শেখ হাসিনার দূরদর্শী নেতৃত্বের প্রশংসায় স্পেনের প্রেসিডেন্ট



কবির আল মাহমুদ, স্পেন
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

স্পেনের প্রেসিডেন্ট পেদ্রো সানচেজ প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রাজ্ঞ ও দূরদর্শী নেতৃত্বে বাংলাদেশের আর্থসামাজিক উন্নয়ন এবং জাতিসংঘসহ আঞ্চলিক ও আন্তর্জাতিক পরিমণ্ডলে দায়িত্বশীল, সক্রিয় ও দৃশ্যমান ভূমিকার ভূয়সী প্রশংসা করেছেন।

বাংলাদেশ ও স্পেনের কূটনৈতিক সম্পর্কের সূবর্ণজয়ন্তী উপলক্ষে শুভেচ্ছা বার্তায় এ অভিমত ব্যাক্ত করেন স্পেনের প্রেসিডেন্ট। এ উপলক্ষে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনাও শুভেচ্ছা বার্তা পাঠিয়েছেন।

রোববার (১৫ মে) স্পেনের মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাস থেকে পাঠানো বিজ্ঞপ্তিতে এ তথ্য জানানো হয়েছে। স্বাধীন দেশ হিসেবে ১৯৭২ সালের ১২ মে কূটনৈতিক স্বীকৃতি প্রদান করে স্পেন।

দূতাবাস জানায়, জাতিসংঘের ৭৫তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী মাদ্রিদে ২০২০ গৃহীত ‘টুগেদার ফর এ রিনফোর্সড মাল্টিলেটারেলইউম’ শীর্ষক যৌথ ঘোষণা পত্রে বহুপাক্ষিক বিশ্বব্যবস্থার নীতির প্রতি বাংলাদেশের অবিচল সমর্থন ও অঙ্গীকারের প্রশংসা করে স্পেনের প্রেসিডেন্ট বলেন, ২০০৮ সালে ঢাকায় স্পেনের আবাসিক দূতাবাস চালুর পর থেকে দ্বিপাক্ষিক সম্পর্ক আরও বেগবান ও বিস্তৃত হয়েছে।

স্পেন বর্তমানে বাংলাদেশের চতুর্থ রফতানি গন্তব্য। স্পেনের উদ্যোক্তা ও বিনিয়োগকারীরা বাংলাদেশে তাদের উপস্থিতি সম্প্রসারণে ক্রমবর্ধমান করছেন। বাণিজ্যের পরিধি ও বৈচিত্র্য বৃদ্ধিতে এবং দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতার বিবিধ ক্ষেত্রে বিদ্যমান অমিত সম্ভাবনাকে কাজে লাগাতে ঘনিষ্ঠ অংশীদার হিসেবে স্পেন বাংলাদেশের সঙ্গে একযোগে কাজ করে যাবে বলে প্রত্যয় ব্যক্ত করেন পেদ্রো সানচেজ।

অন্যদিকে বাংলাদেশের প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ২০১৯ সালে মাদ্রিদে অনুষ্ঠিত কপ-২৫ সম্মেলনের সাইডলাইনে স্পেনের প্রেসিডেন্টের সঙ্গে তার দ্বিপাক্ষিক বৈঠকের বিষয়টি স্মরণ করে আশাবাদ ব্যক্ত করেন যে সামনের দিনগুলোতে শিল্প ও প্রযুক্তি সহায়তা, ডিজিটাল কানেক্টিভিটি, বিদ্যুৎ ও জ্বালানি, লজিস্ট্রিক্স ও পরিবহন অবকাঠামো উন্নয়ন, জলবায়ু পরিবর্তনের অভিঘাত মোকাবিলা, শিক্ষা, সংস্কৃতি এবং গবেষণাক্ষেত্রে পারস্পরিক দ্বিপাক্ষিক সহযোগিতা আরও সম্প্রসারিত হবে।

বঙ্গবন্ধুকন্যা বাংলাদেশের বিভিন্ন সম্ভাবনাময় সেক্টরে স্পেনীয় বিনিয়োগ বৃদ্ধিরও আহ্বান জানান। শুভেচ্ছা বার্তায় প্রধানমন্ত্রী স্পেনের প্রেসিডেন্টেকে পারস্পরিক সুবিধাজনক সময়ে বাংলাদেশ সফরের আমন্ত্রণ জানান।

