বন্ধ হচ্ছে গুয়ানতানামো বে কারাগার!



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

কিউবার গুয়ানতানামো বে কারাগারটি বন্ধ করার পরিকল্পনা করছে মার্কিন প্রেসিডেন্ট জো বাইডেনের প্রশাসন। পরিকল্পনা অনুযায়ী কারাগারে আটক ৪০ বন্দীকে তাদের নিজের দেশে ফেরত পাঠানো অথবা যুক্তরাষ্ট্রের সামরিক ও বেসামরিক কারাগারে স্থানান্তর করা হতে পারে।

মার্কিন গণমাধ্যম সিএনএন এক প্রতিবেদনে জানিয়েছে, শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) এক সাংবাদিক ব্রিফিংয়ে হোয়াইট হাউসের প্রেস সেক্রেটারি জেন সাকি বলেছেন, গুয়ানতানামো বে কারাগারটি বন্ধ করা অবশ্যই আমাদের লক্ষ্য এবং আমাদের উদ্দেশ্য।

এর আগে, সাবেক প্রেসিডেন্ট বারাক ওবামা বিতর্কিত ওই কারাগারটি বন্ধ করে দিতে চেষ্টা করেছিলেন, কিন্তু ব্যর্থ হন। ২০১৮ সালে কারাগারটি চালু রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প। যার ফলে কারগারটি এতদিন চালু ছিল।

মার্কিন প্রতিরক্ষা মন্ত্রণালয়ের মুখপাত্র জন কারবি শুক্রবার (১২ ফেব্রুয়ারি) গুয়ানতানামো বে কারাগারের ডিটেনশন সুবিধা বন্ধ করার জন্য প্রতিরক্ষা সচিব লয়েড অস্টিনের সমর্থনের ইঙ্গিত দিয়েছেন।

তিনি বলেন, লয়েড অস্টিন মনে করেন গুয়ানতানামো বে বন্ধ করা উচিত। তিনি এটি বন্ধ করার জন্য প্রশাসনের ইচ্ছাটিকে পুরোপুরি সমর্থন করেন এবং আন্তঃসংস্থা প্রক্রিয়া এবং আলোচনায় অংশীদার হওয়ার প্রত্যাশা করেন।

৯/১১ হামলার পর থেকে গুয়ানতানামো বে-র স্থাপনাটিকে ‘শত্রুপক্ষের যোদ্ধাদের’ আটক রাখার জন্য ব্যবহার করতে শুরু করে ওয়াশিংটন। বর্তমানে ওই কারাগারটিতে মাত্র ৪০ জন বন্দি আছেন।

২০০২ সালের জানুয়ারিতে গুয়ানতানামো বে কারাগারে প্রথম বন্দিকে পাঠানো হয়েছিল। তারপর থেকে সাত শতাধিক বন্দিকে ওই কারাগারটিতে রাখা হয়েছিল, এদের অনেককেই কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিনাবিচারে আটকে রাখা হয়েছিল।

কোনো অভিযোগ ছাড়াই বিনাবিচারে আটক রাখা ও বন্দিদের নির্যাতন করার অভিযোগে নিয়ে কারাগারটির বিরুদ্ধে সরব হয়ে ওঠে আন্তর্জাতিক মানবাধিকার গোষ্ঠীগুলো।

ব্যাপক সমালোচনার মুখে ২০০৯ সালে ওবামা এক আদেশে সই করে কারাগারটি এক বছরের মধ্যে বন্ধ করার নির্দেশ দেন। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের কংগ্রেসের আইনপ্রণেতাদের বাধার মুখে আট বছরেও নির্দেশ কার্যকর করতে পারেননি তিনি। পরে ২০১৮ সালে কারাগারটি চালু রাখতে একটি নির্বাহী আদেশে সই করেন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্প।