মিয়ানমার ও রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞায় সম্মত ইইউ



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম, ঢাকা
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

মিয়ানমার ও রাশিয়ার বিরুদ্ধে নিষেধাজ্ঞা আরোপের বিষয়ে একমত হয়েছেন ইউরোপীয় ইউনিয়নের (ইইউ) পররাষ্ট্রমন্ত্রীরা।

কাতারভিত্তিক সংবাদমাধ্যম আল-জাজিরার এক প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, রুশ প্রেসিডেন্ট ভ্লাদিমির পুতিনের সমালোচক ও বিরোধী দলের নেতা অ্যালেক্সেই নাভালনির ওপর দমন নীতি এবং মিয়ানমারের সামরিক অভ্যুত্থানের কারণে এই নিষেধাজ্ঞা আরোপের সিদ্ধান্ত নিতে যাচ্ছে ইইউ।

সোমবার (২২ ফেব্রুয়ারি) ইউরোপীয় ইউনিয়নের পররাষ্ট্র নীতিবিষয়ক প্রধান জোসেফ বোরেল বলেছেন, ইইউ মিয়ানমারের সঙ্গে বাণিজ্য সম্পর্ককে আটকাবে না। কারণ এটি সাধারণ জনগণের ক্ষতি করতে পারে।

তিনি বলেন, সেনা অভ্যুত্থানের জন্য দায়ী সামরিক নেতাদের এবং তাদের অর্থনৈতিক স্বার্থকে লক্ষ্য করে নিষেধাজ্ঞাগুলি প্রয়োগের জন্য আমরা রাজনৈতিক চুক্তি গ্রহণ করেছি। আমাদের উন্নয়ন ব্যবস্থা থেকে মিয়ানমারের সরকারি সংস্কার কর্মসূচিতে প্রত্যক্ষ আর্থিক সহায়তা রোধ করা হয়েছে।

নির্বাচন ঘিরে দ্বন্দ্বের জেরে গত ১ ফেব্রুয়ারি মিয়ানমারের সেনাবাহিনী দেশটির ক্ষমতা দখল করে। গ্রেফতার করা হয় ক্ষমতাসীন দলের নেতা অং সান সু চি এবং প্রেসিডেন্ট উয়িন মিন্ত কে। যার জন্য মিয়ানমার সেনাবাহিনীকে নিন্দা জানিয়েছে আন্তর্জাতিক সম্প্রদায় । এদিকে গণতন্ত্রপন্থী বিক্ষোভকারীদের ওপর ক্রমবর্ধমান রক্তাক্ত ক্র্যাকডাউন শুরু করেছে দেশটির সেনাবাহিনী।

যুক্তরাজ্য, কানাডা, নিউজিল্যান্ড ও যুক্তরাষ্ট্র সকলেই সিনিয়র জেনারেল মিন অং হ্লাইং সহ মিয়ানমারের সামরিক নেতাদের ওপর নিষেধাজ্ঞা আরোপ করেছে।

রাশিয়ার সঙ্গে ইইউ-র সম্পর্ক বেশ কয়েক বছর ধরে অবনতির পথে ৷ ইউক্রেনের সঙ্গে সংঘাতের জের ধরে ক্রাইমিয়া উপদ্বীপ দখল করার পর ইইউ রাশিয়ার ওপর নিষেধাজ্ঞা চাপিয়েছে ৷ বর্তমানে রুশ বিরোধী নেতা আলেক্সেই নাভালনির বিরুদ্ধে মস্কোর পদক্ষেপগুলির কারণে উত্তেজনা আরও বাড়ছে৷ তার বিরুদ্ধে আদালতের সর্বশেষ রায়কেও রাজনৈতিক হিসেবে বিবেচনা করছে ইইউ ৷ সংলাপের মাধ্যমে মতবিরোধ মেটানোর প্রচেষ্টাও বিফল হয়েছে ৷ ইইউ পররাষ্ট্র নীতি বিষয়ক প্রধান জোসেপ বোরেল মস্কো সফরের সময় রাশিয়া ইইউ দেশের কয়েকজন কূটনীতিককে বহিষ্কারের ঘোষণা করায় ব্রাসেলসে ক্ষোভ আরও বেড়ে গেছে ৷

এমন প্রেক্ষাপটে রাশিয়ার কিছু শীর্ষ কর্তাব্যক্তির ইউরোপে প্রবেশ, ইউরোপে তাদের সম্পদের নাগালের মতো শাস্তিমূলক পদক্ষেপ নিতে পারে ইইউ ৷