‘বিনিয়োগের জন্য দক্ষিণ এশিয়ায় বাংলাদেশ সর্বোত্তম’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ

স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ

  • Font increase
  • Font Decrease

বিনিয়োগের জন্য বাংলাদেশ দক্ষিণ এশিয়ায় সর্বোত্তম স্থান বলে মন্তব্য করেছেন স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ। এ দেশে অফুরন্ত সম্ভাবনা থাকায় দেশি-বিদেশি বিনিয়োগকারীদের বিনিয়োগে আহ্বান জানান তিনি।

মঙ্গলবার (১৪ জুন) মাদ্রিদস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসের উদ্যোগে মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্স ইন্ডাস্ট্রি অ্যান্ড সার্ভিসের যৌথ ব্যবস্থাপনায় নগরীর চেম্বার ভবনে প্রথম অর্থনৈতিক কূটনৈতিক সপ্তাহের কর্মসূচির অংশ হিসেবে সেমিনারে রাষ্ট্রদূত এ আহ্বান জানান।

দূতাবাসের কমার্শিয়াল কাউন্সিলর রেদোয়ান আহমেদের সঞ্চালনায় সেমিনারে স্বাগত বক্তব্য দেন মাদ্রিদ চেম্বার অব কমার্সের ভাইস প্রেসিডেন্ট আগুস্তো কাস্তানিয়াদা।

রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সারওয়ার মাহমুদ বলেন, স্পেন বাংলাদেশের চতুর্থ বৃহত্তম রফতানি গন্তব্য। স্বল্পোন্নত শ্রেণি থেকে উত্তরণের পর আজকের বাংলাদেশ ২০৩১ সালের মধ্যে একটি উচ্চ-মধ্যম আয়ের দেশে এবং ২০৪১ সালে একটি উন্নত দেশে পরিণত হওয়ার অভীষ্ট লক্ষ্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে এগিয়ে যাচ্ছে অপ্রতিরোধ্য গতিতে।

‌‘যা উন্নয়ন-অর্থনীতিতে বাংলাদেশ ‘বিস্ময়ের এক বিস্ময়’। চলতি অর্থবছরে রফতানির লক্ষ্যমাত্রার প্রবৃদ্ধি অর্জনে দূতাবাস দৃশ্যমান সাফল্য অর্জন করেছে। মাদ্রিদ ও বার্সেলোনায় বিভিন্ন আন্তর্জাতিক বাণিজ্যমেলায় রফতানি পণ্যের বাজার সম্প্রসারণ ও বাংলাদেশে বিদেশি বিনিয়োগের সম্ভাবনাকে তুলে ধরতে দূতাবাস স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের মাঝে ব্যাপক আগ্রহ জাগিয়েছে।

রাষ্ট্রদূত বলেন, স্পেনে বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের ৯৫ শতাংশই তৈরি পোশাক। স্পেনে তৈরি পোশাক ছাড়াও বাংলাদেশের রফতানি পণ্যের বৈচিত্র্য বৃদ্ধির অবারিত সম্ভাবনা রয়েছে। অর্থনৈতিক কূটনীতিকে আরও বেগবান করতে দূতাবাসের নানামুখী সৃজনশীল প্রয়াস অব্যাহত থাকবে।

সেমিনারে কি-নোট প্রেজেন্টেশন উপস্থাপন করেন বাংলাদেশ বিনিয়োগ উন্নয়ন কর্তৃপক্ষের (বিআইডিএ) আন্তর্জাতিক বিনিয়োগ সম্প্রসারণ অনুবিভাগের মহাপরিচালক শাহ মোহাম্মদ মাহবুব।

তিনি আর্থ-সামাজিক প্রতিটি সূচকে বাংলাদেশের অর্জিত বিস্ময়কর অগ্রগতি সব দেশের জন্যই এক প্রেরণাদায়ী উদাহরণ বলে উল্লেখ করেন। খাদ্য উৎপাদনে স্বয়ংসম্পূর্ণ ও দুর্যোগ ব্যবস্থাপনায় চ্যাম্পিয়ন বাংলাদেশকে বলা হয় ‘দ্য ওয়ার্ল্ড ড্রেসমেকার’।

