কুরবানি ঈদে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য: কারণ ও প্রতিকার



ডা. রিফাত আল মাজিদ, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কুরবানি ঈদের পর এবং বিভিন্ন বিয়ের অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণের পর কিছু মানুষ সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতায় ভোগেন এবং এই নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ চেয়ে থাকেন।

কোষ্ঠকাঠিন্য
কোষ্ঠকাঠিন্য শব্দটি একেকজনের কাছে একেক রকম অর্থবহন করে। কোষ্ঠকাঠিন্য হচ্ছে খুব শক্ত মলত্যাগ হওয়া, কিংবা সপ্তাহে তিনবারের কম মলত্যাগ হওয়া কিংবা মলত্যাগ করতে প্রচুর সময় ব্যয় হওয়া, খুব জোরাজুরি কিংবা বল প্রয়োগ করে কিংবা মলদ্বারে কোন কিছু প্রবেশ করিয়ে মলাশয় খালি করা বা মলত্যাগ করার পর মনে হওয়া যে, মলাশয় খালি হয়নি এরকম। কোষ্ঠকাঠিন্য দুই ধরনের-
১। Acute Constipation বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য
২। Chronice Constipation বা দীর্ঘস্থায়ী কোষ্ঠকাঠিন্য

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য
যদি অল্প কয়েক দিনের জন্য কোষ্ঠকাঠিন্যতার উপসর্গ দেখা দেয়, অথবা কোষ্ঠকাঠিন্যতার সময় যদি তিন মাসের কম হয়, তাহলে এই অবস্থাকে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতা বলে।
উদাহরণস্বরুপ, কোথাও কোনো অনুষ্ঠানে গিয়ে প্রচুর পরিমান গোস্ত খাওয়ার পর দেখা গেলো দুই-তিন দিন মলত্যাগ হচ্ছেনা কিংবা খুব শক্ত অল্প অল্প মলত্যাগ হচ্ছে, তাহলে এই অবস্থাকে Acute constipation বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য বলে।

অথবা দেখা গেলো, প্রতিদিন তিন বেলায় গোস্ত, মাছ, ডিম ইত্যাদি দিয়ে ভাত খাচ্ছে, তাই নিয়মিত মলত্যাগ হচ্ছে না, হলেও শক্ত মলত্যাগ হচ্ছে কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্যতা উপসর্গ দেখা দিচ্ছে, তা যদি তিন মাসের কম সময় হয়ে থাকে, তাহলে একে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হবে। অথবা সারা বছর সুস্থ, কিন্তু কুরবানি ঈদের দিন, ঈদের পরে প্রচুর পরিমান গোস্ত খাওয়ার পর দেখা গেলো মলত্যাগ হচ্ছেনা, পেট ফুলে যাচ্ছে, পেটে ব্যাথা হচ্ছে, তবে এই অবস্থাকেও Acute Constipation বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য বলা হয়।

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতার উপসর্গ

  • মল ত্যাগের সাধারন রুটিন পরিবর্তন হয়ে যাবে

  • শক্ত মলত্যাগ হবে

  • মলত্যাগের সময় মলাশয়ে ব্যথা হবে

  • মলত্যাগ করতে গেলে জোর প্রয়োগ করতে গিয়ে অনেক সময় ব্যয় হবে

  • মলত্যাগ অল্প অল্প হতে পারে

  • পেট ফুলে যেতে পারে

  • পেটে ব্যথা হতে পারে

  • কিছুক্ষন পরপর বায়ু ত্যাগ হতে পারে

  • খাওয়ার রুচি কমে যাবে

  • দুশ্চিন্তা ও অবসাদগ্রস্ত মনে হতে পারে

  • স্বাভাবিক কাজকর্মে ব্যাঘাত ঘটবে

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতার ফলে যেসব জটিলতা দেখা দিতে পারে তা হলো-
* হেমোরয়েড বা পাইলস: পায়ুপথের আশেপাশের রক্তনালী সমূহে প্রদাহ হতে পারে এবং মলত্যাগ করার সময় পায়ুপথে রক্ত যেতে পারে, এমনকি ব্যথাও হতে পারে, পায়ু পথে চুলকানি দেখা দিতে পারে।
* এনাল ফিস্টুলা দেখা দিতে পারে।
* ইউরিনারি ইনকন্টিনেন্স/প্রসাবে অনিয়ম দেখা দিতে পারে।

