লন্ডনে আবারও ইতিহাস সৃষ্টি করলেন লুৎফুর রহমান



সাঈদ চৌধুরী
লুৎফুর রহমান

লুৎফুর রহমান

  • Font increase
  • Font Decrease

লন্ডনের টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে তৃতীয়বারের মতো নির্বাহী মেয়র নির্বাচিত হয়ে ইতিহাস সৃষ্টি করলেন বাংলাদেশি বংশোদ্ভূত রাজনীতিক লুৎফুর রহমান। ৪০ হাজার ৮০৪ ভোট (৫৪.৯%) পেয়ে নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বী লেবার দলীয় জন বিগ্সকে হারিয়ে তিনি বিজয় নিশ্চিত করেছেন। দুইবারের মেয়র জন বিগ্স পেয়েছেন ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট (৪৫.১%)।

বৃহস্পতিবার (৫ মে) সকাল ৭টা থেকে রাত ১০টা পর্যন্ত জনগণ শান্তিপূর্ণ ভাবে ভোট প্রদান করেন। শুক্রবার সন্ধ্যা সোয়া ৬টায় ফলাফল ঘোষণা করা হয়। নির্বাচনে প্রথম প্রিফারেন্সে লুৎফুর রহমান ৩৯ হাজার ৫৩৩ ভোট (৪৭.০%) আর জন বিগ্স ২৭ হাজার ৮৯৪ ভোট (৩৩.২%) লাভ করেন। ১১ হাজার ৬৩৯ ভোটে লুৎফুর রহমান এগিয়ে ছিলেন। কিন্তু বৃটেনের নিয়মানুযায়ী এককভাবে ৫১% ভোট না পেলে দ্বিতীয় প্রিফারেন্সের ভোট গণনা করতে হয়। দ্বিতীয় পছন্দে লুৎফুর রহমান পেয়েছেন ১ হাজার ২৭১ ভোট আর জন বিগ্স ৫ হাজার ৫৯৩ ভোট। এতে লুতফুর রহমানের মোট প্রাপ্ত ভোট দাঁড়িয়েছে ৪০ হাজার ৮০৪ এবং জন বিগ্স পেয়েছেন মোট ৩৩ হাজার ৪৮৭ ভোট। অর্থ্যাৎ লুতফুর রহমান নিকটতম প্রতিদ্বন্দ্বীর চেয়ে ৭ হাজার ৩১৭ ভোট বেশী পেয়ে বিজয়ী হয়েছেন।

নির্বাচনে ৬ হাজার ৪৩০ ভোট পেয়ে লিবডেমের রাবিনা খান তৃতীয় এবং ৪ হাজার ২৬৯ ভোট পেয়ে কনজারভেটিব পার্টির এলিয়ট উইভার চতুর্থ হয়েছেন। অনেক অপেক্ষা ও উৎকন্ঠার প্রহর কাটিয়ে বহু হিসেব নিকেশের পর আসে বিজয়ের ঘোষণা। আনন্দে মেতে ওঠেন উপস্থিত লুৎফুর সমর্থক অসংখ্য মানুষ। জনতার মেয়র খ্যাত লুৎফুর রহমান পুনঃনির্বাচিত হওয়ায় উল্লসিত জনতা আল্লাহু আকবর বলে স্লোগান দিয়ে মহান স্রষ্টার শুকরিয়া আদায় করেন। তারা মেয়রকে প্রবাসী বাংলাদেশিদের গর্ব হিসেবে আখ্যায়িত করে তার সাফল্য ও দীর্ঘায়ু কামনা করেন।

শত অপপ্রচার ও প্রপাগান্ডার পরও জনগণ তাদের হৃদয় উজাড় করে ভালোবেসে তাদের মূল্যবান ভোট দিয়েছেন। তবে যারা তাকে ভোট দেননি তাদেরও সেবা করতে চান তিনি। এ জন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেছেন নব নির্বাচিত মেয়র।