পুরো বিশ্বে আইটি ফ্রিল্যান্সার সরবরাহের দিক থেকে বাংলাদেশ দ্বিতীয় বৃহত্তম, সবজি উৎপাদনে দ্বিতীয় বৃহত্তম এবং মৎস্যসম্পদ উৎপাদনে তৃতীয় বৃহত্তম। দক্ষিণ এশিয়ায় অর্থনৈতিক প্রবৃদ্ধির মানদণ্ডে বাংলাদেশ শীর্ষস্থানীয় (৭.২৫ শতাংশ)।

‘বাংলাদেশের বৈদেশিক মুদ্রার রিজার্ভ বর্তমানে প্রায় ৪২ বিলিয়ন মার্কিন ডলার। দেশটির জনগোষ্ঠীর শতকরা ৬০ ভাগই তরুণ। অবকাঠামো উন্নয়ন, ভোক্তা ব্যয় ও সার্ভিস সেক্টরে প্রবৃদ্ধি, বর্ধিষ্ণু নগরায়ন ও শিল্পায়ন এবং ডিজিটাল কানেক্টিভিটির ক্ষেত্রে বাংলাদেশ অভাবিত অগ্রগতি অর্জন করেছে।

বাংলাদেশের ১০১টি ইকোনমি জোন ও ৩৯টি হাই-টেক পার্কে বৈদেশিক বিনিয়োগের ক্ষেত্রে ব্যবসাবান্ধব পরিবেশ ও সরকার ঘোষিত আকর্ষণীয় প্রণোদনা প্যাকেজের সুবিধা গ্রহণের জন্য স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের প্রতি আহ্বান জানান স্পেনে নিযুক্ত বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত মোহাম্মদ সরওয়ার মাহমুদ।

ঢাকা থেকে অনলাইনে যুক্ত হয়ে শুভেচ্ছা বক্তব্যে বিআইডিএর নির্বাহী চেয়ারম্যান মো. সিরাজুল ইসলাম বাংলাদেশে ব্যবসা ও বিনিয়োগ সম্প্রসারণে স্পেনীয় উদ্যোক্তাদের সাদর আমন্ত্রণ জানিয়ে বলেন, এ বিষয়ে সব ধরনের সহযোগিতা প্রদান করবে বিআইডিএ।

সেমিনারে আরও বক্তব্য দেন স্পেন-বাংলাদেশ চেম্বার অব কমার্সের প্রেসিডেন্ট নুরিয়া লোপেজ। তিনি বলেন, বাংলাদেশ অফুরন্ত বাণিজ্য সম্ভাবনার দেশ। দেশটি সম্পর্কে আন্তর্জাতিক জনমানসে ও গণমাধ্যমে যে অনভিপ্রেত নেতিবাচক প্রচারণা রয়েছে, তা নিরসনে বাংলাদেশে ব্র্যান্ডিং কার্যক্রম জোরদার করা প্রয়োজন।

অনুষ্ঠানে মাদ্রিদ ও বার্সেলোনার সাথে ঢাকার ফ্লাইট কানেক্টিভিটির ওপর আলোচনা করেন কাতার এয়ারওয়েজের করপোরেট সেলস প্রতিনিধি পাবলো লামাস।

সেমিনারে বাংলাদেশের ওপর বিআইডিএ-নির্মিত একটি তথ্যবহুল প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়। এছাড়া, সেমিনারে দূতাবাসের কমার্শিয়াল উইং এর ব্যবস্থাপনায় প্রকাশিত Bangladesh Investment Handbook এর স্প্যানিশ ভার্সন Manual de Inversión en Bangladesh: Guía para Inversores, উন্মোচন করা হয়।

স্পেনের উদ্যোক্তা ও ব্যবসায়ী নেতৃবৃন্দ এবং গণমাধ্যমের প্রতিনিধিবৃন্দের স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণে সেমিনারটি প্রাণবন্ত হয়ে ওঠে। সেমিনারটি অনলাইনে জুম প্ল্যাটফর্মের মাধ্যমে সরাসরি সম্প্রচারিত হয় এবং সেখানেও উল্লেখযোগ্য সংখ্যক ব্যবসায়ী অংশগ্রহণ করেন।