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতার কারণ
Acute constipation বা সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতা মূলত অস্বাভাবিক লাইফ স্টাইলের কারণে দেখা দেয়। যেমন-

  • আঁশযুক্ত খাবার কম খাওয়া তথা শাক সবজি কম খাওয়া

  • নিয়মিত মলত্যাগ না করা, মলত্যাগ আটকিয়ে রেখে কাজ কর্ম করা

  • নিয়মিত খাবার না খাওয়া

  • পরিমিত ঘুম না যাওয়া, চিন্তা অবসাদগ্রস্ত থাকা ইত্যাদি

  • আইবিএস এর সমস্যা থাকা

  • মেডিসিনের পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া যথা- ক্যালসিয়াম চ্যানেল ব্লকার, এন্টি স্পাজমোডিক, এন্টি ডায়েরিয়াল ড্রাগস, আয়রন ট্যাবলেট, এলুমিনিয়াম যুক্ত এন্টাসিড ইত্যাদি

  • দৈনিক অত্যাধিক পরিমান প্রোটিন খাওয়া যেমন অধিক পরিমান গোস্ত খেলে সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্যতা দেখা দিতে পারে।

দৈনিক প্রোটিনের পরিমান কতটুকু হওয়া চাই?
ইনস্টিটিউট অব মেডিসিন ইউএসএ'র দেওয়া তথ্য অনুযায়ী একজন প্রাপ্তবয়স্ক মানুষের দৈনিক প্রোটিন চাহিদা হচ্ছে ১ গ্রাম/কেজি বডি ওয়েট। অর্থাৎ একজন মানুষের ওজন যদি ৬০ কেজি হয়ে থাকে, আর সে যদি ভারি কোনো কাজ না করে, তাহলে তার দৈনিক প্রোটিন দরকার পড়ে ৬০ গ্রাম। আর ভারি কাজ করলে আরো ৩০ গ্রাম বাড়বে, অর্থাৎ ৯০ গ্রাম প্রোটিন দরকার। এটা হচ্ছে স্বাভাবিক শারিরীক ক্রিয়া প্রক্রিয়া নিয়ন্ত্রনে রাখার জন্য প্রয়োজনীয় প্রোটিন।

তবে একজন সুস্থ মানুষ কোনো পার্শ্বপ্রতিক্রিয়া ব্যতীত দৈনিক সর্বোচ্চ ২ গ্রাম/কেজি বডি ওয়েট করে প্রোটিন খেতে পারবে। সুতরাং একজন ৬০ কেজি ওজনের মানুষ দৈনিক সর্বোচ্চ ১২০ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারবে কোনো পার্শপ্রতিক্রিয়া ব্যতীত। এর চেয়ে বেশি খেলে ডায়রিয়া কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে। প্রোটিনের উপাদান হচ্ছে গোস্ত, মাছ, ডিম ইত্যাদি।

