লিসবনে অভিবাসীদের নিয়ে মাল্টিকাচারাল আর্ট ফেস্টিভ্যাল



নাঈম হাসান, লিসবন, পর্তুগাল থেকে
স্কুতা, ছবি: সংগৃহীত

স্কুতা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

পর্তুগালের রাজধানী লিসবনে শনিবার (২১ সেপ্টেম্বর) থেকে শুরু হতে যাচ্ছে মাল্টিকাচারাল আর্ট ফেস্টিভ্যাল। চিত্র প্রদর্শনী ছাড়াও ফেস্টিভ্যালে উন্মোচিত হবে ম্যাগাজিন 'স্কুতা'।

ফেস্টিভ্যালটি অনুষ্ঠিত হবে লিসবনের ঐতিহ্যবাহী ক্যাম্পো মার্টিরেস দ্য পাট্রিয়া পার্কে। সেই পার্কেই রয়েছে লিসবনে স্থাপিত বাংলাদেশের স্থায়ী শহীদ মিনার। এছাড়াও রয়েছে পৃথিবীর বিভিন্ন দেশের স্মরণীয় ব্যক্তি ও বিভিন্ন ঐতিহ্যবাহী স্থাপনা।

বিগত বছর স্কুতা ছিল একটি কমিউনিটি রেডিও। তার ধারাবাহিকতায় এবার স্কুতা ম্যাগাজিন ও চিত্র প্রদর্শনী হবে। স্কুতা পর্তুগালের বসবাসরত বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় পরিচালিত রেডিও। স্কুতায় সম্প্রচারিত বিভিন্ন প্রতিবেদন ও অনুষ্ঠানের পেছনের গল্প ম্যাগাজিন ও স্কুতা গ্যালারিতে তুলে ধরা হবে।

এছাড়াও ম্যাগাজিনে লিসবনের বিভিন্ন বিখ্যাত ফেস্টিভ্যালের আয়োজক অ্যাসোসিয়েশন লারগো রেসিডেন্সিয়াস ও গাবীব আলমিরান্তে রেইস অ্যাসোসিয়েশনের করা বিভিন্ন ফেস্টিভ্যাল ও অভিবাসীদের নিয়ে করা নানা কর্মকাণ্ড তুলে ধরা হবে। রেডিও স্কুতা মূলত অভিবাসীদের নিয়ে এই অ্যাসোসিয়েশনগুলোর বিভিন্ন কর্মকাণ্ড ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় মানুষের কাছে পৌঁছে দেয়ার একটি মাধ্যম।

চিত্র প্রদর্শনী, ম্যাগাজিন ছাড়াও আয়োজনে রয়েছে বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের খাবার প্রদর্শন, সিনেমা, ওয়ার্কশপ, গানের কনসার্ট। এছাড়াও শিল্পী ও উদ্যোক্তারা ফেস্টিভ্যালে তাদের চিত্রকর্ম ও পণ্য প্রদর্শন করতে পারবে।

বাংলাদেশ-পর্তুগাল সম্পর্ক ও পর্তুগিজদের বাংলাদেশ গমনের ঐতিহাসিক একটি প্রামাণ্যচিত্র প্রদর্শিত হবে ফেস্টিভ্যালে। ২৭শে অক্টোবর সমাপনী দিন শুক্রবার বেলা চারটায় এটি প্রদর্শিত হবে।

ফেস্টিভ্যালের আয়োজক ও লারগো রেসিডেন্সিয়াসের পরিচালক মার্তা সিলভা ফেস্টিভ্যালে বাংলাদেশ কমিউনিটি সহ লিসবনে বসবাসরত সকল অভিবাসী কমিউনিটিকে অংশগ্রহণের জন্য আমন্ত্রণ জানিয়েছেন।

লিসবনে বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকা মার্তৃম-মনিজ ও আশপাশের এলাকাগুলোতে এই অ্যাসোসিয়েশনগুলো অভিবাসীদের ইন্টিগ্রেশন ও জীবন মান উন্নয়নে কাজ করে। বাংলাদেশি অধ্যুষিত এলাকার কাছে হওয়ায় মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভ্যালগুলোতে প্রবাসী বাংলাদেশিরা স্বতঃস্ফূর্ত অংশগ্রহণ করে থাকেন।

বাংলাদেশিসহ বিভিন্ন দেশের অভিবাসীদের পাবলিক হেলথ সম্পর্কে সহজ ধারণা দিতে পর্তুগালের পাবলিক হেলথ সংক্রান্ত সাধারণ তথ্যাবলী অভিবাসীদের ভিন্ন ভিন্ন ভাষায় পাবলিক হেলথের তথ্যসম্বলিত বই তৈরি করেছে এই অ্যাসোসিয়েশনগুলো। ফেস্টিভ্যাল চলাকালীন সেগুলো পাওয়া যাবে।

এর আগে একই অ্যাসোসিয়েশনের আয়োজনে পর্তুগালে মাল্টিকালচারাল ফেস্টিভাল 'নেক্সট স্টপ'-এ অংশ নেন দুই বাংলাদেশি শিল্পী। তারা ছাড়াও বিশ্বের ১৫ দেশের প্রায় ৬০ জন অভিবাসী শিল্পী সেই ফেস্টিভালে অংশগ্রহণ করেছিলো। বাংলাদেশী দুইজন শিল্পীর মধ্যে চিত্রকর্মে শারমিন মৌ এবং গানে কে এম মোস্তফা আনোয়ার অংশগ্রহণ করেছিলেন।

পুরনো সব স্থাপত্য এবং পৃথিবীর প্রায় ৭৯ দেশের ভিন্ন ভিন্ন মানুষদের বসবাস লিসবনের অ্যারিওস জইন্তা। এই এলাকায় বসবাসরত স্থানীয় পর্তুগিজ কমিউনিটি, ভিন্ন ভিন্ন দেশের মানুষ আর ভিন্ন ভিন্ন সংস্কৃতির অভিবাসীরা মিলে এই এলাকা মাল্টিকালচারাল মানুষদের এলাকা হিসেবে পরিচিত। লিসবনের এই জোনটি সবচেয়ে বেশি মাল্টিকালচারাল। সবসময়ই এই বিশেষ একটি এলাকায় উৎসবের আমেজ লক্ষ্য করা যায়। যেখানে স্থানীয় পর্তুগিজদের সাথে সমানতালে অভিবাসী সম্প্রদায়ও সংযুক্ত থাকেন।

লারগো রেসিডেন্সিয়াসের তত্ত্বাবধানে গাবীব আলমিরান্তে রেইস নামের স্থানীয় অ্যাসোসিয়েশন আয়োজন ও উদ্যোগগুলোতে স্থানীয় মানুষদের সাথে যোগ দেয় লিসবনে বসবাসরত বাংলাদেশসহ অভিবাসী বিভিন্ন দেশের মানুষেরাও।

লারগো রেসিডেন্সিয়াসের তত্বাবধানে গাবীব আলমিরান্তে রেইস, রিপাবলিক পর্তুগিজ, লিসবন মিউনিসিপালিটি, জুইন্তা ফ্রেগ্রেজিয়া অ্যারিওস. আগা খান ফাউন্ডেশন, ক্রেরসার এবারের ফেস্টিভ্যালটির আয়োজন সহযোগী।