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌ ইতালির আনন্দ ভ্রমণ



মিনহাজ হোসেন, ইতালি থেকে
কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

কর্মব্যস্ততার ক্লান্তি দূর করতে মহিলা সংস্থা‌র আনন্দ ভ্রমণ

  • Font increase
  • Font Decrease

মহিলা সংস্থা ইতালির আয়োজনে গ্রীষ্মকালীন আনন্দ ভ্রমণ রোম থেকে শত কিলোমিটার দূরে লাগো দি বোলসেনায় এ আনন্দ ভ্রমণ অনুষ্ঠিত হয়। এতে বিপুল সংখ্যক নারী-পুরুষ অংশগ্রহণ করেন। দিনব্যাপী এ আয়োজনে সকলেই আনন্দে মেতে ওঠেন। প্রবাসে ক্লান্তির শেষ মুহূর্তে বিনোদনের রঙে মন রাঙিয়ে তোলেন সবাই। এ যেন প্রবাসের মাটিতে এক টুকরা বাংলাদেশ।

বর্ণাঢ্য এ আয়োজনে মহিলা সংস্থার ইতালির ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশন আরার সভাপতিত্বে ও সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তারের পরিচালনায় আয়োজিত আনন্দ ভ্রমণে অতিথি হিসেবে অংশগ্রহণ করেন নারী নেত্রী ও সুলতানা ফ্যাশনের স্বত্বাধিকারী সুলতানা লিপি,‌ তিবুরতিনা সমাজ কল্যাণ সমিতি ইতালির সভাপতি মনির হোসেন, বাংলাদেশ প্রবাসী ক্রিস্টান মহিলা সমিতির সভাপতি রূপালী গোমেজ,‌পল্লী বালা সংঘের সভাপতি ফরিদা রহমান,‌ লন্ডন থেকে আগত মুন্সিগঞ্জ বিক্রমপুর সমিতির সাবেক সভাপতি আমিন ভুঁইয়া, বাংলাদেশ মহিলা সমিতির সাবেক সাধারণ সম্পাদক রেশমা আমিন,‌বিশ্ব সংগীত কেন্দ্র রুমের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি কাজী জাকারিয়া, গ্রত্তোসেলনে সমাজ কল্যাণ সংঘের মোঃ শাহিন, যুব উন্নয়ন ব্যবসায়ী সমিতি উপদেষ্টা হক শহিদুল্লাহ,‌‌ বিশিষ্ট ব্যবসায়ী আফরোজা আক্তার ডেইজি, আতিকুর রহমান রাসেল, জামাল আহমেদ, মামুন আহমেদ, মুরাদ আহমেদ, ফারুক আহমেদ কন্ঠশিল্পী রত্না বশাক, মোঃ মশিউর রহমান, সাংবাদিক শাহীন খলিল কাওসার, আখি সীমা কাউসার, মিনহাজ হোসেনসহ মহিলা সংস্থা ইতালির অধিকাংশ সদস্যরা ও আঞ্চলিক, সামাজিক, রাজনৈতিক,‌ ব্যাবসায়িক ও‌ নারী সংগঠনের শীর্ষস্থানীয় নেতৃবৃন্দ।

আনন্দ ভ্রমণ সম্পর্কে সাধারণ সম্পাদক সৈয়দা মাসুদা আক্তার বলেন, প্রতি বছর আমরা মহিলাদের উদ্যেগে এ আনন্দ ভ্রমণের আয়োজন করে থাকি। প্রবাসে ব্যস্ততার মাঝে একটু বিনোদন খুজঁতেই এ আয়োজন।


এসময় ভারপ্রাপ্ত সভাপতি মুন্নি রওশনআরা বলেন, আমরা সবার অংশগ্রহণে আনন্দ ভ্রমণ করতে পেরেছি। তাই সবার কাছে ধন্যবাদ ও কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি। এতে ভুলত্রুটি থাকলে আন্তরিকভাবে ক্ষমা করবেন। এবং‌ আগামীতেও এরকম আয়োজনের মাধ্যমে আমাদের প্রবাসে বেড়ে ওঠা দ্বিতীয় প্রজন্মের মাঝে যেন বাংলাদেশের সংস্কৃতিকে তুলে ধরতে পারি এজন্য সকলের সহযোগিতা কামনা করেন।