এবার বুঝে নিই, ১২০ গ্রাম প্রোটিন খেতে পারলে কত গ্রাম গোস্ত খাওয়া যাবে?
আমরা অনেকে মনে করে থাকি যে, এক গ্রাম গোস্ত মানে এক গ্রাম প্রোটিন, যা ভুল ধারণা। আমেরিকার ইন্সটিটিউট অব মেডিসিনের তথ্য অনুযায়ী, ১০০ গ্রাম রান্না করা গোস্তের মাঝে ২৬ গ্রাম প্রোটিন, ১০ গ্রাম ফ্যাট, ৬১-৬৩ গ্রাম পানি থাকে।
তার মানে, গোস্ত থেকে ২৬ গ্রাম প্রোটিন পেতে হলে ১০০ গ্রাম গোস্তের প্রয়োজন, তথা ১ গ্রাম প্রোটিনের জন্য প্রায় ৪ গ্রাম গোস্তের দরকার। আমরা একটু আগে জেনেছি, একজন ৬০ কেজি ওজনের সুস্থ লাইট ওয়ার্কার মানুষের দৈনিক প্রোটিন চাহিদা হচ্ছে ৬০ গ্রাম, সুতরাং সে স্বাভাবিক গোস্ত থেকে সেই পরিমান প্রোটিন নিতে চাইলে ৬০x৪=২৪০ গ্রাম গোস্ত খেলেই যথেষ্ট।
আবার ৬০ কেজি ওজনের মানুষ দৈনিক সর্বোচ্চ ১২০ গ্রাম প্রোটিন কিংবা ৪৮০ গ্রাম গোস্ত খেতে পারবে। তবে তা হতে হবে তিন বেলায় ভাগ করে অল্প অল্প করে। অন্যথায় Malabsorption syndrome কিংবা কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিবে। আবার অনেকের ক্ষেত্রে ২০০ গ্রামের বেশি গোস্ত খেলেও কোষ্ঠকাঠিন্য দেখা দিতে পারে।

সাময়িক কোষ্ঠকাঠিন্য এড়াতে করণীয়

  • লাইফস্টাইল পরিবর্তন করার মাধ্যমে কোষ্ঠকাঠিন্য প্রতিরোধ করা যায়। যেমন-

  • প্রতিদিন পর্যাপ্ত পরিমান শাক সবজি খেতে হবে।

  • পর্যাপ্ত পানি পান করতে হবে।

  • ফাস্টফুড জাতীয় খাবার কম খেতে হবে

  • অতিরিক্ত তৈলাক্ত খাবার পরিহার করতে হবে

  • অত্যাধিক গোস্ত খাওয়া থেকে বিরত থাকতে হবে

  • দৈনিক ১০০-১৫০ গ্রামের চেয়ে বেশি গোস্ত না খাওয়াই উত্তম

  • নিয়মিত ইসবগুলের শরবত খেতে হবে

  • সম্ভব হলে প্রতিদিন আপেল খাওয়া উত্তম, আপেলে পর্যাপ্ত ফাইবার রয়েছে

  • নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে এবং পর্যাপ্ত ঘুমাতে হবে।

অবশ্যই যেটা খেয়াল রাখবেন, যেদিন বেশি পরিমানে গোস্ত খাওয়া হবে, সেদিন গোস্তের সাথে শাক সবজি, গাজর, শসা ইত্যাদি খেতে হবে। এবং সকাল, দুপুর, রাত্রে এক গ্লাস পানিতে দুই টেবিল চামচ ইসবগুলের ভূসি মিশিয়ে ইসবগুলের শরবত খেতে পারেন। এতে করে কোলনের মধ্যে কিছু পরিমান পানি রিটেনশন হবে এবং মল তরল থাকবে, কোষ্ঠকাঠিন্য থেকে রক্ষা পাওয়া যাবে। যারা নিয়মিত ইসবগুলের শরবত খায়, তাদের কোষ্ঠকাঠিন্যতার প্রবণতা ৯০% কমে যায়।

ঈদ উৎসবে পরিমিত এবং সুষম খাদ্য গ্রহণ করুন। হঠাৎ করে অতিরিক্ত খাদ্যগ্রহণ থেকে বিরত থাকুন। এতে দেহ ও মন সুস্থ থাকবে। সবার উৎসব আনন্দময় হোক।

পরামর্শ দিয়েছেন:
ডা. রিফাত আল মাজিদ
ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ

হার্ট অ্যাটাকের কারণ ও ঝুঁকি মোকাবিলায় করণীয়



ডা. ইসমাইল আজহারি
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

বিশ্বে প্রতি বছর ৩৮ লাখ পুরুষ এবং ৩৪ লাখ মহিলা হৃদরোগে আক্রান্ত হয়ে মারা যায়, তার মধ্যে প্রতি ৪ জনের একজনের মৃত্যুর কারণ হচ্ছে করোনারি হার্ট ডিজিজ বা ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ যা মূলত এথোরোসক্লেরোসিস এর ফলাফল।

এথোরোসক্লেরোসিস কি?

