নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন-কনস্যুলেটে চেনামুখী অতিথি, এরা কারা?



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন-কনস্যুলেটে চেনামুখী অতিথি

নিউইয়র্কে বাংলাদেশ মিশন-কনস্যুলেটে চেনামুখী অতিথি

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রের নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের বিভিন্ন অনুষ্ঠানে নিয়মিত যাতায়াতকারী চেনামুখী অতিথিদের নিয়ে নানা প্রশ্ন উঠেছে।

শনিবার (১২ নভেম্বর) সন্ধ্যায় প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মী ও সামাজিক নেতৃবৃন্দের সঙ্গে ওয়াশিংটনস্থ বাংলাদেশের নতুন রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরানের মতবিনিময় সভায় দলীয় নেতাকর্মীসহ চিরাচরিত চেনামুখী তথাকথিত অতিথিদের উপস্থিতি দেখে যুক্তরাষ্ট্র প্রবাসী বাংলাদেশিদের মাঝে নানা প্রশ্ন দেখা দিয়েছে।

বাংলাদেশ যখন ভয়াবহ আর্থিক সংকটের দ্বারপ্রান্তে। ক্রমাগত সংকুচিত হয়ে আসছে ডলারের রিজার্ভ। রাষ্ট্রীয় ব্যয় সংকোচনের আহবানসহ দুর্ভিক্ষের আগাম বার্তা দিচ্ছেন স্বয়ং প্রধানমন্ত্রী। সেই সময়ে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে রাষ্ট্রদূতের সঙ্গে মতবিনিময় সভার নামে পৃথক পৃথকভাবে নৈশ্যভোজ (ভুড়িভোজ)-এর ব্যবস্থা করা হয়। এতে অংশ নেন সামাজিক কথিত নেতৃবৃন্দ ও প্রবাসী গণমাধ্যমকর্মীরা। শুধু নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়েই নয়, এমন দৃশ্য দেখা যায় জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের নানা অনুষ্ঠানাদিতেও। এ নিয়ে নিউইয়র্কের সর্বত্রই চলছে আলোচনার ঝড়।

শনিবার নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে মতবিনিময় সভায় রাষ্ট্রদূত মুহাম্মদ ইমরান সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নে সরকার ও দূতাবাসের পক্ষ থেকে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণসহ প্রবাসীদের সর্বোচ্চ সেবা প্রদানের আশ্বাস দিয়ে বলেন, তার দূতাবাসের দরজা সকল প্রবাসীর জন্য খোলা। পাশাপাশি দেশের ভাবমর্যাদা বিদেশীদের কাছে তুলে ধরার জন্য তিনি দলমত নির্বিশেষে প্রবাসীদের সার্বিক সহযোগিতা কামনা করেন।

তিনি বলেন, একাত্তরের বাংলাদেশ আর আজকের বাংলাদেশ এক নয়। স্বাধীনতার পঞ্চশ বছরে দেশে অনেক উন্নয়ন-অগ্রগতি হয়েছে। এই উন্নয়ন-অগ্রগতির কথা বিদেশিদের কাছে তুলে ধরার পাশাপাশি দেশের ভাবমর্যাদা তুলে ধরতে হবে। এজন্য সকল প্রবাসীকে দলমতের ঊর্ধ্বে সকলকেই একজন রাষ্ট্রদূতের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

গত সেপ্টেম্বরে তিনি যুক্তরাষ্ট্রে নিযুক্ত হওয়ার পর সাংবাদিক ও কমিউনিটির বিশিষ্ট ব্যক্তিদের সঙ্গে এটাই প্রথম মতবিনিময়। এর আগে রাষ্ট্রদূত বিভিন্ন মানি ট্রান্সফার প্রতিষ্ঠানের সিইও এবং প্রেসিডেন্টদের সঙ্গে কনস্যুলেটে মতবিনিময় করেন। এ সময় তিনি বৈধপথে প্রবাসীদের দেশে বেশি বেশি অর্থ প্রেরণের উপর গুরুত্বারোপ করেন এবং কনস্যুলেট বা দূতাবাসের করণীয় সম্পর্কে মতামত গ্রহণ করেন।

