কবে পাবো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন?



ড. মাহফুজ পারভেজ, অ্যাসোসিয়েট এডিটর, বার্তা২৪.কম
করোনা ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা, ছবি: সংগৃহীত

করোনা ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা, ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ছবির ভদ্রমহিলার মতো সারা বিশ্বের মানুষই অপেক্ষায় আছেন। সামাজিক দূরত্ব ও সঙ্গরোধের নিভৃতিতে থেকে থেকে ক্লান্ত ও কাতর চোখে আশা নিয়ে তাকিয়ে রয়েছেন। গৃহবন্দিত্বের নিঃসঙ্গ প্রহরে জানালায় মুখ বাড়িয়ে আছেন প্রতীক্ষায়, 'কবে পাবো করোনাভাইরাসের ভ্যাকসিন?'

সারা পৃথিবীর মানুষই এখন করোনা ভ্যাকসিনের জন্য অপেক্ষা করছেন। কারণ, কয়েক মাস আগে খানিকটা নিম্নমুখী হলেও ফের দ্রুত সংক্রমণের মাত্রা বাড়িয়েছে বৈশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাস। আটলান্টিকের উভয় তীরে ইউরোপ ও আমেরিকার নাগরিকদের উপর ফের নতুন করে বিধিনিষেধ চাপানো হয়েছে। পুরো বিশ্বেই শোনা যাচ্ছে করোনার দ্বিতীয় আঘাতের ভয়াল পদধ্বনি।

ভ্যাকসিন বা টিকা নিয়েও চলছে নানা পরীক্ষা-নিরীক্ষা আর দোলাচল। প্রতিষেধকের মাধ্যমে আদৌ কোভিড-১৯ সংক্রমণ পুরোপুরি রোধ করা সম্ভব কি না, আগামী ডিসেম্বরের মধ্যেই তা পরিষ্কার হয়ে যাবে বলে জানিয়েছেন আমেরিকার ন্যাশনাল ইনস্টিটিউট অব অ্যালার্জি অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজ়িস  (এনআইএআইডি)-এর ডিরেক্টর অ্যান্টনি ফাউচি। তবে প্রতিষেধকের দেখা মিললেও সকলের নাগালে তা পৌঁছতে পৌঁছতে ২০২১ প্রায় পেরিয়ে যেতে পারে বলে মত অভিমত। 

মিডিয়ার সঙ্গে আলাপকালে ফাউচি বলেছেন, ‘যে প্রতিষেধকগুলো নিয়ে পরীক্ষা চলছে সেগুলো কতটা নিরাপদ এবং কার্যকরী তা নভেম্বরের শেষ কিংবা ডিসেম্বরের শুরুর মধ্যেই জানা যাবে।’ তবে সেই আবিষ্কার বিপুল সংখ্যক মানুষের কাছে পৌঁছে দিতে ২০২১ সালের দ্বিতীয় ভাগ পেরিয়ে যাবে বলেই তার ধারণা।

এদিকে পুরো ইউরোপেই এখন থমথমে অবস্থা। চারিদিকে শূন্যতা ও শীতল নীরবতা। ইতালিতে বন্ধ সমস্ত বার ও রেস্তরাঁ। বন্ধ জিম, সিনেমা হল, সুইমিং পুলও। স্কুলে ছাত্রছাত্রীদের সংখ্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে বেশির ভাগ পঠনপাঠনই অনলাইনে করার নির্দেশ দেওয়া হয়েছে সরকারের তরফে।

অধিকতর সংক্রমিতের সংখ্যার নিরিখে ইতালির পথ অনুসরণ করছে স্পেন, ফ্রান্স, চেক রিপাবলিক ও ব্রিটেনের মতো বাকি ইউরোপীয় দেশগুলো। দৈনিক সংক্রমণের হারে ফের রেকর্ড হওয়ায় ভাঁজ পড়েছে প্রশাসনের কপালে। মার্কিন যুক্তরাষ্ট্রেও করোনা পরিস্থিতি ক্রমবর্ধমান। নিউইয়র্ক ও আরো কয়েকটি রাজ্যে হু হু করে বাড়ছে সংক্রমণ। দেশটির বেশ কয়েকজন শীর্ষ কর্মকর্তাও করোনায় আক্রান্ত।

শীর্ষ সংক্রমণের তালিকায় যুক্তরাষ্ট্র, ভারত, ব্রাজিল, ইতালি, স্পেন, ফ্রান্স, চেক রিপাবলিক, ব্রিটেনের সঙ্গে এসে যুক্ত হয়েছে কলাম্বিয়া, আর্জেন্টিনা, ইরান। চীনের মুসলিম অধ্যুষিত উরঘুই জনপদের কাশগড়ে করোনা বিস্তারের খবর পাওয়া গেছে। দক্ষিণ কোরিয়ায় নতুন সংক্রমণের লক্ষণ দেখা দিয়েছে।

দক্ষিণ এশিয়ায় ভারতে সংক্রমণের হার এখনো নিয়ন্ত্রণে আসেনি। দ্বীপরাষ্ট্র শ্রীলঙ্কায় মহামারি ছড়িয়ে পড়ার আশঙ্কা করা হচ্ছে। বাংলাদেশে আক্রান্তের সংখ্যা চার লাখ ছাড়িয়ে গেছে আর মৃত্যুর সংখ্যা ছয় হাজার ছুঁই ছুঁই করছে।

ডিসেম্বর ২০১৯ সালে চীনের উবেই প্রদেশের রাজধানী উহান শহর থেকে উদ্ভূত হয়ে করোনাভাইরাস বৈশ্বিক মহামারি আকারে প্রায়-সকল দেশকেই কম-বেশি আক্রান্ত করেছে। ইতিমধ্যে বিশ্বের প্রায় সাড়ে চার কোটি মানুষকে আক্রান্ত করেছে করোনা আর মৃত্যু মুখে ঠেলে দিয়েছে প্রায় ১১ লক্ষ ৫৫ হাজার বিশ্ববাসীকে।