বিশ্বের জনপ্রিয় সামাজিক উদ্যোগ 'স্পিক' এখন বাংলাদেশে



কবির আল মাহমুদ, স্পেন থেকে
স্পিক'র লোগো, ছবি: সংগৃৃহীত

স্পিক'র লোগো, ছবি: সংগৃৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

প্রবাসে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে পরিচয় এবং তাদের আচার-আচরণ ও নিয়ম কানুন ২০১২ সালে ইউরোপের পর্তুগালে যাত্রা শুরু করে 'স্পিক' (Speak) নামের একটি সামাজিক সংগঠন। যেটি এখন বিশ্বের অন্যতম সফল অলাভজনক সামাজিক উদ্যোগ হিসেবে স্বীকৃত এবং বর্তমানে এর কার্যক্রম পরিচালনা করছে বিশ্বজুড়ে ২৭টির বেশি শহরে। ২০২১ সালের মধ্যে ৭৭টি শহরে বিস্তার করার পরিকল্পনা চলছে এটির।

এরই প্রেক্ষিতে ইউরোপের অন্যতম বৃহৎ জনপ্রিয় সামাজিক এই উদ্যোগ 'স্পিক' বাংলাদেশে যাত্রা শুরু করেছে। ইতোমধ্যে প্রতিষ্ঠানটি ইউরোপ, আমেরিকা, ইংল্যান্ড এবং আফ্রিকার একটি দেশসহ বিশ্বব্যাপী ১১টি দেশের ২৭টি শহরে তাদের কার্যক্রম পরিচালনা করছে। এ প্রথম এশিয়ার কোনো শহর হিসেবে তাদের কার্যক্রম সম্প্রসারণ করেছে।

'স্পিক' বিশ্বব্যাপী ১৫০টি দেশের ২৫ হাজার মানুষের বৈশ্বিক এক পরিবার। যারা ইতোমধ্যে ভাষা, সংস্কৃতি ও তাদের জীবনের গল্প একে অন্যের সঙ্গে বিনিময় করেছেন। প্রতিনিয়ত বিশ্বের বিভিন্ন প্রান্তের মানুষের সঙ্গে যুক্ত হচ্ছেন তাদের মধ্যে পারষ্পরিক সেতু বন্ধন তৈরি করতে।

'স্পিক' মূলত কাজ করে ভাষা, সংস্কৃতি, ইতিহাস ঐতিহ্য, মূল্যবোধ এবং ব্যক্তিগত ধারণা ও অভিজ্ঞতা একে-অপরের সঙ্গে আদান-প্রদানের মাধ্যম হিসেবে। এটির মাধ্যমে স্থানীয় মানুষজনের সঙ্গে অভিবাসী, সাময়িক কাজে আসা বিদেশি দক্ষ ও আধাদক্ষ কর্মী, বহির্বিশ্বের শিক্ষার্থী এবং শরণার্থীদের মধ্যে মেলবন্ধন তৈরি হয় ভাষা এবং সাংস্কৃতিক আদান-প্রদানের মাধ্যমে।

এখান থেকে সহজে যেকোনো মানুষ যেকোনো দেশের ভাষা শিখতে এবং অন্যদের শেখাতে পারেন। এর জন্য প্রতিষ্ঠানটির রয়েছে অনলাইন টু অফলাইন পদ্ধতি, যার মাধ্যমে সহজে যেকোনো মানুষ একটি দেশের ভাষাতে নিজেকে পারদর্শী করে তুলতে পারে। পাশাপাশি ধারণা নিতে পারে, সেদেশে মানুষের আচার ব্যবহার, মূল্যবোধ এবং সাধারণ নিয়মকানুন সম্পর্কে।

এছাড়া প্রতি সপ্তাহে আন্তর্জাতিক এবং জাতীয় বিভিন্ন গুরুত্বপূর্ণ ইস্যুতে সামাজিক সচেতনতা মূলত ইভেন্টের আয়োজন করা হয়। যার মাধ্যমে সামাজিক সচেতনতা তৈরির পাশাপাশি একে অপরের সঙ্গে বিভিন্ন বিষয়ে ধারণা এবং অভিজ্ঞতা ভাগাভাগি করতে পারেন। এর মাধ্যমে তরুণদের গঠনমূলক ও নতুন নতুন উদ্ভাবনীয় কাজে উৎসাহ প্রদান করা হয়।

এ প্রসঙ্গে কথা হলে বাংলাদেশে 'স্পিক'র প্রতিষ্ঠাতাগণ উল্লেখ করেন, বাংলাদেশের বিপুলসংখ্যক মানুষ বিভিন্ন দেশে অভিবাসন প্রত্যাশী। তারা দক্ষ এবং অদক্ষ কাজে দেশের বাইরে যেতে চায়। তাছাড়া প্রচুরসংখ্যক ছাত্র ছাত্রী বিদেশে উচ্চ শিক্ষার সুযোগ নিতে আগ্রহী। তাই তাদের জন্য সুন্দর একটি প্লাটফর্ম হতে পারে 'স্পিক'। কেননা এখান থেকে সহজে যাদের ঐ নিদিষ্ট দেশের ভাষা ও সাংস্কৃতিক জ্ঞান আছে, তাদের মাধ্যমে তা সরাসরি শিখতে ও চর্চা করতে পারে।