দিনব্যাপী এই অনুষ্ঠানে রাফেল ড্র, শিশু কিশোরদের দৌড় প্রতিযোগিতা, বড়দের হাড়িভাঙ্গা, মহিলাদের বালিশ খেলা ও রোমের স্থানীয় বিশিষ্ট কন্ঠ শিল্পীদের পরিবেশনায় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।শেষে বিভিন্ন খেলায় অংশগ্রহণকারী ও বিজয়ীদের মধ্যে মহিলা সংস্থার পক্ষ থেকে পুরস্কার বিতরণ করা হয়।

;

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

ব্রাসিলিয়াস্থ বাংলাদেশ দূতাবাসে শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী পালন

  • Font increase
  • Font Decrease

ব্রাজিলের রাজধানী ব্রাসিলিয়ায় অবস্থিত দক্ষিণ আমেরিকায় বাংলাদেশের একমাত্র দূতাবাসে যথাযোগ্য মর্যাদায় পালিত হল জাতির পিতা বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জ্যেষ্ঠ পুত্র বীর মুক্তিযোদ্ধা শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের ৭৩তম জন্মবার্ষিকী।

স্বাধীনতা যুদ্ধে সকল শহীদ মুক্তিযোদ্ধা ও ১৫ আগস্টের মর্মান্তিক হত্যাকাণ্ডে নিহত বঙ্গবন্ধুর পরিবারের সকলের প্রতি শ্রদ্ধা জানিয়ে এক মিনিট নীরবতা পালনের মধ্য দিয়ে শুরু হয় অনাড়ম্বর এই অনুষ্ঠান। এ সময় শহীদ শেখ কামালের প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন রাষ্ট্রদূত সাদিয়া ফয়জুননেসা। ক্রীড়া সংগঠক ও ফুটবল প্রেমী, আবাহনী ক্রীড়া চক্রের প্রতিষ্ঠাতা সভাপতি শহীদ শেখ কামালের জন্মবার্ষিকী উপলক্ষ্যে রাষ্ট্রপতি মোঃ আবদুল হামিদ ও প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা কর্তৃক প্রদত্ত বাণী পাঠের পর তাঁর স্মরণে বিশেষ মোনাজাত করা হয় এবং শহীদ ক্যাপ্টেন শেখ কামালের কর্মময় ও বর্ণিল জীবনের উপর একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হয়।

রাষ্ট্রদূত তাঁর স্বাগত বক্তব্যে মহান মুক্তিযুদ্ধে তাঁর নির্ভীক, বীরোচিত অংশগ্রহণ এবং স্বাধীন বাংলাদেশে দেশ গড়ার কাজে তাঁর অসামান্য অবদানের কথা তুলে ধরেন। তিনি ১৫ আগস্ট কালরাতের হত্যাকারীদের বিচারের আওতায় আনার আশাবাদ ব্যক্ত করেন। স্বাধীন বাংলাদেশে আধুনিক ফুটবল জাগরণে শেখ কামালের অগ্রণী ভূমিকার কথাও তিনি স্মরণ করেন। ঢাকা থিয়েটার ও স্পন্দন শিল্প গোষ্ঠী প্রতিষ্ঠায় তাঁর ভূমিকার কথা উল্লেখ করে একজন শিল্পানুরাগী এবং দক্ষ সংগঠক হিসেবে তরুণ প্রজন্মের জন্য অনুকরণীয় আদর্শ হিসেবে শেখ কামালকে স্মরণ করেন।

রাষ্ট্রদূত শহীদ শেখ কামালের কর্মময় জীবন ও আদর্শে অনুপ্রাণিত হয়ে সকল তরুণকে জাতির পিতার স্বপ্নের সোনার বাংলা বিনির্মাণে নিজেদের গড়ে তোলার লক্ষ্যে কাজ করে যাওয়ার আহ্বান জানান।

;

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন



প্রবাস ডেস্ক
ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

ফ্রান্সে 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার উদ্বোধন

  • Font increase
  • Font Decrease

ফ্রান্সে প্রবাসী বাংলাদেশিদের দক্ষ জনশক্তি হিসেবে গড়ে তোলা ও কর্মসংস্থানের লক্ষ্যে আধুনিক প্রযুক্তি সমৃদ্ধ 'প্যারি-টেক' মোবাইল রিপারেশন ও ট্রেনিং সেন্টার যাত্রা শুরু করেছে। গতকাল রোববার (২৪ জুলাই) ফ্রান্সের রাজধানী প্যারিসের 22 boulevard Ornano 75018-এ সেন্টারের উদ্বোধন করা হয়।