জনতার কাতারে এসে লুৎফুর রহমান বলেন, কাউন্সিলের জনগণ আমার প্রতি বিশ্বাস ও আস্থা রেখেছেন। তাদের কাছে আমার দায়বদ্ধতা আরও বেড়ে গেল। সবাকে নিয়ে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করারও অঙ্গীকার করেন তিনি।

৫ মে যুক্তরাজ্যের সর্বত্র স্থানীয় নির্বাচন হলেও আলোচনার কেন্দ্রবিন্দু ছিল বাংলাদেশি অধ্যুষিত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলের নির্বাচন। ২০১৫ সালে বিশেষ ইলেক্টোরাল কোর্টের রায়ে লুৎফুর রহমান পদচ্যুত হন। তখনও তিনি নির্বাহী মেয়র ছিলেন। এটাকে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র বলে অভিহিত করে নিজের সততার প্রমাণ ও স্থানীয় জনগণের অধিকার প্রতিষ্ঠার প্রয়াস তিনি অব্যাহত রাখেন। তবে আইনের বাধ্যবাধকতায় ৫ বছর কোন নির্বাচনে অংশ গ্রহণ করতে পারেননি। ২০২১ সালে মেয়রাল রেফারেন্ডামে লেবার, কনজারভেটিব এবং লিবডেমসহ সকল দলের বিপরীতে লুৎফর রহমান নির্বাহী মেয়র নির্বাচনের পক্ষে বিজয়ী হন। এরপর তিনি এবারের মেয়র নির্বাচনে নিজের প্রার্থীতা ঘোষণা করেন।

মূলত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে ২০১০ সালের ২১ অক্টোবরের নির্বাচনে লুৎফুর রহমানের বিজয়ের মধ্যদিয়ে বৃটিশ বাংলাদেশিরা বৃটেনে এক অনন্য ইতিহাস রচনা করেন। ১ম বাংলাদেশি নির্বাচিত নির্বাহী মেয়র হিসেবে ইতিহাসের খাতায় নাম লেখান লুৎফুর রহমান। বৃটেনে ১৩ জন নির্বাচিত মেয়রের মধ্যে তিনি ছিলেন একমাত্র অশ্বেতাঙ্গ এবং প্রথম মুসলিম ও প্রথম বাংলাদেশি মেয়র। অন্য সকলেই শ্বেতাঙ্গ। তখন তার দায়িত্বে ছিল ১.২ বিলিয়ন পাউন্ড বাজেট ও ১১ হাজার কর্মকর্তা-কর্মচারী।

তখন বৃটেনের শীর্ষ পত্রিকা ডেইলি টেলিগ্রাফে সেরা ১০০ প্রভাবশালী ব্যক্তির তালিকায় অন্তর্ভুক্ত হন মেয়র লুতফুর রহমান। টানা ৩য় বারের মতো তিনি এই তালিকায় স্থান পেয়েছেন। আগের বারের চেয়ে পরের বার তিনি ১৫ ধাপ এগিয়ে ৫৩ নম্বরে স্থান করে নেন। টপ হান্ড্রেডস মোস্ট ইনফ্লুয়েন্সিয়াল ব্যক্তিদের মধ্যে লুৎফুর রহমান ২০১১ সালে ৭৮তম স্থান লাভ করেন। ২০১২ সালে তিনি ১০ জনকে টপকে যান। এভাবে দু বছরে ২৫ জনকে ছাড়িয়ে ৭৮ থেকে ৫৩তে স্থান করে নেন। তবে এই ধরনের প্রভাব ও সাফল্য দেখে একটি মহল ঈর্ষান্বিত হয়ে তার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রে মেতে ওঠে।