পদ্মা সেতুর উদ্বোধন: স্বপ্ন পুরনের আনন্দের ঢেউ স্পেনে



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
পদ্মা সেতু

পদ্মা সেতু

  • Font increase
  • Font Decrease

অবশেষে দীর্ঘ অপেক্ষার অবসান হচ্ছে। বাংলাদেশের কোটি মানুষের স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধন হতে চলেছে আজ ২৫ জুন। এক সময়ের স্বপ্নের পদ্মা সেতু এখন নিজের পায়ে দাঁড়িয়ে চোখ জুড়াচ্ছে কোটি বাঙালির। বহুল প্রতীক্ষিত লাল-সবুজের গর্বের এই পদ্মা সেতুর গৌরবগাঁথা এবার পৌঁছে গেলো ইউরোপের পর্যটন ও ফুটবলের দেশ খ্যাত স্পেনে।

দেশে-বিদেশে আলোচিত পদ্মা সেতুর স্বপ্ন পুরনের আনন্দের ঢেউ আছড়ে পড়ছে সাত সমুদ্র তের নদীর ওপারে সুদুর স্পেনে বসবাসরত বাংলাদেশিদের মাঝেও।

পদ্মা সেতু নির্মাণ হওয়ায় দেশের মানুষের ন্যায় উচ্ছ্বাসিত স্পেনে বসবাসরত প্রায় ৫০ হাজার বাংলাদেশিও।

বিশ্ব দরবারে পদ্মা সেতুর পটভূমি ও আগমনী বার্তা তুলে ধরতে এবং সেতুর উদ্বোধনকে আরও স্মরণীয় করে রাখতেই স্পেনস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে প্রবাসীদের নিয়ে ভিন্নধর্মী বিশেষ আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে।

বহুল প্রতীক্ষিত স্বপ্নের পদ্মা সেতুর উদ্বোধনের দিনকে বাংলাদেশের জন্য এক গৌরবোজ্জ্বল ঐতিহাসিক দিন অভিহিত করে দূতাবাসের মিশন উপ-প্রধান এটিএম আব্দুর রউফ মন্ডল জানান, পদ্মা সেতুর উদ্বোধনকে স্মরণীয় করে রাখতে আজ ২৫ স্থানীয় সময় দুপুর ১২টায় দূতাবাস হলে এক আনন্দ উৎসবের আয়োজন করা হয়েছে। এ জন্য কমিউনিটি নেতৃবৃন্দসহ সাংবাদিকদের উপস্থিত থাকার আহবান জানান তিনি।

আজ ২৫ জুন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা পদ্মা সেতু উদ্বোধন করেন স্বপ্নের পদ্মা সেতু। ২৬ জুন সকালে সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত করে দেওয়া হবে সেতুটি। সাত সমুদ্দুর তেরো নদীর এপারেও তাই সেই আনন্দের ছটা। চায়ের আড্ডা থেকে শুরু করে রেস্তোরাঁ কিংবা ঘরোয়া আড্ডায় প্রবাসীদের এখন একটাই আলোচনার বিষয়। কঠিন চ্যালেঞ্জ মোকাবিলা করে পদ্মা সেতুর নির্মাণ কাজ শেষ হওয়ায় বর্তমান সরকারের ভূঁয়সী প্রশংসার পাশাপাশি সেদিনের বিরোধিতাকারীদেরও সমালোচনায় মুখর প্রবাসীরা।

স্বপ্নের পদ্মা সেতু উদ্বোধনকে স্বাগত জানিয়ে, দেশটিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত সরওয়ার মাহমুদ বলেন, পদ্মা সেতু বাংলাদেশের মানুষের মর্যাদা ও সক্ষমতার প্রতীক।‘দেশ স্বাধীন করার সময় যেভাবে গোটা জাতি এক হয়েছিল, সেভাবে পদ্মা সেতুর জন্যও দেশে -বিদেশে সবাই এক হয়েছে। জাতির জনক বঙ্গবন্ধুর স্বদেশ প্রত্যাবর্তনের সময় যেভাবে দেশের মানুষ তার জন্য অপেক্ষা করেছিলেন, ঠিক সেভাবেই এখন দেশের মানুষ পদ্মা সেতুর জন্য অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছেন।স্বাধীনতার পর একমাত্র পদ্মা সেতুর জন্যই আবারও গোটা জাতি এক হয়েছে।

