ভ্রমণ স্বর্গরাজ্যে ‘সস্তায় খাটছেন’ বাংলাদেশিরা!



মানসুরা চামেলী, সিনিয়র করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম
ছবি: বার্তা২৪.কম

ছবি: বার্তা২৪.কম

  • Font increase
  • Font Decrease

মালদ্বীপ ঘুরে: হুলুমালে দ্বীপ, হোয়াইট বিচে একা দাঁড়িয়ে সেলফি তুলছিলাম। পাশ দিয়ে একজন যেতেই ‘এক্সকিউস মি, প্লিজ টেক এ পিকচার....’। সঙ্গে সঙ্গে দাঁড়িয়ে গেলেন; ছবি তোলা শেষে জানা গেল যার কাছে ছবি তুলে নিলাম তিনি আমার স্বদেশি বাংলাদেশি।

মালদ্বীপের কোনো একটা আইল্যান্ডে গেলেন, মুদি দোকানে যাবেন, সুপার শপে, কাঁচা বাজার- যেখানেই যাবেন বাংলাদেশি কর্মীর দেখা পাবেন। মালেতে রাস্তায় দাঁড়িয়ে যে ডাব কাটছেন বা সড়কে হাঁটতে গিয়ে কারো সঙ্গে টক্কর খেলেন- একটু আলাপ হলে বুঝবেন তিনিও বাংলাদেশি।

মালদ্বীপে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ।

মালদ্বীপের ১২’শ দ্বীপের বসবাসযোগ্য ২০০ দ্বীপেই ছড়িয়ে ছিটিয়ে রয়েছে বৈধ এবং অবৈধ বা অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীরা। মালদ্বীপ সরকারের সবশেষ জরিপের তথ্যানুসারে- দেশটিতে সাড়ে পাঁচ লাখের কিছু বেশি জনসংখ্যা। ওদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন, মালদ্বীপের তথ্যে জানা যায়- মালদ্বীপে বাংলাদেশি অভিবাসীর সংখ্যা প্রায় এক লাখ। তবে এর মধ্যে ৫০ হাজারই অবৈধ বা অনিয়মিত। আর এই অনিয়মিত শ্রমিকরাই দিন-রাত সস্তায় খাটছেন ভ্রমণ স্বর্গরাজ্য মালদ্বীপে। নানা প্রতিকূলতার মধ্যেই টিকে থাকার লড়াই করে যাচ্ছেন তারা। বেতন-ভাতা নিয়ে অভিযোগ রয়েছে নিয়মিত কর্মীদেরও।

আরও পড়ুন: জল ডুবুডুবু নীল দেশ মালদ্বীপ!

মালদ্বীপে অবস্থানরত বাংলাদেশি কর্মীরা জানান, মালদ্বীপে নিয়মিত-অনিয়মিত সব বাংলাদেশি শ্রমিকদের মজুরি কম দেওয়া হয়। বিশেষ করে করোনাকালে এখানে বঞ্ছনার সীমা ছিল না। প্রচুর কর্মী ছাঁটাই করা হয়েছে। অনেকেই ফিরে গেছেন দেশে। কেউ কেউ মুখ বুজে টিকে থাকার লড়াই এখনও চালিয়ে যাচ্ছেন।

এখন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে মাসে বাংলাদেশি ২০ হাজার টাকা পান।

এমন একজন শ্রমিক ফায়েজুল ইসলাম (ছদ্মনাম)। অস্বচ্ছল পরিবারের সন্তান ফায়েজুল পরিবারের স্বচ্ছল জীবনের আশায় প্রায় ২ লাখ ৭০ হাজার টাকা খরচ করে মালদ্বীপে আসেন। আইল্যান্ড এক্সপার্ট নামে একটা কোম্পানিতে ৪০ হাজার টাকায় (বাংলাদেশি) কাজ শুরু করেন। কিন্তু কয়েক মাস ভালো যাওয়ার পর হঠাৎ করেই বেতন বন্ধ করে দেয় কোম্পানিটি। করোনাভাইরাস সংক্রমণ ছড়ালে থাই কোম্পানিটি বাংলাদেশি ১০০ শ্রমিকসহ ৭০০ কর্মীর বেতন না দিয়ে বন্ধ করে দেয়।

আরও পড়ুন: নীলাকাশ থেকে নেমেই নীল জলের অভ্যর্থনা!