ব্রিটেনে কোয়ালিশন সরকার যখন ব্যয় সংকোচন নীতি অবলম্বন করেছে তখন টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে প্রাইমারি স্কুলের রিসেপশন ও ইয়ার ওয়ানের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল চালু করেন নির্বাহী মেয়র লুৎফুর রহমান। এ বাবত বরাদ্দ করেন প্রায় পৌনে ৩ মিলিয়ন পাউন্ড । তার এই সাহসী ও সৃজনশীল উদ্যোগের প্রশংসা করে বিখ্যাত গার্ডিয়ান পত্রিকা নিবন্ধ প্রকাশ করে। বিবিসির সানডে পলিটিক্স অনুষ্ঠানসহ মেইনস্ট্রিম মিডিয়ায় তার কার্যক্রমের প্রশংসা করা হয়েছে। লুৎফুর রহমান ফ্রি স্কুল মিল চালুর অল্প দিনের মাথায় পুরো ব্রিটেনে এই ফ্রি স্কুল মিল চালুর ঘোষণা দেন তৎকালীন ডেপুটি প্রাইম মিনিস্টার নিক ক্লেগ।

নির্বাহী মেয়র হিসেবে দায়িত্ব গ্রহণের আগে লুৎফুর রহমান ২০০৮ থেকে ২০১০ পর্যন্ত টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিলে দু টার্ম কাউন্সিল লিডার ছিলেন।পেশাগত জীবনে তিনি ফ্যামিলি এন্ড চাইলড প্রটেকশন ল স্পেশালিষ্ট ও সিনিয়র সলিসিটর।

মেয়র লুৎফুর রহমানের তৃতীয় বারের বিজয়ে উচ্ছাস প্রকাশ করেছেন টাওয়ার হ্যামলেটস সহ গ্রেট বৃটেন এমনকি ইউরোপে বসবাসরত বিভিন্ন শ্রেণি পেশার বিশিষ্টজনেরা। তারা বলেছেন, লুৎফুর রহমান বিগত সময়ে টাওয়ার হ্যামলেটসে অভূতপূর্ব উন্নয়ন করেছেন। এই বিজয় তারই প্রতিদান। বৃটেন সরকার যখন সারাদেশে স্কুলের শিক্ষার্থীদের জন্য ফ্রি স্কুল মিল বন্ধ করে দেয় তখন লুৎফুর রহমান তা অব্যাহত রেখেছেন। এমনিভাবে বিশ্ববিদ্যালয়ে পড়ুয়া গরিব শিক্ষার্থীদের জন্য ইউনিভার্সিটি গ্রান্ট, বৃদ্ধদের জন্য ফ্রি হোম কেয়ার সুবিধা, পুরো বৃটেনে সর্বোচ্চ সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণসহ নানা উন্নয়নমূলক কর্মকাণ্ডই তাকে এই সম্মান দিয়েছে বলে তারা মতামত ব্যক্ত করেন।

উল্লেখ্য, ২০১০ সালে লন্ডন বারা অব টাওয়ার হ্যামলেটসে সরাসরি ভোটে মেয়র নির্বাচনের প্রথা গণভোটের মাধ্যমে চালু হয়। ওই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করার জন্য লুৎফুর রহমান লেবার পার্টির কাউন্সিলর হিসেবে মনোনয়ন চান। প্রথম দিকে সব কিছু ঠিক থাকলেও পরে তাকে মনোনয়ন দেওয়া হয়নি। কমিউনিটির স্বার্থের ব্যাপারে তার স্পষ্ট ও সাহসী অবস্থানের কারনেই বাদ পড়েন তিনি।