বাংলাদেশ দূতাবাস স্পেনের বাণিজ্যিক সচিব রেদোয়ান আহমেদ বলেন, পদ্মার বুকে মাথা উচূ করে দাঁড়ানো সেতুটি আজ থেকে হয়ে উঠেছে বাংলাদেশের আশা আকঙ্ক্ষার প্রতীক। পদ্মা সেতু নির্মাণের মাধ্যমে বিশ্বে বাংলাদেশে বড় বিনিয়োগের জন্য আস্থা তৈরি করেছে। পদ্মা সেতু ইউরোপের বাজারে বাংলাদেশের নতুন বাণিজ্যের সম্ভাবনা তৈরি করার পাশাপাশি বিদেশি বিনিয়োগ ও বাংলাদেশের ইমেজ বৃদ্ধিতে সহায়তা করবে।

স্পেন আওয়ামী লীগের প্রবীণ নেতা জাকির হোসেন বলেন, সব ষড়যন্ত্র মোকাবিলা করে শেখ হাসিনা নিজেই পদ্মা সেতু করলেন। আজ সেই নদীর বুক চিরে পদ্মা সেতু দাঁড়িয়ে যেন বঙ্গবন্ধুকেই কুর্নিশ করছে। এই সেতুর ফলে এখানকার জনপদে উন্নয়নের আলো ছড়িয়ে পড়েছে। আওয়ামী লীগের পক্ষ থেকে আনন্দ উৎসব করা হবে জানিয়ে স্পেন আওয়ামী লীগের সাংগঠনিক সম্পাদক বদরুল কামালী বলেন, যারা পদ্মা সেতুর বিরোধিতা করেছিল, তাদের বাংলাদেশের মানুষের কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।

;

বিপুল উদ্দীপনা ও আনন্দ আয়োজনে ডব্লিউইউএসটির কনভোকেশন সম্পন্ন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ২০২২

ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ২০২২

  • Font increase
  • Font Decrease

অনুষ্ঠিত হয়ে গেলো ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি- ডব্লিউইউএসটি'র কনভোকেশন ২০২২। যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ এই বিশ্ববিদ্যালয়ের পাঁচ শতাধিক শিক্ষার্থীকে তুলে দেওয়া হলো তাদের গ্রাজুয়েশন সনদ ও সম্মাননা।

শনিবার (১৮ জুন) ভার্জিনিয়ার জর্জ সি. মার্শাল হাইস্কুল মিলনায়তনে সম্পন্ন হয় এই গ্রাজুয়েশন সেরিমনি। কালো গাউন মাথায় গ্রাজুয়েশন হ্যাট পরে সেরিমনির মূল আকর্ষণ হয়ে শিক্ষার্থীরা তাদের সনদ নিলেন, আনন্দ-উচ্ছ্বাসে ভরিয়ে তুললেন দিনটিকে। এতে প্রধান প্রধান অতিথি হিসেবে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ফ্যায়ারফ্যাক্স কাউন্টির বোর্ড অব সুপারভাইজরের চেয়ারম্যান জেফরি সি. ম্যাককে।

কর্মসূচিটিকে স্রেফ সনদ বিতরণে সীমিত না রেখে বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ আয়োজন করে একটি বিশেষ সেমিনারের। তাতে কি-নোট স্পিকার হিসেবে শিক্ষার্থীদের জন্য নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন ড. রায়ান সাদী, যুক্তরাষ্ট্রে সমহিমায় প্রতিষ্ঠিত একজন অনন্য বাংলাদেশি আমেরিকান চিকিৎসা-গবেষক। ক্যান্সারের সফল চিকিৎসা পদ্ধতি আবিষ্কার করে তিনি কুড়িয়েছেন বিরল সম্মান। শিক্ষার্থীদের তিনি নিজের জীবনের সাফল্যের গল্পটি শোনান এবং তাদের উদ্ধুদ্ধ করেন ভবিষ্যতের পথ চলার নানা দিকনির্দেশনায়।

বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ, প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক শিক্ষার্থীদের হাতে সনদ বিতরণের পাশাপাশি তাদের বক্তৃতায় তুলে ধরেন বিশ্ববিদ্যালয়ের ভবিষ্যত কর্মপন্থার কথা।