নিউইয়র্কে বাংলাদেশের কনসাল জেনারেল ড. মনিরুল ইসলামের সঞ্চালনায় মতবিনিময় সভায় ওয়াশিংটনে নিযুক্ত বাংলাদেশ দূতাবাসের মিনিস্টার (প্রেস) এ জেড এম সাজ্জাদ হোসাইন, জাতিসংঘের বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে নিযুক্ত মিনিস্টার (প্রেস) নূর-এ ইলাহী মিনা ও সোনালী এক্সচেঞ্জ ইনক’র প্রেসিডেন্ট ও প্রধান নির্বাহী কর্মকর্তা দেবশ্রী মিত্র উপস্থিত ছিলেন।

এদিকে, গত কয়েক বছর যাবত নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয়ে প্রতিমাসেই নানা ধরনের অনুষ্ঠান হচ্ছে। এতে থাকছে সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশ্যভোজের ব্যবস্থা। এসব অনুষ্ঠানে বরাবরই দলীয় নেতাকর্মীসহ চিরাচরিত চেনামুখী তথাকথিত অতিথিদের আমন্ত্রণ জানানো হয়। ঘুরে ফিরে প্রতিটি অনুষ্ঠানেই তাদের চেহারাই দেখা যায়। নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের আওতাধীন ৮টি অঙ্গরাজ্য থাকলেও বাকি ৮টি অঙ্গরাজ্যের কোন অতিথিকেই কোন অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না।

শুধু তাই নয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠানের বেলায়ও একই ধরনের কর্মকাণ্ড চলে আসছে। নিউ জার্সি, ম্যাসাচুসেটস, নিউ হ্যাম্পশয়ার, মেইন, কানেকটিকাট, রোড আইল্যান্ড ও ভারমন্টের ছড়িয়ে ছিটিয়ে থাকা প্রতিভাবান শিল্পী ও কলা কুশলীদের কখনই আমন্ত্রণ জানানো হয় না। শুধুমাত্র নিউ ইয়র্কের দু'টি সাংস্কৃতিক সংগঠন বাংলাদেশ ইন্সটিটিউট অব পারফর্মিং আর্টস (বিপা) ও বাংলাদেশ একাডেমি অব ফাইন আর্টস (বাফা) দিয়েই দায়সারা গোছের অনুষ্ঠান করা হয়। প্রবাসীদের ধারনা যে এ দু'টি সংস্থার সাথে নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেলের শত বছরের চুক্তি সম্পাদন হয়েছে।

বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের খাতায় কবে অতিথিদের তালিকায় লিপিবদ্ধ হয়েছে তা জানা যায়নি। তবে তালিকায় রয়েছে তথাকথিত গণমাধ্যমকর্মী, তথাকথিত কমিউনিটি ও দলীয় নেতাকর্মী, ভুয়া মুক্তিযোদ্ধা এবং প্রবাসী ভবঘুরে ব্যক্তিবর্গ। এসব লোকদেরকে কনস্যুলেট ও বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের অনুষ্ঠানে দেখলে অনেকেই হাসাহাসি করেন। তবে অতিথিদের তালিকা সংশোধনের জন্য অনেকবার মিডিয়াকর্মীরা তাদেরকে তাগিদ হয়েছিলো কোন কাজ হয়নি।

নিউইয়র্কের জনৈক ব্যবসায়ী নাম প্রকাশ না করার শর্তে জানান, নিউইয়র্কে লাখ লাখ বাংলাদেশির বসবাস। এদের মধ্যে রয়েছে ব্যবসায়ী, বিভিন্ন সামাজিক ও সাংস্কৃতিক সংগঠনের নেতৃবৃন্দ এবং বিভিন্ন পেশার বিপুল সংখ্যক মানুষ, যারা নিয়মিত মোটা অংকের অর্থ দেশে প্রেরণ করে থাকেন। এমন ব্যক্তিদের কখনই বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের অনুষ্ঠানে আমন্ত্রণ জানানো হয় না। যারা কালেভদ্রে দেশ টাকা পাঠান তাদেরকেই বারবার কেন কনস্যুলেট জেনারেলে ও জাতিসংঘে বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে আমন্ত্রণ জানিয়ে দাওয়াত খাওয়াতে হবে তা নিয়েও প্রবাসীদের মাঝে দেখা দিয়েছে নানা প্রশ্ন? মধ্যাহ্নভোজ কিংবা নৈশ্যভোজ ব্যতিরেকে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনের সকল প্রকার অনুষ্ঠানে প্রবাসীদের জন্য দ্বার উন্মুক্ত থাকা বাঞ্ছনীয় বলে মনে করেন সচেতন প্রবাসীরা।