প্যারিসের সুপরিচিত বাংলাদেশ ফার্ণিচারের স্বত্ত্বাধিকারী মিয়া মাসুদ, দেশ জিএসএম'র সিইও মো. আবদুর রব এবং বাংলাদেশ কমিউনিটি ইন ফ্রান্সের (বিসিএফ) এমডি নূর উদ্বোধন অনুষ্ঠানে যোগ দেন।

এ সময় উপস্থিত ছিলেন 'প্যারি-টেক'র স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় ও আপেল মাহমুদ।

পবিত্র কোরআন তেলাওয়াতের মধ্য দিয়ে অনুষ্ঠানের শুভ সুচনার পর দোয়া ও মোনাজাতের মাধ্যমে প্রতিষ্ঠানের সফলতা কামনা করা হয়।

প্যারি-টেকের স্বত্ত্বাধিকারী মীর সাজ্জাদ আহমেদ জয় বলেন, প্রবাসী যারা ফ্রান্সে আছেন তাদের অনেকের যথাযথ দক্ষতার ঘাটতি রয়েছে। দক্ষতা না থাকায় তাদের অনেককে কম আয়ের কাজ বেছে নিতে হয়। মোবাইল রিপারেশন একটি সম্মানজনক পেশা এবং প্রশিক্ষণ নিয়ে অনায়াসে ভাল রেমিট্যান্স উপার্জনের সুযোগ আছে। দক্ষ জনশক্তি তৈরি করতে 'প্যারি-টেক' আধুনিক ও সুসজ্জিত প্রশিক্ষণ সেন্টার চালু করেছে। এখান থেকে প্রশিক্ষণ শেষে যে কেউ যার যার মতো কর্মসংস্থান করে নিতে সক্ষম হবেন।

;

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

স্পেনে প্রবাসীদের ‘ঈদ আনন্দ উৎসব’

  • Font increase
  • Font Decrease

ঈদের আনন্দ সবার মাঝে ছড়িয়ে দিতে ঈদের দুই দিন মঙ্গলবার (১২ জুলাই) স্পেনের মাদ্রিদের একটি পার্কে প্রবাসী বাংলাদেশিরা একত্রিত হয়ে ঈদ আনন্দ উৎসব উদযাপন করেছেন।

মঙ্গলবার (১২ জুলাই) দুপুরে রাজধানী মাদ্রিদের ঐতিহ্যবাহী পিরামিডস পার্কে দেশটিতে বসবাসকারী প্রবাসী বাংলাদেশিদের অংশগ্রহণে অনুষ্ঠিত হয় এই ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসব।

মাদ্রিদের অন্যতম আঞ্চলিক সংগঠন ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উদ্যোগে ঈদের পরের দিনে অনুষ্ঠিত এ ঈদ উৎসব এবং মিলন মেলায় শুভেচ্ছা বক্তব্য দেন বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. আলামীন মিয়া, ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের উপদেষ্টা এস এম আহমেদ মনির, ইনসাফ সুমন ভূঁইয়া সুমন, ভালিয়েন্তে বাংলার সভাপতি মো. ফজলে এলাহী, খুলনা বিভাগীয় কল্যাণ সমিতি স্পেনের সভাপতি সৈয়দ মাসুদুর রহমান নাসিম, ব্যবসায়ী ও কমিউনিটি নেতা সাইফুল মুন্সী ইকবাল, বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের শিক্ষা, সংস্কৃতি ও ধর্ম সম্পাদক মো. জহির উদ্দিন প্রমুখ।

