নিহত বেড়ে ১৩৭, জীবন বাঁচাতে বাড়ি ছাড়ছে ফিলিস্তিনিরা



আন্তর্জাতিক ডেস্ক, বার্তা২৪.কম
ছবি: সংগৃহীত

ছবি: সংগৃহীত

  • Font increase
  • Font Decrease

ফিলিস্তিনের গাজা উপত্যকায় নির্বিচারে বোমা হামলা ও গুলি চালিয়ে যাচ্ছে ইসরায়েলি সেনাবাহিনী। আর এসব হামলায় মূলত টার্গেট করা হচ্ছে আবাসিক স্থাপনা। এখন পর্যন্ত প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি নিরাপদ আশ্রয়ের খোঁজে বাড়ি ছেড়েছেন বলে জানিয়েছে জাতিসংঘ।

শনিবার (১৫ মে) সকাল পর্যন্ত ইসরায়েলের হামলায় ৩৬ শিশুসহ ১৩৭ জন ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় এক হাজার। খবর আল–জাজিরার।

ব্রিটিশ সংবাদমাধ্যম বিবিসির খবরে বলা হয়েছে, ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে সংঘর্ষ গাজার পর পশ্চিম তীরে ছড়িয়ে পড়েছে। সেখানে সংঘর্ষ শুরু হওয়ার পর কমপক্ষে ১০ ফিলিস্তিনি নিহত হয়েছে। আহত হয়েছে প্রায় ১০০ জন। এ ছাড়া ৯ জন ইসরায়েলি নিহত হয়েছে এ সংঘর্ষে।

দুই পক্ষের মধ্যে সংঘর্ষের সময় ইসরায়েলি বাহিনী রাবার বুলেট, কাঁদানে গ্যাসের শেল ও গুলি ছুড়েছে এবং ফিলিস্তিনিরা পেট্রলবোমা ছুড়েছে। এ ছাড়া গাজাতেও হামলা অব্যাহত রেখে ইসরায়েল। দেশটির সেনাবাহিনী আজ বলেছে, গতকাল শুক্রবার রাতভর গাজায় হামলা চালানো হয়েছে।

ইসরায়েল ও ফিলিস্তিনের মধ্যে সংঘর্ষের শুরু গত সপ্তাহে। জেরুজালেমের আল-আকসায় পবিত্র জুমাতুল বিদা আদায়কে কেন্দ্র এই সংঘর্ষের সূত্রপাত। বলা হচ্ছে, বিগত কয়েক বছরের মধ্যে ইসরায়েলি ও ফিলিস্তিনিদের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় সংঘর্ষের ঘটনা। বড় ধরনের সংঘর্ষের সূচনা হয় গত সোমবার পূর্ব জেরুজালেমে। সেই সংঘর্ষ অব্যাহত রয়েছে।

ইসরায়েলি বাহিনী জানিয়েছে, গত কয়েকদিনে ফিলিস্তিনে যত হামলা চালানো হয়েছে তার ৯৫ শতাংশই ছিল আকাশপথে বা জঙ্গি বিমান হামলা। স্থানীয় ফিলিস্তিনিরা বলছে, ইসরায়েলি বাহিনীর হামলার অধিকাংশ লক্ষ্যবস্তু আবাসিকভবনগুলো। বোমা হামলা ছাড়াও ইসরায়েলি জঙ্গি বিমান থেকে আবাসিকভবন লক্ষ্য করে গুলি চালানো হচ্ছে। ফলে প্রাণ বাঁচাতে বাড়ি ছাড়ছেন তারা।

এদিকে ইসরায়েল তার হামলার বড় লক্ষ্য হিসেবে নির্ধারণ করেছিল ফিলিস্তিনের পুলিশ, গোয়েন্দা সংস্থা, নিরাপত্তা বাহিনী ও সশস্ত্র বাহিনীর ভবন। এরপর গাজায় একটি শরণার্থীশিবিরে বিমান হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।

এসব হামলা থেকে বাঁচতে গাজার উত্তরাঞ্চলের জাতিসংঘের পরিচালিত স্কুলে আশ্রয় নিচ্ছে সাধারণ মানুষ। জাতিসংঘ বলেছে, ইসরায়েলের হামলা থেকে বাঁচতে প্রায় ১০ হাজার ফিলিস্তিনি বাড়িঘর ছেড়ে পালিয়েছে।

ফিলিস্তিনিতে হামলা বন্ধে বিভিন্ন দেশ ও আন্তর্জাতিক সংগঠন আহ্বান জানিয়েছে। জাতিসংঘের মহাসচিব আন্তোনিও গুতেরেসও এমন আহ্বান জানিয়েছেন। তবে ইসরায়েলের প্রধানমন্ত্রী বেনিয়ামিন নেতানিয়াহু বলেছেন, দেশটিতে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য যা করা দরকার, তা–ই করা হবে।

অন্যদিকে এক বিবৃতিতে জাতিসংঘের মানবাধিকার বিষয়ক সংস্থা জানায়, করোনাভাইরাসের প্রকোপের মধ্যেও জীবন বাঁচাতে নিজেদের বাড়ি ছেড়ে স্কুল, মসজিদ ও অন্যান্য স্থানে আশ্রয় নিচ্ছে ফিলিস্তিনিরা। এসব স্থানে পর্যাপ্ত পানি, খাবার, স্বাস্থ্যসেবার কোনো ব্যবস্থা নেই। নেই স্বাস্থ্যবিধি মানার কোনো উপায়। হাসপাতালগুলোর বেশ কিছু সেবা ও সুপেয় পানি যোগান বিদ্যুতের ওপর নির্ভর করে। যেটা আসে মূলত জ্বালানি তেল থেকে। আগামী রোববাররে মধ্যে ওই এলাকায় জ্বালানি তেলে সংকট দেখা দেবে। 

এমন অবস্থায় ইসরায়েলি কর্তৃপক্ষ এবং ফিলিস্তিন গ্রুপগুলোকে অবিলম্বে সেখানে জাতিসংঘ এবং এর মানবিক অংশীদারদের জ্বালানি, খাদ্য ও চিকিৎসা সেবা সরবরাহ করতে এবং মানবিক কর্মী মোতায়েনের অনুমতি দেবে বলেও জানিয়েছে জাতিসংঘ।

এদিকে বার্তা সংস্থা এএফপির খবরে বলা হয়েছে, সোমবারে ওই সংঘর্ষের সূচনার পর থেকে এ পর্যন্ত দুই হাজার রকেট ছোড়া হয়েছে ফিলিস্তিন থেকে। এসব হামলায় এক সেনা, এক শিশুসহ ৯ জন নিহত হয়। আর আহত হয় প্রায় সাড়ে ৫০০ জন। এসব হামলার জবাবে ৮০০টি স্থান লক্ষ্য করে হামলা চালিয়েছে ইসরায়েল।