অনুষ্ঠানে অভ্যাগত অতিথি হয়ে এসেছিলেন যুক্তরাষ্ট্রে স্বীয় ক্ষেত্রে প্রতিষ্ঠিত অন্য আরও অনেক বাংলাদেশি-আমেরিকান। যারা এই গ্রাজুয়েশন-কনভোকেশনে শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্য দিক-নির্দেশনামূলক বক্তব্য রাখেন। এদের মধ্যে ছিলেন যুক্তরাষ্ট্রের মূলধারার রাজনীতিতে সফল বাংলাদেশি-আমেরিকান ডেমোক্র্যাট সিনেটর শেখ রহমান, যুক্তরাষ্ট্রে কূটনীতিতে সফল ব্যক্তিত্ব প্রথম মুসলিম বাংলাদেশি-আমেরিকান রাষ্ট্রদূত এম. ওসমান সিদ্দিক, শিক্ষা ও গবেষণায় সফল ব্যক্তিত্ব আইট্রিপলই'র প্রেসিডেন্ট ড. সাইফুর রহমান ও মনমাউথ ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক এবং গ্লোবাল সোশ্যাল ওয়ার্ক এডুকেশন কমিশনের কো-চেয়ার ও কমিশনার ড. গোলাম এম. মাতবর, তথ্যপ্রযুক্তির সফল প্রবক্তা ও উদ্যোক্তা, ইউটিসি অ্যাসোসিয়েটস, কোডার্সট্রাস্টের চেয়ারম্যান ও সিইও আজিজ আহমদ ও বিশ্ববিদ্যালয়ের উপদেষ্টা পরিষদের সদস্য সিদ্দিক শেখ ও প্রধান অর্থ কর্মকর্তা ফারহানা হানিপ। বিশ্ববিদ্যালয়ের দুই ভাইস প্রেসিডেন্ট ড. জাফর পিরিম ও ড. শ্যান চো ছাড়াও শিক্ষকদের অনেকেই অংশ নেন এই কনভোকেশনে।

মাস্টার অব দ্য সেরিমনি হিসেবে দায়িত্ব পালন করেন বিশ্ববিদ্যালয়ের স্কুল অব বিজনেস'র পরিচালক ড. মার্ক এল রবিনসন। সঞ্চালনায় ছিলেন ডব্লিউপিএলজি এবিসি- টেন'র সিনিয়র প্রডিউসার ও করেসপন্ডেন্ট ড. আনিভা জামান।

অনুষ্ঠানের প্রধান অতিথি জেফরি সি. ম্যাককে বলেন, বহুজাতির সম্মিলনই যুক্তরাষ্ট্রের অন্যতম শক্তি। তাদের অন্তর্ভূক্তিমূলক, সমতাভিত্তিক সমাজ প্রতিষ্ঠার যে নীতিতে যুক্তরাষ্ট্র পরিচালিত তারই একটি উদাহরণ এই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি। এর শিক্ষার্থীরা বিশ্বের নানা দেশ থেকে এদেশে এসে তাদের উচ্চতর শিক্ষা নিচ্ছে, বিশেষ করে তথ্যপ্রযুক্তির শিক্ষা গ্রহণ করছে, যা এই সময়ের জন্য সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন বলে বক্তৃতায় উল্লেখ করেন তিনি। জেফরি বলেন, ভার্জিনিয়ায় ৯০০০ টেকনোলজি কোম্পানি রয়েছে, এই শিক্ষার্থীরা তাদের পড়াশোনা শেষ করে এসব কোম্পানিতে দক্ষ জনশক্তি হিসেবে যোগ দিতে পারবে, এটি সত্যিই প্রশংসার দাবিদার।

আহা আমি নিজেও যদি পারতাম এমন প্রযুক্তি ও উদ্ভাবন বিষয়ে শিক্ষা নিতে, আক্ষেপের সুরে বলেন জেফরি সি. ম্যাককে।