রাজধানী মাদ্রিদ ও এর আশেপাশে বসবাসরত বিপুলসংখ্যক বাংলাদেশি ‘ঈদ আনন্দ’ উৎসবে অংশগ্রহণ করেন। ফলে অনুষ্ঠানটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলনমেলায়।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাধারণ সম্পাদক এস এম মাসুদুর রহমান ও সিনিয়র সহ-সভাপতি মো. রুবেল সামাদের যৌথ সঞ্চালনায় অনুষ্ঠিত এই ঈদ আনন্দ উৎসবে বাংলাদেশে অবস্তানরত সংগঠনের সভাপতি মো. শাহ আলম টেলিকনফারেন্সে সবাইকে ঈদের শুভেচ্ছা জানান। এসময় তিনি বলেন, এ ধরনের অনুষ্ঠান প্রবাসী বাংলাদেশিদের ঐক্যবদ্ধ করতে এবং নতুন প্রজন্মকে বাংলাদেশ ও বাংলাদেশের সংস্কৃতি শেখাতে সহায়তা করবে। তিনি প্রবাসে বাংলাদেশের সুনাম বৃদ্ধি করতে সবাইকে ঐক্যবদ্ধভাবে কাজ করার আহ্বান জানান।

বাংলাদেশ অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের সাবেক সভাপতি জামাল উদ্দিন মনির তার বক্তব্যে সকলকে এক ও অভিন্ন এবং নিজ নিজ অবস্থান থেকে দেশ ও নিজেদের উন্নয়নে এগিয়ে যাওয়ার আহ্বান জানান। এমন একটি মিলনমেলা আয়োজন করায় তিনি ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেতৃবৃন্দকে ধন্যবাদ জানিয়ে বলেন, এ ঈদ পুনর্মিলন যেন আমাদের প্রবাসীদের ভ্রাতৃত্ববোধ বৃদ্ধি করে। আমরা যেন প্রবাসে থেকেও দেশের জন্য ভালো কিছু করতে পারি, দেশকে আরও ভালোবাসতে পারি।

ঢাকা জেলা অ্যাসোসিয়েশন ইন স্পেনের মহিলা সম্পাদিকা সাবান রহমানের সার্বিক সহযোগিতায় এই ঈদ আনন্দ উৎসবে ঢাকা জেলা এসোসিয়েশন ইন স্পেনের নেত্রবৃন্দের মধ্যে বক্তব্য দেন সাংগঠনিক সম্পাদক মো. আবু বাক্কার, সহ সভাপতি নাফিজ মামুন, আব্দুস সাত্তার,আরজু মিয়া, সদস্য হাবিবুর রহমান, আলামিনসহ বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ।

অনুষ্ঠানে ছিল বাংলাদেশি খাবারের ব্যাপক আয়োজন। শিশু-কিশোরদের অংশগ্রহণ অনুষ্ঠানকে করে তুলেছিল আনন্দময়। সবকিছু মিলিয়ে অনুষ্ঠানটি হয়ে উঠেছিল প্রবাসের বুকে এক টুকরো বাংলাদেশ। সম্পূর্ণ অরাজনৈতিক সংগঠন হিসেবে বাঙালি কমিউনিটির অনেকেই সপরিবারে এ অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন। ফলে ঈদ পুনর্মিলনীটি পরিণত হয়েছিল প্রবাসী বাংলাদেশিদের মিলন মেলায়। দুপুরের খাওয়া দাওয়ার পর্ব শেষে প্রবাসী শিশু-কিশোরদের খেলাধুলা ও অভিভাবকদের ঈদের শুভেচ্ছা বক্তব্য আগত অতিথিদেরকে বাঙালিয়ানায় ঈদের আনন্দ উৎসবে মাতিয়ে রাখে।

অনুষ্ঠানে অতিথিরা একে অন্যের সঙ্গে ঈদ শুভেচ্ছা বিনিময় করেন। পুনর্মিলনীকে কেন্দ্র করে স্বদেশে স্বজনদের ছেড়ে দূর দেশে আসা প্রবাসীদের মধ্যে ছিল ব্যাপক উচ্ছ্বাস। অনেক স্বদেশিকে একসঙ্গে পাওয়ায় তাদের কাছে এ মিলনমেলা পরিণত হয়েছিল যেন এক টুকরো বাংলাদেশ। প্রবাসের শত ব্যস্ততার মাঝে এই উৎসব সবার জীবনে নিয়ে আসে নতুন করে পথচলার উদ্দীপনা। নতুন করে ভালোবাসতে শেখায় দেশ ও দেশীয় সংস্কৃতিকে। এমনটাই বলছিলেন অংশগ্রহণকারীদের অনেকে।

;