এরপর থেকে ফায়েজুলের জীবনে নেমে আসে ঘোর অন্ধকার। বহু কষ্টে স্টেশনারির দোকানে কর্মচারী হিসেবে কাজ করেন। এখন সকাল থেকে মধ্যরাত পর্যন্ত কাজ করে মাসে বাংলাদেশি ২০ হাজার টাকা পান।

শুধু আমি একা নই, এখানে অনেক বাংলাদেশি কষ্টে আছেন।

ফায়েজুল বার্তা২৪.কমকে বলেন, বহু কষ্টে ছিলাম। যারা নিয়ে এসেছিলো তারা প্রতারণা করেছে। বাংলাদেশে থাকতে যে বেতনের প্রতিশ্রুতি দেয় এখানে এসে অনেক কম সেটা। শুধু আমি একা নই, এখানে অনেক বাংলাদেশি কষ্টে আছেন।

জুয়েল (ছদ্মনাম) নামে এক কর্মী জানান, এখানে বাংলাদেশিরা অনিয়মিত হওয়ার কারণে সবচেয়ে সস্তা শ্রমিক বাংলাদেশিরা। এখানে অনিয়মিত শ্রমিকরা অনেক ছোট ছোট কাজও করছেন। কেউ কেউ দৈনিক লেবার হিসেবেও কাজ করছেন। এতে যারা মাসিক বেতনে চাকরি করেন তাদের থেকেও ভালো উপার্জন করতে পারেন।

এদিকে বাংলাদেশ হাইকমিশন মনে করেন মালদ্বীপের পর্যটনের বিকাশে বাংলাদেশি শ্রমিকদের অনেক অবদান। দেশটিতে মোট প্রবাসী কর্মীর ৭০ ভাগই বাংলাদেশি। এত কম বেতনে অন্য কোনো দেশের শ্রমিক পাওয়া যায় না। এ কারণে কোম্পানিগুলো চায় বাংলাদেশ থেকে শ্রমিক নিতে। কিন্তু মালদ্বীপ সরকারের নীতির কারণে এটা হচ্ছে না।

এক বছর আগে দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকার অবৈধ নাগরিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে।

সাংবাদিকদের সঙ্গে মতবিনিয় এক সভায় মালদ্বীপে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল নাজমুল হাসান বলেন, ২০১৯ সালের সেপ্টেম্বরে এক বছরের জন্য বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ শ্রমিক নেওয়া সাময়িকভাবে বন্ধ করেছিল মালদ্বীপ সরকার। তবে সময়সীমা পার হলেও এখনও বাংলাদেশিদের ওয়ার্ক পারমিট দেওয়া হচ্ছে না। তবে যেমন নার্স, ডাক্তারসহ কিছু দক্ষ শ্রমিক মালদ্বীপ নিয়েছে।

তিনি আরও বলেন, এক বছর আগে দ্বীপরাষ্ট্রটির সরকার অবৈধ নাগরিকদের বৈধ হওয়ার সুযোগ দিয়েছে। ওই সময় প্রায় ৪০ হাজার অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মী নিবন্ধিত হয়েছেন। তবে প্রক্রিয়া এখনও শেষ না হওয়ায় তারা বৈধতা পাননি। আমরা এই কার্যক্রম এগিয়ে নেওয়ার জন্য আহ্বান জানিয়েছি। আশা করছি খুব দ্রুত আবারও নিবন্ধনের এই প্রক্রিয়া শুরু হবে।

মালদ্বীপে হতে পারে বাংলাদেশের জন্য বড় শ্রম বাজার- বলে জানান প্রবাসী বাংলাদেশিদের সংগঠন বাংলাদেশ কমিউনিটি ওয়েলফেয়ার অ্যাসোসিয়েশনের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি মীর সাইফুল ইসলাম।

তিনি বার্তা২৪.কম বলেন, সরকারের আন্তরিক চেষ্টা থাকলে মালদ্বীপ হবে বাংলাদেশের বড় শ্রম বাজার। এখানে বাংলাদেশিদের অনেক চাহিদা। বৈধভাবে নিলেও বাংলাদেশি কর্মীদের তারা কম বেতন পাবেন। মালদ্বীপ সরকারের সঙ্গে আলোচনা করে বাংলাদেশ সরকারের উচিত মালদ্বীপে অনিয়মিত বাংলাদেশি কর্মীদের পাশে দাঁড়ানো।

প্রধানমন্ত্রীর সফর, বাংলাদেশিদের প্রত্যাশা

সম্প্রতি মালদ্বীপের ভাইস প্রেসিডেন্ট ফয়সাল নাসিম বাংলাদেশ সফর করে গেছেন। শোনা যাচ্ছে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার মালদ্বীপ সফরকে কেন্দ্র করে ভাইস প্রেসিডেন্টের বাংলাদেশ ঘুরে যাওয়া। এদিকে প্রধানমন্ত্রীর মালদ্বীপ সফরের গুঞ্জন শুরু হতে আশায় বুক বাঁধছেন বাংলাদেশি কর্মীরা। এই সফরের মাধ্যমে নতুন করে ওয়ার্ক পারমিট চালু হবে।