তাদের মতে অর্থ ব্যয় করে বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল কার্যালয় ও জাতিসংঘে নিযুক্ত বাংলাদেশ স্থায়ী মিশনে গুটিকয়েক চিরাচরিত চেনামুখী তথাকথিত অতিথিদের আপ্যায়নের ব্যবস্থা না করে বড় পরিসরে জাতীয় অনুষ্ঠানগুলোর আয়োজন করলে প্রবাসীরা বেশি আনন্দ পেতো।

উল্লেখ্য বিহির্বিশ্বে বাংলাদেশ কনসুলেটগুলোর মধ্যে জেদ্দার পরেই নিউ ইয়র্কের স্থান। পাসপোর্ট, ভিসাসহ যাবতীয় কনস্যুলেট সেবার কাজে বড় ধরণের আয় করে থাকেন নিউইয়র্কস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল। রাষ্ট্রীয় এ তহবিলের অর্থ তথাকথিত গণ্যমান্য ব্যক্তিদের জন্য নয়। এতে সকল প্রবাসীদের সমান অধিকার রয়েছে। এছাড়াও অপ্রয়োজনীয় অনুষ্ঠানাদির ওসিলায় মোটা অঙ্কের অর্থের অপচয়ের বিষয়টিও এসেছে প্রবাসীদের নানা আলোচনায়।

বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে লন্ডন হাই কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে লন্ডন হাই কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ

বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে লন্ডন হাই কমিশনের বিশেষ উদ্যোগ

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাজ্য ও আয়ারল্যান্ড থেকে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়াতে বাংলাদেশ হাই কমিশন, লন্ডন বিশেষ উদ্যোগ গ্রহণ করেছে। এ লক্ষ্যে শুক্রবার মিশনের ‘বঙ্গবন্ধু লাউঞ্চে’ যুক্তরাজ্যে নিযুক্ত বাংলাদেশের হাইকমিশনার সাইদা মুনা তাসনীমের সভাপতিত্বে বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণের সাথে সম্পৃক্ত যুক্তরাজ্যের মানি এক্সচেঞ্জ হাউজের প্রতিনিধিদের সাথে “Opportunities for Greater Remittance Flows from the UK and Ireland” শীর্ষক এক আলোচনা ও মতবিনিময় অনুষ্ঠানের আয়োজন করা হয়।

অনুষ্ঠানে হাইকমিশনার তাঁর বক্তব্যে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে বর্তমান সরকার প্রবাসীদের কষ্টার্জিত বৈদেশিক আয় বৈধ পথে বাংলাদেশে প্রেরণে উৎসাহ প্রদানের জন্য ঘোষিত ২.৫% প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধার কথা তুলে ধরে ব্রিটিশ-বাংলাদেশিদের সবসময় বৈধ পথে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানোর আহ্বান জানান। তিনি মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোকেও রেমিটেন্স প্রবাহ বাড়ানোর জন্য বিশেষ ভূমিকা নেয়ার পরামর্শ দেন।

হাইকমিশনার বলেন, “বৈধ্য পথে রেমিটেন্স প্রেরণ সম্পর্কে জনসচেতনতা বৃদ্ধির জন্য হাই কমিশন এবছর পূর্ব লন্ডনে একটি রেমিটেন্স ফেয়ার করবে। এছাড়া পূর্ব লন্ডনে হাই কমিশনের কন্সুলার সার্জারি সেবা প্রদানের পাশাপাশি বিশেষ ব্যবস্থায় মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা বিভিন্ন অ্যাপের মাধ্যমে কীভাবে সহজে ও কম খরচে বাংলাদেশে রেমিটেন্স পাঠানো যায় সে বিষয়ে সবাইকে অবহিত করবেন। কমিউনিটি টেলিভিশন, সংবাদপত্র ও সোস্যাল মিডিয়ার মাধ্যমেও এবিষয়ে জনসচেতনতা বৃদ্ধি করা হবে।