কি-নোট স্পিকার ড. রায়ান সাদী তার ব্যক্তি জীবনের গল্প দিয়ে শুরু করেন এবং একটি স্বপ্ন লালন করলে তা যে পূরণ হবেই সে কথাই শোনান শিক্ষার্থীদের। জীবনের প্রতিটি ক্ষণকে সর্বোচ্চ গুরুত্বে ব্যবহার করার কথা বলেন আর শিক্ষার্থীদের মধ্যে যে অসীম সম্ভাবনা রয়েছে তা উল্লেখ করে প্রত্যেককে মানবতার শক্তিতে বলিয়ান হওয়ার আহ্বান জানান। আত্মপ্রত্যয়ী হতে বলেন আর পরিশুদ্ধ মনের অধিকারী হতে বলেন প্রতিটি শিক্ষার্থীকে। সবচেয়ে বেশি যেটি প্রয়োজন তা হচ্ছে নিজেকে জানা, প্রত্যেকে তাকে নিজেকে জানতে পারলে, নিজের সক্ষমতা, দক্ষতা ও যোগ্যতা জানলে এরপর আত্ন নিয়োজনেই যে কোনো অর্জন সম্ভব, বলেন ড. রায়ান সাদী।

চ্যান্সেলর আবুবকর হানিপ তার বক্তৃতায় শিক্ষার্থীদের উদ্দেশ্যে বলেন, এখন যারা গ্রাজুয়েটেড হলেন তারা সকলেই গত বছরগুলোতে একটি কঠিন ও অনিশ্চিত সময়ের মধ্যে দিয়ে গেছেন। কিন্তু আমি দেখেছি শিক্ষার্থীদের অসীম শক্তি ও আত্মপ্রত্যয়। আর সে কারণেই তারা সফল হতে পেরেছেন। আর তারই পথ ধরে আজ তাদের সেই সাফল্যই আজ উদযাপিত হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয় শিক্ষার্থীদের জন্য সাফল্যের একটি দৃঢ় ভিত রচনা করে দিয়েছে। এখন প্রত্যেকের মধ্যেই তৈরি হয়েছে অর্জনের সকল সম্ভাবনা। যা ভবিষ্যতের যে কোনো চ্যালেঞ্জ মোকাবেলায় কাজ করবে, বলেন আবুবকর হানিপ।

এই গ্রাজুয়েটরা প্রত্যেকেই এখন ওয়াশিংটন সায়েন্স অ্যান্ট টেকনোলজি-ডব্লিউইউএসটি'র এলামনি এবং গোটা বিশ্বের কাছে এই বিশ্ববিদ্যালয়র প্রতিনিধি। তাদের প্রত্যেকের সাফল্যই বিশ্ববিদ্যালয়ের সুনাম বাড়াবে। আর ভবিষ্যতে এই শিক্ষার্থীরা তাদের যে কোনো প্রয়োজনে বিশ্ববিদ্যালয়কে পাশে পাবে, বলেন চ্যান্সেলর হানিপ।

ড. হাসান কারাবার্ক বলেন, একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে শিক্ষার্থীরা শিক্ষার পাশাপাশি যে অভিজ্ঞতা অর্জন করে সেটিই সবচেয়ে বড় কথা। অভিজ্ঞতার কোনো বিকল্প কিছু নেই। শিক্ষার্থীেদর উদ্দেশ্যে তিনি বলেন, আপনারা এই বিশ্ববিদ্যালয় থেকে যে শিক্ষা ও অভিজ্ঞতা অর্জন করেছেন সেটি অন্যদের সঙ্গে শেয়ার করবেন। যা তাদের একই ধরণের উদ্যোগ নিতে উদ্যমী করে তুলবে।

এসময় শিক্ষার্থীদের আনুষ্ঠানিকভাবে গ্রাজুয়েশন ডিগ্রিপ্রাপ্ত হিসেবে ঘোষণা করেন ড. হাসান কারাবার্ক।

সশরীরে উপস্থিত থাকতে না পারায় ভিডিও বার্তার মাধ্যমে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলোজির গ্রাজুয়েটদের এবং কর্তৃপক্ষকে শুভেচ্ছা জানান সেনেটর শেখ রহমান।

এম. ওসমান সিদ্দিক শিক্ষার্থীদের দৃঢ়প্রত্যয়ী ও সাহসী হওয়ার উদ্দীপনা যোগান। এবং বলেন, জীবনের পথ চলায় সেটাই করবেন, যা আপনার হৃদয়ে লালিত।

ড. সাইফুর রহমান বলেন, দেশ আপনার জন্য কি করতে পারবে সেটি যেমন জরুরি তেমনি আপনি দেশের জন্য কি করতে পারছেন সেটিও জরুরি। কারো কাছে সহায়তা প্রত্যাশার আগে তাকে কি সহায়তা করতে পারেন সেটি নিশ্চিত করতে হবে।