এরপর জনতার সমর্থনে স্বতন্ত্র প্রার্থী হন এবং বিপুল ভোটে জয়লাভ করেন। বাঙালি অধ্যুষিত এ বারার উন্নয়নে তিনি ব্যাপক কাজ করেন, যা দেশে-বিদেশে বেশ প্রশংসিত হয়। দ্বিতীয় বার নির্বাচনের আগে ব্রিটিশ ব্রডকাস্টিং করপোরেশনের (বিবিসি) একটি বিতর্কিত অনুষ্ঠান টাওয়ার হ্যামলেটসের বাসিন্দাদের দারুণভাবে হতাশ করে। বিবিসির বিখ্যাত প্যানারমা অনুষ্ঠানে মেয়র লুৎফুর রহমানকে বলা হয়, তিনি বাঙালিদের বিভিন্ন সংগঠন ও মসজিদে বারার তহবিল থেকে অনৈতিকভাবে বেশি অর্থ প্রদান করেছেন। নির্বাচনের কয়েক সপ্তাহ আগে এই প্রচারণায় তার ইমেজ সংকট দেখা দেয়। শ্বেতাঙ্গ ভোটারদের মধ্যে প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হয়। তার এক সময়ের রাজনৈতিক দল লেবার পার্টির প্রার্থিরা বিবিসির এই অনুষ্ঠানের সূত্র ধরে তাকে কোণঠাসা করতে চান। বিষয়টি নিয়ে পুলিশি তদন্তও চলে। অবশ্য পুলিশি তদন্তে তার বিরুদ্ধে কিছু না পাওয়ায় এটি ষঢ়যন্ত্রকারিদের জন্য ছিল হিতে বিপরীত।

দৃঢ়চেতা ও সাহসী ব্যক্তিত্ব লুৎফুর রহমান ব্যক্তিগত ও প্রাতিষ্ঠানিক রেসিজমের বিরুদ্ধে ঐক্য ও ভালবাসার মন্ত্রে উজ্জিবিত হয়ে কাজ করতে উদ্বুদ্ধ করেছেন তার নতুন দল আসপায়ার, ক্যাম্পেইন টিম ও সমর্থকদের। ফলে সকল ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে তার বিজয়ের মাধ্যমে জনতার বিজয় নিশ্চিত হয়েছে। অবশ্য লুৎফুর বিরোধী প্রচারণায় কতিপয় বাঙালির তৎপরতাও কম ছিল না। কাউন্সিলার পদে জনতার রায়ে এরা অনেকেই ধরা খাবেন বলে ধারণা করা হচ্ছে।

ইংল্যান্ডের যে কোনও কাউন্সিলের তুলনায় বেশি সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণের পুরস্কার হিসেবে সরকারের তরফ থেকে সর্বোচ্চ হাউজিং বোনাস পেয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। মেয়র লুৎফুর রহমানের নেতৃত্বে টানা দুবছর সর্বোচ্চ সংখ্যক সোস্যাল হাউজ নির্মাণের কারণে সরকারের বিশেষ স্কিম থেকে সাড়ে ১৯ মিলিয়ন পাউন্ড অতিরিক্ত বরাদ্দ পেয়েছে টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ২০১৪-১৫ অর্থবছরের জন্য এ অর্থ বরাদ্দ দেয় সরকার। এর আগের মেয়াদেও প্রায় ১৬ মিলিয়ন পাউন্ড বোনাস পেয়েছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। ফলে ২০১১ সালের পর থেকে টাওয়ার হ্যামলেটসের মোট বোনাস বরাদ্দ দাঁড়াবে ৫০ মিলিয়ন পাউন্ডের কাছাকাছি।

হাউজিং বিষয়ক ইন্ডাস্ট্রি ম্যাগাজিন ইনসাইড হাউজিং সহ বৃটেনের মেইনস্ট্রিম সংবাদ মাধ্যমে টাওয়ার হ্যামলেটসের এ সফলতার খবর গুরুত্ব দিয়ে প্রকাশ করা হয়েছে। ইংল্যান্ডের বিভিন্ন কাউন্সিল এলাকায় নতুন বাড়ি নির্মাণকে উৎসাহিত করতে ২০১১ সালে সরকার নতুন এ স্কিম চালু করে। লীগ টেবিলে বোনাস পাওয়ার দৌড়ে প্রথম স্থানে ছিল টাওয়ার হ্যামলেটস কাউন্সিল। এর আগের মেয়াদেও টাওয়ার হ্যামলেটস প্রথম স্থান দখল করেছিল। এক্ষেত্রে মেয়র লুৎফুর রহমান বলেন, হাউজিং আমার অন্যতম অগ্রাধিকার ভিত্তিক খাত। গত টার্মে ইংল্যান্ডে আমরাই সর্বোচ্চ সংখ্যক এফর্ডেবল সোস্যাল হাউজ নির্মাণ করেছি। সরকারের পক্ষ থেকে দেওয়া সর্বশেষ এ স্বীকৃতি তারই সাক্ষ্য বহন করে।