সভায় মানি এক্সচেঞ্জ হাউজগুলোর প্রতিনিধিরা তাদের বক্তব্যে ২.৫% প্রণোদনাসহ বিভিন্ন সুযোগ-সুবিধা প্রদানের জন্য প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার প্রতি আন্তরিক কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করেন। তাঁরা বাংলাদেশে রেমিটেন্স প্রেরণের ক্ষেত্রে বিভিন্ন সমস্যা তুলে ধরে এসব সমাধানের জন্য কতিপয় প্রস্তাব উত্থাপন করেন।

হাইকমিশনার তাদের সমস্যাগুলো ও প্রস্তাবসমূহ মনোযোগ দিয়ে শুনেন এবং এব্যাপারে হাই কমিশন প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ করবে বলে জানান।

;

ডাভোসে এসডিজি ল্যাবে আইসিটিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যতের কথা বললেন আজিজ আহমদ



প্রবাস ডেস্ক
ডাভোসে এসডিজি ল্যাবে আইসিটিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যতের কথা বললেন আজিজ আহমদ

ডাভোসে এসডিজি ল্যাবে আইসিটিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যতের কথা বললেন আজিজ আহমদ

  • Font increase
  • Font Decrease

যুক্তরাষ্ট্রে, বাংলাদেশে তথা বিশ্বে তথ্যপ্রযুক্তি বিষয়ক উদ্যোক্তা ও প্রবক্তা হিসেবে সুপরিচিত বাংলাদেশি আমেরিকান আজিজ আহমদ বলেছেন, আইসিটিভিত্তিক টেকসই ভবিষ্যতের কথাটাই আমাদের সবচেয়ে গুরুত্বের সাথে দেখতে হবে।

সুইজারল্যান্ডের ডাভোসে ওয়ার্ল্ড ইকোনমিক ফোরামের এসডিজি ল্যাব ডায়ালগ ২০২৩ শীর্ষক উচ্চপর্যায়ের একটি কর্মসূচিতে অংশ নিয়ে তিনি একথা বলেন।

জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেলের উপদেষ্টা ও ইউএনএসজিআইআই-এর প্রতিষ্ঠাতা রোনাল্ড সাটজ এর আমন্ত্রণে বিশ্বের শীর্ষ পর্যায়ের আইসিটি উদ্যোক্তাদের অংশগ্রহণে ১৫ থেকে ১৮ জানুয়ারি এই কর্মসূচি অনুষ্ঠিত হয়।

জাতিসংঘ টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নে জেনেভায় জাতিসংঘের বিভিন্ন দফতরের অধীনে বহু-অংশীজনের একটি অ্যালায়েন্স এই এসডিজি ল্যাব।

২০১৫ সালের সেপ্টেম্বরে জাতিসংঘে বিশ্বের ১৯৩টি দেশ যে টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রায় স্বাক্ষর করে তারই বাস্তবায়নের নানা দিক নিয়ে আলোচনা হয় এই কর্মসূচিতে।

এখানে আজিজ আহমদ তার প্রতিষ্ঠিত আইসিটি প্রশিক্ষণ প্রতিষ্ঠান কোডার্সট্রাস্টের কাজ ও সাফল্যের বিভিন্ন দিক তুলে ধরেন। উচ্চ সম্ভাবনাময় যুবশ্রেণিকে কিভাবে দক্ষতাভিত্তিক কর্মশক্তিতে রুপান্তর করতে কোডার্সট্রাস্টের নেওয়া উদ্যোগগুলো এতে উপস্থাপন করেন তিনি।

তিনি বলেন, আইসিটিতে দক্ষতার উন্নয়ন এবং উন্নততর দক্ষতা অর্জনই জাতিসংঘের টেকসই উন্নয়ন লক্ষ্যমাত্রা অর্জনে মৌলিক ভূমিকা রাখতে পারবে।