একবিংশ শতাব্দীর জন্য উপযোগী উৎপাদনমুখী কর্মশক্তি তৈরিতে কাজ করছে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি, এখানকার শিক্ষার্থীরা তাদের যাত্রা শুরুই করতে পারছে এই ভবিষ্যত কর্মশক্তিতে তাদের স্থান করে নিয়ে, এটা অবশ্যই প্রশংসার দাবিদার, বলেন অধ্যাপক ড. গোলাম এম মাতবর। তিনি শিক্ষার্থীদের প্রতি সক্ষমতার পাশাপাশি নৈতিকতা ও মূল্যবোধের ওপর জোর দেন। এবং বলেন, এসব কিছুর সমন্বয়েই কাঙ্খিত লক্ষ্যে পৌঁছে যাওয়া সম্ভব।

সিদ্দিক শেখ এই বিশ্ববিদ্যালয় আপনাদের জন্য একটি সফল ভবিষ্যত অর্জনের পথ খুলে দিয়েছে। ভবিষ্যতের একটি সেরা বিশ্ববিদ্যালয়ের আপনার বর্তমান শিক্ষার্থী হিসেবে গ্রাজুয়েটেড হলেন এটাই হতে পারে আপনাদের গর্বের বিষয়। শিক্ষার্থীদের প্রতি তিনি মনযোগী, সৎ ও বিনয়ী হওয়ার আহ্বান জানান।

তথ্যপ্রযুক্তির দক্ষতাভিত্তিক একটি বিশ্ববিদ্যালয় থেকে গ্রাজুয়েশন সম্পন্ন করা প্রত্যেকটি শিক্ষার্থীকে ভাগ্যবান বলে উল্লখ করেন আজিজ আহমদ। এই শিক্ষার মধ্য দিয়ে যে দক্ষতা অর্জিত হয়েছে সেটাই প্রতিটি শিক্ষার্থীকে বিশ্বের কর্মজগতের উপযোগী করে তুলবে। আর সময়ের প্রয়োজনগুলো সঙ্গে শিক্ষার্থীরা তাদের এই জ্ঞানকে যতটা সম্পৃক্ত করতে পারবে তাদের সাফল্যই তত বেশি আসবে, বলেন তিনি।

ফারহানা হানিপ তার বক্তৃতায় নতুন গ্রাজুয়েটদের অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, আজ আপনাদেরই দিন। ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনলোজি'র গ্রাজুয়েটরা এই বিশ্ববিদ্যালয়েরই আয়না। এখানে বিশ্ববিদ্যালয় ও শিক্ষার্থীরা একে অন্যের প্রতিবিম্ব হয়ে কাজ করবে। বিশ্ববিদ্যালয়ে নানা দেশের নানা জাতির শিক্ষার্থীরা পড়তে আসে, তাদের উপস্থিতিতে প্রতিটি ক্লাসরুম যেনো জাতিসংঘের সম্মেলন কক্ষ হয়ে ওঠে। আর এই ডাইভার্সিটিই প্রকৃত সুযোগ ও সম্ভাবনা তৈরি করে, বলেন ফারহানা হানিপ।

শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি হিসেবে বক্তব্য রাখেন সাইবার সিকিউরিটিতে মাস্টার্স সম্পন্ন করে সনদপ্রাপ্ত জোসেফাইন মিলি চুং। তিনি বলেন, একটি পূর্ণসময়ের চাকরি করে, শিশু সন্তান লালন পালন করেও আমি এই ডিগ্রি সম্পন্ন করতে পেরেছি বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষাদান পদ্ধতি এবং শিক্ষার্থীদের প্রতি তাদের সর্বোচ্চ যত্ন ও গুরুত্ব আরোপের কারণে। অনলাইনে সাইবার সিকিউরিটি কোর্স সম্পন্ন করে এই ডিগ্রি নিয়ে সংশ্লিষ্ট বিষয়ে এখন কাজ করছেন মিলি চুং।

পরে একে একে শিক্ষার্থীদের মাঝে তাদের গ্রাজুয়েশন ডিগ্রির সনদ তুলে দেওয়া হয়। আর সবশেষে শিক্ষার্থীরা মেতে ওঠে ফটো সেশনে এবং তারই সঙ্গে আনন্দ বিনোদনে।