Athero+Sclerosis থেকে এথোরোসক্লেরোসিস শব্দটা এসেছে। এথোরো মূলত Atheroma থেকে এসেছে। আর্টারি বা ধমনির ওয়ালে ফ্যাটি ম্যাটেরিয়াল বা চর্বি জাতীয় বস্তু কিংবা স্কার টিস্যু জমা হয়ে যখন ধমনীর ওয়াল সমূহ মোটা হয়ে যায়, ফলশ্রুতিতে ধমনীর লুমেন সরু হয়ে যায় এবং রক্তপ্রবাহ কমে হয়ে যায় সেই সাথে আর্টারি সমূহ শক্ত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলা হয়। সহজ কথায়, যদি কোনো ফ্যাটি প্ল্যাকের কারণে রক্তনালী দিয়ে রক্ত চলাচল সীমিত হয়ে যায় তখন এই অবস্থাকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে।

এথোরোসক্লেরোসিস বলতে মূলত হার্টের ধমনী সমূহে তথা করোনারি আর্টারি সমূহের মধ্যে ডিজেনারেটিভ চেঞ্জকে বুঝানো হয়ে থাকে। তবে এথোরোসক্লেরোসিস শরীরের যে কোনো রক্তনালিতে হতে পারে। হাতে পায়ে হলে তখন সেটাকে পেরিফেরাল ভাস্কুলার ডিজিজ বলা হয়। শরীরে যদি অতিরিক্ত LDL ক্লোরেস্টেরল থাকে তখন সেটা রক্তনালীতে জমা হয়ে এথোরোসক্লেরোসিস তৈরি করে।

করোনারি আর্টারিতে এথোরোসক্লেরোসিস হলে সেখানে রক্ত প্রবাহ কমে যায় কিংবা রক্ত সঞ্চালন বাধাগ্রস্ত হয় আর যেখানেই রক্ত প্রবাহ কমে যায় বা রক্ত প্রবাহ বাধাগ্রস্থ হয় সেখানে অক্সিজেন পরিবহন কমে যায়। কারণ রক্তের হিমোগ্লোবিন এর সাথে মিশেই অক্সিজেন সারা দেহে সঞ্চালিত হয়। শরীরের কোনো টিস্যুতে চাহিদার তুলনায় অক্সিজেন সরবরাহ কমে গেলে তাকে ইসকেমিয়া বলে। আর হার্টের মধ্যে যদি অক্সিজেন সরবরাহ কমে যায় তাহলে এই অবস্থাকে ইসকেমিক হার্ট ডিজিজ বলে।

হার্ট অ্যাটাক:

হার্টের মাংশপেশী সমূহ সচল থাকার জন্য হার্টের মধ্যে রক্ত সরবরাহ হয় দুইটা রক্ত নালীর মাধ্যমে যাকে রাইট এন্ড লেফট করোনারি আর্টারি বলে। এই করোনারি আর্টারি সমূহে ফ্যাট কিংবা চর্বি জমে যদি রক্ত সঞ্চালনে বাধাগ্রস্ত হয় তাহলে এই অবস্থাকে করোনারি আর্টারি ডিজিজ বলে এই অবস্থাকে আবার হার্ট ব্লক ও বলা হয় আর ফ্যাট জমে আর্টারি মোটা আর শক্ত হয়ে যাওয়াকে এথোরোসক্লেরোসিস বলে। এথোরোসক্লেরোসিস হলে যে কোনো মুহুর্তে রক্তনালি ছিড়ে রক্ত জমাট বেধে যেতে পারে। রক্তনালীর ভিতর যদি রক্ত জমাট বাধে তাহলে সেখানে রক্ত চলাচল করতে পারবে না, হার্টের রক্তনালীতে যদি রক্ত চলাচল করতে না পারে তাহলে হার্টের মাংসপেশি সমূহ অক্সিজেন পাবেনা, অক্সিজেন না পেলে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হতে থাকবে এবং এইভাবে হার্টের রক্তনালীতে রক্তজমাট বাধার কারণে কিংবা শরীরের অন্য কোনো ধমনীতে রক্ত জমাট বেধে তা থ্রম্বোসিস হয়ে তথা রক্তনালী দিয়ে পরিবাহিত হয়ে যদি করোনারি আর্টারি সমূহকে কিংবা হার্টের ধমনী সমূহকে ব্লক করে দেয় এবং হার্টের পেশীসমূহে যদি পরিমিত অক্সিজেন দিতে না পারে তখন  অক্সিজেনের অভাবে হার্টের টিস্যু সমূহ ড্যামেজ হয়ে যাবে যাকে চিকিৎসা বিজ্ঞানের ভাষায় মায়োকার্ডিয়াল ইনফার্কশন বা হার্ট অ্যাটাক বলা হয়।