পারিবারিক জীবনে বিবাহিত লুৎফুর রহমান দু সন্তানের জনক। ১৯৫৭ সাল থেকে তার পিতা বৃটেনে বসবাস করছেন। তিনি চার বছর বয়সে বৃটেনে আসেন সিলেটের বালাগঞ্জ উপজেলার সিকন্দরপুর গ্রাম থেকে। সিলেট তথা বাংলাদেশের এই কৃতিমান রাজনীতিকের প্রতি বিশ্বজুড়ে ছড়িয়ে থাকা প্রবাসী বাংলাদেশিদের পক্ষ থেকে অফুরান শুভেচ্ছা।

লেখক: লন্ডন প্রবাসী। সাংবাদিক, কবি ও কথাসাহিত্যিক।

ইতালিতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন



ইসমাইল হোসেন স্বপন ইতালি থেকে
ইতালিতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন

ইতালিতে পদ্মা সেতু উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন

  • Font increase
  • Font Decrease

জাঁকজমকপূর্ণ আয়োজনের মধ্য দিয়ে ইতালির মিলান লোম্বার্দিয়া আওয়ামী লীগ স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপন করেছে।

স্থানীয় সময় শনিবার (২৫ জুন) মিলানস্থ একটি অভিজাত রেস্তোরাঁয় এক আনন্দ সভা অনুষ্ঠিত হয়।

ঐতিহাসিক মুহূর্ত উদযাপনে আওয়ামী লীগ, যুবলীগ, স্বেচ্ছাসেবক লীগ, শ্রমিক লীগ, বঙ্গবন্ধু ফাউন্ডেশনসহ সাধারণ প্রবাসীরা এতে অংশ নেয় ।

অনুষ্ঠানে সভাপতির বক্তব্য রাখেন ভারপ্রাপ্ত সভাপতি আবদুল মান্নান মালিথা।এছাড়া আরও বক্তব্য রাখেন সাধারণ সম্পাদক নাজমুল কবির জামান, সদস্য আকরাম হোসেন, সহ সভাপতি আবু আলম, খোরশেদ আলম, অপু হোসাইন, যুগ্ম সম্পাদক চঞ্চল রহমান, মঞ্জুরুল হোসেন সাগর, সাংগঠনিক সম্পাদক আরফান সিকদার, প্রচার সম্পাদক মামুন হাওলাদার, মমিনুর রহমান, মিজান হাওলাদার, মিলান বাংলা প্রেসক্লাব ইতালির সভাপতি রিয়াজুল ইসলাম কাওছার, ইব্রাহিম মিয়া, শামিম হাওলাদারসহ অনেকে।

পদ্মা সেতুর আনন্দে কেক কেটে আনন্দ ভাগাভাগি করেন নেতাকর্মীরা। অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন ইমরান হোসাইন, আব্দুল বাছিত, জাসিম আহমেদ, ফয়সাল খান, মাসুদ হাওলাদার, তাজুল খানসহ অনেকে। পদ্মা সেতুর বাস্তবায়নের জন্য প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন বক্তারা।

;

‘পদ্মা সেতু ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের নতুন সম্ভাবনা’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

স্পেনে উৎসাহ ও উদ্দীপনায় পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন

  • Font increase
  • Font Decrease

দীর্ঘ অপেক্ষার পর শনিবার (২৫ জুন) স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। দেশের ইতিহাসে অবকাঠামো হিসেবে সবচেয়ে বড় এ প্রকল্পটি উদ্বোধনের মধ্যে দিয়ে যোগাযোগ ব্যবস্থায় নতুন দিগন্তের উন্মোচন হয়েছে। দেশের জন্য ঐতিহাসিক এ দিনটিতে বিপুল উৎসাহ ও উদ্দীপনায় স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে পদ্মা সেতুর উদ্বোধনী অনুষ্ঠান উদযাপন করা হয়েছে।

