদের নিয়ে। ছন্দের যাদুকর সত্যেন্দ্রনাথ দত্ত রচিত ভাষ্যটি এরকম: 'মন্বস্তরে মরি নি আমরা মারী নিয়ে ঘর করি, বাঁচিয়া গিয়েছি বিধির আশিষে অমৃতের টীকা পরি।'

সন্দেহ নেই, পৃথিবীর নানাস্থানের মানুষের মতো বাঙালিও রোগ, শোক, মারী, প্রাকৃতিক, রাজনৈতিক, অর্থনৈতিক বিপর্যয় পেরিয়ে বেঁচে আছে। এমন বেঁচে থাকার সংগ্রাম পৃথিবীর সকল মানুষেরই। কারণ  ভয়াল করোনায় লক্ষ মানুষ আক্রান্ত ও মৃত হলেও পৃথিবীতে নানা দুর্যোগ, দুর্ঘটনা, ব্যাধিতে মৃতের সংখ্যা নেহাৎ কম নয়। বরং ক্ষেত্র বিশেষে সেসব সংখ্যা আরো বেশি।

কিন্তু সেগুলো প্রচ্ছন্নে ঘটে, থেমে থেমে ঘটে, নিত্যদিন ঘটে, ফলে সেগুলো মানুষের কাছে সহনীয় ও পরিচিত। কিন্তু করোনা যেহেতু নবাগত, অভিনব ও আকস্মিক তাই চিন্তা ও আতঙ্ক উদ্বেগকারী। এই উদ্বেগও পৃথিবীতে বিরাজমান অসংখ্য উদ্বেগ-উৎকণ্ঠার মতো একটি হয়ে সমাজে মিশে যাচ্ছে এবং মানুষও তার জীবনযাপনে করোনাকে সামলে বেঁচে থাকার উপায় উদ্ভাবন করছে।

ফলে করোনাকে সামলে বিশ্বের দেশে দেশে সবকিছু চালু হচ্ছে। হয়ত পৃথিবী ও মানব প্রজন্ম করোনার প্রাথমিক আঘাত সামলে তাকে মানিয়ে ও মোকাবেলা করে জীবনসংগ্রামের ধারা শুরু করতে যাচ্ছে। এটাকে করোনাকালের দ্বিতীয় পর্যায় বলা যায়। আশা করা হচ্ছে, কোনো এক পর্যায়ে প্রতিষেধক আবিষ্কার হবে এবং করোনাও প্লেগ, ম্যালেরিয়া, ইনফ্লুয়েঞ্জা, কলেরার মতো একটি প্রতিরোধযোগ্য রোগ হয়ে পৃথিবীতে থেকে যাবে।

সবই সম্ভব হবে মানব প্রজাতির সংগ্রামের মাধ্যমে। বিজ্ঞানীর আবিষ্কার, চিকিৎসক-নার্সের সেবা, নেতৃবৃন্দের পরিকল্পনা-কর্মসূচি ও সর্বস্তরের সাধারণ মানুষের নিজ নিজ কর্তব্যকর্মের মাধ্যমে। সেই যাত্রাই শুরু হতে যাচ্ছে সামনের দিনগুলোতে।

পৃথিবীর মানুষের সংগ্রামশীলতায় এভাবে করোনার ঘোরতর সঙ্কুল কালের অবসান ঘটবে, যেমনভাবে অতীতে অস্তমিত হয়েছে বহু দুর্যোগ ও দুর্বিপাক। আশাবাদী মানুষের জীবনসংগ্রামের প্রচণ্ড গতিবেগের সামনে করোনাও অচিরেই পরাভূত হবে।   

আপনার মতামত লিখুন :

  বাংলাদেশে করোনাভাইরাস