এই সময় খুব দ্রুত রক্ত সরবরাহ চালু করতে না পারলে মৃত্যু হতে পারে। এই সময় রোগীর প্রচন্ড বুকে ব্যাথা হবে, সাথে শ্বাসকষ্ট হবে, শরীর ঘামিয়ে যাবে, ব্যাথা ঘাড়, হাত, পিঠে বা থুতনিতে যেতে পারে।

ইশকেমিক হার্ট ডিজিজের উপসর্গ:

ব্লাড প্রেশার চেক করা না হলে অধিকাংশ রোগী উপসর্গহীন থাকে এবং এক সময় তারা হঠাৎ হার্ট অ্যাটাক করে মৃত্যু বরণ করে। আর কারো কারো ক্ষেত্রে নিম্নের কিছু উপসর্গ দেখা দেয়:

১। চলতে ফিরতে বুকে ব্যাথা হয়

২। শ্বাসকষ্ট হয়

৩।খাবার পরে বুকে ব্যাথা হয়,

৪।একটু টেনশন করলে বুকে ব্যাথা হয়,

৫। মাথা ঘোরানো এবং মাথা ব্যাথা

৬।ঘাড় কিংবা বাহুতে ব্যাথা

৭। বমি বা বমির ভাব

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণ:

১।উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন

২। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার যথা গরুর গোশত, ডিম বা ট্রান্স ফ্যাট জাতীয় খাবার ইত্যাদি

৩। সিগারেট স্মোকিং বা জর্দা ইত্যাদি

৪।অবেসিটি বা অতিরিক্ত ওজন

৫। এলকোহল, কোমল পানীয়

৬।পর্যাপ্ত ব্যায়াম না করা

৭। শারিরীক পরিশ্রম না করা

৮। সবসময় শুয়ে থাকা ইত্যাদি।

ইসকেমিক হার্ট ডিজিজের কারণে জটিলতা:

১। হার্ট অ্যাটাক হতে পারে

২। ব্রেইন স্ট্রোক হতে পারে

প্রতিকার:

১। ধূমপান ত্যাগ করতে হবে

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে

৩। ওজন স্বাভাবিক বিএমআই অনুযায়ী রাখা জরুরি। ওজন নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে।

৪। অতিরিক্ত চর্বিযুক্ত খাবার পরিহার করতে হবে এবং লবণ কম খেতে হবে।

৫। নিয়মিত ব্যায়াম করা উচিত

৬। স্বাভাবিক শারীরিক পরিশ্রম করা উচিত।

চিকিৎসা:

১। লাইফস্ট্যাইল মোডিফাই করতে হবে এবং অতিরিক্ত ওজন কমার জন্য নিয়মিত ব্যায়াম করতে হবে।

২। ব্লাড প্রেশার নিয়ন্ত্রণে রাখতে হবে। সে জন্য নিয়মিত রক্ত চাপ নিয়ন্ত্রণের ওষুধ চিকিৎসকের পরামর্শ অনুযায়ী নিয়মিত খেয়ে যেতে হবে। চিকিৎসকের পরামর্শ ছাড়া মেডিসিন বাদ দেয়া যাবে না। সেক্ষেত্রে খুব খেয়াল রাখতে হবে। কোন মেডিসিন যেন খেতে ভুলে না যায়। এছাড়া যে কোন জটিলতায় চিকিৎসকের পরামর্শ নিতে হবে। বুকে ব্যাথা হলে দ্রুত নিকটস্থ হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।