শনিবার (২৫ জুন) স্থানীয় সময় সকাল ১১টায় দূতাবাস মিলনায়তনে অনুষ্ঠিত বিশেষ এ আনন্দ উৎসবে দূতালয় হল বর্ণাঢ্য ব্যানার ও পোস্টারে সুসজ্জিত করা হয়। আমন্ত্রিত অতিথিসহ দূতাবাসের সকল কর্মকর্তা-কর্মচারীবৃন্দ এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

পবিত্র কোরআন থেকে তেলাওয়াতের মাধ্যমে শুরু হওয়া পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষ্যে বিশেষ এই অনুষ্ঠানের শুরুতে বাংলাদেশের রাষ্ট্রপতি ও প্রধানমন্ত্রীর প্রেরিত বাণী পাঠ করে শোনানো হয়।

আনন্দমুখর বিশেষ এ উৎসবে প্রবাসীদের স্বাগত জানান স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ। দূতাবাসের প্রথম সচিব (শ্রম) মো. মোতাসিমুল ইসলামের প্রাণবন্ত উপস্থাপনায় এসময় বাংলাদেশ দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল, বাণিজ্যিক সচিব রেদোয়ান আহমেদ, কউন্সিলর দীন মোহাম্মদ ইমাদুল হক উপস্থিত ছিলেন।

বিশেষ এই উৎসবে রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ তার বক্তব্যে বলেন, বাংলাদেশের প্রতিটি নাগরিকের জন্য আজ অত্যন্ত আনন্দের দিন। বাংলাদেশ সময় আজ সকালে প্রধানমন্ত্রী বাংলাদেশ বহুল আকাঙ্ক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর শুভ উদ্বোধন করেছেন। এটি বাংলাদেশের ইতিহাসের বিস্ময়। আমাদের জাতীয় জীবনে বিশেষ গুরুত্বপূর্ণ মুহূর্ত। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বঙ্গবন্ধুর সোনার বাংলা বিনির্মাণে আজ এক বিশাল মাইলফলক অর্জিত হয়েছে।

রাষ্ট্রদূত সারওয়ার মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতু ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্য, সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের রাজনৈতিক মর্যাদা, স্বনির্ভরতা, সাহস, সক্ষমতা ও আত্মবিশ্বাসের প্রতীক। বিশ্বে আমাজনের পরে দ্বিতীয় খরস্রোতা পদ্মা নদীর উপরে সেতু নির্মাণ করে বাংলাদেশ অনন্য দৃষ্টান্ত স্থাপন করেছে। তিনি তার বক্তব্যে পদ্মা সেতু নির্মাণে প্রবাসীদের অবদানকেও শ্রদ্ধাভরে স্মরণ করেন। তিনি প্রবাসের সকল বাংলাদেশি নাগরিককে স্ব স্ব অবস্থান থেকে দেশ ও জাতির কল্যাণে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ।

অনুষ্ঠানে অন্যান্যের মধ্যে বক্তব্য দেন আওয়ামী লীগ স্পেন শাখার সভাপতি এসআরআইএস রবিন, সাধারণ সম্পাদক রিজভী আলম, সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল কামালী, আইন বিষয়ক সম্পাদক অ্যাডভোকেট তারেক হোসেন।

অনুষ্ঠানে পদ্মা সেতুর উপর নির্মিত ভিডিও ডকুমেন্টারিসহ প্রধানমন্ত্রীর পদ্মাসেতু উদ্বোধনের ভিডিও ক্লিপস প্রদর্শন করা হয়। রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ আমন্ত্রিত অতিথিদের নিয়ে কেক কেটে পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উদযাপন করেন।

