তুরস্ক, গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্প: নিহত ১৪



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
তুরস্ক-গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: রয়টার্স

তুরস্ক-গ্রিসে শক্তিশালী ভূমিকম্প। ছবি: রয়টার্স

  • Font increase
  • Font Decrease

শক্তিশালী ভূমিকম্পের আঘাতে তুরস্কে অন্তত ১৪জন নিহত ও আরও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। এছাড়া আরও অনেকেই বেশ কিছু ভবনের ধ্বংসস্তুপের নিচে আটকা পড়েছেন।

একই ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে গ্রিসও; সেখানেও বেশ কিছু বাড়িঘর ক্ষতিগ্রস্ত হয়েছে বলে জানিয়েছে দেশটির সরকার।

শুক্রবার সন্ধ্যার দিকের এই ভূমিকম্পের পর ইজিয়ান সাগরের তীরবর্তী এলাকায় সুনামি দেখা দিয়েছে। সাগর উত্তাল হয়ে উঠায় তুরস্কের ইজমির শহরের ও গ্রিসের কিছু রাস্তা পানিতে ডুবে গেছে।

তুরস্কের স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় বলছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলের উপকূলীয় এলাকা ও গ্রিসের কিছু অংশে শক্তিশালী ভূমিকম্পে কেঁপে উঠেছে। এতে এখন পর্যন্ত ১৪জন নিহত ও দুই শতাধিক আহত হয়েছেন। ধসে পড়া কয়েক ডজন ভবনের নিচে অনেকেই আটকা রয়েছেন বলে আশঙ্কা করছে তুর্কি এই মন্ত্রণালয়।

তবে তুরস্কের দুর্যোগ ও জরুরি ব্যবস্থাপনা কর্তৃপক্ষ বলছে, দেশটির পশ্চিমাঞ্চলীয় ইজমির প্রদেশের সেফারিহিসারে শক্তিশালী ৬ দশমিক ৬ মাত্রার ভূমিকম্প আঘাত হেনেছে। অন্যদিকে, গ্রিসের ভূমিকম্প জরিপ সংস্থা বলছে, ভূমিকম্পটির মাত্রা ছিল ৬ দশমিক ৭।

ইজমিরের মেয়র টুনক সোয়ার জানিয়েছেন, শহরটিতে প্রায় ২০ টি বিল্ডিং ভেঙে পড়েছে। ইজমিরের গভর্নর বলেছেন, ধ্বংসস্তূপের নিচে থেকে ৭০ জনকে উদ্ধার করা হয়েছে।

ভূমিকম্পের সময় ইজমিরের গুজেলবাহেস অঞ্চলে ছিলেন এমন একজন ডক্টরাল শিক্ষার্থী ইলকে সিড জানিয়েছেন, ভূমিকম্পের পরে তিনি পানির গভীরে আটকে গিয়েছিলেন।

তিনি বলেন, আমি ভূমিকম্পের জন্য খুব অভ্যস্ত। তাই আমি প্রথমে এটিকে খুব সিরিয়াসলি নেইনি তবে এবার সত্যিই ভীতিজনক ছিল।

ওই শিক্ষার্থী আরো জানান, ভূমিকম্পটি কমপক্ষে ২৫ থেকে ৩০ সেকেন্ড স্থায়ী ছিল।

প্রসঙ্গত, ১৯৯৯ সালে তুরস্কের উত্তর-পশ্চিমাঞ্চলে রিখটার স্কেলে ৭ দশমিক ৪ মাত্রার শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত ১৭ হাজার মানুষের প্রাণহানি ঘটে।

২০১১ সালেও দেশটির দক্ষিণ-পূর্বাঞ্চলের ভ্যান প্রদেশে শক্তিশালী এক ভূকম্পনে ৬ শতাধিক মানুষ মারা যান। গ্রিসে সর্বশেষ প্রাণঘাতী ভূমিকম্প আঘাত হেনেছিল ২০১৭ সালে। ওই বছরের জুলাইয়ে সামোসের কাছের কোস দ্বীপে শক্তিশালী ভূমিকম্পে অন্তত দু'জনের প্রাণহানি ঘটে।