ডা. ইসমাইল আজহারি, চিকিৎসক, ঢাকা কমিউনিটি মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল এবং পরিচালক, সেন্টার ফর ক্লিনিক্যাল এক্সিলেন্স এন্ড রিসার্চ। [email protected]

;

করোনায় পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালকের মৃত্যু: পরিবেশ মন্ত্রীর শোক



স্টাফ করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
বার্তা ২৪.কম

বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের মহাপ‌রিচালক (অতিরিক্ত সচিব) ড. এ কে এম র‌ফিক আহাম্মদ করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে কেন্দ্রীয় পুলিশ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় আজ (১০ এপ্রিল) ভোর ৪:১৪ মি‌নি‌টে ই‌ন্তেকাল ক‌রে‌ছেন (ইন্না লিল্লা‌হি ওয়া ইন্না ইলাইহি রা‌জিউন)।

এর আগে বিসিএস (প্রশাসন) ক্যাডারের ১০ম ব্যাচের একজন কর্মকর্তা হিসেবে ১৯৯১ সালে সরকারি চাকুরিতে যোগদানকারী রফিক আহাম্মদ ২৩ মার্চ থেকে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে চিকিৎসাধীন ছিলেন। তাঁর শারীরিক অবস্থার অবনতি হলে গতকাল থেকে তিনি লাইফ সাপোর্টে ছিলেন।

প‌রি‌বেশ অ‌ধিদপ্ত‌রের মহাপ‌রিচালকের মৃত্যুতে গভীর শোক প্রকাশ করেছেন পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের মন্ত্রী মোঃ শাহাব উদ্দিন, উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার, সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি এবং সকল স্তরের কর্মকর্তা,কর্মচারীবৃন্দ গভীরভাবে মর্মাহত এবং শােকাভিভূত।

আজ এক শোকবার্তায় পরিবেশ মন্ত্রী বলেন, তার মতো একজন সদালাপী, ধার্মিক, সৎ, দক্ষ এবং আকর্ষণীয় ব্যক্তিত্বের কর্মকর্তা বিরল। কর্মজীবনে তিনি দেশের পরিবেশ সংরক্ষণ এবং জলবায়ু পরিবর্তনের বিরূপ প্রভাব মােকাবিলায় দেশী এবং বিদেশী অঙ্গনে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করার কারণে স্মরণীয় হয়ে থাকবেন।

পৃথক এক শোকবার্তায় মন্ত্রণালয়ের উপমন্ত্রী হাবিবুন নাহার জানান তাঁর মতো অমায়িক ও কর্মনিষ্ঠ কর্মকর্তার মৃত্যু দেশের জন্য অপূরণীয় ক্ষতি।

পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সচিব জিয়াউল হাসান এনডিসি জানান পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রণালয়ের সকল কর্মকর্তা,কর্মচারি তাঁর শােক-সন্তপ্ত পরিবারের সদস্যদের প্রতি গভীর সমবেদনা ও সহমর্মিতা জ্ঞাপন করছে এবং পরম করুনাময়ের কাছে তাঁর মাগফিরাত ও বিদেহী আত্মার চিরশান্তি কামনা করছে। পরম করুনাময় মহান আল্লাহ তাঁকে জান্নাত নসিব করুন।

উল্লেখ্য, পরিবেশ অধিদপ্তরের মহাপরিচালক হিসাবে ২০১৯ সালের ২২ মে যোগদানের পূর্বে তিনি দুবাইয়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল অফিসে কমার্শিয়াল কাউন্সিলর হিসেবে সুনামের সহিত দায়িত্ব পালন করেন। ইতঃপূর্বে তিনি পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন মন্ত্রীর একান্ত সচিব ও সিনিয়র সহকারী সচিব এবং পরিবেশ অধিদপ্তরের পরিচালক হিসেবেও দায়িত্ব পালন করেন। মৃত্যুকালে তিনি স্ত্রী, দুই পুত্র রেখে গেছেন।

