বিশ্ব বাংলা নয়, একনায়কোচিত আচরণ!



সৈকত রুশদী
সৈকত রুশদী

সৈকত রুশদী

  • Font increase
  • Font Decrease

'দ্বিতীয় বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সম্মেলন, ২০২০'-এর একাংশের একনায়কোচিত আচরণ নিন্দনীয়।

'উত্তর আমেরিকা বাংলা সাহিত্য পরিষদ'-এর উদ্যোগে যুক্তরাষ্ট্রের ক্যালিফোর্নিয়া রাজ্যের সান ডিয়েগো থেকে আয়োজিত দুইদিনব্যাপী ভার্চুয়াল 'দ্বিতীয় বিশ্ব বাংলা সাহিত্য সম্মেলন, ২০২০'-এর দ্বিতীয় দিনে 'পুস্তক পরিচিতি' পর্বে আমি তালিকাভুক্ত লেখক হিসেবে অংশ নেই।

রোববার (১২ অক্টোবর ২০২০) বিকেলে ‘পুস্তক পরিচিতি’ অনুষ্ঠানে সঞ্চালক সামা আকবর আমার উপন্যাস 'অচিন পাখি' নিয়ে আমাকে বলতে দেওয়ার সুযোগ দিলে ১৯৮৮-১৯৮৯ সালে রচিত এই উপন্যাসটির পটভূমি সম্পর্কে আলোকপাত করি।

আমার ‘অচিন পাখি' উপন্যাসটি সামরিক শাসক ও স্বৈরাচার হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের শাসনকালে রচিত এবং সেই শাসনকালকে সমালোচনা করে গণতন্ত্রকামী মানুষের দৃষ্টিভঙ্গীতে লেখা।

আমার এই বক্তব্যের পর পুস্তক পরিচিতি পর্বের কারিগরী নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইরফান এরশাদের নাম শুনতে চাননা বলে নিন্দা প্রকাশ করেন।

পুস্তক পরিচিতি শেষে লেখকদের বক্তব্য পর্বে সঞ্চালক সামা আকবর উপন্যাসটি সম্পর্কে ব্যাখ্যা দেওয়ার সুযোগ দিলে আমার বক্তব্যের মাঝপথে কারিগরী নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইরফান আমাকে মিউট ও ভিডিও অফ করে দেন এবং এরশাদের নামও শুনতে চাননা বলে তীব্র ভাষায় সমালোচনা করেন।

এই পর্বের অপর কয়েকজন লেখক মোহাম্মদ ইরফানের এই আচরণের সমালোচনা করে আমাকে উপন্যাসের সাথে প্রাসঙ্গিক বক্তব্য উপস্থাপনের সুযোগ দেওয়ার অনুরোধ জানান। কিন্তু ইরফান তা' করতে রাজি হননি।

পরে বক্তব্য রাখতে গিয়ে প্রধান দুই আয়োজকের অন্যতম জ্যোতি প্রকাশ দত্ত মোহাম্মদ ইরফানের আচরণের প্রতি সমর্থন প্রকাশ করেন।

আমি মনে করি, আমার বক্তব্য উপস্থাপনকালে সঞ্চালক বক্তব্য রাখার সুযোগ দেওয়ার পরও কারিগরী নিয়ন্ত্রক মোহাম্মদ ইরফান যে আচরণ করেছেন তা' স্বৈরাচারী সামরিক শাসক হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের মতোই একনায়কোচিত হয়েছে। আমি তাঁর এই আচরণের তীব্র নিন্দা করছি।

স্বৈরাচারী হুসেইন মোহাম্মদ এরশাদের দীর্ঘ নয় বছরের শাসনকাল বাংলাদেশের ইতিহাসের অংশ। গণতন্ত্র পুনঃপ্রতিষ্ঠার আন্দোলনের এক গৌরবময় অধ্যায়। আয়োজকরা সেটি আমাকে বলতেই দিলেন না।

এটি আমার জন্য, সঞ্চালকের জন্য ও যেকোনো লেখকের জন্য অপমানজনক আচরণ।

সৈকত রুশদী, টরন্টো, ১২ অক্টোবর ২০২০