সুবিধাবঞ্চিত, অবহেলিত ও প্রান্তিক পর্যায়ের এ পর্যন্ত ৬০ হাজার যুব নারী-পুরুষকে আইটি দক্ষতায় প্রশিক্ষিত করে বৈশ্বিক কর্মবাজারের উপযোগী করে তুলেছে কোডার্সট্রাস্ট। ডাভোসের এই আন্তর্জাতিক ফোরামে বিষয়টি ব্যাপক প্রশংসিত হয়, জানান আজিজ আহমদ।

কোডার্সট্রাস্টের সঙ্গে এসডিজি ল্যাব আরও ঘনিষ্ঠভাবে কাজ করে দক্ষতা উন্নয়নের এই অভিযাত্রাকে এগিয়ে নিয়ে যাবে, এমনটাই প্রত্যাশা ব্যক্ত করেন তিনি।

আজিজ আহমদ বলেন, এসডিজি ল্যাব ২০২৩ এ অংশগ্রহণকারীরা আগ্রহের সাথে কোডার্সট্রাস্টের কাজগুলোর কথা শুনেছেন।

দারিদ্র বিমোচনে বিশ্ব পর্যায়ে ডিজিটালে দক্ষ কর্মশক্তি বাড়ানোই সবচেয়ে উপযোগী পদ্ধতি। সে কাজটিই করে যাচ্ছে কোডার্সট্রাস্ট। যে যাত্রাপথ অতিদ্রুত শেষ হবার নয়, বলেন তিনি।

;

বাংলাদেশকে তুলে ধরতে মিলানস্থ কনস্যুলেটের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন



ইসমাইল হোসেন স্বপন, ইতালি প্রতিনিধি
বাংলাদেশকে তুলে ধরতে মিলানস্থ কনস্যুলেটের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন

বাংলাদেশকে তুলে ধরতে মিলানস্থ কনস্যুলেটের উদ্যোগে আলোকচিত্র প্রদর্শনী আয়োজন

  • Font increase
  • Font Decrease

“Celebrating Colours of Bangladesh” প্রতিপাদ্যে মিলানস্থ বাংলাদেশ কনস্যুলেট জেনারেল মিলনায়তনে ৬ দিনব্যাপী একটি আলোকচিত্র প্রদর্শনীর আয়োজন করা হচ্ছে। ইতালিতে নিযুক্ত বাংলাদেশের মান্যবর রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান, এনডিসি ১৮ জানুয়ারি ২০২৩ তারিখে এই আলোচিত্র প্রদর্শনীর শুভ উদ্বোধন করেন। দিনব্যাপী কনস্যুলার সেবার পাশাপাশি এই প্রদর্শনী ১৯-২৫ জানুয়ারি ২০২৩ পর্যন্ত সর্বসাধারণের জন্য উন্মুক্ত রাখা হয়েছে।

প্রদর্শনীর উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে উপস্থিত ছিলেন, মিলানের বিভিন্ন কনস্যুলেটের কনস্যুলার প্রতিনিধিবর্গ, স্থানীয় গণমাধ্যম কর্মী, মিলান ও পার্শবর্তী এলাকার বিভিন্ন শ্রেণি পেশার নেতৃস্থানীয় প্রবাসী বাংলাদেশি এবং বিশিষ্ট সাংস্কৃতিক ব্যক্তিবর্গ। এছাড়াও এ অনুষ্ঠানে উপস্থিত হয়েছিলেন ইউরোপীয় পার্লামেন্টের সম্মানিত সদস্য, মিলান মিউনিসিপালিটির নির্বাচিত জনপ্রতিনিধি, সম্মাননাপ্রাপ্ত বাংলাদেশি আলোকচিত্রগ্রাহক মুস্তাফিজ মামুন এবং বাংলাদেশ ভ্রমণকাহিনী লেখক সংগঠনের সভাপতি জনাব আশরাফুজ্জামান উজ্জ্বল। এই প্রদর্শনীতে বাংলাদেশের ৬৪টি জেলায় তোলা বাংলাদেশ-ইতালির দ্বিপাক্ষিক সম্পর্কের সাথে সংশ্লিষ্ট প্রায়৭০ টির মতো আলোকচিত্র প্রদর্শনের জন্য রাখা হয়েছে। ১৮ তারিখের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে কূটনীতিক কোরের প্রধান ও পেরুর কনসাল জেনারেল Mr. Augusto Salamanca বক্তব্য রাখেন। এসময় তিনি বলেন যে, এই প্রদর্শনীর ফলে ইতালিয় জনগণ ও বিদেশিদের মধ্যে বাংলাদেশ সম্পর্কে উৎসাহ ও উদ্দীপনা তৈরি হবে। তিনি আরও বলেন যে, তার কখনো বাংলাদেশে যাওয়ার সুযোগ না হলেও এই প্রদর্শনীর ছবিগুলো দেখে তিনি বাংলাদেশ সম্পর্কে একটি গভীর ইতবাচক ধারণা লাভ করেছেন।