প্রধানমন্ত্রীর সফরের চূড়ান্ত দিন-তারিখ এখনও ঠিক হয়নি বলে জানিয়েছেন রাষ্ট্রদূত রিয়ার এডমিরাল নাজমুল হাসান। তবে প্রধানমন্ত্রীর সফরে ওয়ার্ক পারমিটের বিষয়টি প্রধানমন্ত্রীর আসন্ন সফরে প্রাধান্য পাবে বলে জানান রাষ্ট্রদূতও।

রিয়ার এডমিরাল নাজমুল হাসান বলেন, প্রধানমন্ত্রীর সফরে যেসব বিষয় নিয়ে আলোচনা হবে বলে আশা করছি, তার মধ্যে প্রথমত হল দ্বিপাক্ষিক বাণিজ্যিক সম্পর্কের উন্নয়ন। বাংলাদেশ থেকে অদক্ষ কর্মী আনার নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহারের বিষয়ে প্রধানমন্ত্রী আলোচনা করবেন। নতুন শ্রমিক আনার ক্ষেত্রে নিষেধাজ্ঞা প্রত্যাহার ও অনিয়মিত শ্রমিকদের নিয়মিতকরণের জন্য সরকারের উচ্চপর্যায় থেকে একাধিকবার বলা হয়েছে। আমাদের বিশ্বাস, প্রধানমন্ত্রী যখন সরাসরি এদেশের রাষ্ট্রপতিকে অনুরোধ করবেন, তখন তারা নিশ্চয়ই বিষয়টিও গুরুত্বের সঙ্গে দেখবে।

এদিকে রাষ্ট্রদূত জানান, খুব শিগগিরই মালদ্বীপে থাকা বাংলাদেশি কর্মীদের টাকা পাঠানোর বিষয়টি সুরাহ করতে বাংলাদেশের একটি পরিকল্পনা নেওয়া হচ্ছে। এখানে আমাদের নিজস্ব একটা ব্যাংক থাকলে কর্মীদের অনেক সুবিধা হবে। তারা লাভবান হবে। অর্থ পাঠানোর খরচও কমে যাবে।

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌ ইতালির আনন্দ ভ্রমণ



মিনহাজ হোসেন, ইতালি থেকে
কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মহিলা সংস্থা ইতালির আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন আনন্দ ভ্রমণ রোম থেকে শত কিলোমিটার দূরে লাগো দি বোলসেনায় এ আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন। প্রবাসে ক্লান্তির শেষ মুহূর্তে বিনোদনের রঙে মন রাঙিয়ে তোলেন সবাই। এ যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরা বাংলাদেশ।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে মহিলা সংস্থার ইতালির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশন আরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তারের পরিচালনায় আয়োজিত আনন্দ ভ্রমণে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নারী নেত্রী ও সুলতানা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সুলতানা লিপি,‌ তিবুরতিনা সমাজ কল্যাণ সমিতি ইতালির সভাপতি মনির হোসেন, বাংলাদেশ প্রবাসী ক্রিস্টান মহিলা সমিতির সভাপতি রূপালী গোমেজ,‌পল্লী বালা সংঘের সভাপতি ফরিদা রহমান,‌ লন্ডন থেকে আগত মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি আমিন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেশমা আমিন,‌বিশ্ব সংগীত কেন্দ্র রুমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী জাকারিয়া, গ্রত্তোসেলনে সমাজ কল্যাণ সংঘের মোঃ শাহিন, যুব উন্নয়ন ব্যবসায়ী সমিতি উপদেষ্টা হক শহিদুল্লাহ,‌‌ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফরোজা আক্তার ডেইজি, আতিকুর রহমান রাসেল, জামাল আহমেদ, মামুন আহমেদ, মুরাদ আহমেদ, ফারুক আহমেদ কন্ঠশিল্পী রত্না বশাক, মোঃ মশিউর রহমান, সাংবাদিক শাহীন খলিল কাওসার, আখি সীমা কাউসার, মিনহাজ হোসেনসহ মহিলা সংস্থা ইতালির অধিকাংশ সদস্যরা ও আঞ্চলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,‌ ব্যাবসায়িক ও‌ নারী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আনন্দ ভ্রমণ সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তার বলেন, প্রতি বছর আমরা মহিলাদের উদ্যেগে এ আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করে থাকি। প্রবাসে ব্যস্ততার মাঝে একটু বিনোদন খুজঁতেই এ আয়োজন।