দিনের পরের ভাগে সন্ধ্যায় অভ্যাগত অতিথিরা যোগ দেন কনভোকেশন ডিনারে। স্থানীয় একটি হোটেলে আয়োজিত এই ডিনারে অতিথিরা একজন বাংলাদেশি আমেরিকান হিসাবে যুক্তরাষ্ট্রে প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয় পরিচালনার জন্য আবুবকর হানিপকে অভিনন্দিত করেন।

বক্তাদের মধ্যে ছিলেন ভয়েস অব আমেরিকার বাংলা বিভাগের সাবেক প্রধান রোকেয়া হায়দার, ভয়েস অব আমেরিকার অপর বর্ষিয়ান সাংবাদিক সরকার কবিরউদ্দিন, এএবিজিএম'র সিইও আবদুল আলিম, ই-লার্নিংয়ে বিশেষজ্ঞ অধ্যাপক ড. বদরুল খান, ভারতীয় সাংবাদিক রঘুবীর গোয়েল প্রমুখ।

বক্তারা আবুবকর হানিপের এই উদ্যোগকে পাহাড় সড়ানোর মতো একটি কাজ বলে উল্লেখ করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের সকল সম্ভাবনার দিক তুলে ধরে এই যাত্রা অব্যহত রাখতে ইঞ্জি. আবুবকর হানিপকে উৎসাহ যোগান এবং তার ভিশন ও মিশনের প্রশংসা করেন তারা।

এসময় আরও উপস্থিত ছিলেন অ্যাপ্লায়েড রিসার্চ অ্যান্ড ফোটোনিক্স'র প্রেসিডেন্ট ড. আনিস রহমান, এএবিইএ সেন্ট্রাল এর চেয়ারম্যা ড. ফয়সল কাদের, বাংলাদেশের প্রাইম বিশ্ববিদ্যালয়ের চেয়ারম্যান ড. মোহাম্মদ হোসেন, কপিন স্টেট ইউনিভার্সিটির অধ্যাপক ড. জামাল উদ্দিন, ক্রিকপয়েন্ট'র সিইও কাজী জামান, বাই'র সভাপতি সালেহ আহমেদ, ভারতীয় সাংবাদিক রঘুবীর গোয়েল, টার্কিস কমিউনিটি নেতা ও উদ্যোক্তা ড. ইউসুফ চেতিনকায়া, ড. তার্গে পোলাদসহ কয়েকজন।

সঙ্গীত ও উপাদেয় খাবারে এই সান্ধ্যভোজ হয়ে ওঠে আনন্দময়। গান গেয়ে শোনায় যুক্তরাষ্ট্রে বাংলাদেশি বংশোদ্ভুত নতুন প্রজন্মের শিল্পী নাফিসা নওশিন, স্নেহা ও অন্যরা।

সাম্প্রতিক সময়ে বিশ্ববিদ্যালয়টির নাম আইগ্লোবাল ইউনিভার্সিটি থেকে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি করা হয়েছে। গ্রাজুয়েটেডরা সকলেই ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজি থেকে তাদের সনদপত্র পাবেন।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত এই বিশ্ববিদ্যালয়টি বর্তমানে যুক্তরাষ্ট্রে সফল বাংলাদেশি উদ্যোক্তা ইঞ্জি. আবুবকর হানিপের ব্যবস্থাপনা ও নেতৃত্বে পরিচালিত হচ্ছে। এটি যুক্তরাষ্ট্রে কোনো বাংলাদেশি আমেরিকানের হাতে পরিচালিত প্রথম কোনো পূর্ণাঙ্গ বিশ্ববিদ্যালয়। এখানে তথ্য-প্রযুক্তি, সাইবার সিকিউরিটি ও এমবিএ- বিবিএ কোর্সে বর্তমানে ছয় শতাধিক শিক্ষার্থী লেখাপড়া করছে। বিশ্বের ১২১ দেশের শিক্ষার্থীরা এই বিশ্ববিদ্যালয়ে হয় সনদপ্রাপ্ত হয়েছেন নয়তো বর্তমানে অধ্যয়নরত রয়েছেন।

;

দোকানের সামনেই গুলি করে নোয়াখালীর প্রবাসীকে হত্যা



ডিস্ট্রিক্ট করেসপন্ডেন্ট, বার্তা২৪.কম, নোয়াখালী
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

আমেরিকার জর্জিয়ার রাজ্যের রাজধানী আটলান্টা শহরে এক সন্ত্রাসীর গুলিতে নোয়াখালীর এক প্রবাসীর মৃত্যু হয়েছে।