পরে জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানসহ জাতীয় চার নেতা এবং মহান মুক্তিযুদ্ধে সকল শহীদের রুহের মাগফিরাত, পদ্মা সেতুর স্থায়ীত্ব এবং দেশ ও জাতির উন্নতি ও সমৃদ্ধি কামনায় বিশেষ মোনাজাত করা হয়। অনুষ্ঠানে উপস্থিত বাংলাদেশিরা উচ্ছ্বাস প্রকাশ করে প্রধানমন্ত্রীকে ধন্যবাদ জানান এবং সেতুর সাথে সংশ্লিষ্ট সবাইকে ধন্যবাদ জানান।

;

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাহরাইনে দূতাবাসের আনন্দ উৎসব



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাহরাইনে দূতাবাসের আনন্দ উৎসব

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাহরাইনে দূতাবাসের আনন্দ উৎসব

  • Font increase
  • Font Decrease

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে বাহরাইনের বিখ্যাত ডিলমানিয়া মলে বাংলাদেশ দূতাবাসে এক উৎসব অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

শনিবার (২৫ জুন) এ অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে বিদেশি কূটনীতিক, বাহরাইনের সরকারি ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তাবৃন্দ, লেখক, শিল্পী ও সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গসহ, ব্যবসায়ী, সাংবাদিক, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক ও ছাত্র-ছাত্রী এবং বাহরাইনে বসবাসরত বাংলাদেশি প্রবাসীরাসহ দূতাবাসের কর্মকর্তা ও কর্মচারীগণ উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানটি তিন পর্বে বিভক্ত করা হয়। প্রথম পর্বে পদ্মা বহুমুখী সেতুর উপর নির্মিত প্রামান্যচিত্র প্রদর্শন ও আলোচনা, দ্বিতীয় পর্বে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান এবং সর্বশেষে চিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হয়।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন উপলক্ষে আয়োজিত অনুষ্ঠানের প্রথম পর্বে রাষ্ট্রদূত ড. মুহাম্মদ নজরুল ইসলাম তার বক্তব্যে বলেন, পদ্মা সেতু হলো বাংলাদেশের জন্য একটি গর্বের সেতু। বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার দৃঢ় প্রত্যয় ও আত্মবিশ্বাসের কারণে এই পদ্মা সেতু নির্মিত হয়েছে। তিনি এই আনন্দক্ষণে প্রধানমন্ত্রীর দূরদর্শী নেতৃত্বের ভূয়সী প্রসংশা করেন এবং বাহরাইন প্রবাসীদের পক্ষ থেকে আন্তরিক অভিনন্দন ও কৃতজ্ঞতা জানান।

তিনি আরও বলেন, পদ্মা সেতুর মাধ্যমে বাংলাদেশে যোগাযোগের নতুন মাত্রা উন্মোচিত হলো, যা বাংলাদেশের ২১টি জেলার মানুষের জীবনমান বদলে দিবে।

রাষ্ট্রদূত ড. ইসলাম বলেন, ৬ দশমিক ১৫ কিলোমিটার দীর্ঘ পদ্মা সেতুটি কোন বিদেশি সাহায্য ব্যতিরেখে সম্পূর্ণ নিজস্ব অর্থায়নে নির্মাণ করা হয়। সমস্ত দেশি-বিদেষি ষড়যন্ত্রকে উপেক্ষা করে বঙ্গবন্ধু কন্যা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০৪১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ আয়ের দেশে বাংলাদেশকে পৌঁছে দেওয়ার লক্ষ্যে কাজ করে চলছেন। দেশের উন্নয়নে দলমত নির্বিশেষে সকলকে একযোগে কাজ করার জন্য রাষ্ট্রদূত প্রবাসীদের আহবান জানান।