রাষ্ট্রদূত মো. শামীম আহসান, এনডিসি তার সমাপনী বক্তব্যে উল্লেখ করেন যে, একজন বিদেশির জন্য বাংলাদেশ ভ্রমণের জন্য অনেক উপলক্ষ্য রয়েছে। এর মধ্যে প্রধানতম কারণ হলো বাংলাদেশের বৈচিত্র্য ও অপার সম্ভাবনাময় উদ্যোগী জনগোষ্ঠীর কর্মতৎপরতা। তার মতে, আলোকচিত্র হলো এমন একটি মাধ্যম যার দ্বারা একটি দেশের উৎকর্ষতাকে বিশ্বের সামনে তুলে ধরা যায়। তিনি আরো বলেন, মাননীয় প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার সুযোগ্য নেতৃত্বে বাংলাদেশ উন্নয়নের যে মাইলফলক স্থাপন করেছে, তা বিশ্বগণমাধ্যমের সামনে সঠিকভাবে তুলে ধরতে হবে।

কনসাল জেনারেল এম জে এইচ জাবেদ এসময় প্রদর্শনীতে আসার জন্য উপস্থিত সকল অতিথিদেরকে বিশেষভাবে কৃতজ্ঞতা ও ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন। উদ্বোধনী অনুষ্ঠান শেষে আমন্ত্রিত অতিথি ও দর্শনার্থীবৃন্দ একটি নেটওয়ার্কিং অনুষ্ঠানে অংশগ্রহণ করেন।

;

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির নাম ভার্জিনিয়ার স্টেট সেনেট অ্যাসেম্বলিতে



নিউজ ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির নাম ভার্জিনিয়ার স্টেট সেনেট অ্যাসেম্বলিতে

ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স এন্ড টেকনোলজির নাম ভার্জিনিয়ার স্টেট সেনেট অ্যাসেম্বলিতে

  • Font increase
  • Font Decrease

১৮ জানুয়ারি বুধবার ভার্জিনিয়ার ফেয়ারফ্যাক্স স্টেট সেনেটর জন চ্যাপম্যান পিটারসন যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়ার স্টেট সেনেট অ্যাসেম্বলিতে তার উপস্থাপনায় তুলে আনেন তার নিজের নির্বাচনী এলাকার এই বিশ্ববিদ্যালটির কথা। সেখানে উপস্থিত ছিলেন ভার্জিনিয়ার ৪০ টি  ডিস্ট্রিক্টের স্টেট সেনেটররা। ছিলেন অভ্যাগত অতিথিরা। অ্যাসেম্বলি পরিচালনা করেন লেফট্যান্যান্ট গভর্নর উইনসাম আর্ল সিয়ার্স। 

বিশ্ববিদ্যালয়ের চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ ও প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্কের নেতৃত্বে ছয় সদস্যের একটি প্রতিনিধি দল এতে যোগ দেন। এতে ছিলেন বিশ্ববিদ্যালয়ের সিএফও ফারহানা হানিপ, বিজনেস স্কুলের পরিচালক অধ্যাপক ড. মার্ক রবিনসন, জেনারেল এডুকেশন অ্যান্ড সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস এর অ্যাসিসট্যান্ট ডাইরেক্টর ড. হুয়ান লি ও শিক্ষার্থী প্রতিনিধি এমএসআইটি'র ছাত্র নাঈম হাসান।