এসময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশনআরা বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণে আনন্দ ভ্রমণ করতে পেরেছি। তাই সবার কাছে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এতে ভুলত্রুটি থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করবেন। এবং‌ আগামীতেও এরকম আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের মাঝে যেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে রাফেল ড্র, শিশু কিশোরদের দৌড় প্রতিযোগিতা, বড়দের হাড়িভাঙ্গা, মহিলাদের বালিশ খেলা ও রোমের স্থানীয় বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

;

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের একমাত্র দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠান। এ সময় শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা। ক্রীড়া সংগঠক ও ফুটবল প্রেমী, আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠের পর তাঁর স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের কর্মময় ও বর্ণিল জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

রাষ্ট্রদূত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নির্ভীক, বীরোচিত অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দেশ গড়ার কাজে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৫ আগস্ট কালরাতের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল জাগরণে শেখ কামালের অগ্রণী ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করেন। ঢাকা থিয়েটার ও স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে একজন শিল্পানুরাগী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে শেখ কামালকে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত শহীদ শেখ কামালের কর্মময় জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল তরুণকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

;

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন



প্রবাস ডেস্ক
ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল রোববার (২৪ জুলাই) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের 22 boulevard Ornano 75018-এ সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।

প্যারিসের সুপরিচিত বাংলাদেশ ফার্ণিচারের স্বত্ত্বাধিকারী মিয়া মাসুদ, দেশ জিএসএম'র সিইও মো. আবদুর রব এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের (বিসিএফ) এমডি নূর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন 'প্যারি-টেক'র স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় ও আপেল মাহমুদ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনার পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনা করা হয়।

প্যারি-টেকের স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় বলেন, প্রবাসী যারা ফ্রান্সে আছেন তাদের অনেকের যথাযথ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেককে কম আয়ের কাজ বেছে নিতে হয়। মোবাইল রিপারেশন একটি সম্মানজনক পেশা এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে অনায়াসে ভাল রেমিট্যান্স উপার্জনের সুযোগ আছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে 'প্যারি-টেক' আধুনিক ও সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু করেছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যে কেউ যার যার মতো কর্মসংস্থান করে নিতে সক্ষম হবেন।

;

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঈদের দুই দিন মঙ্গলবার (১২ জুলাই) স্পেনের মাদ্রিদের একটি পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী পিরামিডস পার্কে দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসব।

মাদ্রিদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে ঈদের পরের দিনে অনুষ্ঠিত এ ঈদ উৎসব এবং মিলন মেলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলামীন মিয়া, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উপদেষ্টা এস এম আহমেদ মনির, ইনসাফ সুমন ভূঁইয়া সুমন, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী, খুলনা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি স্পেনের সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা সাইফুল মুন্সী ইকবাল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন প্রমুখ।

রাজধানী মাদ্রিদ ও এর আশেপাশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রুবেল সামাদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই ঈদ আনন্দ উৎসবে বাংলাদেশে অবস্তানরত সংগঠনের সভাপতি মো. শাহ আলম টেলিকনফারেন্সে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি শেখাতে সহায়তা করবে। তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির তার বক্তব্যে সকলকে এক ও অভিন্ন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এমন একটি মিলনমেলা আয়োজন করায় তিনি ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ঈদ পুনর্মিলন যেন আমাদের প্রবাসীদের ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। আমরা যেন প্রবাসে থেকেও দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি, দেশকে আরও ভালোবাসতে পারি।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের মহিলা সম্পাদিকা সাবান রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় এই ঈদ আনন্দ উৎসবে ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেত্রবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বাক্কার, সহ সভাপতি নাফিজ মামুন, আব্দুস সাত্তার,আরজু মিয়া, সদস্য হাবিবুর রহমান, আলামিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ছিল বাংলাদেশি খাবারের ব্যাপক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে করে তুলেছিল আনন্দময়। সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল প্রবাসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাঙালি কমিউনিটির অনেকেই সপরিবারে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে ঈদ পুনর্মিলনীটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলন মেলায়। দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও অভিভাবকদের ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য আগত অতিথিদেরকে বাঙালিয়ানায় ঈদের আনন্দ উৎসবে মাতিয়ে রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা একে অন্যের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে স্বদেশে স্বজনদের ছেড়ে দূর দেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেক স্বদেশিকে একসঙ্গে পাওয়ায় তাদের কাছে এ মিলনমেলা পরিণত হয়েছিল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। প্রবাসের শত ব্যস্ততার মাঝে এই উৎসব সবার জীবনে নিয়ে আসে নতুন করে পথচলার উদ্দীপনা। নতুন করে ভালোবাসতে শেখায় দেশ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে। এমনটাই বলছিলেন অংশগ্রহণকারীদের অনেকে।

;