অনুষ্ঠানের দ্বিতীয় পর্বে রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত অতিথিদের সাথে নিয়ে দূতাবাস কর্তৃক আয়োজিত সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান উপভোগ করেন যেখানে বাংলাদেশ স্কুল, বাহরাইনের শিক্ষার্থীরা তিনটি দেশীয় গানের সাথে মনোমুগ্ধকর নৃত্য পরিবেশন করেন। এরপর, রাষ্ট্রদূত আগত অতিথিদের সাথে ফটোগ্রাফি প্রদর্শনী উদ্বোধন করেন। প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের অপরূপ প্রাকৃতিক সৌন্দর্য ও ঐতিহাসিক স্থানসমূহের এমন সৌন্দর্য্যপূর্ণ ছবি দেখে দেশি-বিদেশি দর্শনার্থীরা বাংলাদেশ সম্পর্কে জানতে পেরে আনন্দিত হন।

অনুষ্ঠানের শেষ পর্বে রাষ্ট্রদূত অনুষ্ঠানে আগত সকল অতিথি, দর্শনার্থী, বাংলাদেশ স্কুলের শিক্ষক-শিক্ষার্থীসহ সকলকে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা জানান।

পরিশেষে, দীর্ঘ প্রতীক্ষিত পদ্মা সেতুর মাধ্যমে যাতে বাংলাদেশের মানুষ উপকৃত হতে পারে তার জন্য দোয়া কামনা করা হয় এবং উপস্থিত সকলের মাঝে দেশীয় খাবার পরিবেশন করার মধ্যদিয়ে অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘোষণা করা হয়।

;

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: স্বপ্ন পুরনের আনন্দের ঢেউ স্পেনে



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। বাংলাদেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে চলেছে আজ ২৫ জুন। এক সময়ের স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চোখ জুড়াচ্ছে কোটি বাঙালির। বহুল প্রতীক্ষিত লাল-সবুজের গর্বের এই পদ্মা সেতুর গৌরবগাঁথা এবার পৌঁছে গেলো ইউরোপের পর্যটন ও ফুটবলের দেশ খ্যাত স্পেনে।

দেশে-বিদেশে আলোচিত পদ্মা সেতুর স্বপ্ন পুরনের আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে সুদুর স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝেও।

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় দেশের মানুষের ন্যায় উচ্ছ্বাসিত স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশিও।

বিশ্ব দরবারে পদ্মা সেতুর পটভূমি ও আগমনী বার্তা তুলে ধরতে এবং সেতুর উদ্বোধনকে আরও স্মরণীয় করে রাখতেই স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের নিয়ে ভিন্নধর্মী বিশেষ আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন অভিহিত করে দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ ২৫ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় দূতাবাস হলে এক আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহবান জানান তিনি।

আজ ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ২৬ জুন সকালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেতুটি। সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর এপারেও তাই সেই আনন্দের ছটা। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় প্রবাসীদের এখন একটাই আলোচনার বিষয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকারের ভূঁয়সী প্রশংসার পাশাপাশি সেদিনের বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনায় মুখর প্রবাসীরা।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সরওয়ার মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক।‘দেশ স্বাধীন করার সময় যেভাবে গোটা জাতি এক হয়েছিল, সেভাবে পদ্মা সেতুর জন্যও দেশে -বিদেশে সবাই এক হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় যেভাবে দেশের মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই এখন দেশের মানুষ পদ্মা সেতুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।স্বাধীনতার পর একমাত্র পদ্মা সেতুর জন্যই আবারও গোটা জাতি এক হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনের বাণিজ্যিক সচিব রেদোয়ান আহমেদ বলেন, পদ্মার বুকে মাথা উচূ করে দাঁড়ানো সেতুটি আজ থেকে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আশা আকঙ্ক্ষার প্রতীক। পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের জন্য আস্থা তৈরি করেছে। পদ্মা সেতু ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

স্পেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জাকির হোসেন বলেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা নিজেই পদ্মা সেতু করলেন। আজ সেই নদীর বুক চিরে পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে যেন বঙ্গবন্ধুকেই কুর্নিশ করছে। এই সেতুর ফলে এখানকার জনপদে উন্নয়নের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনন্দ উৎসব করা হবে জানিয়ে স্পেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল কামালী বলেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল, তাদের বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

;