নিহত আবু সালেহ মোহাম্মদ মাহফুজ আহমদ (৫০) নোয়াখালী পৌরসভার ৫ নম্বর ওয়ার্ড হরিনারয়ণপুর এলাকার আবু তাহেরের ছেলে।

বৃহস্পতিবার (১৬ জুন) সন্ধ্যায় নোয়াখালী পৌরসভার প্যানেল মেয়র রতন কৃষ্ণ পাল বিষয়টি নিশ্চিত করে বলেন,তিনি তার বাবা, স্ত্রী, এক ছেলে ও এক মেয়েসহ আটলান্টা শহরে বসবাস করতেন। ৪ ভাই ও ২ বোনের মধ্যে সবার বড় ছিলেন মাহফুজ আহমদ। তাঁর মৃত্যুতে তার দেশের বাড়িতে শোকের মাতম চলছে।

নিহতের জেঠাতো ভাই মাহবুব হোসেন লিটন বলেন, ১০ বছর আগে আমেরিকায় যান আবু সালেহ মোহাম্মদ মাহফুজ আহমদ। পরবর্তীতে আটলান্টা শহরে ব্যবসা শুরু করেন তিনি। বুধবার বাংলাদেশ সময় বেলা সাড়ে ১১টার দিকে বাসায় যাওয়ার জন্য দোকান বন্ধ করছিলেন মাহফুজ। এসময় এক বন্দুকধারী তাকে লক্ষ্য করে গুলি করে। পরে স্থানীয় লোকজন তাকে উদ্ধার করে স্থানীয় একটি হাসপাতালে নিয়ে গেলে কর্তব্যরত চিকিৎসক তাকে মৃত ঘোষণা করেন।

;

‘বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সর্বোত্তম’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ

স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোত্তম স্থান বলে মন্তব্য করেছেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ। এ দেশে অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিসের যৌথ ব্যবস্থাপনায় নগরীর চেম্বার ভবনে প্রথম অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এ আহ্বান জানান।

দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর রেদোয়ান আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট আগুস্তো কাস্তানিয়াদা।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ বলেন, স্পেন বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। স্বল্পোন্নত শ্রেণি থেকে উত্তরণের পর আজকের বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

‌‘যা উন্নয়ন-অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ‘বিস্ময়ের এক বিস্ময়’। চলতি অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রার প্রবৃদ্ধি অর্জনে দূতাবাস দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করেছে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে দূতাবাস স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্পেনে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। স্পেনে তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও বেগবান করতে দূতাবাসের নানামুখী সৃজনশীল প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

সেমিনারে কি-নোট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

তিনি আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশের অর্জিত বিস্ময়কর অগ্রগতি সব দেশের জন্যই এক প্রেরণাদায়ী উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে বলা হয় ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ড্রেসমেকার’।

পুরো বিশ্বে আইটি ফ্রিল্যান্সার সরবরাহের দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম, সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং মৎস্যসম্পদ উৎপাদনে তৃতীয় বৃহত্তম। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মানদণ্ডে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় (৭.২৫ শতাংশ)।

‘বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬০ ভাগই তরুণ। অবকাঠামো উন্নয়ন, ভোক্তা ব্যয় ও সার্ভিস সেক্টরে প্রবৃদ্ধি, বর্ধিষ্ণু নগরায়ন ও শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবিত অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের ১০১টি ইকোনমি জোন ও ৩৯টি হাই-টেক পার্কে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও সরকার ঘোষিত আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা গ্রহণের জন্য স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ।

ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের সাদর আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বিআইডিএ।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অফুরন্ত বাণিজ্য সম্ভাবনার দেশ। দেশটি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জনমানসে ও গণমাধ্যমে যে অনভিপ্রেত নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সাথে ঢাকার ফ্লাইট কানেক্টিভিটির ওপর আলোচনা করেন কাতার এয়ারওয়েজের করপোরেট সেলস প্রতিনিধি পাবলো লামাস।

সেমিনারে বাংলাদেশের ওপর বিআইডিএ-নির্মিত একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া, সেমিনারে দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং এর ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত Bangladesh Investment Handbook এর স্প্যানিশ ভার্সন Manual de Inversión en Bangladesh: Guía para Inversores, উন্মোচন করা হয়।

স্পেনের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেমিনারটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেমিনারটি অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।

;