সেনেটরের উপস্থাপনার পর লেফটেন্যান্ট গভর্নর উইনসাম আর্ল সিয়ার্স বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রতিনিধি দলকে স্বাগত জানান এবং যুক্তরাষ্ট্রে উচ্চ শিক্ষার বিস্তার এবং ভবিষ্যতের জন্য আশা জাগানিয়া অবদান রাখার জন্য ধন্যবাদ জ্ঞাপন করেন।

২০০৮ সালে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার পর ২০২১ সালে  ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বিশ্ববিদ্যালয়টির মালিকানা নেন।  এর পর থেকেই বিশ্ববিদ্যালয়টি তার শিক্ষণ ও পরিচালন পদ্ধতিতে ব্যাপক পরিবর্তন আনে। যার মধ্য দিয়ে এটি দ্রুত উন্নতির পথে এগিয়ে যায়। শিক্ষার্থীদের কাছে জনপ্রিয় হয়ে ওঠে। ২০২১ সালে তিনশো ছাত্রছাত্রী নিয়ে আবুবকর হানিপ তার যাত্রা শুরু করেন। দুই বছরের ব্যবধানে ছাত্রছাত্রীর সংখ্যা দাড়িয়েছে এখন ১২শ'র বেশি। এই সময়ের মধ্যে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীর সংখ্যা চারগুন বৃদ্ধি পেয়েছে। যার মধ্যে পাঁচশতাধিক বাংলাদেশী শিক্ষার্থী রয়েছে।

বিশ্ববিদ্যালয়ে স্কলার কাম প্রাক্টিশনার শিক্ষক, সুসংগঠিত টিমওয়ার্ক, শ্রেণিকক্ষে কর্মস্থলের রেপ্লিকা সৃষ্টি করে দেওয়া বিশেষ শিক্ষাপদ্ধতি এবং সেন্টার ফর স্টুডেন্ট সাকসেস প্রতিষ্ঠাই এই সাফল্যের কারণ।

ইন্টারন্যাশনাল স্টুডেন্টদের পাশাপাশি যুক্তরাষ্ট্রের নাগরিক ও গ্রিনকার্ড হোল্ডার শিক্ষার্থীরাও এখন এই বিশ্ববিদ্যালয়কে তাদের পাঠস্থল হিসেবে বেছে নিচ্ছেন। 

পরে এক প্রতিক্রিয়ায় ডব্লিউইউএসিটর চ্যান্সেলর ইঞ্জিনিয়ার আবুবকর হানিপ বলেন, প্রত্যেকটা কাজেরই একটা স্বীকৃতির প্রত্যাশা থাকে। স্টেট অ্যাসেম্বলিতে ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির কথা উঠে আসা একটি অন্যতম স্বীকৃতি। এতে আমাদের এগিয়ে চলার পথে নতুন উদ্দীপনা কাজ করবে। তিনি বলেন, অ্যাসেম্বলি হলে সকল স্টেট সেনেটর ও অন্য অতিথিরা যখন আমাদের বিশ্ববিদ্যালয়টির জন্য করতালি দিচ্ছিলেন সে সময়টি আমাকে অবশ্যই গর্বিত করেছে। দৃশ্যটি আমার দীর্ঘদিন মনে ধরে থাকবে।

বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রেসিডেন্ট ড. হাসান কারাবার্ক বলেন, যুক্তরাষ্ট্রের ভার্জিনিয়াস্থ ওয়াশিংটন ইউনিভার্সিটি অব সায়েন্স অ্যান্ড টেকনোলজির জন্য দিনটি ছিলো স্মরণীয় হয়ে থাকার মতো একটি দিন।

ডব্লিউইউএসটি প্রধান অর্থকর্মকতা ফারহানা হানিপ বলেন, এই অজর্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের সকলের। এতে সবাই আরও উদ্দীপ্ত হয়ে কাজ করবে।

স্টেট পর্যায়ে বিশ্ববিদ্যালয়টি যে স্বীকৃতি পেলো নি:সন্দেহে তা এর নতুন পথ চলার উদ্দীপনা হয়ে থাকবে। একসময় ফেডারেল সরকারের পক্ষ থেকেও মিলবে এমন স্বীকৃতি এমনটাই প্রত্যাশা বিশ্ববিদ্যালয়ের সাথে যুক্ত সকলের।

;