 

;

সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তা করোনায় আক্রান্ত



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি সংগৃহীত

ছবি সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

নোয়াখালীর সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য ও পরিবার পরিকল্পনা কর্মকর্তা ডা. মো.মতিউর রহমান করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

শুক্রবার (৯ এপ্রিল) সন্ধ্যা ৭টায় সেনবাগ উপজেলা স্বাস্থ্য কমপ্লেক্সের মেডিকেল অফিসার ও করোনা ফোকাল পারসন ডা. নির্ণয় পাল এ তথ্য নিশ্চিত করেন।  

তিনি আরো জানান,  গতকাল (৮ এপ্রিল) সকাল ১১টার দিকে ডা. মো.মতিউর রহমানের শরীর থেকে নমুনা সংগ্রহ করে আব্দুল মালেক উকিল মেডিক্যাল কলেজের করোন ট্রেস্ট ল্যাবে পাঠানো হয়। এরপর শুক্রবার বিকেল ৪টার দিকে ওনার করোনা রিপোর্ট পজিটিভ আসে। বর্তমানে তিনি নিজ বাসায় আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছেন। এ ছাড়াও সেনবাগ উপজেলায় গত ২৪ ঘন্টায় উপজেলা স্বাস্থ্য কর্মকর্তাসহ পাঁচজন করোনায় আক্রান্ত হয়। করোনা সংকট শুরু থেকেই তিনি সেনবাগ উপজেলা করোনা প্রতিরোধ কমিটির সদস্য সচিবের দায়িত্ব পালন করে আসছেন। কাজের কারণে তিনি সবার কাছে প্রশংসিত হয়েছেন।

অপরদিকে, জেলা সিভিল সার্জন কার্যালয় সূত্রে জানা যায়, গত ২৪ ঘন্টায় নোয়াখালীতে নতুন করে ৯২জন করোনায় আক্রান্ত হয়েছেন।

;

করোনা প্রতিরোধে গৌরীপুর মুক্তিযোদ্ধাদের ক্যাম্পেইন



উপজেলা করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, গৌরীপুর (ময়মনসিংহ)
বার্তা ২৪.কম

বার্তা ২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

“মাস্ক পড়ার অভ্যেস, করোনামুক্ত বাংলাদেশ” এই স্লোগানকে সামনে রেখে ময়মনসিংহের গৌরীপুর পৌর শহরে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ ক্যাম্পেইন করেছে স্থানীয় বীরমুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যরা।

শুক্রবার(৯ এপ্রিল) দুপুরে পৌর শহরে হারুনপার্ক এলাকায় এই ক্যাম্পেইনের উদ্বোধন করেন উপজেলা নির্বাহী অফিসার হাসান মারুফ।

পরে মুক্তিযোদ্ধা ও মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ডের সদস্যরা করোনার সংক্রমণ রোধে সরকারি নির্দেশনা ও স্বাস্থ্যবিধি মেনে চলতে প্রচারণা চালান। এসময় পথচারী, যানবাহন চালক, শ্রমজীবী মানুষদের মাঝে বিনামূল্যে মাস্ক বিতরণ করা হয়।

ক্যাম্পেইনে অংশ নেন উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সংসদের সাবেক কমান্ডার মোঃ আব্দুর রহিম , সাবেক ডেপুটি কমান্ডার মোঃ নাজিম উদ্দিন, বীর মুক্তিযোদ্ধা মোখলেছুর রহমান, ইকবাল হাসান, নুরুল আমিন, আব্দুল কদ্দুছ, সাংবাদিক ম. নুরুল ইসলাম, উপজেলা মুক্তিযোদ্ধা সন্তান কমান্ড উপজেলা শাখার সাধারণ সম্পাদক হারুন অর রশিদ, পৌর শাখার সভাপতি মশিউর রহমান কাউসার প্রমুখ।

;